আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : জন্ম ও শৈশব

যে কারো জীবনী পড়লে প্রথমেই দেখতে পাই, “তিনি একটি সম্বান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন” এমন বাণী জুড়ে দেয়ার রেওয়াজ। তাই সম্বান্ত মুসলিম পরিবার শব্দগুলো একটা হাস্যকর উপমায় পরিণত হয়েছে। তারপরও লিখতেই হচ্ছে সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ) একটি অত্যন্ত সম্বান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ভারতের দক্ষিণাত্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্র) আওরঙ্গাবাদে সাইয়েদ আহমদ হাসানের (১৮৫৫-১৯২০) ঐরসে এবং রোকেয়া বেগমের গর্ভে জন্মলাভ করেন।

তের-চৌদ্দশত বছর ধরে ইসলামী দাওয়াত, দ্বীনি শিক্ষা দীক্ষার কাজে অব্যাহতভাবে শ্রম দিয়েছে আহলে বাইতের এমন একটি সুপ্রসিদ্ধ ও সম্বান্ত শাখায় তার জন্ম। ভারতীয় চিশতীয়া তরিকতের সবচেয়ে বুযুর্গানে দ্বীন, প্রধান বা বড় পীর হিসেবে পরিচিত খাজা কুতুবুদ্দিন মওদূদ চিশতী (রহঃ) (১০৩৯-১১৩৩ হিজরী) এবং নামকরা বুজুর্গ মাওলানা আবু আহমদ আবদাল চিশতী (রহঃ) (মৃতু্য:৯৬৫ ইসায়ী) এ খান্দানেরই সন্তান। যুগ যুগ ধরে এ খান্দান ধর্মীয় অনুশাসন পালনরে পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃত্ব দিয়ে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করে।

আদর্শ বাবার সংস্পর্শে শৈশবেই মওদূদী (রহঃ) দ্বীনি এলেমসহ ইসলামী আদব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তার বাবা একজন উকিল হলেও মিথ্যা ও অন্যায়ের পক্ষে কেস গ্রহণ না করায় এবং ইবাদত ও কৃচ্ছতা সাধনের সহজ সরল সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়ায় ওকালতিতে সময়দানের চেয়ে আলেম-ওলামাদের বৈঠকে সময় দেয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। আলেম-ওলামাদের এসব বৈঠকে তিনি নিয়মিত একান্ত প্রিয় সন্তান মওদূদীকে (রহঃ) নিতেন তালিম দেয়ার জন্য।

পিতার সাহচর্যে তিনি কুরআনের ছোট ছোট সূরাগুলো মুখস্ত করেন, শিখে ফেলেন আরবী ও উচ্চাঙ্গের উর্দু ভাষা। তার শিক্ষার প্রথম দিন থেকেই উর্দু, ফারসী, আরবী, ফিকাহ ও হাদীসের শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করেন তার বাবা। সন্ধ্যাগুলো তার কাটতো বাবার মুখে নবী-রাসুলদের (আ:) কাহিনী শুনে, দ্বীনের মহা-মনীষীদের জীবন গাঁথা শুনে। ফলে অল্প বয়সেই দ্বীনি আকায়েদ, আদাবে জীন্দেগী, শিক্ষা প্রভৃতি তার কোমল হৃদয়ে গেঁথে ফেলেন।

মূলত শিশু মওদূদীর (রহঃ) শিক্ষাগুরু ছিলেন তার বাবা। তার চাল-চলনে কোন ত্রুটি দেখলেই তৎক্ষনাৎ তিনি তা সংশোধনের চেষ্টা চালাতেন, এমনকি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ কাজে লেগেই থাকতেন। ফলে শৈশবেই তিনি চমৎকার চারিত্রিক মাধুর্য অর্জন করেন।

শৈশবে মওদূদী (রহঃ) গৃহপরিচারিকার ছেলেকে মেরেছিলেন একবার। সাথে সাথে বিষয়টি তার বাবার নজড়ে পড়ে যায়। অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হলেন তিনি। কিছুতেই সন্তানের এহেন আচরণ মেনে নিতে পারলেন না। তিনি তৎনাৎ গৃহপরিচারিকার ছেলেকে ডেকে পাঠান। ছেলেটিকে তিনি নির্দেশ নিলেন একইরূপ মার দিতে মওদূদীকে (রহঃ) যেমন মার তিনি দিয়েছিলেন গৃহপরিচারিকার সন্তানকে। এ শিক্ষা মওদূদীর (রহঃ) জীবনে এমন প্রভাব ফেলে যে আমৃতু্য তিনি আর কখনো তার অধিনস্ত কোন ভৃত্য কিংবা কর্মচারীর গায়ে হাত তোলেন নি।

Be Sociable, Share!

One Reply to “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : জন্ম ও শৈশব”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।