আলেমদের দাবী অযৌক্তিক : এইচ টি ইমাম

অবশেষে থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়েছে। অতীতের মতো এবারও আওয়ামী লীগ মড়কফুলের মতো পবিত্র তাদের চারিত্রিক মাধুর্য ফুটিয়ে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম স্পষ্টতই জানিয়ে দিলেন আলেম সমাজের সাথে আওয়ামী প্রতারণার কথা। বললেন, সম্মিলিত ওলামা পরিষদের দাবী দাওয়া বিবেচনার কোন প্রতিশ্রুতিই তিনি দেন নি। তার এ বক্তব্যে পুরো দেশবাসী হতবাক হয়েছে, ঠিক যেমনটি হয়েছিল গতকাল হরতাল স্থগিতের ঘোষণায় ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজ। সম্মিলিত ওলামা পরিষদ ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের আবেগকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে খৃস্টানদের বড়দিন উদযাপন নির্বিঘ্ন করণে এবং এইচটি ইমাম ও নানকের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে যেভাবে দেশবাসীকে হতাশ করেছিল, রাত পোহাতেই তার চেয়েও বড় প্রতারণার খবর আল্লাহ তা’লা তাদের শুনিয়ে দিলেন।

এইচ টি ইমাম সম্মিলিত ওলামা পরিষদের দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাসের বিষয়ে শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, “উলামা মাশায়েখ পরিষদের দাবি-দাওয়ার অধিকাংশই অযৌক্তিক। জাতীয় সংসদে গৃহীত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯-এর মূল স্তম্ভ নিয়ে কোন আলোচনা হবেনা। এই শিক্ষানীতি জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নীতি বললেইতো আর পরিবর্তন করা যায় না”। দাবী দাওযার ব্যাপারে বলেন, “কোন আশ্বাসের কথা বলি নাই। বলেছি তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে”।

গতকাল যখন সম্মিলিত ওলামা পরিষদ হরতাল স্থগিতের ঘোষণা দেন তার পরপরই এর প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী গোমর ফাঁস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আলেম সমাজের দাবী অযৌক্তিক এবং শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় আলেমরা হরতাল প্রত্যাহার করেছেন। এখানে স্পষ্টতই তিনি হরতাল প্রত্যাহারের কথা বলেছেন, স্থগিত নয়। তার এ বক্তব্যে সম্মিলিত ওলামা পরিষদের সমুচিত জবাব তখনই দেয়া উচিত ছিল। ইচ্ছে করলেই এর প্রতিবাদে ২দিন পরেই হরতাল ঘোষণা করা যেত। কিন্তু আওয়ামী কূটকৌশলের কাছে পরাজিত বিধ্বস্ত নেতৃবৃন্দ তেমন কিছুই করেন নি। আর করবেনই বা কিভাবে, সাংবাদিক সম্মেলনে আলেমদের যে মলিন চেহারা টিভি স্ক্রীনে ভেসে ওঠে তাতে বুঝতে কারোই কষ্ট হয়নি যে নেতৃত্ব সবার জন্য নয়। যারা সরকারের চাপে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপোষ করে, তাদের আগেই আন্দোলনের নামে প্রতারণা থেকে দূরে থাকা উচিত ছিল।

“জালিম শাসকের সম্মুখে ন্যায় বা সত্য কথা বলা উত্তম জিহাদ” রাসূলের এ বাণী কি ভুলে গেল আলেম সমাজ? প্রতিদিন বাংলার পথে প্রান্তরে বাকশালের হিংস্র নখরে ক্ষতবিক্ষত হাজারো বনিআদমের আর্তচিৎকার, ছাত্রলীগের যৌণসন্ত্রাসের শিকার শত শত নারীদের কান্নার শব্দ শোনার পরও তারা কি বিভ্রান্ত হয়ে আছেন যে আওয়ামী লীগ জামেল সরকার নয়? যদি জালেমই মনে না হবে তবে ইসলাম বিদ্বেষী এ সরকার নামের সিন্দাবাদের ভুতটাকে জাতির ঘাড় থেকে নামানোর আয়োজনে কেন শরিক হবে না আলেম সমাজ?

আসুন, শের-ই-মহীশুর টিপু সুলতানের সেই ঐতিহাসিক বাণীটি বুকে ধারণ করি, “শেয়ালের মতো হাজার বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মতো একদিন বেঁচে থাকা উত্তম” এবার আপনারাই বেছে নিন আওয়ামী লীগের মতো শেয়ার হবেন নাকি টিপু সুলতানের মতো সিংহের ন্যায় মৃত্যুকে বরণ করে অমর হবেন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন