যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে শালীনতা

অবশেষে যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে শালীনতাকেই প্রাধান্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বেগম রোকেয়া দিবস ২০১০ উপলক্ষে ০৯ ডিসেম্বর ২০১০, বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ক্ষোভের সাথে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতি আধুনিকতার নামে এক শ্রেণীর নারী পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাচলে নিজের আব্রু রক্ষার প্রয়োজন মনে করে না, এটা ঠিক নয়। আমি মনে করি শালীনতা বজায় রেখে সব কাজকর্ম করা সম্ভব।” সাম্প্রতিককালে সরকারের ইসলাম বিরোধী কিছু তৎপরতা, বিশেষ করে নতুন শিক্ষানীতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের সামনে অশ্লীল ব্যালে ড্যান্স প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কারণে যখন দেশের আলেম সমাজ ও ইসলামপ্রিয় জনতা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলনে গড়ে তুলছে, সে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য কিছুটা হলেও সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে মনে হয়। তবে রাজনীতির কৌশল হিসেব তথা আলেমসমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য নিছক বলার স্বার্থে বলা যদি হয়ে থাকে তবে বিপদ, বিশেষ করে ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করা হবে না বলে মহাজোট গঠনের সময় খেলাফত আন্দোলনের সাথে যে চুক্তি করা হয়েছিল পরে তা শ্রেফ রাজনৈতিক ছলচাতুরি বলে প্রতিয়মান হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বামদের চাপে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল, তা আলেম সমাজের ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

যৌনসন্ত্রাস! হ্যা, আমি একে যৌনসন্ত্রাস ছাড়া অন্য কিছু বলতে রাজি নই। রাস্তাঘাটে, পথে প্রান্তরে, স্কুল-কলেজে যেভাবে নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করা হয় তাকে কিছুতেই ইভটিজিং বলা যায় না। আসলে ইভটিজিং কি? ইভটিজিং সম্পর্কে যে যাই বলুক, আমি মনে করি, ইভটিজিং প্রেমের পূর্বশর্ত। কোন পুরুষ যদি কোন নারীকে যৌনতাড়িত হয়ে ইশারা, অঙ্গভঙ্গি বা কথার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয় এবং নারী যদি সে প্রস্তাবে মৌখিত বা মৌন সম্মতি জানায় তবে তা-ই প্রেম, আর যদি  বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েও  প্রস্তাব চালিয়ে যেতে থাকে তবে তা ইভটিজিং। এক কথায় অসফল প্রেম প্রস্তাবকেই ইভটিজিং বলে। তাই বর্তমান সময়ে নারীদেরকে যেভাবে পাশকিব নির্যাতন করা হচ্ছে, পথে ঘাটে অপদস্ত করা হচ্ছে, তাকে শ্রেফ ইভটিজিং বলা হলে তা যৌনসন্ত্রাসের অপরাধকেই খাটো করে দেখা হয়, প্রশ্রয় দেয়া হয়, উস্কে দেয়া হয় মাত্র। তাই ইভটিজিং নয়, যৌনসন্ত্রাস দমনে সবার সচেষ্ট হতে হবে।

আর যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে শালীনতার কোন বিকল্প নেই, যাকে মুসলমানরা পর্দা বলে। ইতোমধ্যেই কোন কোন স্থানে যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে কারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যৌনসন্ত্রাসের শাস্তি ৭ বছরের জেল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশকিছু ধরপাকড় হয়েছে, বিভিন্নস্থানে কানে ধরে ওঠবশ করানো হচ্ছে, কয়েকজনকে সাজা দেয়া হয়েছে, একজন কলেজ শিক্ষক চাকরীচ্যুত হয়েছেন। তবু যৌনসন্ত্রাস বেড়ে চলেছে জ্যামিতিক হারে। আসলে যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে আইনই শেষ কথা নয়, কিংবা কারাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে যৌনসন্ত্রাসীদের প্রতিপক্ষ বানানোও কোন কাজের কথা নয়, তাতে যৌনসন্ত্রাস বাড়বে বৈ কমার কথা নয়। বরং সাপের উপদ্রব যেসব রাস্তায় তা যেমন আমরা এড়িয়ে চলি, কিংবা চলতে হলেও সতর্কতার সাথে চলি, ঠিক তেমনি যৌনসন্ত্রাসীদেরও এড়িয়ে চলতে হবে, বা সতর্কতার সাথে যৌনসন্ত্রাসীদের পাশ কাটিয়ে যেতে হবে, তথা শালীনভাবে চলাচল করতে হবে, যৌন আবেদনময় আচরণ বন্ধ করতে হবে, অশালীন পোশাক পরিহার করতে হবে মোট কথা, পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইসলাম কল্যাণের ধর্ম, ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানুষের কল্যাণের জন্য। আর যারা মুসলমান তাদের আল্লাহর বিধান মেনে নিতে কুন্ঠিত হওয়া স্বাভাবিক নয়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে শালীনতা” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. taskin বলেছেন:

    ছোট একটী লেখা কিন্তু অনেক ভারি

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন