মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের ৪৩ গণপরিষদ সদস্য!!!

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত ৪৩ জন গণপরিষদ সদস্য। আজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০, বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী সাধারণত কম কথা বলেন, অবশ্য তার মন্ত্রনালয়ে কামরুল ইসলাম নামের যে কলের গানটি আছে তা  শুধু আইন মন্ত্রণালয় নয়, পুরো সরকারের বলা না বলা কথাগুলো উদ্গীরণ করে যাচ্ছে। তবুও আইনমন্ত্রী মাঝে মাঝেই যে দু’একটি কথা বলেন তা আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির মুখোশ উন্মোচনের জন্য যথেষ্ট। এতদিন আওয়ামী লীগ একচেটিয়ে ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে যেমন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবী করে আসছিল, আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যে কিছুটা হলেও জোঁকের মুখে নুণের ছিটে লাগবে। যদিও সংসদেই এর তীব্র বিরোধিতা হয়েছে, তোফায়েল আহমেদ আপত্তি জানিয়েছেন এমনকি ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীও প্রতিবাদ করেছেন। স্পীকার যে কখনোই নিরপেক্ষ হয় না, নিরপেক্ষতার ঠুনকো ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে তারও একটা নজির হয়ে থাকবে আজকের সংসদ।

স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ যতই লম্ফঝম্ফ করুক না কেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যে, লেখায়, আলোচনায় এটি বরাবরই প্রতিয়মান হয়েছে যে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতে বসে নিছক দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, ঠিক যেমনটা ভিআইপি আসনে রমণীবেষ্টিত হয়ে ষাড়ের লড়াই উপভোগ করে  মাফিয়া ডনেরা। হ্যা, বাস্তবিকই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে পাকিস্তানী হায়েনাদের সামনে ছুড়ে দিয়ে তামাশা দেখায় ব্যস্ত ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এমনকি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশী শরনার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় ভারতেও যে চাঁদা উঠেছিল তার অনেকটাই জমা হয়নি শরণার্থীদের কল্যাণে, এমন রিপোর্টও সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বরাবরই এ অভিযোগ ছিল যে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান বিভক্ত হোক তা চাননি এমনি শেখ মুজিবুর রহমানও চেয়েছিলেন অখন্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। আর অবশ্যই পুরো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শতভাগ অধিকারই তার ছিল, যে কারনে তিনি কখনোই দেশ ভাগ হয়ে নতুন আরেকটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক তা চান নি।

অনেকেই একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা বলে আখ্যায়িত করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানী নেতৃবৃন্দ কিছুতেই শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হোক তা মেনে নিতে পারে নি, তাই নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়। তাই পাকিস্তানী শাসক ও নেতৃবৃন্দকে তীব্র চাপের মুখে রাখতেই মুক্তির সংগ্রামের ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ মুজিব। যিনি নতুন একটি রাষ্ট্রের কথিত ঘোষণা দিলেন ৭ই মার্চের ভাষণে, তিনিই আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বৈঠক করছেন পাকিস্তানী শোষকদের সাথে, ২৭ মার্চ তারিখে দেশব্যাপী হরতালও ডেকে বসে থাকলেন, যা বিস্ময়কর। তার এ দ্বিমুখী আচরণ একথাই স্পষ্ট করে যে প্রকৃতপক্ষে শেখমুজিবের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানী শাসকদের দৌড়ের উপর রেখে দাবী আদায় করা, সরকার গঠন করা, প্রধানমন্ত্রী হওয়া।

২৫ মার্চের গণহত্যা বিশ্বের ইতিহাসের বর্বরোচিত ঘটনার একটি। তবে এ কথা সত্যি যে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হায়েনারা পূর্ব পাকিস্তানের বিক্ষোভ দমাতে গণহত্যা শুরু না করলে বাংলাদেশ হয়তো আজো স্বাধীন হতো না। শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বার্থে স্বাধীনতা স্বাধীনতা নামে খেলে যেতেন পশ্চিম পাকিস্তানী হায়েনাদের সাথে। ২৫ মার্চের গণহত্যা, শেখ মুজিবের আত্মসমর্পন, ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের পলায়ন সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। বিভীষিকাময় সেই দুঃসময়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা সেনা অফিসার, সেনা সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা যদি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়তো তবে বাংলাদেশ নামের আজকের এ সবুজ ভূখন্ডটিতে স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারতো না কেউ। ৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের গণপরিষদ সদস্যদের পাকিস্তানীদের প্রতি আনুগত্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী তৎপরতা এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নয়, কোন একক দলও নয় বরং অরাজনৈতিক সামরিক সদস্য ও সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা সশস্ত্র সংগ্রামেরই ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

****************************************************

(মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত গণপরিষদ সদস্যরা হলেন, হাবিবুর রহমান, সৈয়দ হোসেন মনসুর, আব্দুল গফ্‌ফার, আবুল কালাম ফয়জুল হক, এবিএম নুরুল ইসলাম, আজমাদ হোসেন খান, নুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, ওবায়দুল্লাহ মজুদদার, একেএম মাহাবুবুল ইসলাম, সাঈদ, মোশাররফ হোসেন, আক্তারুজ্জামান, সৈয়দ বদরুজ্জামান, ডা. আবুল হাশেম, অধ্যাপক শামসুল হক, আবদুল বারেক, ডা. আজহার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম আহাদ চৌধুরী, এ হাদী তালুকদার, আদিল উদ্দিন আহমেদ এডভোকেট, মুজিবুর রহমান তালুকদার, শামসুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আব্দুল মালেক, ডা. আবু সোলায়মান মণ্ডল, ডা. জাহিদূর রহমান, তাহেরুল ইসলাম খান, রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ, আব্দুস সালাম, কেবিএম আবু হেনা, জহুরুল হক, মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান, কাজী হেদায়েত হোসেন, আব্দুল হাকিম মাস্টার, সাজেদ আলী মিয়া, মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, ডা. কাজী সিরাজউদ্দিন আহমেদ, গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ হাশেম, এম সাখাওয়াতুল্লাহ এডভোকেট, মীর্জা আবু মনসুর এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী।)

২৪ মে ২০১০ তারিখে প্রকাশিত আরেকটি খবরে চোখ বুলানোর অনুরোধ করছি

মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানীদের আস্থা অর্জনকারী ৮৮ এমএনএ’র তালিকায় সাজেদা চৌধুরীও

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কাছে একজন আস্থাভাজন কিংবা পাকিস্তানের আস্থা অর্জনকারী নেত্রী ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে ৮৮ জনকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার আস্থাভাজন এমএনএ (মেম্বর অব ন্যাশনাল এসেম্বলী) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৭ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানের তথ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ঐ তালিকায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নামও ছিল। জেনারেল রোয়েদাদ খান ঐদিন ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে যাওয়া অন্তত ৭/৮ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর আস্থাভাজন কিংবা বিশেষভাবে আস্থা অর্জনকারী সেই সাজেদা চৌধুরী এখন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে নানা কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সংসদ উপনেতা। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সবচেয়ে বর্ষিয়ান নেত্রী তিনি। সংসদেও যেমন সংসদ নেতার পরেই তার অবস্থান তেমনি দলের মধ্যেও সভানেত্রী শেখ হাসিনার পরেই তার অবস্থান। দলীয় সভানেত্রী দেশের বাইরে থাকলে বা তার অনুপস্থিতিতে সাজেদা চৌধুরীই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আশির দশকে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে দুর্দিনের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালনের কারণে দলের পক্ষ হয়ে অনেক কিছুই বলতে পারেন না বা বলেন না। কিন্তু দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মকান্ডের জবাব প্রদান এবং নীতি নির্ধারণী বক্তব্য দিয়ে থাকেন। গত ২১ মে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে বলেন, এই দুঃসময়ে বিএনপির হরতাল ডাকা ঠিক হয়নি। হরতালে দ্রব্যমূল্য আরো বাড়বে। এ হরতাল জনতার হরতাল নয়। পাকিস্তানীদের কথা শুনে এই হরতাল ডাকা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পাকিস্তানীদের ইশারায় ২৭ জুন হরতাল ডাকা হয়েছে। অথচ সাজেদা চৌধুরীই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কাছে কতটা বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন ছিলেন দলীল পত্রেই তার প্রমাণ রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ আগস্ট ইসলামাবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত ৮৮ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে এমএনএ নিশ্চিত করা হয় যারা পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করেছিলেন। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল আওয়ামী লীগ। পরে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আরো কয়েকজন নির্বাচিত হন যাদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও একজন ছিলেন। আস্থাভাজনদের তালিকা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ৭/৮ জন সিনিয়র সাংবাদিক ইসলামাবাদ যান ৫ আগস্ট। ৭ আগস্টের ঐ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা থেকে যাওয়া পাকিস্তান অবজার্ভারের সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, মর্নিং নিউজের সম্পাদক জনাব বদরুদ্দীন, দৈনিক আজাদের শাহাদাত হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আখতার ফারুক, দৈনিক আজাদীর প্রফেসর খালেদ ও আব্দুল মালেক। পাকিস্তান সরকারের পক্ষে জেনারেল রোয়েদাদ খান সাংবাদিক সম্মেলনে এমএনএদের তালিকা প্রকাশ করেন। পরে পাকিস্তানের তথ্য অধিদফতর থেকে তালিকাটি সব সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমের অফিসে সরবরাহ করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করা হয়নি। এ নিয়েই অসহযোগ আন্দোলন, ৭ই মার্চের ভাষণ তারপর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে শেখ মুজিবের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২৫ মার্চের কালো রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানীরা দেশদ্রোহী কর্মকান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ফলে নির্বাচিত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের এমএনএ রা সবাই পাকিস্তানীদের কাছে এমএনএ হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। যারা তলে তলে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন তাদেরকেই এমএনএ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাকীদেরকে বিদ্রোহীই বলা হয়। জেনারেল রোয়াদাদ খান ৮৮ জনের তালিকা প্রাকশ করে বলেছিলেন, বিশ্বস্ত প্রমাণ হলে পরবর্তীতে আরো তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৮৮ জনের তালিকায় মিসেস সাজেদা চৌধুরীর নাম রয়েছে ৮৪ নম্বরে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং চাঁদপুর মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমএনএ হিসেবে তার নাম প্রকাশ করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে পাকিস্তানীদের কাছে বিশ্বস্ত এমএনএদের এই তালিকায় অনেক বড় বড় নেতার নাম রয়েছে যারা মুক্তিযুদ্ধের বড় বড় সংগঠকই নন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বড় বড় পোস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বস্ত এই তালিকায় রয়েছেন মরহুম মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, সালাহউদ্দিন ইউসুফ, আব্দুল মালেক উকিল, সৈয়দ কামাল বখত, আসাদুজ্জামান খান (৩য় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা), একে ফাইজুল হক, শওকত আলী খান, টাঙ্গাইলের আজমত আলী সিকদার, হাতেম আলী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী (বি চৌধুরীর পিতা), সিলেটের ওবায়দুর রাজা চৌধুরী, নোয়াখালীর ওবায়দুল্লাহ মজুমদার প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ নাস্তিক কমিউনিস্টসহ দেশী-বিদেশী প্রভুদের নির্দেশনায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বা মানবতার বিরুদ্ধে বিচারের জিগির তুলছে। অথচ নিজ ঘরেই কত কত যুদ্ধাপরাধী রয়েছে তা আগে খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। উপরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আর ভিতরে পাকিস্তানীদের বিশ্বস্ত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন যারা তাদেরকে কোন অপরাধী বলা হবে আর তাদের বিচার হবে কিনা সে প্রশ্নেরও জবাব হয়তো দাবি করবে মানুষ ক্ষমতাসীনদের কাছে। নিরপেক্ষ তথ্যানুসন্ধান করতে গেলে দেখা যাবে ক্ষমতাসীনদের নিজ দলেই রয়েছে সর্বাধিক ব্যক্তি যারা পাকিস্তানীদের সহযোগিতা করেছেন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের ৪৩ গণপরিষদ সদস্য!!!” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. Akram A বলেছেন:

    চালিয়ে যান,আওয়ামী দুঃশাসন কাহাকে বলে, কতো প্রকার ও কি কি???…জনগন একদিন বুঝবে!

    [উত্তর দিন]

  2. ফারুক বলেছেন:

    পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ ওই তালিকা সঠিক নয় বলে জানান। এ সময় তিনি বলেন, এখানে অনেকের নাম আছে যারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, সে সময় কারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে আর কারা করেনি আমি তার সাক্ষী। ময়মনসিংহের খন্দকার আবদুল মালেক শহীদুল্লাহ ও চট্টগ্রামের আকতারুজ্জামান বাবু, যশোরের মোশারফ হোসেন এই তিন জনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের কারো কারো বাড়ি আমি নিজে গিয়েছি। তিনি আরো বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগ থেকে অনেককেই বিভিন্ন কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে তারা সকলেই স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। তাই এ বিভ্রান্তিকর তালিকা সংশোধন করা হোক।

    এরই প্রেক্ষিতে সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী বলেন, বিষয়টি আমার কাছেও ধরা পড়েছে। এখানে অনেকেই আছেন যারা মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো আইনমন্ত্রী তা জানেন না। কিন্তু আমি জানি। তাই আগামীতে শুদ্ধ একটি তালিকা দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ করছি। তবে প্রশ্নটি এক্সপাঞ্জ না করে পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন করা হবে।

    ——

    আইনমন্ত্রী উত্তরে সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী, রওশন জাহান সাথী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। পরে স্পিকার এডভোকেট আব্দুল হামিদ সংসদে এসে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন