আওয়ামী কূটকৌশলে হেরে গেলো আলেম সমাজ!

দাবী-দাওয়া পূরণের আশ্বাসে ২৬ ডিসেম্বরের হরতাল স্থগিত

জাতীয় শিক্ষানীতি সংশোধনের দাবিতে সম্মিলিত ওলামা পরিষদের ডাকা ২৬ ডিসেম্বরের হরতাল স্থগিত করা হয়েছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ভালমতো উদযাপনের স্বার্থে এবং ওলামা মাশায়েখদের দাবি-দাওয়া সরকারের বিবেচনার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে হরতাল ২৫ জানুয়ারী পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে বলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ নেজামি এ ঘোষণা দেন। তবে সরকার যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তবে আবারও হরতাল দেয়ার ঘোষণা দেয়া হবে। তবে ভবিষ্যতে কি হবে তা কারো জানা না থাকলেও এবারের মতো রাজনীতির কূটকৌশলে আওয়ামী লীগ যে আরেকবার সাধারণ মানুষকে বোকা বানালো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ যতই বলুক না যে সরকার তাদের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু দুপুর গড়ানোর আগেই কিন্তু সরকারের স্পষ্টভাষী প্রভাবশালী আইনমন্ত্রী (যিনি প্রধানমন্ত্রীর ছেলেমানুষি বক্তব্য নিয়েও তামাশা করতে ছাড়েন না) সমাবেশে বলেই ফেললেন, ওলামাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় হরতাল প্রত্যাহার করেছেন, হরতালটি যে বিনা কারণে (!) তা উল্লেখ করতেও ছাড়েন নি। হরতাল ডাকায় যে আলেমদের একাত্তরে পাকিস্তানী হায়েনাদের চেয়েও খারাপ বলে গালি দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, গালি দিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ আরো নেতৃবৃন্দ, সবকিছু ভুলে গিয়ে, ইসলামের কথা ভুলে গিয়ে, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার কথা ভুলে গিয়ে, বড়দিনের পরের দিন হরতাল করলে খ্রিস্টানদের কষ্ট হবে এমন অদ্ভুত যুক্তিতে, এইচটি ইমাম  ও নানকের প্রতিশ্রুতিতে আলেম সমাজ এভাবে বিভ্রান্ত হবেন, তা জাতিকে পুরোপুরি হতাশ করেছে।

শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে-আইনমন্ত্রী

আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক ইসলাম বিরোধী তৎপরতা সত্ত্বেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিছুই করতে পারে নি, বরং বলা যায় আন্দোলনে চরম ব্যর্থতার মাধ্যমে বিরোধীদলের দু’  দু’টো বছর অতিবাহিত হলো। অপর দিকে প্রধান ইসলামী সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে চাতুর্যপূর্ণ অপরাজনীতির শিকার হয়ে রাজনীতির ময়দানে একেবারে কোনঠাসা হয়ে আছে। বলাই বাহুল্য, ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলার রাজনৈতিক সকল প্লাটফর্ম অবরুদ্ধ হওয়ায় ইসলামপ্রিয় জনতার আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আলেম সমাজেরই দারস্ত হয়। কিন্তু বৈদেশিক গোয়েন্দাসংস্থার প্রত্যক্ষ মদমদপুষ্ট আওয়ামী সরকারের কূটকৌশলের কাছে ইসলাম রক্ষার আপাত শেষ অস্ত্রটিও ব্যর্থ হয়ে গেল। আলেম সমাজ ভুলে গেলেন,  “আওয়ামী লীগের ইতিহাস, চুক্তিভঙ্গের ইতিহাস, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মিথ্যাচারের ইতিহাস, আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিশ্বাসঘাতকতা ইতিহাস“। ২০০৬ সালে শুধুমাত্র নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য এবং ইসলামী আন্দোলনকে কোনঠাসা করার জন্য খেলাফত মজলিসের সাথে প্রতারণামূলক চুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ, বামদের চাপে পড়ে সে চুক্তি ভঙ্গ করেছিল যা পরে শেখ হাসিনা স্বীকার করেছিলেন। এবারও যে তার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হবে না তা দিবালোকের ন্যয় স্পষ্ট।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পাশ্চাত্যের আগ্রহ বহুযুগের। দু’শ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পরও এদেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবীত শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা সম্ভব হয় নি এবং বাংলাদেশের ধর্মপ্রিয় সাধারণ মুসলমানদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে আধুনিকতার নামে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা গেলানো সম্ভব হয় নি। পাশ্চাত্যের তথাকথিত আধুনিকতার নামে আদিম উলংগপনা, অবাধ যৌণাচার, সমকামিতার মতো অপসংস্কৃতি  গুটিকয়েক উঠতি শিল্পপতির সন্তানেরা  গ্রহণ করলেও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ সযতনে তথাকথিত আধুনিকতা এড়িয়ে চলেছে, সামাজিক ও পারিবারিক অটুট বন্ধনকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই মোসাদের আছরগ্রস্থ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের নৈতিকাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করে। এরই অংশ হিসেবে ওয়ান ইলেভেন, এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ। আওয়ামী লীগকে যে পাশ্চাত্যের কিছু অনৈতিক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়। সম্প্রতি উইকিলিকসে আওয়ামী লীগের জয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বস্তি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পাশ্চাত্যের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে বিকৃত নগ্ন চেহারা বেরিয়ে আসে।  বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ষড়যন্ত্র ফাঁসের মাধ্যমে তাদের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে ষড়যন্ত্র তা সাধারণ মানুষ না বুঝলেও আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের অজানা নয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে একের পর এক বাধা, চাকুরীক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সবকিছুরই ভুক্তভোকী আদর্শিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই। তারপরও তারা কি করে ভুলে যান সবকিছু, কি করে মেনে নেন মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার যাবতীয় ষড়যন্ত্র?

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসার প্রসংশায় বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল শিরোনামে আনন্দবাজার পত্রিকা যে সংবাদটি প্রকাশিত হয় তাতে মন্তব্য করা হয়, “যথেষ্ট ভাল অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরলেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা”। রিপোর্টে আরো প্রকাশ  এডিবি’রই সাহায্য নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা-ব্যবস্থার সংস্কারে উদ্যোগী বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদল এক সপ্তাহ ধরে এ রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসা ঘুরে দেখেছে। তাঁরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার এই ‘উৎকর্ষের’ পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হল:
● পশ্চিমবঙ্গে মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার ফারাক নেই।
● মাদ্রাসার পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত।
● এ রাজ্যের মাদ্রাসায় অ-মুসলিম পড়ুয়ার সংখ্যাও যথেষ্ট।
● শিক্ষক নিয়োগ হয় সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে।
● সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক অবস্থান ভাল।

বিপোর্টে আরো প্রকাশ, “বস্তুতই পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম এবং মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমে ফারাক প্রায় নেই বললেই চলে। এখানে মাদ্রাসা পাশ করে বেরিয়ে শিক্ষার মূলস্রোতে মিশতে ছেলেমেয়েদের অসুবিধে হয় না। বর্ধমানের ওরগ্রামের এক মাদ্রাসায় তো অ-মুসলিম পড়ুয়াই ৬২%! বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য নজরুলের কথায়, “এই ব্যাপারটা ভীষণই ভাল লাগল।”

একবার ভাবুন, সে কেমন মাদরাসা যেখানে ৬২% অমুসলিম পড়াশুনা করে? তারা কি সেখানে কোরআন হাদীস পড়ে? যদি পড়ে তবে কিসের নেশায়? ইসলামকে ধ্বংসের জন্য নয় কি? যে পশ্চিমবঙ্গের হাইকোর্টে কোরআনকে নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে মামলা হয়েছিল, যার প্রতিবাদে ১৯৮৫ সালের ১১ মে চাপাইনবাবগঞ্জে অসংখ্য ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছিল, সেই ভারত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মাদরাসায় হিন্দু ছাত্রদের কি ধরণের শিক্ষা দেয়া হয় তা সহজেই অনুমেয়।

আজ আবার বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনৈতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের অশ্লীলতার দিকে হাকিয়ে নেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই ইসলাম প্রচার ও প্রসারের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনেকেইসলাম বিদ্বেষীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, দেশের আলেম-ওলামা, ঈমাম-মোয়াজ্জেনদের ইসলামের পরিবর্তে অশ্লীল ব্যালেড্যান্স শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, দেশের সুস্থ্য ধারার সংস্কৃতির কবর রচনা করে নগ্নতা শিক্ষা দেয়ার জন্য ভারত থেকে চালানো হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এতসব কিছুর পরও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কি জেগে উঠবে না? একবারও কি রুখে দাড়াবে না স্কুল পড়ুয়া শহীদ শীষ মোহাম্মদের মতো ইসলামের সেবকরা?

শাহাবুদ্দৌলারা জাগো, শীষ মোহাম্মদেরা জাগো,  জেগে ওঠো দৃপ্ত প্রত্যয়ে; পদ্মমল-শীতল সিংদের প্রতিরোধে কোরআন আজ ডাকছে তোমায়।

হরতালের স্বপক্ষে ২৪ ডিসেম্বরের বিশাল গণমিছিল

থেষ্ট ভাল অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরলেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা।

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা কী ভাবে চলছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর পরামর্শে ওঁরা তা দেখতে এসেছিলেন। কারণ, বাংলাদেশ সরকার এডিবি’রই সাহায্য নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা-ব্যবস্থার সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে। ফেরার আগে ঢাকার প্রতিনিধিরা জানিয়ে গিয়েছেন, সফর ব্যর্থ হয়নি। যে অভিজ্ঞতা তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের উদ্যোগ সফল করতে তা খুবই সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদল এক সপ্তাহ ধরে এ রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসা ঘুরে দেখেছে। তাঁরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার এই ‘উৎকর্ষের’ পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হল:

পশ্চিমবঙ্গে মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার ফারাক নেই।
মাদ্রাসার পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত।
এ রাজ্যের মাদ্রাসায় অ-মুসলিম পড়ুয়ার সংখ্যাও যথেষ্ট।
শিক্ষক নিয়োগ হয় সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে।
সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক অবস্থান ভাল।

ঢাকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৭ হাজার মাদ্রাসা থাকলেও সেখানে লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক নয়। তাই ওখানে মাদ্রাসা শিক্ষা ঢেলে সাজার পরিকল্পনা হয়েছে। তাঁরা এ-ও জানান, এডিবি-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তাঁদের এই সফর। পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা কী ভাবে চলছে, সংস্কারে নামার আগে বাংলাদেশের যে তা দেখে নেওয়া উচিত, সে ব্যাপারে বৈঠকে দু’পক্ষই একমত হয়। একই ভাবে ইন্দোনেশিয়াতেও একটি দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিনিধিরা এ রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর, মাদ্রাসা বোর্ড, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও বর্ধমানের কয়েকটি মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা-প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য নজমুল হুদার কথায়, “আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই সন্তোষজনক। আমরা যা ভেবেছিলাম, এখানকার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা তার চেয়েও ভাল।” দলের আর এক সদস্য তথা বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নজরুল ইসলামের মন্তব্য, “এডিবি-র পরামর্শমতো আমরা চাইছি, এখানকার ভাল দিকগুলো আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কারে কাজে লাগাতে। বাংলাদেশ সরকার এবং এডিবি-কে আমরা রিপোর্ট দেব।”

বস্তুতই পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম এবং মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমে ফারাক প্রায় নেই বললেই চলে। মাধ্যমিকের সব বিষয়ই মাদ্রাসায় পড়তে হয়। অতিরিক্ত হিসেবে থাকে আরবি ভাষা ও ধর্মতত্ত্বের তালিম। উপরন্তু এখানে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিটিও প্রতিনিধিদের আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশের মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট পরিচালন কমিটি। সেখানে প্রধান শিক্ষকদের এক ধরনের বেতন, অন্য শিক্ষকদের আর এক রকম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মাদ্রাসা-শিক্ষক বাছাই করে সার্ভিস কমিশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকদের একাধিক বেতনক্রমও রয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের মাদ্রাসায় সরকারি সাহায্য কম।

সেখানে পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা চলে সরকারি সহায়তায়। রিপোর্টে তাঁরা এ সবেরই উল্লেখ করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা।

আর কী দেখলেন?

