ইসরায়েলী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চাই ইসলামী ঐক্য

যদি প্রশ্ন করা হয় পাষাণ প্রাচীর পেরিয়ে মানবাধিকারের অমিয় বাণী পৃথিবীর কোন প্রান্তে পৌঁছেনা, পৃথিবীর কোন অঞ্চলের মায়েরা সন্তান প্রসব করেন সন্তান হারিয়ে বিলাপ করার জন্য, কোন দেশের শিশুদের রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হয় উষ্ণ ধূসর মরুভূমি, আধিপত্যবাদী অস্পৃশ্য শকুনেরা দন্ত নখর বিছিয়ে কোন দেশের স্বাধীনতা, বেঁচে থাকার অধিকার খুবলে খুবলে খায়? জবাব একটাই সে অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য, সেদেশের নাম ফিলিস্তিন।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জে. ব্যালফোর ফিলিস্তিনে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নরক নামিয়ে আনে। অথচ এ ঘোষণার পরও ১৯১৮ সালে আরবীয় মুসলিম গাদ্দারেরা ব্রিটেনের কাধে কাধ মিলিয়ে তুর্কি অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে তোলে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ইহুদীরা অনুপ্রবেশ করে ফিলিস্তিনে যা ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ব্রিটেন ইহুদীদের হাতে ফিলিস্তিন ছেড়ে দিয়ে আরব ভূমি ত্যাগ করে, শুরু হয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। কিন্তু মিশর, সিরিয়া, লেবানন এবং ইরাক যৌথভাবেও বিশ্বের একমাত্র ইহুদী ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবৈধ প্রতিষ্ঠাকে প্রতিহত করতে পারেনি। ফলে ফিলিস্তিনি মুসলিমদেরকে বিতারিত করা হয় ফিলিস্তিন থেকে, হাজার বছরের পুরনো আবাস ভূমি থেকে রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে হয় এসকল নিরপরাধ মুসলমানকে। মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার ফিলিস্তিনী শুধু সুযোগ পায় ইসরায়েলে বসবাসের। সেদিন ইতিহাসে যে যুলুমের বীজ বোনা হয়েছিল সময়ের পরিভ্রমনে তা দিনে দিনে বিশাল মহিরুহের আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ কিংবা ওআইসি কোন কিছুই নিশ্চিত করতে পারেনি ফিলিস্তিনী মুসলমানদের নূ্যনতম বেঁেচ থাকার অধিকার। আজ ফিলিস্তিনি ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় পাতায় পঁচা লাশের গন্ধ।

বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি আমেরিকা ও তার আজ্ঞাবহ ব্রিটেনের উপর রয়েছে ইসরায়েলের সীমাহীন প্রভাব। এমনকি ইসরায়েলের কোন এক প্রধানমন্ত্রী সদম্ভে তার সভাসদদের কাছে ঘোষণা করেছিলেন, “আমেরিকা আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।” প্রধান পরাশক্তির অফুরন্ত আশীর্বাদ পেয়ে, তাদের অনুদানে, তাদের সমরাস্ত্রে দিনে দিনে ইসরায়েল শক্ত করছে তার প্রতিরা ব্যবস্থা, হয়ে উঠছে বুনো ষাড়ের বেপরোয়া। ইসরায়েল দাম্ভিকতার যে নজীর স্থাপন করেছে তার সাথে তুলনা চলে এমন কোন ইতিহাস বিশ্বে খুঁেজ পাওয়া দুস্কর। ইসরায়েলই একমাত্র দেশ যে দেশ যুগ যুগ ধরে পাশ্ববর্তী দেশের ভূখন্ড সামরিক শক্তিবলে দখল করে রেখেছে, ইসরায়েল কোন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে নূ্যনতম সম্মান করেনা, এমনকি তারা জাতিসংঘকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে। জাতিসংঘের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে তারা কোন এক সময় হত্যাও করেছিল, হত্যার নির্দেশকারী পরে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিল। এরা জাতিসংঘের রিফিউজি ক্যাম্পে আক্রমন চালিয়ে হত্যা করেছিল ১০৩ জন বেসামরিক উদ্বাস্তুকে। ইসরায়েল এতটাই বেপরোয়া যে ১৯৬৭ সালে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার জাহাজ ইইএসএস লিবার্টিকেও ধ্বংস করে, হত্যা করে ৩৪ জনকে, আহত করে ১৭১ জন।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে ইসরায়েলের এই অফুরন্ত শক্তির উৎস কোথায়? বিশ্বের ১৬তম ধনী দেশ ইসরায়েল তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে রেখেছে সারা বিশ্বব্যাপী। খোদ আমেরিকায় যে পরিমান ইহুদীর বসবাস, তা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যারও বেশী। আর এদের একমাত্র ধ্যান, জ্ঞান ইসরায়েল রাষ্ট্রের উন্নতি, অগ্রগতি। মূলত আমেরিকায় শক্তিশালী ইহুদী লবিটি আমেরিকাকে অসহায় করে রেখেছে। আমেরিকার রাজস্বের শত শত বিলিয়ন ডলার প্রতিবছর খরচ হচ্ছে ইসরায়েলের জন্য। বিশ্বের ষোলতম ধনী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল আমেরিকার বৈদেশিক সাহায্যের একতৃতীয়াংশ পেয়ে থাকে, পাচ্ছে নিয়মিত ফ্রি সমরাস্ত্র। এছাড়া আমেরিকান প্রযুক্তি গোপনে চীনের কাছে বিক্রি করেও তারা মাঝে মাঝে টুপাইস কামিয়ে নিচ্ছে।

ইসরাইলী পত্রিকা হারেটজ ইতোমধ্যে স্মার্ট বোমা বিক্রি সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে, ঘি ঢেলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আগুনে। কংগ্রেসের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমেরিকা ৩১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৫ হাজার স্মার্ট বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করেছে। আর এ বিপুল অর্থের যোগান দিচ্ছে আমেরিকা নিজেই, ইসরায়েলের প্রতি তার সামরিক সহায়তা হিসেবে। এ ৫ হাজার বোমার ভিতর থাকছে ৫০০টি একটনী বাংকার বাস্টার, যা দু’মিটার পুরু কংক্রীট ওয়াল ধ্বসিয়ে দিতে সম, রয়েছে আড়াই হাজার একটনী বোমা, এক হাজার আধাটনী বোমা এবং ৫শত সিকিটনী বোমা। আর এ সকল বোমা বহন করবে আমেরিকান এফ-১৬ জঙ্গী বিমানের মতো অত্যাধুনিক বিমান। ইতোমধ্যে ইসরায়েল এধরণের বিমানের একটি বড়সড় মজুদ গড়ে তুলেছে। এবছরের শুরুতেই তারা শতাধিক এফ-১৬ জঙ্গী বিমান ক্রয় করেছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় একটি নির্দিষ্ট ল্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহার করতে হতো ৯ হাজারের মতো বোমা, ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহার করতে হতো ৩শতাধিক আর বর্তমানে এই স্মার্ট বোমা গুলো এতটাই স্মার্ট যে নির্দিষ্ট একটি ল্যবস্তুতে আঘাত হানতে মাত্র একটি স্মার্ট বোমাই যথেষ্ট। কারন এসকল বোমা নিয়ন্ত্রিত হয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে, আর ইসরায়েলের নিজেরই রয়েছে একাধিক উন্নত স্যাটেলাইট সুবিধা। ১৯৮৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো মহাশূন্যযান উৎপেন করে বিশ্বের ৮ম স্যাটেলাইট উৎপেনকারী দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখায় ইসরায়েল। ইসরায়েলের স্যাটেলাইটগুলো এতটাই উন্নত যে আগামী ২০০৮ সালে চীনে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকে এ স্যাটেলাইটগুলো ব্যবহৃত হবে বলে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েল কিছুদিন পূর্বে ইরানের উপর গুপ্তচরবৃত্তি পরিচালনার জন্য একটি স্যাটেলাইট মহাশুন্যে প্রেরণ করে যদিও তা উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত হয়। তারা ইতোমধ্যে তাদের স্মার্ট বোমাগুলোর সফল পরীাও চালিয়েছে। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে হামাস নেতা সালাহ শিহাদীকে ল্য করে একটি স্মার্ট বোমা নিপে করে যাতে তিনিসহ আরো ১৫জন বেসামরিক লোক নিহত হন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ইসরায়েল কি হামাস নেতাদেরকে হত্যার জন্য এ বোমাগুলো সংগ্রহ করেছে। নিশ্চয় নয়। পত্রিকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র ইসরায়েলি অফিসারের বরাত দিয়ে রয়টার তথ্য প্রকাশ করে যে, বাংকার বাস্টারগুলো ইরান অথবা সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। মূলত ইসরায়েল একটি সুদূর প্রসারী নীলনঙ্া নিয়ে এগিয়ে চলছে। তার টার্গেট হয়তো ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি যুদ্ধে ইসরায়েল প্রমান করেছে মধ্যপ্রাচ্যে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কোন শক্তি নেই। যদিও সমপ্রতি ইরান ও ইরাক তার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে ওঠে। অপোকৃত কম শক্তিশালী ইরাককে আমেরিকার দ্বারা ইতেমধ্যেই তারা ধ্বংসস্তুপে পরিনত করিয়েছে। এখন ইরানই তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে প্রধান অন্তরায়। ইতোমধ্যে ইরান সাহাব-৩ পেনাস্ত্রের সফল পরীা সম্পন্ন করেছে যা পারমানবিক ওয়রহড বহনে সম এবং ইসরায়েলের যেকোন প্রান্তে আঘাত হানতেও সম। এছাড়া ইরান তার পারমানবিক কর্মসূচীকেও অনেকদূর এগিয়ে নিতে সম হয়েছে যদিও তাদের মতে তা কেবল শান্তিপূর্ণ কাজেই ব্যবহার করা হবে। এসকল কারণে ইসরায়েল কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। প্রয়োজনে ইসরায়েল অতর্কিত আক্রমন চালিয়ে তার পথের কাটা দূর করতেও পিছপা হবে না। অতীতে তারা যেমন করেছিন ১৯৬৭ সালের ৫ জুন তারিখে। সেদিন তারা অতর্কিত আক্রমন করে মিশর, জর্ডার, সিরিয়া ও ইরাকের উপর। ৬ দিনের এ যুদ্ধে তারা দখল করে নেয় গাজা উপত্যাকা, সিনাই, পূর্ব জেরুজালেম, ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গোলান মালভূমি।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল আজ পর্যন্ত সিটিবিটি চুক্তিতে স্বার করেনি। ইসরায়েলের হাতে রয়েছে দুই শতাধিক পারমানবিক বোমা। ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পরপরই তারা ১৯৪৯ সালে ঐঊগঊউ এওগগঊখ ইউনিটের মাধ্যমে নেজেভ মরুভূমিতে ইউরেনিয়ামের সন্ধানে ভূতাতি্বক জরিপ চালায়। ১৯৫২ সালে ডেভিড বেগম্যানের নেতৃত্বে গঠিত ইসরায়েল এটমিক এনার্জি কমিশন (আইএইসি) নবউদ্যোগে পারমানবিক বোমা তৈরীতে আত্মনিয়োগ করে এবং ১৯৬৭ সাল নাগাদ তারা দু’টি পারমানবিক বোমা উৎপাদনে সম হয়। এ সংখ্যা ১৯৭৪-এ দাড়য় ১০/২০, নব্বইয়ের দশকে এ সংখ্যা উন্নীত হয় ১০০/২০০-এ। আর বর্তমানে ইসরায়েলের পারমানবিক শক্তি কতটুকু তা বোধহয় আমেরিকারও অজানা। ইতেমধ্যে তারা ঔবৎরপযড়-১, ঔবৎরপযড়-২ পেনাস্ত্রে সংযোজন করেছে নিউকিয়ার ওয়রহেড। আর এসকল পেনাস্ত্র নিয়ন্ত্রিত হবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। ইসরায়েলের এক বিজ্ঞানীর ভাষ্যমতে তারা এসকল পেনাস্ত্রগুলোকে সাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে আঘাত হানতে সম। সার্বিক দিন বিবেচনা করলে দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্য মূলত এখন ইসরায়েলের হাতের মুঠোয়। যে কোন মুহুর্তে তারা হামলে পরতে পারে সিরিয়া কিংবা ইরানের উপর। আরব ও মুসলিম অনৈক্যের সুযোগে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের চত্রছায়ায় ইসরায়েল অনায়াসেই পারে তার আধিপত্য বিস্তার করতে। আর ইসলরায়েল হয়তো তাই করবে। ইসরায়েল অতীতেও এর নজীর দেখিয়েছে। সবচেয়ে আশংকার কথা এই যে, ইসরায়েল যদি সত্যি সত্যি কোন দেশকে আক্রমন করে বসে তবে তা হবে অত্যন্ত মারাত্মক। কেননা ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লেভী ইশকল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য বিমান বাহিনীকে প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধে পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা ভেবে ১৩ টি ২০ কিলোটন ওজনের এটমিক বোমাও প্রস্তুত রেখেছিল। তাই দেখা যাচ্ছে ইসরায়েল যদি সত্যি সত্যি যুদ্ধ শুরু করে তবে তা হবে ইতিহাসের ভয়ংকরতম যুদ্ধ যাতে ইসরায়েলের পরাজয় হলে হয়তো মানব সভ্যতাকে মাসুল দিতে হবে আনেক বেশী।

কিন্তু ইতিহাস সাী, মুসলমানরা ঈমানী চেতনায় বলীয়ান হয়ে যখন কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায় তবে তারা বিজয়ের সোনালী সূর্য ছিনিয়ে আনতে সম হয়। কথায় কথায় আমেরিকা যেমন মুসলিম দেশগুলোর উপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যক অবরোধ আরোপ করে ইচ্ছে করলে মুসলিম দেশগুলোও তাদেরকে সেভাবে সমুচিত শিা দিতে পারে। অতীতে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকার ওপর যেভাবে মুসলিম দেশগুলো তেল অবরোধ করেছিল, সুযেজখাল বন্ধ করে পশ্চিমাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল, সে মোম অস্ত্রগুলো কিন্তু মুসলমানদের হাতে এখনও রয়েছে। আজ মুসলমান দেশগুলোর প্রধান সমস্যা অনৈক্য। আমরা আমাদের সমস্যার সমাধানের জন্য সেই মোড়লেরই সরনাপন্ন হচ্ছি অন্তরালে যে-ই সমস্যাগুলো সৃষ্টি করে। আমরা যদি আমাদের সমস্যাগুলো নিজেরা সমাধানে সচেষ্ট হই এবং পারস্পরিক ঐক্যের মাধ্যমে অপশক্তিকে প্রতিরোধ করি তবে বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থা এতটা নাজুক থাকতে পারে না। সারা বিশ্বে আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ইউরো চালু হয়ে ডলারের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। মুসলিম দেশগুলো তাদের জন্য অভিন্ন মুদ্রা চালু করে এ চ্যালেঞ্জকে আরো জোরদার করে তুলতে পারে। তেলের লেনদেন আমেরিকান ডলারের পরিবর্তে ইউরো কিংবা মুসলমানদের অভিন্ন মুদ্রায় করতে পারে। তাহলে আমেরিকার এই মোড়লীপনা অনেকাংশে কমে যাবে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে ইসরায়েলের ঔদ্ধত্ব। এখন মুসলিম দেশগুলোকে গভীরভাবে ভাবতে হবে তারা আপোষের নীতি অবলম্বন করে ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরায়েলি যুলুম নির্যাতন সয়ে যাবে না কি আমেরিকা ঘোষিত ক্রুসেড সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর মতো বীরবিক্রমে প্রতিহত করবে। শের-এ মহীশুর টিপু সুলতান বলেছেন, “শেয়ালের মতো হাজার বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মতো একদিন বেঁচে থাকা উত্তম”। মুসলমান শেয়ালের মতো হাজার বছর বাঁচে না, তারা সিংহের মতো লড়াই করে জীবন দেয়।

** ২০০৫ সালে লেখা এ প্রবন্ধটির অনেক তথ্য পরবির্তন হতে পারে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।

Be Sociable, Share!

One Reply to “ইসরায়েলী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চাই ইসলামী ঐক্য”

  1. “শেয়ালের মতো হাজার বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মতো একদিন বেঁচে থাকা উত্তম”। মুসলমান শেয়ালের মতো হাজার বছর বাঁচে না, তারা সিংহের মতো লড়াই করে বিজয়ী হয়!!!!!!

    অন্ধকার শেষ হয়ে যাবে শীঘ্রই … … সোনালি রোদে আবার ও উজ্জ্বল হবে এ ধরণী।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।