বন্ধুদের বিব্রত করার মজাই আলাদা

লুসির সাথে পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে দেখা হয়ে গেল। ও প্রতি বিকেলে একবার এখানে আসবেই।
পাবলিক লাইব্রেরীর সামনেই শ্যামল ভাইর নতুন কেনা সেকেন্ডহ্যান্ড প্রেস। ওখানে কয়েকদিন ধরে আমি কাজ করছি। শ্যামল ভাইয়ের ধারণা আমরা ইচ্ছে করলেই একটা নিয়মিত সাময়িকী বের করতে পারবো। তাই মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে বেগার খাটা, যদিও শেষ পর্যন্ত পত্রিকা বের হয়নি।
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চার-পাঁচ মাস আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলিনি, তাদের দিকে তাকাইনি, ওদের কেউ কোন প্রশ্ন করলে মুখ না তুলেই হ্যা-না জবাব দিয়েই কেটে পড়েছি।
কিন্তু কলেজের বাইরে এভাবে দেখা হওয়ায় নুন্যতম সৌজন্যের খাতিরে সালাম দিলাম। ও বললো আমি ভেবেছিলাম, তুমি খুব অহংকারী, কারো সাথে কথাই বলো না।
কথা শেষে প্রস্তাব দিল চলো, আমাদের বাসা কাছেই, বেড়িয়ে আসি।
লুসি এতদিন আমাকে যেমন দেখেছে তাতে তার নিশ্চিত ধারণা ছিল আমি না বলবো। কিন্তু কেন যেন বললাম, চলো। ওদের বাসায় বেড়ানোর পরে আমার বুঝতে কষ্ট হয়না যে আসলে ও এমনটি চায় নি। বাসায় আমাকে নিয়ে আসায় ওকে বেশ কথা শুনতে হয়েছে ওর বড় ভাই ও মা-বাবার কাছে।

রীণার সাথে দেখা বাসস্টান্ডের সামনে। বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেই ফেলল চলো, আমাদের বাড়িতে বেড়াতে যাবে।
আমিও সঙ্গে সঙ্গে বলে ফেললাম আমার কাছে বাস ভাড়া নেই, যদি তুমি আসা যাওয়ার বাস ভাড়া দাও তবে যেতে পারি।
বেচারী যেহেতু দাওয়াত দিয়ে ফেলেছে তাই না করতে পারলো না।
আমি বললাম, দিব বললে হবে না, টাকা আগে দাও, তোমাদের বাসায় বসে সবার সামনে টাকা চাইতে পারবো না।
ওদের বাড়ি শহর থেকে দূরের একটা গ্রামে। তবু শষ পর্যন্ত ওদের বাসায় গেলাম, প্রথমে বাসে, পরে ভ্যানে চড়ে।
যথেষ্ট আদর যত্ন করে দুপুরে খাইয়ে বিদেয় দিল আমাকে। তবে বাড়ির সবাই ভাবতেই পারেনি তাদের সুবোধ মেয়েটি এভাবে ছেলে বন্ধু নিয়ে বাসায় চলে আসবে।

এভাবে কত বন্ধুকে যে বিব্রত করেছি তার ইয়ত্তা নেই। আজ এ যান্ত্রিক ঢাকার শহরে বন্ধুদের খুব ফিল করি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন