ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি (দুই)

ইসলামী ব্যাংক একটি ভিন্নতর ব্যাংকিং ব্যবস্থা। সুদের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দেশে একটি কল্যাণকর হালাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন এমন একদল যোগ্য অফিসার যারা ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে মানে। যে লোক ইসলাম মানে না, ইসলামী অর্থনীতি বুঝতে চায় না, সুদ ও ব্যবসার ভেতর কোন পার্থক্য খুঁজে পায় না, ব্যবসাকে ঘুরিয়ে সুদ খাওয়া মনে করে এমন লোকদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকিং চালু করলে সে ব্যাংক কি ইসলামী ব্যাংকিং করতে পারবে? কিছুতেই নয়। বরং ইসলামী ব্যাংকিং চালু রাখতে ইসলামকে যারা জানে ও মানতে চায় তাদের দিয়েই ইসলামী ব্যাংকিং সচল রাখা সম্ভব। ইসলামী ব্যাংক তাই নিয়োগের সময় আধুনিক ও ইসলামী জ্ঞানের দিক থেকে এগিয়ে থাকা ছাত্রদেরকেই লিখিত পরীার মাধ্যমে বেঁছে নেয়। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ বা বামছাত্র সংগঠনগুলোর ছাত্রদের চেয়ে আধুনিক ও ইসলামী জ্ঞানে জামাত-শিবিরের ছেলেরা যদি এগিয়ে থাকে তবে এটাকে দলীয় নিয়োগ বলা যায় না বরং এটা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হিসেবে প্রশ্নাতীতভাবেই বৈধ।

জনাব জীবন ইসলাম তার প্রতিবেদনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ পর্বে ঋণ খেলাপীদের প েসাফাই গাইতে গিয়ে মায়াকান্না কেঁদেছেন। দেশ স্বাধীনের পর ইসলামী ব্যাংক প্রথম কোন ঋণ খেলাপীকে জেলে পাঠিয়ে ইসলামী ব্যাংক নাকি মহা অন্যায় করে ফেলেছে। ঋণ খেলাপীরা দেশ ও জাতির দুশমন, এটা আমরা সবাই জানি, জানেন না শুধু জনাব জীবন ইসলাম। আসলে অন্যের টাকা মেরে দিয়ে বড়লোক হওয়ার জন্য ঋণ খেলাপী হওয়ার মতো বড় কোন সুযোগ আর আছে কিনা জানা নেই, জনাব জীবন ইসলামও কি ঋণ খেলাপী হয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের হতে চান?

প্রকৃত প েইসলামী ব্যাংক ঋণ দেয় না, ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ প্রদান করে। ইসলামী ব্যাংক ক্রয় বিক্রয় কিংবা ভাড়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে লেনদেন করে থাকে। একজন গ্রাহক কোন কিছু ক্রয় করে তার দাম পরিশোধ না করলে তাকে কোলে তুলে চুমো খাওয়ার কোন মানে হয় না। কেননা কোন ব্যাংক নিজের টাকায় ব্যবস্যা করে না, লাখ লাখ আমানতকারীর টাকা দিয়ে ব্যবসা করে। সেই সাধারণ আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে একজন বিনিয়োগ গ্রহীতা পার পেয়ে যাবে এটা কখনো হতে পারে না, এদের অবশ্যই আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে, তাতে জীবন ইসলামদের যতো গাত্রদাহই হোক না কেন।

আসলে জনাব জীবন ইসলাম যেখানে মিথ্যে কোরআনের আয়াত বানাতে পারেন তার কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংক সুদ দেয় না মুনাফা দেয় এ সার্টিফিকেট নেয়া আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। কারন জীবন ইসলামদের ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে বিভ্রান্তকর রিপোটিং দেখে এটা ভাবার কোন অবকাশ নেই যে তারা ইসলামী ব্যাংকিং অপছন্দ করে, বরং ইসলাম হচ্ছে এদের আসল টার্গেট। ইসলাম নাম শুনলেই এদের গায়ে এলার্জি ওঠে, ইসলামের ছিদ্রান্বেষনের জন্য মাথা ঝিমঝিম করে, ইসলামের বিরুদ্ধে বলার জন্য গলা খুশখুশ করে মোটকথা ইসলাম এদের জন্য মহাতঙ্ক। তাই যে কোন মূল্যে ইসলামের গতিরোধ করাই জীবন ইসলামদের কাজ।

আসলে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকাটির কাটতি দিন দিন কমেই চলেছে, তাই বানের তোড়ে ভেসে যাওয়া মৃতু্যপথযাত্রীর মতো খড়কুটো আকড়ে যে কোন মূল্যে পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য দৈনিক ভোরের কাগজ ইসলামী ব্যাংককে বেছে নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি মহলের বেশ আগ্রহ ও এলার্জি রয়েছে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্যই এ অপচেষ্টা। এছাড়া মার্চে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাসের মোকাবেলায় ইসলামী ব্যাংক ওদের পরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়ে বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপন প্রচার করে যার কিছু অংশ ভোরের কাগজও পেয়েছে। তাই ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে আবার লেখালেছি শুরু করেছে যাতে ইসলামী ব্যাংক প্রচুর টাকা খরচ করে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় সংবাদগুলোর প্রতিবাদে বিজ্ঞাপন ছাঁপে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের উচিত নয় দৈনিক ভোরের কাগজের মতো মৃতপ্রায় পত্রিকার ফাঁদে পা দিয়ে টাকার অপচয় করা।

কল্যাণমুলক ব্যাংকিং ধারার প্রবর্তক ইসলামী ব্যাংকের সুফল দেশবাসী ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। ২০০৫ সালেই দেশের ১৮টি উল্লেখযোগ্য স্থানে এ ব্যাংক শাখা খুলেছে, বর্তমানে এর শাখা সংখ্যা ১৬৯টি। ইসলামী ব্যাংকের সুনাম আজ দেশের গন্ডি ছাড়ি বিদেশেও পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন গ্লোবাল ফাইন্যান্স ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে ১৯৯৯, ২০০০ এবং ২০০৫ সালের জন্য তিন তিন বার বাংলাদেশের সেরা ব্যাংকের মর্যাদায় ভূষিত করেছে। দেশের নামকরা বড় বড় ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করেন, কারন ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন ঝামেলামুক্ত ও নিরাপদ।

ইসলামী ব্যাংকের দুইযুগ বর্ষ-পূর্তি উপল েপ্যান প্যাসিফিক সোনারগাও হোটেলের বলরুমে ১৬ মে তারিখে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল আমার। সে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বরেণ্য ব্যবসায়ীরা ইসলামী ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এটা যে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের ব্যাংক নয় বরং আপামর জনতার ব্যাংক তা পূবালী সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজের স্বত্ত্বাধিকারী শ্রী পরিতোষ কান্তি সাহা, প্যাসিফিক ফার্মাসউিটিক্যালস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী কেশকেন্দ্র রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিনিয়োগগ্রহীতার স্বতস্ফুর্ত বক্তব্যে প্রকাশ পায়। এমনকি এঙ্মি ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব নজরুল ইসলাম মজুমদার দ্যর্থহীন ভাষায় সেদিন ঘোষণা করেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের সেরা ব্যাংক। ভিন্ন একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান যখন ইসলামী ব্যাংককে শ্রেষ্ঠ ব্যাংক বলে ঘোষণা করেন তখন জীবন ইসলামদের সার্টিফিকেট পাওয়া না পাওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কি বা যায় আসে?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি (দুই)” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. Rahat বলেছেন:

    🙂

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন