পিশাচের রাজা পুলিশ

পুলিশের বর্বরতার শিকার হয়নি এমন পরিবার বাংলাদেশে বিরল।
বাঘে ছুলে আঠার ঘা, আর পুলিশে ছুলে কত ঘা তা বোধহয় বাবরেরও ধারণা নেই।
জনসাধারণকে হেনস্তা করতে কিংবা রুটি বানানো ময়দার মতো দলাই মলাই করতে এদের কোন জুড়ি নেই।
তবে ইদানিং এদের রুটিতে বোধহয় অরুচি হয়েছে, তাই পাখি শিকারের নেশায় ধরেছে। তাই কানসাট, শাবি কিংবা শ্রীপুর, যেদিকেই তাকাই পুলিশকে আমরা পাকা শিকারীর বেশে দেখতে পাই।
চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশের ঘটনার পর কলিগরা বললো, পুলিশ আর যাই করুক এমন প্রবীন সাংবাদিককে ঘুষি দেয়া উচিত হয় নি।
আমি বলি অবশ্যই উচিত হয়েছে। পাগলা কুকুরের কাছ থেকে আমরা নিশ্চয়ই চুমু আশা করি না, বিষাক্ত কামড় আশা করি। জনগণের চীরশত্রু পুলিশ তাই সাংবাদিক নির্যাতন করে, পাখির মতো মানুষ শিকার করে প্রমাণ করেছে যে ওরা আর যাই হোক মোনাফেক নয়, সুগার কোটেড তিতকুটে ট্যাবলেট নয়, মুখোশধারী ভন্ড নয়। ওরা সত্যিকারের পুলিশ, জনগনের শত্রু।
আমি এই আমাকেই একটা কঠিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। যে মেয়ের চৌদ্দপুরুষের মাঝে পুলিশ রয়েছে সে মেয়েকে বিয়ে করবো না। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণী, আমার স্ত্রীর চৌষট্টি পুরুষের ভেতরও কোন পুলিশ নেই।
ফিটফাট হয়ে অফিসে বের হবার পরে যদি বিচক্ষণ কোন কাক আপনার গায়ে ইয়ে করে দেয় তবে যেমন অস্বস্তিতে পড়েন আমিও ঠিক তেমনি অস্বস্তি বোধ করি পুলিশের উপস্থিতিতে।
বিটিভিতে একসময় বিজ্ঞাপন দিত “মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপ্স” কিন্তু আমার মনে হয় “মাছের রাজা ইলিশ আর পিশাচের রাজা পুলিশ”।
বন্ধু বিদেশ থেকে আসবে বলে তাকে ওয়েলকাম জানাতে এয়ারপোর্ট রওয়ানা হলাম। হাতে বেশ সময় ছিল তাই শুধু শুধু পয়সা খরচ না করে টেক্সি ক্যাব না নিয়ে মেক্সিতে উঠে পড়লাম। বেলা দুপুর, তাই আমি ছাড়া আর কোন যাত্রী ছিল না। মাঝ পথে এক পুলিশ এসে আমার পাশে বসলো। মাঝ রাতে কোন এলিয়েন আমার পাশে বসলেও বোধহয় এতটা অস্বস্তিতে পড়তাম না। মুহূর্তেই আমি উঠে মেক্সির একেবারে শেষপ্রান্তে গিয়ে বসলাম। আমি ভেবেও পাই না পুলিশের জন্য এতটা ঘৃণা আমার হৃদয়ে কখন বাসা বাধল।
আমার ধারণা যদি কখনো দেশ পরিচালনার স্বৈরাচারী ক্ষমতা পাই (অসম্ভব না, এদেশের প্রতিবন্ধী জামালরা হুইলপাউড়ার খেয়ে দিব্যি কবিতা আবৃত্তি করে বেড়ায়) তাহলে আমি প্রথমেই পুলিশ বাহিনীর হাতে ব্লাক বেঙ্গল গোট ধরিয়ে দিয়ে দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণ করব।
আমি জানি, দেশের সব পুলিশ একরকম নয়। এমন অনেক পুলিশ আছেন যারা জীবনে কখনো ঘুষ খাননি, কিংবা মানুষের উপর অত্যাচার করেন নি। তাদেরকে আমি কিছুতেই পুলিশ ভাবতে পারি না, তারা পুলিশ বাহিনী নামের ভয়ংকর জঙ্গলে স্বেচ্ছানির্বাসিত সাধু পুরুষ। তাদের প্রতি আমার স্বশ্রদ্ধ সালাম।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“পিশাচের রাজা পুলিশ” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. পুলিশ | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] পুলিশ। শব্দটির সাথে পরিচিত নয় এমন শিশুও খুঁজে পাওয়া যায় না। যদিও শিশুদের কাছে ঠোলা নামেই বেশী পরিচিত ওরা। আর বড়দের কাছে মুর্তিমান আতঙ্কের নাম পুলিশ। পুলিশ শব্দের সাথে মানবতার তীব্র বিরোধ। বলা যায় কোন মানুষ যখন মানবতাকে বিসর্জন দিয়ে পশুতে পরিণত হয় তখনই বোধ হয় তারা পুলিশ হয়ে যায়। কোন ভদ্রলোক বিপদে পড়ে ভুলেও পুলিশের কাছে নালিশ জানায় না, সবাই জানে, যা হারিয়েছে তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না, পুলিশে নালিশ করে হয়তো যা আছে তাও হারাতে হবে। আজ সবাই  মানে “মাছের রাজা ইলিশ আর পিশাচের রাজা পুলিশ“। […]

মন্তব্য করুন