racism কে না বলুন

racism এর বাঙলা কোন প্রতিশব্দ ডিকশনারী ঘেটে পেলাম না, পেয়েছি সংজ্ঞা। বাংলা ডিকশনারীতে প্রয়োজনীয় শব্দটা পাওয়া যায় না, আর পেলেও তা কোন পূজোয় আসে না। যেমন কদম ফুলের ইংরেজী প্রতিশব্দ খুঁজলে পাবেন “variety of flower or its tree”।
racism শব্দের সংজ্ঞাটি এরকম  “একজাতি অন্য জাতি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট এবং তার উপর কর্তৃত্ব করার অধিকারী এমন ধারণা বা বিশ্বাস; এমন ধারণার ফলে অন্য জাতির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ”।
জাতিসংঘ racism কে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে ……any distinction, exclusion, restriction or preference based on race, color, descent, or national or ethnic origin which has the purpose or effect of nullifying or impairing the recognition, enjoyment or exercise, on an equal footing, of human rights and fundamental freedoms in the political, economic, social, cultural or any other field of public life..আমার এক বাংলার লেকচারার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম racism এর প্রতিশব্দ কি? ও জবাব দিল বর্ণবাদ। আমি ভেবে পাইনা racism বাঙলায় কিভাবে বর্ণবাদ হলো। দক্ষিণ আফ্রিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কালো বর্ণের মানুষের উপর যে লোমহর্ষক নির্যাতন হয়েছে তা থেকেই হয়তো racism বর্ণবাদ নাম পেয়েছে।
racism এর অর্থ বর্ণবাদ না হয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদ হলে জুতসই হতো বলে মনে হয় কেননা আগেকার দিনে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় অন্যদের অচ্ছুৎ মনে করতো।
racism দেশে দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবয়বে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাদা মানুষেরা যখন আফ্রিকার ঘন অরণ্যে আস্তানা গাড়ে তখন কালো মানুষগুলোকে কিছুতেই মানুষ ভাবতে পারেনি, ভেবেছে শিম্পাঞ্জী কিংবা বনমানুষের মতো কোন প্রাণী। এদের অনেককেই ধরে নিয়ে তখন ইউরোপে সার্কাস দেখানো হতো।
হিটলার মনে করতেন জার্মান জাতির রক্ত নীল, তারাই পৃথিবীর একমাত্র আর্যজাতি, তারাই শ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র পৃথিবীকে শাসন করার অধিকার জার্মান জাতিরই রয়েছে। নাৎসী বাহিনীর এমন উন্মাসিক মনোভাবের বলি যে কত লোককে হতে হয়েছে তা হয়তো কোনদিনই জানা যাবে না।
ব্রিটিশরা এদেশ শাসন করতে এসে এদেশের জনসাধারণকে যে কতভাবে হেনন্তা করেছে তা ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে। ব্রিটিশ রমণীরা ভারতীয় দু’একজন রানীদের ছাড়া এদেশের কোন নারীকেই তাদের সমমর্যাদার মনে করতেন না। আবার ব্রিটিশ অফিসাররা এই মনোভাব নিয়েই এদেশে আসতো যে এই নির্দিষ্ট অংশের লোকজন জন্মগতভাবেই ক্রিমিনাল, তাই তাদের যখন তখন ফাঁসিতে লটকানো অপরাধ নয়।
ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়ার পরে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী মনে করা শুরু করলো, আমরা যেহেতু গায়ে গতরে বড় তাই আমরাই দেশটা একচেটিয়া শাসন করবো, আমরা যা বলবো তাই সবাইকে মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও শুধুমাত্র racism এর জন্য ওরা বাঙালীদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে গণহত্যা শুরু করে।
আজো বিশ্বের দিকে দিকে racism চলছে নব উদ্যমে। আমেরিকা, ইউরোপ দেশে দেশে চলছে নতুন নতুন স্টাইলে। বাংলাদেশের কথাই যদি আমরা ধরি তাহলে racism এর বিভিন্ন রূপ দেখতে পাই। এ বিভেদ প্রথমেই শুরু হয় বংশীয় আভিজাত্যের মাধ্যমে। এরপর দেখা যায় ধর্মীয় racism। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় স্কুল, মাদরাসা, কওমী মাদরাসার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আঞ্চলিকতার দ্বন্দ্ব, বিএনসিসি (বরিশাল, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা) বিভাজন করে চলে নানা প্রকার racism । এ দেশের প্রতিটি মানুষই মনে হয় নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মনে করে আর তাই আশপাশের সবাইকেই হেয় প্রতিপন্ন করে, সুযোগ পেলেই খোঁচা দিতে কুন্ঠিত হয় না।
এ দেশে racism পূর্ণতা পায় রাজনৈতিক অঙ্গনে। কেউ কারো চেয়ে কম নয়, আওয়ামীলীগ সেরা বাকি দলগুলো বানের জলে ভেসে এসেছে, বিএনপি প্রকৃত দেশপ্রেমীদের দল বাকী সব দালাল এভাবে চলে অন্যকে উচ্ছেদ অভিযান।
রাজনৈতিক racism চরম আকার ধারণ করে জামায়াত ইস্যুতে। কোন বাচবিচার ছাড়াই এদের উপর হামলে পড়ে সবাই। যে ছেলেরা  স্বাধীনতার পরে কোন মুক্তিযোদ্ধার ঘরে জন্মেছে জামায়াতের সাপোর্টার হিসেবে তার উপরও চালানো হয় racism । স্বাধীনতার শত্রু বিবেচনা করে দুইকোটি (১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট, ৮৬ থেকে ভোটের ব্যবধান এবং অ-ভোটারদের বিবেচনায় এনে দু’কোটি হিসাব করা হলো) জামায়াত সমর্থকদের প্রতিনিয়ত racism এর মুখোমুখি করা হয়। অথচ সবাই জানি স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় ২ কোটি রাজাকার ছিল না। ৭০ এর নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াত মাত্র ৬% ভোট পেয়েছিল, অথাৎ সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মধ্যে মাত্র সাড়ে চার লাখ জামায়াতের সমর্থক ছিল।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামের যে রাজনৈতিক দলটির কার্যক্রম শুরু হয় তা এ দেশ বিরোধী কোন কার্যক্রম করবে না বলেই সাধারণ জনগণ এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের একটা অংশ জামায়াতকে সমর্থন করছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে মতবিরোধ থাকে, আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে হাজারো বিরোধ। এ বিরোধ তাদেরকে পাশবিক racism চালাতে উস্কে দেয়। কিছুদিন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছিল তার বিরোধী হওয়ার পরও বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংরক্ষকের দায়িত্ব নিয়েছে। তাই একাত্তরে জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্যতো এখন নতুন প্রজন্ম কিছুতেই racism এর শিকার হতে পারে না। বরং উচিত জামায়াতের চেয়ে যে অন্য দলগুলো আদর্শিক ভাবে শ্রেষ্ঠ তা প্রমাণ করে নতুন প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনা। racism কোন মতেই কারো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। ইচ্ছে করলেই আমরা রাজাকার নিধনের নামে ২কোটি মানুষকে হত্যা করতে পারি না, করা আদৌ সম্ভবও নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এতবড় গণহত্যার নজীর চেঙ্গিস খা ও স্থাপন করতে পারে নি। তাহলে এ দুকোটি লোকের উপর প্রতিদিন প্রতিক্ষণ racism চালিয়ে কি লাভ।
দেশের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা দূর্ণীতি আর মাদক। এ দুটো থেকে অন্যসব সমস্যার সৃষ্টি। এ ছাড়া আছে এইডসের মতো মহামারীর আতঙ্ক। যে কোন সময় পারমানকি বোমার মতো বিষ্ফোরিত হতে পারে এইডস। এ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক racism চালালে প্রকৃতপক্ষে আমাদের কারোই কোন কল্যাণ হবে না বরং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্ধকার ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে।
আসুন সকল প্রকার racism কে আজই না বলি।

Be Sociable, Share!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।