আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : কাদিয়ানী সমস্যা

বাংলাদেশে কাদিয়ানী ফেতনা খুব একটা মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। বিশেষ করে দেশের সকল স্থানে কাদিয়ানীদের তৎপরতা না থাকায় তাদের সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানদের যেমন সঠিক জ্ঞান নেই তেমনি ওদের সম্পর্কে জানার আগ্রহও দেখা যায় না। তারপরও কাদিয়ানীদেরকে মুসলমানদের একটি সমপ্রদায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এমনকি শিশুদের সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে কাদিয়ানীদেরকে মুসলমানদের একটি মযহাব হিসেবে উল্লেখ করে কোমলমতি শিশুদের ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সাধারণ মুসলমানরা যেহেতু কাদিয়ানীদের সম্পর্কে খুব কমই জানেন তাই তারা কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার দাবীকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না। তাদের অনেকেই কাদিয়ানীদেরকে মুসলমানদেরই একটি সমপ্রদায় মনে করে।

অথচ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, কাদিয়ানীরা আদৌ মুসলমানদের কোন সমপ্রদায় নয়। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী হিসেবে দাবী করতেন এবং তার অনুসারীরা তাকে নবী, মসীহ মওউদ (আঃ), প্রতিশ্রুত মসীহ এবং ইমাম মাহদী বলে দাবী করে। এমনকি কাদিয়ানীদের পুস্তক পড়লে জানা যায় যে তারা মুসলমানদেরকে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী না মানার কারনে কাফের সাব্যস্ত করে। বিস্তারিত জানতে তাদের ওয়েবসাইট !@@!61352-!@@!61353 !@@!61354 !@@!61355 দেখে নিতে পারেন।

হয়রত ঈসা (আঃ) নবুয়ত দাবী করে নিজের প্রচারিত ধর্মকে পূর্ববর্তী ধর্ম ইহুদী ধর্ম বলে দাবী করেন নি বরং তার অনুসারীরা খৃষ্টান নামে পরিচিত, তার ধর্ম খৃষ্টান ধর্ম নামে পরিচিত, তেমনি হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) নবুয়ত দাবী করে কখনোই বলেনি যে তার অনুসারীরা খৃষ্টান বরং তার অনুসারীরা মুসলমান নামে আলাদা একটি জাতির সৃষ্টি করেছে যাদের ধর্ম ইসলাম। তাহলে নতুয়তের এই নতুন দাবীদার কেন তার ধর্মকে ইসলামের উপর চাপিয়ে দিতে চান, কেন তার অনুসারীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করা হবে না, কেন তারা তাদের স্বতন্ত্র একটি নাম নেবে না। নেয় না এই কারণে যে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আদৌ কোন নবী ছিলেন না বরং তিনি একজন প্রতারক, ভন্ড ছিলেন যার কাজ ছিল মুসলমানদের মধ্যে ফেৎনা সৃষ্টি করা।

কাদিয়ানীয়াত যে আলাদা একটি ধর্মমত, ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এটি মেনে নিলে কোন সমস্যা থাকে না। একজন সংখ্যালঘু হিন্দু বা খৃষ্টান বা বৌদ্ধ যেমন ধর্মকর্মে স্বাধীনতা পান কাদিয়ানীরাও ঠিক তেমনি স্বাধীনতা পাবে তাদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় অনুসাশন পালনে। কিন্তু অমুসলিম হয়েও মুসলমান নাম ধারন করে মুসলমানদের ভেতর ফেৎনা সৃষ্টি করবে তা আদৌ মেনে নেয়া যায় না।

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার জন্য এ কারনেই প্রচন্ড আন্দোলন গড়ে ওঠে। কিন্তু আগেই বলেছি মাওলানা মওদূদী (রহঃ) এ জন্য আলাদা আন্দোলনের পরিবর্তে সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে এ আন্দোলন চালানোর পক্ষপাতী ছিলেন। তাই কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার আন্দোলনের সাথে সবক্ষেত্রে একমত ছিলেন না।

কিন্তু কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার দাবীটি অল্প সময়েই জনতার দাবীতে পরিণত হয়। বিশেষ করে এ দাবীতে পাকিস্তানের সবগুলো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন বিশেষ করে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, মজলিশে আহরার, জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তান, জমিয়তে আহলে হাদীস, আঞ্জুমানে তাহাফফুযে হুকুমে শিয়া প্রভৃতি দলগুলো অংশগ্রহণ করে। মূলত এ আন্দোলনটি ছিল পাকিস্তানের আপামর মুসলিম জনতার আন্দোলন আর এ আন্দোলনের প্রধান দাবী ছিল কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার আমেরিকা ও ব্রিটেনের প্রতি এতটাই প্রভূভক্ত ছিল যে তাদের অনুমোদন ছাড়া এমন ইসু্যতে মাথা নোয়াতে চাইছিল না। বিশেষ করে তৎকালীন সময়ে পাকিস্তান প্রশাসনে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাদিয়ানীদের এতোটাই প্রভাব ছিল যে তাদের বিরাগভাজন হলে পাকিস্তান পাশ্চাত দূনিয়া থেকে সকল অনুকম্পা আদায়ে ব্যর্থ হবে এমন ভয়ে ভীত হয়ে কাদিয়ানীদের বিপক্ষে যেতে অনিচ্ছুক ছিল। ফলে কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে পাকিস্তান সরকার। আর এ কারনে ১৯৫৩ সালের সাতাশে ফেব্রুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠেয় সর্বদলীয় কনভেনশনে ডাইরেক্ট একশন বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম ঘোষণা করে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ডাইরেক্ট একশনের পক্ষে ছিল না, ফলে উক্ত কনভেনশন থেকেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ডাইরেক্ট একশনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং উক্ত কনভেনশনের সাথে জামায়াকের সম্পর্কচূ্যতির ঘোষণা করেন।

পরের দিনই ডাইরেক্ট এ্যাকশন নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয় এবং জামায়াতে ইসলামী যে ডাইরেক্ট একশনের সাথে ছিল না তার বড় প্রমাণ হলো মওদূদী (রহঃ)-কে ডাইরেক্ট একশনের জন্য অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হয় নি এমনকি পাঞ্জাব গোলযোগের সরকারী দলিল !@@!61787 !@@!61788-এর কোথাও মওদূদীকে (রহঃ) পাঞ্জাব গোলযোগের জন্য দায়ী করা হয় নি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : কাদিয়ানী সমস্যা” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. রিয়াজ বলেছেন:

    কেমন আছেন ভাই?

    আপনার কি বোর্ডের লে আইট টা দেরকার। কোডটাকি দেয়া যাবে?

    [উত্তর দিন]

    আরাফাত রহমান উত্তর দিয়েছেন:

    বাংলা কীবোর্ড লেআউটের সোর্স কোড এই লিংকে পাবেন।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ আরাফাত ভাই। আশাকরি রিয়াজভাই উপকৃত হবেন।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ রিয়াজ ভাই। আশাকরি সোর্স পেয়ে গেছেন।

    [উত্তর দিন]

  2. Zamshed Farhan বলেছেন:

    A lot of thanks for sharing.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন