নব্য রাজাকারদের রুখো

কোটা মুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে এমন উদ্বেগ ছিল উদ্যোক্তামহলে।
আন্তর্জাতিক শিশেষজ্ঞরাও বলেছেন একই কথা।
সরকার কোটামুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের সমস্যা ও সম্ভাবা যাচাইয়ের জন্য শতকোটি টাকা খরচ করে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করেছিলো ফলাফল একই অথাৎ তারাও রিপোর্ট দিয়েছেন বাংলাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
বাংলাদেশের সামনে হতাশার ঘোর কুয়াশা ছিল, কুয়াশা ভেদ করে আশার আলো দেখা যায় নি।
স্বপ্ন বিলাসী কিছু মানুষ, অসীম সাহসী কিছু উদ্যোক্তা এবং আশাবাদীদের একটা দল অবশ্য আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু তাদের সে আশা আমাদের কারো মনেই স্বস্তি যোগাতে পারে নি।
বাংলাদেশের ২২ লাখ শ্রমিকের মাথা নুয়ে আসছিল অনিশ্চিত ভবিষ্যত চিন্তায়। অভাবের তাড়নায় যুবতী বউটাকে বেআব্রু হয়ে বাসায় বাসায় কাজ করতে হবে, রাঙা ফিতে বেনী বেধে যে মেয়েরা স্কুলে যায় তারা রাস্তায় রাস্তায় কিংবা ডাসটবিনে কাগজ টোকাবে , অসুস্থ ছানিপড়া বুড়ী মা ক্ষুধার যন্ত্রণায় ধুকে ধুকে চোখের সামনে মরে যাবে, এমন দৃশ্য ২২ লাখ শ্রমিকের চোখে ছিল।
যে করেই হোক বাংলাদেশের পোষাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যে শিল্পের সাথে এককোটি লোক জড়িত, ২২ লাখ শ্রমিক জড়িত, বাংলাদেশের অস্তিত্ব জড়িত তাকে যে করেই হোক টিকিয়ে রাখার জন্য মরণপণ লড়াই করে গেছে আমাদের মা-বোনেরা, দেশের সূর্য সন্তানেরা।
২০০৫ সালে কোটা ব্যবস্থা উঠে গেলে তীব্র ভয় আর হতাশা নিয়ে কাজ শুরু করে বাংলাদেশের পোষাক রপ্তানীকারক শিল্প। দিন যতই গড়ায় হতাশা ফিকে হতে থাকে, বছর শেষে তেজদীপ্ত সূর্যের মতো আশার আলোর ঝলকানিতে সারা বিশ্বের অর্থনীতিবিদদের চোখে ধাধা লাগিয়ে দেয়। তারা বাংলাদেশের অকল্পনীয় ও ইর্ষণীয় সাফল্য দেখে অবাক হয়ে যান।
কোটামুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করে সাফল্য এনেছে, সকলের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, ছিনিয়ে এনেছে বিজয়, বাংলাদেশের মুখে ফুটিয়েছে হাসি।
কিন্তু বাংলাদেশের ইজ্জতকে লুটে নিতে হায়েনারা হাত বাড়িয়েছে। যারা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিতে চায়, বাংলাদেশের পোষাক শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়, যারা বাংলাদেশের ২২ লাখ শ্রমিকের কর্মঠ দুই বাহু ভেঙে ফেলতে চায়, যারা বাংলাদেশের এককোটিরও বেশী লোকের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে চায়, যারা বাংলাদেশকে ধর্ষণ করতে চায়, ওরা বাংলাদেশী নয়, বাঙ্গালী নয়, ওরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান বা মুসলমান নয়, ওরা রাজাকার, ওরা আমাদের শত্রু।
বাংলার সন্তানেরা, এক হও, রুখে দাড়াও শত্রুর বিরুদ্ধে, দেশের বেইমানদের বিরুদ্ধে। রুখে দাড়াও নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন