আল জিহাদ ফিল ইসলাম : কিছু কথা

তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। দেশব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। একটা মফস্বলের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র হয়েও হরতালের পক্ষে মিছিলে শামিল হলাম। ইসু্যটা এতোই গুরুত্বপর্ূণ ছিল যে সাধারন জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করে, এমনকি কাঁচাবাজারও বন্ধ করে দিয়ে দোকানীরা মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলের এক পর্যায়ে কিছু যুবক কয়েকটি রিক্সার হাওয়া ছেড়ে দেয়। কখন হাওয়া ছাড়া হয় তা মিছিলের ভীড়ে আর আমার দেখার সুযোগ হয় না।

বাসায় এসে [email protected]@!52721 তোপের মুখে পরি। তার কলিগ বাসায় নালিশ করে গেছেন যে আমি রিক্সার হাওয়া ছেড়েছি। অথচ রিক্সার হাওয়া ছাড়ার ঘটনাটি আমার চোখের আড়ালেই ঘটেছে। আমি কিছুতেই কাউকে বিশ্বাস করাতে পারি না যে ঘটনার সাথে আমার নূন্যতম সমর্্পক নেই। বার বার এই মিথ্যে অপবাদ শুনতে শুনতে এক সময় আমার মনেও সন্দেহ জাগে, আসলেই আমি হাওয়া ছেড়েছি কিনা। হয়তো ছেড়েছি, মিছিলের উত্তেজনায় হয়তো ভুলে গেছি। কিন্তু আমার সঙ্গী-সাথীদের কাছ থেকে আমার নিরপরাধ হওয়ার প্রমাণ পরে পাওয়া যায়, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার পর সব পরিস্কার হয়ে যায়।

আসলেই কাউকে যদি সমাজের কাছে হেয় করতে হয় তবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ ছড়িয়ে দেয়ার কোন বিকল্প নেই। একশ বার একটি মিথ্যে কথা প্রচার করলে তা সত্যে পরিণত হয় এ কথা বিখ্যাত কোন এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর, নামটা যদিও মনে করতে পারছি না। ঠিক তেমনি ইসলামের বিরুদ্ধে আদর্শিকভাবে যখন ইসলাম বিদ্বেষীরা কুলিয়ে উঠতে অক্ষম হয় ঠিক তখনই মিথ্যে অপবাদের অব্যর্থ বাণ ছোড়ে। এভাবে অমুসলিমরা যেমন আরো ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে ওঠে তেমনি মুসলমানদের একটা অংশও নিজেদেরকে মুসলিম ভাবতে লজ্জাবোধ করতে শুরু করে। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে আল্লাহর কিছু নেক্কার বান্দা ইসলামের খেদমতে তাদের কলম নিয়ে জিহাদে ঝাপিয়ে পরেন। ফলে ইসলামের নামে যে অপবাদ রটানো হয় তার তীর আপনা আপনি দিক পরিবর্তন করে আঘাত হানে ইসলামের এ সকল সেবকদের গায়ে। আর যে মুসলমানরা নিজেদেরকে মুসলিম ভাবতে লজ্জাবোধ করে তারা ঐ সকল ইসলামের সম্মানিত সেবকদের গায়ে থুথু ছিটিয়ে নিজেদেরকে নিষ্কলুষ প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগে, প্রয়োজনে ইসলামের শত্রুদের সাথে গলা মিলিয়ে ইসলামকে গালি দিতেও কুন্ঠিত হয় না।

ভারতীয় ইতিহাসে ১৯২৬ সাল মুসলমানদের জন্য এমনই এক দুযের্াগপূর্ণ সময়। এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুদ্ধি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ আততায়ীদের হাতে মারা যান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজন মুসলিম এ কাজের জন্য অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়। চারিদিকে হা রে রে রে রবে ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের শ্রাদ্ধ করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম, কোরান সন্ত্রাসবাদের জন্মদাতা ইত্যাদি ইত্যাদি অপবাদে ইসলামকে বিদ্ধ করা হলো। প্রচার করা হয় শ্রদ্ধানন্দকে ইসলামে শত্রু সাব্যস্ত করে বেহেস্তের আশায় মুসলমানরা এ হত্যাকান্ড চালিয়েছে। অর্থাৎ বিধর্মীদের হত্যা করে মুসলমানরা বেহেস্তে যাওয়ার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে বলে চারিদিকে হৈচৈ শুরু হয়। অবস্থা এতটা নাজুক আকার ধারন করে যে, অহিংস রাজনীতির প্রবক্তা এবং হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে পরিপক্ক বুদ্ধির অধিকারী হিসেবে তৎকালীন সমাজে পরিচিত গান্ধীজীও মন্তব্য করে বসেন, “ইসলাম এমন পরিবেশে জন্মলাভ করেছে যে, তার চুড়ান্ত শক্তির উৎস আগেও তরবারী ছিল, এখনও তরবারীই আছে”। মোট কথা ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদকে একাকার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমে পড়ে ইসলামবিরোধীরা।

এমন এক পরিবেশে ২৪ বছরের এক যুবক মসজিদে জুমুয়ার নামাজে ইমাম সাহেরে আবেগময় খুৎবা শুনে অস্থির হয়ে পড়েন। ইমাম সাহেব বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এমন কোন মর্দে মুজাহিদ কি নেই যে অমুসলিমদের এমন অপপ্রচারের দাত ভাঙ্গা জবাব দিতে কলম ধরতে পারে?” যুবকটি নামাজ শেষে মনস্থির করে ফেললো, বুকভরে নির্মল বাতাস টেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো যে আল্লাহ এই নির্মল বাতাস দিয়ে আমার অন্তরকে ভরিয়ে দেন, আমি কেন তার মহিমা ঘোষণার জন্য তার পক্ষে কলম ধরবো না। ২৪ বছরের এ টগবগে যুবক লিখে ফেললেন “আল-জিহাদ ফিল ইসলাম” নামের এক অসাধারন পুস্তক যা ইসলামে জিহাদের প্রকৃত পরিচয় অমুসলিমদের কাছে স্পষ্ট করে তোলে। বইটি এতোটা তথ্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে আল্লামা ইকবাল তার এ বইটি পাঠ করে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে ভূয়সি প্রশংসা করেন। যে সময়ে মুসলমানরা বিধর্মীদের অপপ্রচারে ছিল দিশেহারা, সেসময়ে ২৪ বছরের এ যুবক অসীম সাহসে এ গ্রন্থ রচনা করে ইসলামের পক্ষে যে ভূমিকা রেখেছিল তা আজো অবিস্মরণীয়।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এ বই প্রকাশিত হওয়ার এতো বছর পরও এই বিখ্যাত বইটির পৃষ্ঠা নম্বর উল্ল্লেখ করে যা লেখা নয় তা-ই বর্ণনা করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমার [email protected]@!53284 ([email protected]@!53285:) : [email protected]@!53286 [email protected]@!53287 [email protected]@!53288 [email protected]@!53289 [email protected]@!53290 এই লেখায় আমার বন্ধুরা এ বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর উল্ল্লেখ করে অপপ্রচার চালিয়েছেন। উর্দু এ বইটি আমার অবোধগম্য, তাই বঙ্গানুবাদ অনেক তথ্যতালাশ করে সংগ্রহ করি। বইটি হাতে পেয়ে বিস্মিত হয়ে যাই। এতো সুন্দর একটা বই কি করে বন্ধুরা ইগনোর করতে পারে? [email protected]@!53331 মন্তব্যের জবাবে[email protected]@!53334 [email protected]@!53335 তো বলেই বসলেন, “না আমি বইটি পড়ি নাই।আপাতত হাতের কাছে নাই, মনের ভিতরে ইচ্ছাও নাই”।

সাদিক ভাইয়ের এ মন্তব্যে খুব দুঃখ পেয়েছি। এ ব্লগ রাজ্যে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্লগার হিসেবে সাদিক ভাইকেই পছন্দ করি। তিনি বিভিন্ন ধর্ম-দর্শন নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেন। তিনি অন্যান্য ধর্ম নিয়ে পড়ছেন, বিশ্লেষণ করছেন অথচ বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা [email protected]@!53395 [email protected]@!53396 [email protected]@!53397′[email protected]@!53398 [email protected]@!53399 ([email protected]@!53400:) এর বই পড়তেও ইচ্ছুক নন জেনে আমি খুব হতাশ হয়েছি।

আমারতো ধারণা যারা মওদূদী (রহঃ) এর এ বইটির সমালোচনা করেন তারা বইটি স্বচক্ষে আদৌ দেখে নি। আমার কাছে এ বইটির বঙ্গানুবাদ আছে। জনাব আকরাম ফারুক অনুদিত ও বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার প্রকাশিত এ বইটির প্রথম প্রকাশে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫২৭। এতবড় বইয়ের মাত্র ৮-৯ পৃষ্ঠায় ইসলাম বিরোধী কথা আছে (তাদের মতে) আর বাকী ৫০০ পৃষ্ঠায় কিছু থাকবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমি বইটা তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম, ইসলামের বিরুদ্ধে বন্ধুদের তথ্যমতো কোন লেখা আমার চোখে পড়েনি।

যারা মওদূদী (রহঃ) কে ইসলামের শত্রু ভাবেন, কাফের ভাবেন, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, প্লীজ, তাঁর কোন বই থেকে কোট করলে তার বই পড়ে তবেই কোট করুন, তাঁকে ঘৃণা করতে হলে জেনে বুঝে ঘৃনা করুন, হিংসের বশবর্তী হয়ে বা শত্রুতার স্বার্থে শত্রুতা করা থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার দ্্বীনের জন্য কবুল করুন। আমীন।।

Be Sociable, Share!

One Reply to “আল জিহাদ ফিল ইসলাম : কিছু কথা”

  1. অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এই মূল্যবান তথ্য আমাদেরকে জানানোর জন্য। “আল-জিহাদ ফিল ইসলাম” বইটির বাংলা অনুবাদ অনলাইন এ কোথাও আছে কি? বা আপনি যদি আপ লোড এর বাবস্থা করতেন উপকৃত হতাম।

    আর এদেশে বসবাসকারী কুত্তার বাচ্চা, মুসলিম নামধারী, নাস্তিকদের কথা কি বলবো? এর চেয়ে বেশি খারাপ ভাষায় গালি দেওয়া সম্ভব হলে দিতাম!!!!!!

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।