সংবাদ প্রতিদিন : ১৯ জুলাই ২০১০

সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী : সরকারের দলীয় আদর্শের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করুন
বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ : ইসলামী রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা কোরআন নিষিদ্ধের শামিল
১১ মাসে বিনিয়োগ কমেছে ৭১ শতাংশ
সৌদি আরবের শ্রমবাজার ভারতের দখলে যাচ্ছে
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের দু’বিচারপতির নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
ফিরে এলো আমার দেশ : আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় বহাল

বিএনপির শাঁখের করাত
কেমন আছেন মাহমুদুর রহমান
রাষ্ট্রাত্তর ব্যাংকের এক এমডি জড়িত অর্থ পাচারে
যৌন হয়রানির ঘটনায় জাবি শিক্ষকের পদাবনতি বাধ্যতামূলক ছুটি
রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ : শিবির নেতা গোলাম মুর্তজার সন্ধান ও মুক্তি দাবি
গাজীপুরে গণপিটুনিতে ৬ ডাকাত নিহত আহত ৬, শুটারগান ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার
সরকার হাঁটছে সম্পূর্ণ উল্টোপথে
ছাত্রলীগকে নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত
ছাত্রলীগের হামলায় পাঁচ শিক্ষক আহত
ছাত্রলীগ নেতার হাতে মার খেলেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ
ছাত্রলীগে সন্দেহ বাড়ছে
লোডশেডিং এর তীব্রতায় দিশেহারা মানুষ
কলকাতায় অবাধেই কন্যা-ভ্রুণ হত্যা, বলছে সমীক্ষা

ছাত্রলীগ নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত

০০ ফারাজী আজমল হোসেন

ছাত্রলীগকে নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত; কিন্তু এই সংগঠনের লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই। বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই ছাত্র সংগঠনের বির্বদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, টেন্ডার সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি, ছিনতাইয়ের মত অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিসহ নানা গর্হিত কাজে ছাত্রলীগের একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর আওয়ামী লীগের পৰ থেকে এই ছাত্র সংগঠনের কাজের দায়-দায়িত্ব গ্রহণের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ছাত্র ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থাকা নিষিদ্ধ করার পর আওয়ামী লীগ তার গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ছাত্রলীগকে সহযোগী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে; কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ঘোষণার পরও থামছে না ছাত্রলীগের সন্ত্রাস।

সংশিৱষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগ শুধু বেপরোয়া তাই নয়- ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনে এখন শিবির ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক মাস আগের ঘটনা। স্থান ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়। মোটর সাইকেলযোগে দ্র্বত ধাবমান তিন যুবক। তাদের দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্টের। সিগন্যাল দেন থামার। গাড়ির কাগজপত্র চাইতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তারা। আমরা ছাত্রলীগ করি। তাতে কি। জানান পুলিশ অফিসার। ছাত্রলীগ করলে কি কাগজপত্র থাকতে নেই। এ কথা বলতেই তিনজন একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পুলিশ সার্জেন্টের ওপর। কিল, ঘুষি, থাপ্পড় মারতে থাকেন সজোরে। সার্জেন্ট আশরাফের এই কর্বণ অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন আরো কয়েকজন পুলিশ। আটক করে থানায় নিয়ে যান ছাত্রলীগের তিন নেতা নাসির, শিহাব ও আল মাহমুদ সরকারকে। সরকারি ঢাকা কলেজের এই তিন নেতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য। থানায় নিয়ে যাবার পর খবর পৌঁছে যায় মূল দলের মুর্বব্বীদের কাছে। চিহ্নিত হন তারা ছাত্রলীগের নেতা হিসাবে। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন পেয়ে থানা থেকেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

পরের ঘটনা ইডেন কলেজের। ঢাকার সবচেয়ে বড় এই সরকারি মহিলা কলেজে ত্রাস চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রীকে অনৈতিক কাজের জন্য ছাত্র নেতাদের বাসায় যাবার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। মেয়েটি রাজি হয়নি। এরপর তার ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। মারধর করে তাকে বাইরে বের করে দেয়া হয়। ঝালকাঠির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ঝুমা (প্রকৃত নাম নয়)। অনেক কষ্টে বাবার পাঠানো অর্থে অনার্স পড়েন। ইডেনের হোস্টেলে থাকেন। মেয়েটি ধার্মিক। প্রায়ই তাকে নিজেদের সাথে বাইরে যাবার প্রস্তাব দিতেন ছাত্রলীগের নেত্রীরা। মেয়েটি যাননি। এটাই তার কাল হয়েছে। ছাত্রলীগের এক নেত্রীর লোকজন তাকে একদিন মারধর করে ‘জঙ্গি’ বানিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ছাত্র রেজা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় দশটি মামলার একটিতে অভিযুক্ত। মেধাবী ছাত্র। সব পরীৰা শেষ করে ছেলেটির একটি মাত্র মৌখিক পরীৰা বাকি ছিল। তাণ্ডব কবলিত রাজশাহী ভার্সিটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছেলেটি ডিপার্টমেন্টে যায়। তার প্রতি সহানুভূতি জাগে হয়তো বা কোন শিৰকের। মৌখিক পরীৰা নিয়ে নেন তারা। গরীব মানুষের ছেলে। মূল্যবান শিৰা জীবন নষ্ট করে লাভ কী এই ভেবে। ছাত্রটি পার হতেই খবর চলে যায় ছাত্রলীগের ছেলেদের কাছে। ঘেরাও হন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। ছাত্রলীগের ছেলেরা চড়াও হন ডিপার্টমেন্টে। চেয়ারম্যান নিজেও সরকারি দলের সমর্থক। কেন অভিযুক্ত ছেলেটির মৌখিক পরীৰা নেয়া হলো তা জানতে চান তারা। সেইসাথে অকথ্য ভাষা প্রয়োগ। ছাত্রলীগের ছেলেদের আচরণে কষ্ট পান সগোত্রীয় শিৰকরা। একজোট হয়ে তারা যান ভিসির কাছে। ভিসি মাফ চান ছাত্রলীগের হয়ে।

ঘটনাটি চলতি মাসের প্রথমদিকের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্র্বপের সংঘর্ষে এক পৰের লোকেরা প্রতিপৰকে চারতলা থেকে ছুঁড়ে নিচে ফেলে দেয়। এতে আহত হয় প্রায় অর্ধশত। এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হলেও এ পর্যন্ত তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

ঘটনাটি যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। সাত বছর পর আয়োজিত এই সম্মেলন নিয়ে আগ্রহ ছিল সবার মধ্যে। রিপন হোসেন ওরফে দাদা ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। সম্মেলনের শেষদিকে দুই পৰের গণ্ডগোলের পর রিপন চলে যান নিজ গ্রামের বাড়িতে। সদর উপজেলার এড়েন্দা গ্রাম থেকে সন্ধ্যায় ফিরছিলেন শহরে। পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলকে ধাওয়া করে তারই পরিচিত ছাত্রলীগের দুই ক্যাডার। প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু এক পর্যায়ে ধাওয়া করে ধরে ফেলে তাকে। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সতীর্থদের হাতেই প্রাণ হারান রিপন।

উপরের এসব খণ্ডচিত্র শুধু এলাকা বিশেষের নয়। সারাদেশেই একই চিত্র। ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোন-না-কোন শিৰা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের তাণ্ডবে রক্ত ঝরছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন