বহু বিবাহ ও ইসলাম

প্রকৃতিগতভাবে মানুষের ভেতর পরস্পর বিপরীত দ’ুটি স্রোত প্রবহমান৷ একটি স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিতে চায় অন্যায়ের দিকে আবার বিপরীত স্রোতটি তাকে সতর্ক করে, অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা চালায়৷ সত্যের স্রোতটা যখন অন্যায় সম্পর্কে বিভিন্ন যুক্তি দেখায় তখনই অসত্যের স্রোতটা মানুষকে আস্বস্ত করে যে তার কাজটি মোটেও অন্যায় হবে না৷ অন্যায় স্রোতের যুক্তি যখন ন্যায় স্রোতকে পরাস্ত করে তখনই মানুষ অন্যায়ে গা ভাসায়৷
কিছু লোক ইসলামের নিয়মনীতি মানতে চায় না, বল্গাহীন জীবন যাপন করতে পছন্দ করে৷ সমাজের প্রতি কোন দায় নেই, সমাজই শুধু তার মনোরঞ্জন করবে এ ধরনের চিন্তা চেতনার মানুষেরা চায় সমাজের, ধর্মের সকল নিয়ম শৃংখল ছিন্ন করে আনন্দ লুটে-পুটে নিতে, হোক তা অন্যের ক্ষতির কারন, কোনই পরোয়া নেই তাতে৷ যেহেতু এ কাজ করতে তাদের বিবেক নামক সত্যের স্রোতটা বাধা দেয় তাই তারা বিবেককে বুঝাতে খোঁজে উল্টা পাল্টা যুক্তি৷ ইসলামের নিয়ম-কানুন তাদের কাছে একঘেয়ে মনে হয়, ইসলামী সমাজে থাকলে ইচ্ছেমতো আনন্দে ডুবে থাকা যায় না, যখন তখন যা ইচ্ছে করা যায় না, তাই তারা এ নিয়মকানুনের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে৷
ইসলাম সম্পর্কে দূনিয়া জুড়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই, অপপ্রচারেরও কমতি নেই৷ অধিকাংশ অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে বিভিন্ন ভুল ধারণা পোষণ করেন, আর কিছু সংখ্যক মুসলিম ইসলামের নিয়ম-নীতি মানতে রাজি নয় বিধায় ইসলাম সম্পর্কে জেনে বুঝে বিভ্রান্তি ছড়ান৷ যারা না জেনে বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামের নাম শুনলে নাক সিটকায় তাদের নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই৷ তাদের সামনে সত্য প্রকাশিত হলে তারা নিজেরাই তাদের ভুল বুঝবে এবং লজ্জিত হবে৷ কিন্তু যারা জেনে বুঝে মুসলমান নাম নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় তাদের জন্য আমার আপসোস হয়৷ এ ধরনের লোকদের জন্যই মনে হয় ঈশপ লেজকাটা শেয়ালের গল্পটি লিখেছিলেন৷
যাদের ইসলাম ভালো লাগে না, তারা ইসলাম থেকে সরে দাড়ালেই হয়৷ সারা বিশ্বের কোথাও এখন ইসলামী আইন পরিপূর্ণভাবে কার্যকর নেই, বিশেষ করে মুরতাদের শাস্তির বিধান কোথাও কার্যকরী রূপে প্রতিষ্ঠিত নেই তাই ইসলাম থেকে বেড়িয়ে পড়তে তো তাদের কেউ বাঁধা দিচ্ছে না৷ কিন্তু সে সত্‍ সাহসও তাদের নেই৷ মূলত: তারা চায় ইসলামকে তাদের মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে৷ তাই ইসলামের যে সকল নিয়ম কানুন তাদের জন্য কষ্টকর, তাদের বাধাবন্দনহীন অনৈতিক কাজকর্মে বাধা হয়ে দাড়ায়, তাই তারা ইসলামের সার্বজনীন নিয়মকানুনকে তাদের মতো করে সাজাতে চায়৷ এতে একঢিলে দুই পাখিই মারা হয়, ইসলাম থেকেও তাদের বেড়িয়ে যেতে হলো না আবার উশৃংখল জীবন যাপনেও কোন অন্তরায় থাকছে না৷ অথচ ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে এ ব্যাপারে তা তারা জেনেও চোখ বুজে অস্বীকার করতে চায়৷ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন:
“… তাহলে তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশ বিশেষে বিশ্বাস করো ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এমন করে তাদের ইহ জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কি পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে৷ আর তোমরা যা করছো আল্লাহ সে বিষয়ে অজ্ঞাত নন৷এরাই তারা যারা আখেরাতের বদলে ইহ জীবন খরিদ করেছে৷ তাই তাদের উপর থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না, আর তাদের সাহায্যও দেয়া হবে না৷ (সূরা বাকারা ঃ আয়াত ৮৫-৮৬)
আশ্চর্য এই যে অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে ইসলামে প্রবেশ করে ইসলামী বিধানাবলীকে পরিপূর্ণভাবে পালন করছে৷ ইহুদী ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে এসে মরিয়ম জামিলা দ্ব্যর্থহীনভাবে উচ্চারন করেন, “ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মান্য করুন অথবা ত্যাগ করুন, ইসলামে সমঝোতার অবকাশ নেই“৷
শুয়োর ভুল করে কোন সাজানো বাগানে প্রবেশ করলে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে, তার জন্য চাই পুঁতিগন্ধময় পরিবেশ৷ কিন্তু শুয়োর যদি বাগানকেই তার বাসস্থান বানাতে চায়, বাগানের ফুলেল পরিবেশের সুগন্ধ তাড়িয়ে নোংরা করতে চায়, দূর্গন্ধ ছড়াতে চায় তবে ঐ বাগানের বাসিন্দাদের দায়িত্ব হলো শুয়োরকে তাড়িয়ে দেয়া৷
যারা ইসলামকে মানতে চায়না তাদের উচিত ইসলামী পরিবেশ থেকে সরে দাড়ানো৷ কারন মুসলমানদের অধিকাংশই ইসলামকে ভালোবাসে এবং একে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে মানে৷ তাই অধিকাংশের ক্ষতি করার এখতিয়ার গুটিকয়েক লোকের থাকতে পারে না৷ একটা পশু না বুঝে পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বৃহত্‍ জনগোষ্ঠীর কষ্টের কারন হতে পারে কিন্তু যারা ইসলামকে মানতে চায় না তারাতো পশু নয়, মানুষ৷ পশুর মতো বিচারবুদ্ধিহীনতো তারা নয়, তাই তাদের উচিত মানবিক আচরণ করা৷ বৃহত্‍ জনগোষ্ঠীর ভালোলাগা, ভালোবাসাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা না করে নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র পরিবেশ নির্ধারণ করা, নিজেদের পরিবেশ যে ভালো তা প্রমাণ করা৷
ইসলামে থাকতে হলে ইসলামী নিয়ম-নীতি মেনেই থাকতে হবে, ইসলাম যার তার কথা মতো পরিবতর্তিত হবে না৷ যাদের ইসলামের ব্যাপারে শুঁচিবাই আছে, তাদের কোন অধিকার নেই ইসলাম নিয়ে কথা বলার৷ সাধু সেজে, ইসলামের শুভাকাঙ্খী সেজে ইসলামী আইন কানুন পরিবর্তন করে ইসলামকে আধুনিকায়নের নামে বিকৃত করার ধৃষ্টতা করা, ইসলামের পরিবেশ নোংরা করার অধিকার কারো নেই৷ ইসলাম নিয়ে তাদেরই ভাবতে দেয়া উচিত যারা ইসলামকে ভালোক্ষবাসে, ইসলামকে মানে, মানতে চায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়৷ যারা ইসলাম ভালোবাসে না, ইসলাম মানে না, পরকালে বিশ্বাস নেই, তাদের কি দায় পড়েছে ইসলামের প্রতি আস্থাশীল জনগোষ্ঠীকে তাদের তথাকথিত সঠিক পথে ফেরানোর৷ এজন্য কি তারা জান্নাত পাবে যা তারা বিশ্বাসই করে না? নিশ্চয়ই তাদের অসদ উদ্দেশ্য রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে মতাদখল অথবা বল্গাহীন জীবনযাপনে সকল বাধা দূর করা অথবা আদর্শগত দিক থেকে ইসলামকে যারা পরাজিত করতে পারছে না সেই সব ইসলামের শত্রুদের খুশি করে তাদের কাছ থেকে টুপাইস কামানোই কি উদ্দেশ্য?
ইসলাম সম্পর্কে যার এলার্জি আছে সে ইসলাম ছেড়ে যেথায় খুশি সেথায় যাক, কেউ তো বাধা দিচ্ছে না৷ ইসলামকে ঘৃনা করলে, ইসলামী বিধানাবলীকে অস্পৃশ্য মনে হলে মিছেমিছি কেন তবে ইসলাম নিয়ে অতিভক্তি দেখানো?

ইসলাম কখনোই জরুরী বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যায় না৷ ইসলাম সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দেয়৷ বহু বিবাহ কখনো কখনো অতি প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে উঠতে পারে৷ ইসলাম বহুবিবাহের সুযোগটি রেখেছে ঐ বিশেষ প্রয়োজন পূরণের জন্য৷ ইসলাম কোন নারীকে সতীনের সংসার করতে বাধ্য করে না৷ বহু বিবাহ কখনো কখনো অত্যাকশ্যকীয় হয়ে উঠতে পারে তেমন কারনগুলো এখানে উল্লেখ করবো৷ তার পূর্বে বহুবিবাহ কি তা আলোচনা করা দরকার৷বহুবিবাহ একটি বৈবাহিক অবস্থা যাতে বিবাহের মাধ্যমে একাধিক জীবনসঙ্গী গ্রহণ করা হয়৷ বহু বিবাহ দু’ধরণের এর একটি হলো বহু পত্নীত্ব অর্থাত্‍ পুরুষ কর্তৃক একাধিক স্ত্রী গ্রহণ আর অন্যটি বহুভতর্ৃকা অর্থাত্‍ মহিলা কর্তৃক একাধিক স্বামী গ্রহণ৷ ইসলাম বহুপত্মীত্ব অনুমোদন করেছে বহুভতর্ৃকাকে নয়৷এবার দেখা যাক ইসলাম কেন বহুবিবাহকে অনুমোদন করেছে৷সমাজে বিয়ে কেন প্রচলিত? বিয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতির ধারাবাহিকতা রা করা৷ বিয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুশীল সমাজের ভিত্তি, সুস্থ পরিবার গঠন করা৷ যৌনতা ও তৃপ্তি এ দায়িত্ব পালনের তাত্‍ণিক পুরস্কার৷সন্তান বিয়ে ছাড়াও জন্মদান সম্ভব কিন্তু আমরা কেউ এটা মানতে রাজি নই যে আমার সন্তানের কোন নির্দিষ্ট পরিচয় থাকবে না৷ আর বিয়ে মাধ্যমে সন্তান হলে সে সন্তানের সকল দায়দায়িত্ব পুরুষের উপর বর্তায়৷ পুরুষ তার সন্তানকে লালন পালন এবং পরবর্তী উত্তরাধিকার দিতে বাধ্য৷ বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এ অধিকার দেয় না৷ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নারীকেও শারীরিক তৃপ্তি ছাড়া আর কোন কিছুই দান করে না, এমনকি এ সম্পর্ক দীর্ঘদিন চলারও নিশ্চয়তা দেয় না, আর্থিক বা ভরণপোষণের তো প্রশ্নই উঠে না৷ তাই সকল ধর্ম, সকল সমাজই চেয়েছে বিয়ের মাধ্যমে মানবজাতির ধারা ধরে রাথতে৷একজন নারী সন্তান উত্‍পাদনে অম হতে পারেন৷ সেেেত্র বংশপরম্পরা টিকিয়ে রাখতে পুরুষের একাধিক বিয়ের প্রয়োজন হতে পারে৷ এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে একজন পুরুষওতো সন্তান উত্‍পাদনে অম হতে পারে সেেেত্র নারী আরেকটি স্বামী গ্রহণ করতে পারবে কি না? আসলে ইসলামী পরিবার হচ্ছে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার৷ এখানে পুরুষ পরিবার গঠন করে নারীর সহযোগিতায়, সন্তান পিতৃপরিচয়েই বড় হয় এবং পিতার উত্তরাধিকার হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়৷ নারীর নেতৃত্বে পরিবার গঠন শুধুমাত্র কিছু উপজাতির মাঝেই দেখা যায়, কোন সভ্য সমাজে এখনো মাতৃতান্ত্রিক পরিবার গড়ে ওঠে নি৷আবার স্ত্রী যদি একাধারে দির্ঘদিন ঘরে অসুস্থ থাকেন এবং তার প েযদি স্বামীর সাথে যৌনমিলন অসম্ভব হয় তবে ঐ স্বামী আরেকটি বিয়ে করতে চাইলে কি খুব অন্যায় হবে? আমাদের সমাজে হয়তো গুটিকয়েক লোক এ সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে পারেন, তারা মহত্‍ মানুষের উদাহরন হয়ে থাকবেন৷ কিন্তু সমাজের আইন মহামানবদের জন্য নয়, সাধারনদের জন্য৷পৃথিবীতে পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা বেশি৷ যুদ্ধ-বিগ্রহ, দূর্ঘটনা প্রভৃতি কারনে পুরুষের সংখ্যা কমতে থাকে৷ আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে তাকালে, কিংবা আফগান ও ইরাক যুদ্ধের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে প্রতিনিয়ত অকাতরে পুরুষরা মৃতু্যর মুখে পতিত হচ্ছে৷ একই সাথে জন্মগ্রহনকারী সমসংখ্যক নারী-পুরুষের মধ্যে পুরুষের মৃতু্যর হার বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নারীর সংখ্যা পুরুষের অনুপাতে বেড়ে যায়৷ এছাড়া ছেলে সন্তানের চেয়ে কন্যা সন্তানের রোগ প্রতিরোধ মতা বেশি হয়ে থাকে৷ তাই কন্যা শিশু মৃতু্যর হার ছেলে শিশু মৃতু্য হারের চেয়ে কম হয়ে থাকে৷ এছাড়া সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই বিপত্নীকের চেয়ে বিধবার সংখ্যাই বেশি৷একবার ভেবে দেখুন একটি দেশে যে পরিমান নারী আছে সমসংখ্যক যদি পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ একজন মাত্র নারী বিয়ের পরে বাকী একটা বিশাল নারীগোষ্ঠী বিবাহের স্বাদ লাভকরা থেকে বঞ্চিত হবে৷ যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষের তুলনায় ৮০ লাখ বেশি মহিলার রয়েছে, ফ্রান্সে নারী ও পুরুষের অনুপাত ১:০.৯৫ জার্মানীতে এ হার ১:০.৯৬, ব্রিটেনে ১:০.৯৮৷ এখানে উল্লেখ্য যে এসকল দেশে কন্যাশিশুর তুলনায় পুরুষ শিশু বেশী জন্মগ্রহণ করে অথচ গড় অনুপাতে নারীর সংখ্যা বেশি৷ তাহলে খোদ আমেরিকায়ই ৮০ লাখ নারী কখনো বিয়ের স্বাদ পাবে না৷ আবার আমেরিকার আড়াই কোটি সমকামী পুরুষকে যদি এ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয় তবে তিন কোটি নারীর ভাগ্য কি হবে একবার চিন্তা করে দেখেছেন কি? একবার ভাবুন আপনার বোন আমেরিকার বাসিন্দা এবং তিনি ঐ ভাগ্যাহত তিনকোটি নারীর একজন৷ আপনার বোনের জন্য একজন নারীবাদী হিসেবে আপনার পরামর্শ কি হবে?এ সমস্যা সমাধানে চারটি পথ খোলা রয়েছে৷প্রথম পথঃ চিরকুমারী জীবন যাপন করা৷ আপনি যদি মনে করে থাকেন যে সেঙ্ ছাড়াও একজীবন পার করে দেয়া যায়, তবে অন্য কথা৷ এমন সাধ্বী মহিলাতো আর সাধারণ মেয়েরা নন, তাই তারা সেঙ্ ছাড়া জীবন কাটাতে পারবে না৷ আমার দেখা একটা বাস্তব উদাহরন দেই৷মাদারীপুর শিা অফিসের সামনের দুসন্তানের জননী এক বাড়িওয়ালী বিধবা হওয়ার পরে তার শ্বশুর পরে লোকজন তাকে আবার বিয়ে করার জন্য অনুরোধ করে কিন্তু মহিলা অত্যন্ত স্বামীভক্ত বলে তাদের কথাকে কঠোরভাবে ফিরিয়ে দেন৷ মহিলার শ্বশুর-শাশুড়ী গ্রামে থাকেন, মহিলা থাকেন শহরে স্বামীর বাসায় এবং বাসা ভাড়া দিয়ে সংসার চালান৷ কয়েক মাস পরে গভীর রাতে তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায় ভাড়াটিয়া ইন্টারমেডিয়েট ছাত্রের রুমে৷ সে রাতেই ছেলেটির সাথে তার বিয়ে হয় এবং ছেলেটি ভোর হবার আগেই ঐ জেলা ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে যায়৷ ছেলেটি আমার পরিচিত বিধায় মহিলা আমার কাছে নালিশ করতে এসেছিলেন, তাই বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট৷আসলে শারীরিক