দলের এক সদস্য জানান, পরিকাঠামো, পাঠ্যক্রম, পরিচালন পদ্ধতির পাশাপাশি তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার মূলস্রোতের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা-পড়ুয়াদের সামাজিক অবস্থানটাও বুঝতে চেয়েছিলেন। এবং সব দেখে বুঝেছেন যে, এখানে মাদ্রাসা পাশ করে বেরিয়ে শিক্ষার মূলস্রোতে মিশতে ছেলেমেয়েদের অসুবিধে হয় না। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায় অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীর বহর দেখেও তাঁরা কার্যত অভিভূত। বর্ধমানের ওরগ্রামের এক মাদ্রাসায় তো অ-মুসলিম পড়ুয়াই ৬২%! নজরুলের কথায়, “এই ব্যাপারটা ভীষণই ভাল লাগল।”

ওঁদের ‘অভিজ্ঞতা’য় রাজ্য সরকারও খুশি। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রী আবদুস সাত্তার বলেন, “আমরা কী ভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা-ব্যবস্থা চালাচ্ছি, ওঁরা মূলত তা দেখতে এসেছিলেন। আমাদের ব্যবস্থা ওঁদের যে ভাল লেগেছে, তা জেনে আমাদেরও ভাল লাগছে।”

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আওয়ামী কূটকৌশলে হেরে গেলো আলেম সমাজ!” লেখাটিতে 6 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    “শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে” এ কথা বলে আইনমন্ত্রী আলেম সমাজকে আরেকবার অপমানিত করলেন। তার এই কথা প্রত্যাহার করার দাবী জানাই।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    সহমত।
    তবে এখানে বিষয়টি স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ কোন দাবী মানবে না। মানলে শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার কথা বলতেন না। আর তিনিতো সরাসরি হরতাল প্রত্যাহারের কথাই বললেন, কিন্তু ওলামা পরিষদ বলছে হরতাল আপাত স্থগিতের কথা, একমাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তারা হরতাল স্থগিত করেছে, প্রত্যাহার করে নি। তাই এটা স্পষ্ট যে আওয়ামী কূটনীতির কাছে হার হয়েছে আলেম সমাজের।

    [উত্তর দিন]

  2. এহসান বলেছেন:

    আওয়ামী লীগের সাথে যারা চুক্তি করতে পারে, তারা আওয়ামী লীগের বন্ধু ছাড়া আর কিছু নয়। এই ইউসুফী-নেজামীরা সবসবময়ই আওয়ামী লীগের বন্ধু ছিল।

    মিছিলের লোকজন দেখে মনে হল, প্রায় সবাই জামায়াত-শিবিরের। মিছিলে এত অংশগ্রহন করেও লাভ হল না। জামায়েতের উচিত সমাজের উচ্চ লেভেলে যোগাযোগ বাড়ানো।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    এ ধরণের চুক্তি চুক্তি খেলায় কিন্তু আসল সত্যিটা ঠিকই বেরিয়ে আসে। সমস্যা হলো আমরা সবাই হয়তো তা ধরতে পারি না, কিংবা যারা বুঝতে পারে তাদের অনেকেই চেপে যান। আসলে কারা ইসলামের পক্ষের শক্তি আর কারা ছদ্মবেশী তা পরিস্কার হওয়াটাও জরুরী।
    আমি অবাক হয়ে যাই, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে তা তো উইকিলিকসের প্রকাশ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভারতের হিন্দু মাদরাসার আদলে এদেশের মাদরাসা শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন। তারপরও যারা আপোষ করে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরী।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    হয়তো অনেকে যুক্তি দেখাবে একবার অন্তত আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেয়া দরকার, চুক্তি রক্ষা করে কি না তার প্রমাণের জন্য। কিন্তু যে সাপ বারবার দংশন করেছে তাকে আরেকবার দংশনের সুযোগ দেয়া সুস্থ্য মানষিকতার লক্ষণ নয়। জাত সাপের প্রথম সুযোগেই কোমড় ভেঙ্গে দিতে হয়।

    [উত্তর দিন]

  3. mohsin kamal বলেছেন:

    We want india as a good freind to Bangladesh..
    But… India is failure to become a good freind..
    Actually India never wants a Strong Banlgadesh… Never wants a Strong ecnomy for Bangladesh..India helped us in 1971 for its own interest only… We , all people could watch eveything why india helped us in 971…..just wait for 06 next month.
    I can give many example..that india behaves like a ghost enemy..
    Tell one thing..
    Our fourfathers fight for pakistan from British regime in 1947..it was true.
    Some people try to say that it was wrong decision for Pakistan movement.
    Really was it wrong decision of our forefathers?
    ok… it was wrong decision…
    But whatt was the right and accurate decision in 1947?
    Could we get freedom state for Bangladesh in that situation?
    or was it right decision to Join india in 1947 like Khasmir?
    Will you give my answer? plz…
    Do you think that our forefthers should have joined with indiai n 1947? … Yes…. then how could we get independence Bangladesh in1971?
    plz give my answer….

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন