আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলে কি বুঝবোই না আওয়ামী লীগ ইসলামের বিলুপ্তি চায়?

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত যুদ্ধাপরাধ ও জামায়াতের রাজনীতি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের আর কোন দেশে মাদ্রাসা বোর্ড নামে কোন শিক্ষা বোর্ড নেই। অবিলম্বে মাদ্রাসা বোর্ড বন্ধের মাধ্যমে জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা বন্ধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সম্মানিত পাঠক, একটু খেয়াল করুন, অনুষ্ঠানটি যুদ্ধাপরাধ ও জামায়াতের রাজনীতি শীর্ষক, অথচ আলোচনায় উঠে এসেছে মাদরাসা শিক্ষাকে বন্ধ করার প্রসঙ্গ। তাহলে একবার ভাবুন, যুদ্ধাপরাধ যুদ্ধাপরাধ বলে সরকার এত যে হৈহুল্লোর করছে তার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হ্যা, আশাকরি আপনারা ঠিকই ধরতে পেরেছেন, উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়, বাংলাদেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেশটিকে ধর্মহীন, নৈতিকতাবিবর্জিত একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী বাজারে পরিণত করা। মূলত জামায়াতে ইসলাম কিংবা ইসলামী ঐক্যজোট কিংবা ইসলামী আন্দোলন কোন কিছুই ওদের মূল টার্গেট নয়, বরং টার্গেট একটাই, ইসলাম। বিশেষ করে বিগত কয়েক যুগে দেশে ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে, সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ইসলামকে জেনেবুঝে মানার ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে এবং ইসলাম যে নিছক একটি ধর্ম নয়, পাঞ্জেগানা নামাজ নয় বরং ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধানের নাম এ সত্যটি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আর এটাকেই আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে নিয়ে ইসলাম বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

আরেকটি বক্তৃতায় আজ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, এ দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো ভাড়া করা ইসলাম দিয়ে মানুষ ভুলিয়ে তাদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। সাজেদা চৌধুরীর এ ফতোয়া সাধারণ মুসল্লীদের মাঝে কতটা প্রভাব ফেলবে জানি না তবে ইসলামকে নিয়ে যারা এমন ফতোয়া দিচ্ছেন তাদের চেহার মোবারক, আচার আচরণ, কথা-বার্তা এর কোনকিছুই যে দেশবাসী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে না তা তারা কি করে ভেবে বসে আছে আমার বোধগম্য নয়। সাজেদা চৌধুরী ইসলামের পক্ষে কথা বললেন, অথচ ইসলামের একটি মৌলিক বিধান অর্থাৎ অবশ্যপালনীয় তথা ফরজ বিধান পর্দাকে সম্পূর্ণরূপে অবজ্ঞা করে সভা-সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। যারা ইসলামের হুকুম আহকাম মানে না কিন্তু ইসলামের পরম বন্ধু সেজে ফতোয়া দেয় তারা যে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের চরম শত্রু তা কারো কাছে অস্পষ্ট হওয়ার কথা নয়। যদি কোন মুসলমান পর্দার বিধানকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে অবজ্ঞা করেন তবে তিনি নিজেকে মুসলমান বলে আদৌ কি দাবী করার অধিকার রাখেন?

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত সেমিনারে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বর্তমান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার তো অকপটে ঘোষণাই করে বসলেন যে, নারীরা তাদের কুৎসিত চেহারা ঢেকে রাখতেই বোরখা পড়ে। তিনি বলেন, “”মেয়েদের আরো ফ্রী চলাফেরা করা উচিৎ। তারা কেন নিজেদের ঢেকে রাখবে? যাদের চেহারা কুৎসিত তারাই ধর্মের নামাবলী গায়ে দিয়ে তাদের কুৎসিত চেহারা ঢেকে রাখতে চায়।”  মূলত আওয়ামী লীগ ইসলাম ধর্মের অনুশাসন পছন্দ করে না  তা সবাই জানে, কিন্তু যে সব মা-বোনেরা শুধুমাত্র আল্লাহর নির্দেশ মানতেই হিজাব পড়ে তাদেরকে কুৎসিত বলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কুৎসিত চেহারাকেই সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি যদি কুৎসিত চেহারার মাধ্যমে শারীরিক সৌন্দর্যকে বুঝাতে চাইতেন তাহলে সবার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বোরকা পরার কথা। আসলে তিনি ইসলামকেই কুৎসিত বলে গালি দেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।

আমি বুঝি না, জনগণ কখন বুঝবে বাকশালীরা কি চায়? ওরা ইসলামকে যে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত করছে তা আওয়ামী নেতারা আর কি কি বললে সবাই বুঝবে? একটা মানুষের গলায় ছুরি চালানোর পরও কি বুঝবে না তাকে হত্যা করা হচ্ছে, না কি গলায় ছুরি রেখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে বলতে হবে যে এখন ছুরি চালিয়ে খুন করা হবে? এ কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাই না যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সাপোর্টারদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন মুসলমানের অভাব আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ইসলাম বিরোধী একের পর এক বক্তব্য, কার্যক্রম, কর্মসূচী কোন কিছুই তাদের চোখ খুলে দিতে কেন পারছে না? তারা মনে করে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুযোগ যতক্ষণ না কেউ বন্ধ করে দিচ্ছে ততক্ষণ তো আর দলটিকে ইসলাম বিরোধী ভাবা যায় না। প্রকৃতপক্ষে সুচতুর আওয়ামী লীগ সব সময়ই সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়া পছন্দ করে এমনকি তারা এটি খুব ভালো ভাবেই জানে যে জনগণ ধোঁকা খাওয়ার জন্যই সর্বদা হা করে থাকে। তাই প্রতিমূহুর্তে ধোকাবাজিকেই তারা তাদের রাজনৈতিক প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

দু’য়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্মরণ হতে পারে। ছিয়ানব্বইয়ে যখন আওয়ামী লীগ একুশ বছর পরে ক্ষমহারোহন করে তখন কিন্তু তারা ইসলামের সেবক সেজেই সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছিল। হাতে তসবিহ, মাথায় পট্টি, যায়নামাজে মোনাজাতরত ছবি কত কি তখন দেখেছি পোস্টারে, পত্রিকায়, টেলিভিশনে। এ সবই ছিল ইসলাপ্রিয় সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্য, যাকে এক কথায় তাদের ভাষাই বলা হয় “ধর্ম ব্যবসা”। এ দেশের ইসলামী দলগুলোর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীরা সবসময়ই বলে বেড়ায় যে তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। অথচ ইসলামী দলগুলোর সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের নেতাই ইসলামের মৌলিক হুকুম আহকাম গুলোকে মেনে চলার চেষ্টা করে, নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করে চলে। তাহলে যারা ইসলামের কথা বলে এবং সে অনুযায়ী আমল করে তবে তাদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলার যৌক্তিকতা কতটুকু তা একটু চিন্তা করলেই সবার কাছে পরিস্কার হওয়া উচিত। অপরদিকে কারা এসকল ইসলামী সংগঠনকে ধর্মব্যবসায়ী বলছে তাদের দিকেও কি আমরা একবার তাকাবো না? ইসলামী সংগঠনগুলোকে ধর্মব্যবসায়ী বলছে আওয়ামী লীগ, যারা নিজেদের দলের নাম থেকেও মুসলিম শব্দটিকে ছুড়ে ফেলে “আওয়ামী মুসলিম লীগ” থেকে আওয়ামী লীগ” নাম ধারণ করেছে। যারা নিজেদের দলের নাম থেকেই মুসলিম শব্দটিকে ছুড়ে ফেলে দেয় ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রভূদের মনোরঞ্জনে, তখন সাধারণ জনগণকে কেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে একটি ইসলাম বিরোধী দল ইসলামী সংগঠনগুলোর বদনাম রটিয়েই যাবে, এটাই ওদের নেশা ও পেশা। আর কি আশ্চর্য এই ইসলাম বিরোধী শক্তিই আবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দলে টানতে আবার তসবিহ হাতে প্রতারিত করে, অথচ শুধুমাত্র নির্বাচনী বৈতরণী পেরোতে যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছে তাদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলে আমরা প্রত্যাখ্যান করতে পারছি না, বরং তারাই উল্টো ইসলামী সংগঠনগুলোকে ধর্মব্যবসায়ী বলে নির্মূল করতে চায়।

খুব ভালো করে জেনে রাখুন, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে যে ইসলাম টিকে থাকবে তাতে কোন প্রাণ থাকবে না।  সাজেদা চৌধুরী যেমন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তার আদর্শের মৃত্যু হয়নি” আওয়ামী লীগ ইসলাম বলতে সেই আদর্শকেই বুঝে, রাসূল (সাঃ)এর আদর্শকে নয়। আওয়ামী লীগ চায় তাদের প্রভূদের অনুমোদিত মুজিবের পৌত্তলিক ইসলামকে দেশবাসীর উপর চাপিয়ে দিতে। অনেকেই হয়তো জাদুঘরে দেখে থাকবেন স্টাফ করা পাখি। ওগুলো উড়তে পারে না, কলবর করবে পারে না, পারে কেবল সৌন্দর্য পিয়াসীদের মন জয় করতে। ঠিক তেমনি ইসলামের মূল আদর্শ, ইসলামের হুকুম আহকাম, ইসলামের ন্যায়-অন্যায় বোধগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে সীমিত আকারে মসজিদে বন্দী যে ইসলামকে স্টাফ করে বাংলাদেশের সো-পিসে সাজিয়ে রাখার আয়োজন করছে, সে ইসলাম কিছুতেই ইসলাম নয়, ব্রাহ্মণ্যবাদের মুখোশ মাত্র। তাই সময় এসেছে ইসলাম বিরোধী  ব্রাহ্মণ্যবাদের দালাল আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতার হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে এখনই ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার। আল্লাহ নব্য ফেরাউনের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করুন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলে কি বুঝবোই না আওয়ামী লীগ ইসলামের বিলুপ্তি চায়?” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. mushfiq বলেছেন:

    আপনার কি ধারণা আওয়ামী লীগ এ ঘোষণা দিতে ভয় পায়?
    .
    শুধুমাত্র ভারত সরকারের নির্দেশের অপেক্ষা ।

    [উত্তর দিন]

    jamal উত্তর দিয়েছেন:

    AMAR KOTA HOLO MUJIBER JOLMER ETIHASH SHOBAI PORUK .TAR POR BUJBE AWAMILEGE KI?

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন