পালাও! আটটা বাজে

পালাও! আটটা বাজে।
সন্ধ্যায় মি: লুই-এর এ আর্ত চিৎকারের পরও যাদের চেতনা হয় না তাদের মতো অভাগা আর কে আছে?
বিপদ সংকেত পেয়েও যারা বিটিভির সামনে বসে উন্নয়নের জোয়ারে হাবুডুবু খায় তাদের মতো বীর ক’জন আছে এদেশে। ক্লোজআপ ওয়ানের মতো খুঁজে খুঁজে এসব বীরদেরকে সম্মানিত করা উচিত, র্যাবের ক্রস ফায়ারের মতো কঠিন দায়িত্ব এদের হাতে তুলে দেয়া উচিত।
আমি বীর না হলেও এদেরই দলে অর্থাৎ আটটার সংবাদটা খুব একটা মিস করি না, যদিনা বিদু্যৎমন্ত্রী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
আমার বিটিভির সামনে থাকার বেশ কিছু কারনও আছে, বিশেষ করে আমার বাসায় যখন ডিশের কানেকশন নেই তখন বিটিভিই আমার একমাত্র ভরসা (আবার ভাবনে না যে প্রাইভেট চ্যানেলে অনুষ্ঠানে আমি খোজ রাখি না, নিয়মিত প্রাইভেট চ্যানেলে অনুষ্ঠানও দেখে থাকি)। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে সন্ধ্যায় রূপকথার স্বপ্ন দেখতে খারাপ লাগে না। তাছাড়া রাণীমা, রাজপুত্র এদের চেহারা মুবারক দেখলেও অশেষ সওয়াব হাসিল হওয়ার একটা চান্স থেকে যায়।
এদের কল্যাণেই তো বিটিভি কত সুন্দর উপাধিই না পেয়েছে, বিএনপি টেলিভিশন, বাপ-বেটির বাক্স, জোকারের বাক্স, তেলের ব্যারেল ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সমস্যা হলো বেশি উপাধি হলে একটাও টেকে না, যেমন শেখ হাসিনা ৫ বছরে হাজারটা উপাধি পেয়েছেন, ভাষা কন্যা, কৃষকরত্ন, দেশরত্ম কিন্তু দর্ূভাগ্য এর একটাও টেকেনি। বিটিভিও তেমনি তার কোন উপাধিই বেশিদিন ধরে রাখতে পারে না।
আমার এ বকবকানি দেখে আবার কেউ ভেবে বসবেন না যে আমি বিটিভিকে ব্যানটিভি মনে করি, কারন আমি জানি উঠতি যুবক-যুবতীদের যেমন বয়সের দোষ থাকে বিটিভিও সেই দোষেই দোষী।
বিটিভিকে একবাক্যে যারা ফালতু মনে করেন আমি তাদের দলেও নই। কারন আমি জানি দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে বিটিভির অবদান অবিস্মরণীয়।
দুপুর ১২ টা থেকে কমার্শিয়াল আওয়ার শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে বিটিভির যে ভূমিকা তার হাজার ভাগের একভাগও অন্য চ্যানেলগুলো করতে পারে না, প্রাইভেট চ্যানেলতো বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠানের ঘোষণাও দিতে চায় না (ঘোষণাটি শুণলেন খ্যাত ফোনের সৌজন্যে)। এমনকি পাশর্্ববর্তী দেশের দূরদর্শন চ্যানেলও এ ক্ষেত্রে বিটিভির ধারে কাছেও যেতে পারেনি। পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচী, এইডসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে বিটিভি দেশের স্বাস্থ্যসচেতন করতে যে ভূমিকা রেখেছে তা স্বীকার না করার কোন যুক্তি নেই।
এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রে একটা নিরব বিপ্লব সাধন করেছে বিটিভি। মাটি ও মানুষের মতো অনুষ্ঠান এদেশের কৃষকদের কতটা যে উপকারে এসেছে তা শহুরে মানুষেরা হয়তো বুঝবে না, সবাই যে বুঝবে না তাও নয়, অনেকে বাড়ির ছাদে রিতিমতো কৃষি খামার গড়েছেন সে তো বিটিভিরই অবদান।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ শাইখ সিরাজ নিজেই একটা চ্যানেল চালু করে অবশ্য এই অনুষ্ঠানের বিস্তৃতি আরো বাড়িয়েছেন, চ্যানেল আইয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান এখন হৃদয়ে মাটি ও মানুষ, কিন্তু এর অবদানও ঐ বিটিভিরই প্রাপ্য।
বিটিভির বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা অনেকেই নাক সিটকাই, কিন্তু বিটিভিতে প্রচারিত কালজয়ী নাটকগুলোর সমমানের নাটক চ্যানেলগুলো খুব কমই প্রচার করতে পেরেছে।
বিটিভির দোষ ঐ একটাই, বয়সের দোষ, প্রস্রাবের বন্যায় ভাসিয়ে দেয় দেশটাকে। কিন্তু একটা সরকারী গণমাধ্যম হিসেবে সরকারের চাওয়া পাওয়ার বিরুদ্ধে এ যায়ই বা কি করে। বিটিভির ঘাড় থেকে দলীয় অনুষ্ঠান বিশেষ করে সংবাদ এবং রাজনৈতিক প্যাচালের বোঝাটা নামিয়ে দিতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরো অনেক বেশি অবদান রাখতে পারতো বলে মনে হয়।

বিটিভির স্বায়ত্বশাসন দিতে পারে এমন একজন সাহসী পুরুষও কি নেই দেশে? বিটিভির স্বায়ত্বশাসন দেয়ার জন্য নিয়মিত আটটার সংবাদ দেখার চেয়ে তো বেশি সাহসের দরকার নেই।

Be Sociable, Share!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।