ভিশন ২০২১ : শিশু নির্যাতন

আজ মিডিয়ার কল্যাণে আওয়ামী লীগের হিংস্রতার যে সংবাদটি দেখলাম তা শুধু আমার নয়, সারা বিশ্ববিবেককেই স্তম্ভিত করেছে। আওয়ামী লীগের নরপিশাচদের হাতে শিশু নির্যাতনের বিভৎস প্রতিবেদন আজ যারা দেখেছে তাদের কারো পক্ষেই আর সন্তানদের নিরাপত্তার চিন্তায় ঘুমানো সম্ভব হবে কি না জানা নেই। আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের ধরে পৌশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে বিকলাঙ্গ করে ভিক্ষায় নামানো হয়, মেয়েদেরকে নামানো হয় যৌন ব্যবসায়। এভাবেই  সাত বছরের শিশু নেয়ামুলকে ধরে এনে এনে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে, পুরুষাঙ্গ কেটে, বুক হয়ে পেট পর্যন্ত চিরে, ইট দিয়ে মাথায় আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বিকলাঙ্গ করে হাতে ভিক্ষের থালা দিয়ে নামিয়ে দেয় রাস্তায়।  কোন কোন শিশুকে হাত পায়ের রগ কেটে এমনক ৬ মাস এলুমনিয়ামের পাতিলের মাঝে বন্দীকরে বিকলাঙ্গ করে ভিক্ষায় নামানো হয়। সারাদিন-সারারাত অমানষিক নির্যাতন সয়ে সয়ে ভিক্ষে করে যায় ওরা। ভিক্ষের সবটাকা লুটে পুটে শুকনো রুটি বা বাসিপঁচা ভাত খেতে দিয়ে পরের দিন আবার নামিয়ে দেয়া হয় ভিক্ষের থালা নিয়ে, নির্দিষ্ট স্খানে। এভাবে দিনের পর দিন কোমল মতি শিশুদের নির্যাতন করে করে বিকলাঙ্গ করে আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর নেতা খোদ ঢাকা মহানগরীতেই জমিয়ে বসেছে রমরমা ভিক্ষা ব্যবসা। টিভি রিপোর্ট দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল যেন আমি পশ্চিমবঙ্গের স্যাটেলাইট চ্যানেলে মেগাসিরিয়াল দেখছি। আওয়ামী লীগ যাই করে সবকিছুতে ভারতের একটা মিল থাকে, যেন ভারতীয় প্রেতাত্মারা ভর করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে, আর একের পর এক অপকর্ম করে যায় তারা অবলীলায়। স্টার জলসায় যেমন বাংলাদেশের রমণীরা অস্ত্রুসজল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখে ঝিলিকের বাধ্য হয়ে ভিক্ষে করার করুন দৃশ্য, আমিও তেমনি বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে দেখি তার চেয়েও হাজারগুণ পৈশাচিক আওয়ামী বর্বরতার দৃশ্য।

রাজধানীর বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজি এবং গুপ্তহত্যার মহাযজ্ঞে মেতেছে আওয়ামী লীগ। রিপোর্টে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ শুধু বিরোধীদল দমনই নয় সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে এমনটি হত্যা করে দিনের পর দিন লাশ নদীতে ভাসিয়ে  দেয়। এমনকি বেড়িবাঁধে ভ্রমনরত ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা করে  নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে অপহরণ করা হয় স্রেফ যৌণ নির্যাতনের জন্য। এভাবেই আওয়ামী লীগ আতংকের জনপদে পরিণত করেছে দেশটাকে। কোন মানুষেরই আজ নিরাপত্তা নেই, সন্তানের নিরাপত্তা নেই, বোনের নিরাপত্তা নেই, ভাইয়ের নিরাপত্তা নেই। চারিদিকে ডিজিটাল উদ্ভাবনী, নিত্য নতুন অপকর্মের চমকপ্রদ উদ্ভাবনী। এইতো মাত্র কয়েকটা দিন আগে পুরান ঢাকায় আবিস্কৃত হল জাপানী টরে কাপড় তৈরীর কারখানা।  থাইল্যান্ডের কাপড়ে মেইড ইন জাপান সিল দেয়ার ডিজিটাল যন্ত্রপাতি দেখলাম টেলিভিশন রিপোর্টে এবং রিপোর্টে প্রধান আকর্ষণ ঐ আওয়ামী লীগ শব্দটির উপস্থিতিও ছিল সগৌরবে। জালিয়াত ব্যবসায়ী অকপটে স্বীকার করলেন আওয়ামী লীগের কোন্ নেতাকে কত টাকা মাসিক মাসোহারা দিয়ে দিনের পর দিন চালাচ্ছে এই মেইড ইন জাপানের ডিজিটাল অপকর্ম।

আওয়ামী লীগের অভিধানে অসম্ভব বলে কোন শব্দ নেই, সাফল্য নিশ্চিত। কাজটি যদি হয় অপকর্ম,  তবে তা হোকনা যতই অসম্ভব, তারা সাফল্যের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যে দু’চার দশ বছর কেন হাজার বছরেও তাদের সে রেকর্ড ভেঙ্গে অপকর্মে নতুন রেকর্ড অন্য কেই গড়বে এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই আওয়ামী সরকারের দু’বছররের সাফল্য গাঁথা নিয়ে সকল মিডিয়া সরগরম, কোনটি রেখে কোনটি আলোচনা করবে সে এক এলাহি কান্ড। শেখ হাসিনার যেমন গুণের কোন কমতি নেই, হাজারো উপাধি, হাজারো ডিগ্রী, কোনটি রেখে কোন উপাধিতে কর্মীরা ডাকবে তাকে, তা ভেবেই তাদের ত্রাহি মধুসুধন অবস্থা, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের কোন অপকর্মের চেয়ে কোন অপকর্মে সাফল্য বেশী তা বের করা আরো মুস্কিল। অপকর্মের সকল দৌড়ে তারা সমানতালে এগিয়ে গেছে, সকল সেক্টরেই তাদের ইর্ষণীয় সাফল্য। হোক না তা অপকর্ম তবু সাফল্য তো সাফল্যই।

এভাবেই আওয়ামী লীগ একের পর এক অপকর্মে সাফল্যের ইর্ষণীয় উচ্চতায় পৌছে যায়, জাতির সামনে টার্গেট ভিশন ২০২১। এ সময়ের মাঝে আওয়ামী লীগ শুধু বাংলাদেশ নয় বরং সারা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্খাপনে সক্ষম হবে। চেঙ্গিস খা, হিটলার, ফেরাউন, নমরুদ সকলের কীর্তিকে ম্লান করে দিয়ে বিশ্বের বুকে বাকশালের নাম সমুজ্জল করবে এমন দুঃস্বপ্নে পাগলপ্রায় দেশবাসী। তবে আশার কথা, সব পর্বোতারোহীর শৃংগে চড়া হয় না, অনেকেরই চূড়া থেকে পিছলে পড়ে ভবলীলা সাঙ্গ হয়। বিভীষণের ভিশন ২০২১ পর্বতশৃংগ স্পর্শের আগে তেমনই এক করুণ পতনের আশায় দেশবাসীর মতো আমিও বুক বাধলাম।

Be Sociable, Share!

9 Replies to “ভিশন ২০২১ : শিশু নির্যাতন”

  1. এটা জামাত-শিবিরের ষড়যন্ত্র!আওয়ামী লীগ এ কাজ কখনোই করতে পারেনা ।যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে এটা করা হচ্ছে।

    [উত্তর দিন]

    Bangali উত্তর দিয়েছেন:

    Khob valo e bolesen ! Next apnar ba apnar relative karo sontanner pala, wait koren ! R apnar bou thakle sabdhane rakben, digital Awami league apnar bou keo sarbe na, just boke hat dea bolen, awami league cader der kase apnar Ma, bun koto tuko nirapad ?

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।