প্রাপ্তি বসে আছে নেটের ওপারে, আপনারই জন্য

প্রাপ্তিকে কাছে থেকে দেখার আগ পর্যন্ত কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলাম না। কষ্টটা সারাণ শুধু খুঁচিয়ে মারছিল।
দুপুরে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, সন্ধ্যায় প্রাপ্তির বাসায় নির্বিঘ্নে যেতে পারবো কি না, এই ভেবে পেরেশান হচ্ছিলাম। ঝড়ো হাওয়ার অফিস মতিঝিলের কোথাও, পরিচয়টা জানা থাকলে হয়তো একসাথে যাওয়া গেত, দু’জন একসাথে থাকলে অন্তত মনে বল পাওয়া যায়।
বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অফিস ছেড়ে প্রাপ্তি সোনার বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলাম। কিন্তু বিধি বাম, জ্যাম ঠেলে প্রাপ্তির বাসায় যেতে প্রতিটি সেকেন্ডে আমি প্রাপ্তিকে দেখার জন্য অধর্য হয়ে উঠছিলাম।
শেষ পর্যন্ত যখন প্রাপ্তির বাসার ডোল বেল বাজালাম ততণে ঘড়ির কাটা সাতটা পনের ছাড়িয়ে গেছে। সারিয়া মিষ্টি হেসে সম্ভাষণ জানালেন, বরণ করে নিলেন একান্ত প্রিয় বন্ধুর মতো।
প্রাপ্তিকে দেখার সেই মাহেন্দ্রণটি অবশেষে এলো। আমার প্রাপ্তিসোনাকে প্রাণভরে দেখার সুবর্ণসুযোগটি অবশেষে পেয়ে গেলাম। প্রাপ্তি সোনা ওয়েবক্যামের সামনে বসে আছে।
এতটুকুন বাচ্চা নেটের রাজ্যে কি এক মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে, দেখে অবাক হয়ে যাই। সার্বণিক ব্লগারদের উষ্ণ ভালোবাসা পেতে নেটের ইয়াহু মেসেঞ্জার খুলে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে ওয়েবক্যামের সামনে। স্ক্রীনের ওপারে অরূপের মুখচ্ছবি। শুনলাম, সুযোগ পেলেই প্রাপ্তি বসে থাকে ওয়েবক্যামের সামনে, ব্লগারদের ভালোবাসা পাবার জন্য। দেখে বুকটা হুহু করে উঠলো।
মুখোশদারী ব্লগাররা একে একে এসে পড়েছে, এসেছে মুখোশহীনরাও। ভারী অবাক হয়ে আমি তাকিয়ে থাকি চমৎকার এ মানুষদের দিকে। সামহ্যোয়ার ইনে তারা যতটুকু প্রাণচাঞ্চল, এখানে দেখলাম তারা তার চেয়ে অনেক বেশী প্রাণবন্ত, আমুদে আর হৃদয়ের জানালা খোলা একএকজন রঙ্গীন মানুষ।
ঝড়ো হাওয়ার হাসি দেখে প্রেমে পড়ে গেলাম, আবু সালেহর নায়োকোচিত চেহারা দেখে রীতিমতো গবেষণা শুরু হলো। আর চীর সবুজ প্রেমিক কালপুরুষের কথা না-ই বা বললাম। অন্যরা নানারঙ্গের ফুলের সুগন্ধি বিলিয়ে যাচ্ছিল।
প্রাপ্তিসোনা নেট ছেড়ে এলো আমাদের সাথে কুশল বিনিময় করতে। গতকালের কেমো থেরাপি দূর্বল করে ফেলেছে ওকে, সাথে আবার শুরু হয়েছে জ্বর নামক উৎপাত।
প্রাপ্তিসোনাকে দেখার পর থেকে আর যেন তর সইছিল না। ওকে কোলে নিতেই প্রাণটা ভরে গেল। মনে হলো হাজারটা বছরও যদি ওকে কোলে নিয়ে বসে থাকি তবুও কান্তি আসবে না, প্রাণ ভরবে না। সকল ব্লগারদের প থেকে প্রাপ্তিসোনার কপালে চুমু একে দিলাম। সারিয়া বললো, অপরিচিত কারো কোলেই নাকি ও ওঠেনা অথচ আমাদেরকে দেখে ওর যেন মনে হয়েছে অনেক দিনের চেনা, অনেক আপন।
আমার কোল ছেড়ে আবার উঠলো কালপুরুষের কোলে। কতণ মন ভার করে বসে রইলো তার কোলে, এতোদিন কেন আসেনি, তাই বুঝি অভিমান করেছে।
প্রাপ্তিসোনা আমাদের সামনেই বসে গেল সাজুগুজু করতে। প্রাপ্তিসোনাকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে তুলতে পারলে একদিন ঠিকই বিয়ের জন্য এভাবে সাঁজবে। মনটা হাহাকার করে উঠলো, আমরা কি প্রাপ্তির বিয়েটা দেখতে পাবো না!
প্রাপ্তিসোনার জ্বর অনেক বেড়ে গেলে বিছানায় শুইয়ে দেয়া হলো। আর আমরা একে একে আমাদের অনুভূতি ব্যক্ত করলাম। প্রাপ্তি কিভাবে আমাদের হৃদয় সিংহাসন দখল করেছে তা বেড়িয়ে এলো সবার কন্ঠ থেকে। জানলাম পাপ্তিকে এই মায়াময় সুন্দর পৃথিবীর আলো-হাওয়ায় বাঁচিয়ে রাখতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই, মাত্র ছয়-সাত লাখ টাকা হলেই ওর আরোগ্য নিশ্চিত করা যায়।
ফেরার সময় হলে প্রাপ্তির কাছে আবার গেলাম, ঘুমিয়ে থাকা প্রাপ্তিকে চুমু দিলাম। বিদায় কালে সারিয়ার মুখ থেকে একটা অনুরোধই শুধু ঝড়ে পড়লো, যে করেই হোক আপনারা আমাদের প্রাপ্তি সোনাকে বাঁচান। প্রাপ্তিই আমাদের একমাত্র প্রাপ্তি, ও ছাড়া আমাদের জীবনে বেঁচে থাকার আর কোন অর্থই থাকবে না, প্লীজ আপনারা ওকে বাঁচান।
প্রাপ্তির মায়ের লজ্জারাঙা গাল বেয়ে নীরবে অঝর ধারায় অশ্রু ঝড়তে লাগলো। এমন কঠিন বাস্তবতা সহ্যকরা খুবই কষ্ট কর হয়ে ওঠে। তাই একবুক কষ্ট নিয়ে চলে এলাম প্রাপ্তির বাসা থেকে।

যারা এখনো প্রাপ্তিকে দেখেন নি, তাদেরকে অনুরোধ করবো, আপনার প্রাপ্তির পাশে এসে দাড়ান, একবার ওর বাসায় গিয়ে দেখা করুন, যতটুকু সামর্থ আছে প্রাপ্তির হাতে তুলে দিন। আর না পারলে অন্তত প্রাপ্তিকে প্রাণভরে আদর করে আসুন। প্রাপ্তির জীবন এখন করুণাময় আল্লাহ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। ইচ্ছে করলেই আমরা ওকে নতুন জীবন দিতে পারি। প্রাপ্তি অনলাইনে ওয়েবক্যাম খুলে আপনার জন্য বসে আছে, আপনার একটু আদর প্রাপ্তি কি পেতে পারে না?

Be Sociable, Share!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।