আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সন্তান

গত ২ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে গোলাম মোর্তজা সম্পাদিত ও ২৬, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “সাপ্তাহিক”-এর বর্ষ ৩ সংখ্যা ২৯” ইন্টারনেটে জামায়াত-শিবিরের প্রপাগাণ্ডা” শীর্ষক মূল প্রতিবেদনে প্রতিবেদক আনিস রায়হান আমাদের এ সাইটটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট করেছেন যা আমাদেরকে কৌতুহলী করে। রিপোর্টে তিনটি ওয়েবসাইট, দুটি ব্লগ, একটি ফোরাম ও সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক নিয়ে চুলচেরা (নাকি চুলছেড়া) বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদক অন্ধকারে দড়ি দেখে সাপ সাপ বলে বিলাপ জুড়ে দিয়েছেন। তার এ আর্ত চিৎকারে সরকার দিশেহারা হবে কিনা তা জানা না গেলেও ইতোমধ্যেই “সাপ্তাহিক” পত্রিকাটির সাধারণ পাঠকরাই যে  পত্রিকার আওয়ামী প্রপাগান্ডা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন তা বেশ উপলব্ধি করতে পারছি, বিশেষ করে পত্রিকার রিপোর্টে পাঠকের মন্তব্যগুলো দেখে আমাদেরও আক্কেলগুড়ুম।

হ্যা, সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রপাগান্ডা যে চালানো হতে পারে তা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম, বিশেষ করে কিছুদিন পূর্বে  ৫ নভেম্বর ২০১০, শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যে প্রপাগান্ডা চালানোর জন্য তৃণমূল নেতাদের  আহ্বান জানান। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ চালের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা করার অঙ্গীকার করেছিল_বিরোধী দলের এ প্রচারনার জবাব দেওয়ার জন্য তৃণমূল নেতাদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা যা প্রকৃতপক্ষে মিথ্যে প্রপাগান্ডা চালানোর হুকুমেরই নামান্তর। কেননা ১০ টাকা সের চাল, আর বিনামূল্যে সার সরবরাহের যে ওয়াদা তিনি করেছিলেন তা তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল। এমন একটি সত্য কথাকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত মিথ্যে প্রপাগান্ডার। আর তাই আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের প্রচার, প্রকাশনা এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদের দু’দিনব্যাপী গোয়েবলসিয় মিথ্যাচারের তালিম দেয়া হয়েছে। আর এর ফল কয়েকদিনের মাঝেই আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বিশেষ করে কয়েকটি দিন ধরে ওয়ালে ওয়ালে, দোকান পাট, বাস, ট্রাক, বৈদ্যুতিক খুটি ছেয়ে গেছে বিরোধীদল বিরোধী লাখো লাখো বিচিত্র পোস্টারে যা যে কোন সচেতন মানুষকেই আওয়ামী লীগের মিথ্যে প্রপাগান্ডার সম্পর্কে আরো সচেতন করে তোলে।এবার আসুন সাইটটি সম্পর্কে কি রিপোর্ট করা হলো তা একবার চোখ বুলানো যাক,

“- শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস
এই ওয়েবসাইটটির পরিচালকের নাম শাহরিয়ার। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা হচ্ছে http://www.shahriar.info/ সরাসরি জামায়াত-শিবিরপন্থি ওয়েবসাইট এটি। বেশ কয়েকটি বিভাগে এতে লেখা সংরক্ষিত হচ্ছে। কিছু বিভাগ হচ্ছে, চেতনায় ইসলাম, জাগো!!, দিনলিপি, বাংলাদেশ, মওদুদী (রহ:), রাজনীতি, সংবাদ প্রতিদিন প্রভৃতি। সাইটটিতে সাম্প্রতিক লেখা শিরোনামে ‘এক কাপড়ে বের করে দেয়া হলো খালেদাকে, বাকশাল তাড়ানোর দায়িত্ব জনতার’ শীর্ষক একটি লেখা সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়া এতে আরো আছে ‘২৮ অক্টোবর : আওয়ামী জাহেলিয়াতের প্রত্যাবর্তন’, ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের ৪৩ গণপরিষদ সদস্য’ শীর্ষক বেশ কয়েকটি লেখা রয়েছে যাতে সরাসরি সরকার, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই সাইটে জামায়াত দর্শনের প্রবক্তা মওদুদীর নামে একটি বিভাগে ১১টি লেখা রয়েছে।”

প্রতিবেদকের এ প্রতিবেদনটি দেখে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তিনি আদৌ সরকার, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং রাষ্ট্র এ বিষয়গুলোর পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন নি। তিনি সরকারের অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকান্ডের সমালোচনাকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ড ভেবে বসে আছেন। রাষ্ট্র এবং সরকার দু’টো ভিন্ন বিষয়। রাষ্ট্রের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যদি সরকারের সমালোচনা করতে হয় তবে তাকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা বলে না বরং তাই স্বদেশ প্রেম। সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্খা, জান, মাল, ইজ্জত, আব্রু রক্ষায় ব্যর্থতা, ১০টাকা সের চালের কথা বলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দূর্মূল্যে সাধারণ মানুষের জীবনকে দূর্বিসহ করে তোলা, ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারে পদে পদে বাধাপ্রদান, আলেম সমাজকে অশ্লীন নৃত্যদৃশ্য দেখতে বাধ্যকরণ, দেশের অতন্ত্র প্রহরী, দেশের সবচেয়ে চৌকষ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকান্ড প্রতিরোধে ব্যর্থতা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থতা, দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের মহাগৌরবে পরিচালিত ইভটিজিং প্রতিরোধে ব্যর্থতা, মানবসম্পদ রপ্তানীতে সীমাহীন ব্যর্থতা, প্রবাসী ভাইদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতা, ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার অঙ্গীকার করে দিন দিন বেকারের সংখ্যাবৃদ্ধিকরণ, যোগ্যলোকদের পরিবর্তে ঘোষণা দিয়ে শুধুমাত্র দলীয় ক্যাডারদের চাকুরীপ্রদান, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে যদি সচেতন করা হয়, যদি সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয় তাদের ব্যর্থতাগুলো তবে তা কিছুতেই স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ড নয়, বরং তাই দেশপ্রেম।

তবে হ্যা, আওয়ামী লীগ এবং তাদের পোষ্য কিছু পত্রিকা মনে করে মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র শেখ পরিবারের সম্পত্তি, সেখানে সাধারণ মানুষের কোন স্থান নেই। এ সাইটে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা রয়েছে যা আওয়ামী কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মর্মপীড়ার কারণ বটে তবে তা মহান মুক্তিযুদ্ধকে আরো গৌরবান্বিতই করেছে।  যখন বাংলার অকুতোভয় নির্ভিক মহান মুক্তিযোদ্ধারা হাটুসমান কাদামাটিতে সম্মুখ সমরে লিপ্ত তখন কোলকাতার ক্লাবে আওয়ামী নেতাদের আমোদফূর্তির কিছু বিবরণ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নথি থেকে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে এ সাইটে যা মুক্তিযুদ্ধকে কিছুতেই খাটো করে না বরং খাচায়বন্দী জানোয়ারের মতো পেটপুরে খেয়ে দেয়ে আমোদফুর্তির চেয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো বীরদর্পে শত্রুর সামনে ঝাপিয়ে পড়ে ন্যায্য অধিকার আদায় করে নেয়াকেই যারা মর্যাদার ভেবেছিলেন সেসব নির্লোভ মহান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে এ সাইট সদা সচেষ্ট।

মনে রাখবেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে আমাদের জন্ম, পাকিস্তানী হায়েনাদের গন্ধ নেই আমাদের গায়ে কিংবা ভারতীয় শকুনদের নোংরাও ময়লাও লেগে নেই। আমরা ‘৪৭ এর প্রজন্ম নই যে পাকিস্তানের পদলেহন করবো, ৭১এর প্রজন্মও নই যে দাদাবাবুদের ধুতিধরে প্রনাম করে যাব, বরং আমরা স্বাধীনচেতা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমাদের কোন পিছুটান নেই, তোমাদের চেয়ে হাজারো গুণ নির্ভেজাল, আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সন্তান।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সন্তান” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. সংবাদ প্রতিদিন : ০৫ ডিসেম্বর ২০১০ | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] […]

  2. চার্চিল বলেছেন:

    এ রকম তীক্ষ ও জোরালো লেখা আরো দরকার।

    [উত্তর দিন]

  3. খালেদ বিন ওলিদ বলেছেন:

    ভাই ভয় পাবেন না আপনার কলম চালিয়ে যান, আমরা আছি আপনার সাথে . আরো শক্ত লেখা চাই. সত্যের পথে সত্যের সাথে আল্লাহ আছেন

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন