আলেম সমাজ রাজাকার

“পাকিস্তান যে অপরাধ করেছে তার চেয়ে বড় অপরাধ করেছে পাকিস্তানীদের দোসর এই বাঙ্গালীরা যারা এই ২৬ তারিখ সারা বাংলাদেশ হরতাল ডেকেছে”। ১৩ ডিসেম্বর ২০১০, সোমবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও তাদের হত্যার বিচার শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড.মহীউদ্দিন খান আলমগীর। উল্লেখ্য সম্প্রতি ‘পাস হওয়া শিক্ষানীতি ধর্মহীন’ দাবী করে এর প্রতিবাদে ২৬ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সংগঠন সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ। অপরদিকে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ২৬ তারিখে ডাকা হরতালকেই শ্রমিক অসন্তোষের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন।

অদ্ভুত রঙ্গীণ চশমায় ঢাকা আওয়ামী চোখ। যেদিকেই তাকান, সিনিয়র নেতা থেকে অলি গলিতে ওঁত পেতে থাকা পাতি নেতা, সবার চোখে অদ্ভূত দর্শণ একরঙ্গা চশমা। যে চশমা দিয়ে তাকালে সব কিছুকেই সবুজ মনে হয়, যে দিকেই তাকায় হাজারো চাঁদ তারায় ভরে ওঠে আসমান। আকাশ-মাটি-ঘাস-ফুল সব খানেই সবুজের ছড়াছড়ি, মাঝে মাঝে উঁকি দেয় আলো ঝলমল চাঁদ-তারা। বাংলার মাঠ-ঘাট-বন-জঙ্গল সবকিছুই সবুজ, সবুজ যে উর্বরতার প্রতীক, জীবনের প্রতীক, যৌবনের প্রতীক। তাইতো ইসলামের প্রতীক হয়ে সবুজ উড়ে বেড়ায় সারাবিশ্বের মুসলিম দেশে, সাথে শোভা পায় হৃদয় দোলানো চাঁদ-তারা। সবুজ আর চাঁদ তারা মানেই পাকিস্তান নয়, চাঁদ তারা ইসলামের প্রতীক। ইসলামকে ভালোবেসে যে চাঁদ তারায় আলোকিত হয়েছিল পাকিস্তানের পতাকা তা কিছুতেই পাকিস্তানের সম্পত্তি নয়, ওতো ইসলামেরই সম্পদ। তবু যেদিকেই সবুজ, সেদিকেই তেড়ে যায় আওয়ামী লীগ। পশ্চিমাকাশে খুঁশির বার্তা নিয়ে চাঁদ হাসে, আওয়ামী বুনো ষাড় শিং বাঁকিয়ে তেড়ে আসে রাজাকার রাজাকার রবে।

যেদিকেই চোখ যায়, যতদূরে চোখ যায়, সবাইকেই রাজাকার মনে হয়। পানের বাটি সাঁজিয়ে বউ কাছে এলে ঝলমলে বাঁকা হাসি দেখে চাঁদ বলে ভ্রম হয়, রাজাকার রাজাকার রবে হৃদপিন্ড পেন্ডুলামের মতো দোল খায়। বিচিত্র চশমায়, আপন হয়ে যায় পর, পরকে আপন বলে মনে হয়। মসজিদের মিনারে মিনারে উকি দেয় চাঁদ, একই সাথে আওয়ামী বদ্ধ আকাশে হানা দেয় ভয়ংকর আঁধারের রাত। সবকিছুতেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ ভাসে, রাজাকারদের ষড়যন্ত্র, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র। কারো কথাই নির্দোষ নয়, কথার আড়ালে যেন লুকিয়ে গোক্ষুর, এই বুঝি হামলে এলো, এই বুঝি কামড়ে দিল।

পঞ্চাশ  টাকা সের চালের দামে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ভাসে, একশত পনের টাকার সয়াবিনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ভাসে, একশত সত্তুর টাকার রসূনের ঝাঁঝে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ভাসে। চারিদিকে ভয়ংকর সব ষড়যন্ত্র, যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র। মামু বাড়ীর দাদা-বউদি উদোম হয়ে ভেল্কি নাচে, অমন সুখের দৃশ্যে নিয়ে আজে বাঁজে কথা সাঁজে? সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে বাঁধা হয়ে আসছে যারা, নিশ্চিত ওরা ষড়যন্ত্রী, রাজাকারের বাচ্চা ওর। ওরা ১৮ ঘন্টার লোডশেডিংয়ের বদলে ১৮ ঘন্টা বিদ্যুত চায়, ওরা পানি চায়, গ্যাস চায়, দু’বেলা দুমুঠো অন্ন চায়, ওরা বাচার মতো বাঁচতে চায়, ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমের ন্যায্য মজুরী চায়, ওরা মা-বোনকে ছাত্রলীগের ছোবল থেকে বাঁচাতে চায়। আসলে ওরা কিচ্ছু চায় না, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বাঁধাগ্রস্থ করতে চায়।

রাজধানীর বুকের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে একপাশে ক্রিসেন্ট লেক, আরেক পাশে বাংলাদেশের অহংকার মহান জাতীয় সংসদ। মুক্তবিহঙ্গের মতো আকাশে ওড়ে যান্ত্রিক ফড়িং, ঘাড়ে প্রধানমন্ত্রী। অদ্ভূত রঙ্গীণ চশমায় শকুনের দৃষ্টি গলে নীচে,  জিয়া উদ্যানের মাঝে ক্রিসেন্ট লেকের পাশে জাতীয় সংসদকে চাঁদ-তারা খচিত সবুজ পতাকা বলে ভ্রম হয়। প্রকৃতি বড়ই বেয়ারা, প্রকৃতিও বুঝি রাজাকারের দোসর। প্রকৃতির ষড়যন্ত্রে বিষিয়ে ওঠে মন, তড়াক করে বেড়িয়ে আসতে চায় পচাঁত্তরে কবর দেয়া ঘৃণ্য বাকশাল, বুনো উন্মাদনায় সংসদীয় গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যার সাধ, রঙ্গীন চশমায় ভাসে জাতীয় সংসদের বিকৃত বিগলিত লাশ, সংসদীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে দাদারও যে (মনমোহন) সংশয় কি হবে সংসদে, কি হবে গণতন্ত্রে? সংসদ মানেই আওয়ামী লীগের পাশে বিএনপিকে মেনে নেয়া, সংসদ মানেই ভারতীয় প্রভূদের পাশে ভারতবিরোধীদের টেনে নেয়া, সংসদ মানেই এরশাদের পাশে নূর হোসেনের সহাবস্থান, সংসদ মানেই রাজাকার আলবদর আলশামসদের পূর্ব পাকিস্তান। রাজাকারের বাচ্চাদের পিষে মারতে একরঙা চশমা চাই, বহুদলীয় গনতন্ত্রের কবরে বাকশালের বাঁশ চাই।

অথচ, বিচিত্র চশমা ছুড়ে ফেলে একটি বারও তাকালে নীল আসমানের পানে, একটি বারও তাকালে না সুনীল সমুদ্রের পানে। গোলাপ, চাঁপা, জুই, চামেলি, হাস্নাহেরা রঙে একটি বারও মন রাঙালে না। জেনে রেখ, তুমিই ঠকেছ, ভ্রমনের গানে বিমোহিত ফুল মাছির পরোয়া করে না।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আলেম সমাজ রাজাকার” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. Dr. Md. Belayet Hossain বলেছেন:

    অসাধারণ লিখেছেন

    [উত্তর দিন]

  2. ABHIMANI বলেছেন:

    apni bara berasik.dada-boudir oi scene ki khub kharap? apni ki razakarer bangshadhar? a.liger rangin chashmay apnake kintu tai mone hoy.bravo, bravo, likhe jan. jati benefited hobe.

    [উত্তর দিন]

    দেশ প্রেমিক উত্তর দিয়েছেন:

    খুব ভালো লেগেছে। এভাবে লিখতে থাকুন ইনশাল্লাহ দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন। আমিন।

    [উত্তর দিন]

  3. zia বলেছেন:

    Bakshal is the final solution.

    [উত্তর দিন]

  4. আওয়ামী কূটকৌশলে হেরে গেলো আলেম সমাজ! | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, গালি দিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ আরো নেতৃবৃন্দ, সবকিছু ভুলে গিয়ে, […]

মন্তব্য করুন