আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : কর্মমুখর জীবন
বৈচিত্রময় কর্মমুখর জীবনের অধিকারী সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ)। তার কর্মজীবনের ব্যাপ্তির দিকে তাকালে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় মওদূদী (রহঃ) কোন ব্যক্তি নন, যেন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম।
মওদূদী (রহঃ) তার কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। বাবার ইন্তেকালের পরে জীবিকার তাগিদেই তাকে ১৯১৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয় সাংবাদিকতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশায়। অবশ্য আগে থেকেই তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় উর্দু পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন।
তার সাংবাদিকতা জীবন এতটাই সফল যে মাত্র সতের বছর বয়সে ১৯২০ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুর থেকে প্রকাশিত তাজ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। এবছরই তিনি দিলি্লতে চলে আসেন এবং মুসলিম পত্রিকার (১৯২১-২৩) সম্পাদনা শুরু করেন। এর কিছু পরেই তিনি আল-জামিয়ত (১৯২৫-২৮) পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তার সম্পাদনায় প্রকাশিত আল-জমিয়ত পত্রিকা ভারতীয় মুসলমাদের প্রধান পত্রিকায় পরিনত হয়। মুসলিম এবং আল-জমিয়ত পত্রিকা দু’টো মুসলিম ধর্মীয় পন্ডিতদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হত।
মওদূদী (রহঃ) বিশ্বদ্যিালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করার সুযোগ পান নি, অথচ আল-জিহাদ ফিল ইসলাম গ্রন্থ রচনার পরে উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে লেকচারারের লোভনীয় পদে যোগদানের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি দ্বীনের দাওয়াতের জন্য স্বাধীন ভাবে কাজ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং এক্ষেত্রে সাংবাদিকতাই তার কাছে শ্রেয় মনে হয়।
মাওলানা মওদূদীর খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের কোনে কোনে ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগে নি। তার অসামান্য কর্মকান্ড দ্রুত বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের দৃষ্টি কাড়ে। সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সল বিন আবদুল আযিয মাওলানা মওদূদীকে (রহঃ) সৌদি আরবের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বাদশাহর উপদেষ্টা হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা মওদূদী (রহঃ) বিনয়ের সাথে বাদশাহর এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার বর্তমান অবস্থানে থেকেই আপনার সার্বক্ষণিক উপদেষ্টা। আপনার যখনই প্রয়োজন রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে অথবা সরাসরি আমার পরামর্শ নিতে পারবেন। যে পরামর্শ সত্য সঠিক তা-ই দিব। তবে নাগরিকত্ব নিয়ে উপদেষ্টার চাকুরী গ্রহণ করলে হয়তো বা সঠিক পরামর্শ নাও দিতে পারি”।
আসলে দূনিয়ার প্রতি কতটা নির্মোহ হলে একজন মানুষ পবিত্রভূমির নাগরিকত্ব এবং বাদশাহর উপদেষ্টা হওয়ার মতো এমন লোভনীয় ও ইর্ষনীয় পদ প্রত্যাখান করা যায় তা ভাবতেই শ্রদ্ধায় মনপ্রাণ ভরে ওঠে।


June 29th, 2010 at 11:43 pm
Zeyaldar park e Maulana Moududi (R.A.) er kobor tar nij barite.
[উত্তর দিন]
June 29th, 2010 at 11:47 pm
Zeyaldar park e Maulana Moududi (R.A.) er bari.
[উত্তর দিন]