প্রয়োজনকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই৷ এ প্রয়োজনটিকে বৈধ একটা পথে প্রশান্তির সাথে মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ৷দ্বিতীয় পথঃ নারী পুরুষের হার সমানুপাতিক করতে কন্যাশিশুর ভ্রুন হত্যা করা৷ বর্তমানে কন্যা শিশুর ভ্রুন হত্যা করে নারীর হার কমানোর একটা নিকৃষ্ট পন্থা চালু হয়েছে, খোদ ভারতেই প্রতিবছর ভ্রুনের পরিচয় জানার পর ১০ লাখ কন্যাশিশুর ভ্রুন হত্যা করা হয়৷ একবার ভাবুন, ভ্রুণ হত্যা বেশি খারাপ না বহুবিবাহ বেশি খারাপ৷ দুটোই খারাপ হলে মন্দের ভালোটাই বুদ্ধিমানেরা গ্রহন করে৷তৃতীয় পথঃ বেশ্যাবৃত্তি৷ আমরা কেউ কি বেশ্যাবৃত্তিকে নারী জাতির জন্য কল্যাণকর, সম্মানের মনে করি৷ আমার বোন বা আপনার বোন রাস্তায় রাস্তায় খদ্দের খুজে বেড়াবে, অন্যের সম্পদে পরিনত হবে এটা কি মেনে নেয়া সম্ভব৷ বেশ্যাবৃত্তি না হয় না-ই করলো, শারীরিক প্রয়োজনে সে-তো অন্যের দারস্থ হবেই, নয় কি? সে যদি কোন বিবাহিতের সাথে মিলিত হয় তবে ঐ পরিবারে ভাঙ্গন ধরবে৷ এমন যদি অবস্থা হয় তখন নিশ্চয়ই আমরা আমাদের বোনদের ইজ্জত ও সম্মান বাচাতে বিবাহিত কোন পুরুষের সাথে বিয়ে দিতে দ্বিধা করবো না, কারন জনতার সম্পদে পরিনত হওয়ার চেয়ে সতীনের ঘর করা অনেক শ্রেয়৷চতুর্থ পথঃ বহুবিবাহ৷পশ্চিমা দূনিয়া বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করেছে৷ কিন্তু আসলেই কি সেখানে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ? পশ্চিমা বিশ্বে তিনভাবে বহুবিবাহ প্রচলিত৷এক. বিয়ে>ডিভোর্স>বিয়ে>ডিভোর্স>বিয়ে>>> এভাবে যত খুশি বিয়ে করা যায়৷ ফলাফল এই যে প্রতিনিয়ত তাকে একজন একজন করে নারীকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দিতে হয়৷দুই. স্ত্রী থাকলেও নিয়মিত অন্য নারীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখা, উপপত্নী হিসেবে দেহভোগ করা৷ এটিও নারী জাতির জন্য সম্মানের হতে পারে না৷তিন: অবিবাহিত পুরুষরা একাধিক বান্ধবীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখে৷ এর ফলে পুরুষের কোন দায় নিতে হয় না ঐ নারীর ব্যাপারে৷ ফলে নারী যতদিন তার দেহ সাজিয়ে রাখতে পারে ততদিনই তার চাহিদা থাকে৷ বিবাহ বহির্ভূত জীবনে একজন পুরুষ কেন চাইবে কিশোরী মেয়ে না চেয়ে বয়স্ক মহিলাদের সাথে সম্পর্ক করতে? এতে কি নারী সত্যিকারের কল্যাণ করছে পাশ্চাত্য সভ্যতা৷পশ্চিমা বিশ্বে, সেখানে আইনগতভাবে একজন স্ত্রী রাখা যায় কিন্তু আইনকে পাশ কাটিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলে কোন দোষ হয় না৷ নারীর চোখের সামনে তার স্বামী অন্য মেয়েকে বিছানায় তোলে, তার কিছুই করার থাকে না৷ বহুবিবাহের বিরুদ্ধে যে আইন তাদের সমাজে রয়েছে তা শুধুমাত্র নারীর অধিকারকে খর্ব করার জন্য, নারীকে বেশ্যায় পরিনত করার জন্য৷ যে নারী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সে কি তার স্বামীর দ্বিচারিতার জন্য আইনের ফটোকপি ঝুলিয়ে রাখবে তার স্বামীর ছবির ফ্রেমে?তার স্বামী যখন অন্য মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে এইচআইভি বীজানু বহন করে এনে তার শরীরে প্রবেশ করায় তখন ঐ নারীর কি করণীয়? পশ্চিমা আইন গুলো শালশা বানিয়ে খেলে কি তার এইডস সেরে যাবে?পশ্চিমা বিশ্বে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ কিন্তু একাধিক নারীর দেহমিলন নিষিদ্ধ নয়৷ অথর্াত্‍ বৈধভাবে একজন স্ত্রী রাখা যাবে আর বিয়ে ছাড়াও যতখুশি নারীর দেহভোগ করা যায়, খাওয়া পড়া, খোরপোষের কোন ঝামেলাই পোহাতে হয় না৷ বাহ! কী চমত্‍কার পাশ্চাত্যের নারী অধিকার৷ এদের এই অবৈধ মিলন প্রতি বছর হাজার হাজার জারজ সন্তান জন্ম দিচ্ছে, অথচ জারজ সন্তান জন্মদিলেও তার দায় দায়িত্ব নিতে হয় না কোন পুরুষের, দায় শুধু নারীর৷ সে সন্তানকে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে অনাথ আশ্রমে বা ডাস্টবিনে৷ এই নিষ্পাত শিশুদের তবে কি অপরাধ? তার মা যদি কোন স্বামীর সংসারে থাকতো তবে সে পেত একজন পিতা, পেত সন্তান হিসেবে সার্বিক অধিকার৷ ইসলাম সকল স্ত্রীর সন্তানের জন্যই সমান অধিকার দিয়েছে৷যে ছাত্রটি মেধার জোরে কাসে ফাস্ট হতে পারে না, পরীায় পাশ করতেও দাত ভেঙ্গে যায়, সে ছাত্র কখনো কাসের ফাস্টবয়কে সহ্য করতে পারে না৷ সে চায় ঐ ফার্স্ট বয়কে কুপথে নিয়ে যেতে, ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে, অথবা চায় পরীার আগের রাতে তার এমন কোন তি করতে যাতে সে পরীাই দিতে না পারে৷ ঠিক একই ভাবে পশ্চিমা সভ্যতা তাদের ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থার পতনকে যখন কোনভাবেই ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না তখন ইসলামী পারিবার প্রথা, ইসলামী সমাজব্যবস্থার সাফল্য তাদের মর্মযাতনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে৷ তাই তারা আমাদের পরিবার প্রথাকে ভেঙ্গে ফেলতে চায়, আমাদেরকে তাদের মতো উলঙ্গ করতে চায়, আমাদের মা-বোনদেরকে ওদের মতো রতিা বানাতে চায়৷ আমরা যারা ইসলামকে ভালোবাসি, ইসলামী পরিবেশকে যারা শ্রদ্ধা করি, মা-বাবা ভাইবোন নিয়ে সুন্দর জীবন কাটাতে চাই তাদের উচিত নয় পশ্চিমা ফাঁদে পা দেয়া, পশ্চিমাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া৷
ইসলাম পুরুষের জন্য বহুবিবাহকে বৈধ করেছে৷ এর কারন অনুসন্ধানে দ্বিতীয় পর্বে কয়েকটি সম্ভাব্য যুক্তি দেখিয়েছি৷ সবকটিই যে অকাট্য যুক্তি এমন বলার সাহস আমার নেই, প্রকৃত কারণ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন৷পুরুষের জন্য বহুবিবাহকে বৈধ করায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে নারীদের জন্য একাধিক বিয়ে বৈধ কি না৷ হিন্দুধর্মমতে আমরা জানি দ্রৌপদীর একাধিক স্বামী ছিল, দ্রৌপদী সিনড্রোম কথাটি এখনো সমাজে চালু আছে৷ বিশ্বের আনাচে কানাচে বিশেষ করে উপজাতিদের মাঝে এখনো দ্রৌপদী সিনড্রোম দেখা যায়৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে ইসলামে নারীদের বহুবিবাহের সুযোগ আছে কি না৷ নারীর জন্যও একাধিক বিয়ে বৈধ তবে একজন স্বামী বর্তমান থাকাকালীন আরো স্বামী গ্রহণ বৈধ নয়৷ অথর্াত্‍ একজন নারী বিধবা হলে বা তালামপ্রাপ্তা হলেই কেবল আরেকটি বিয়ে করার অধিকার রাখে৷ অথর্াত্‍ সধবাকালীন অন্য স্বামী গ্রহণ করা জায়েজ নয়৷বিয়ের ব্যাপারে কুরআনের সূরা নিসার ২২-২৪ নম্বর আয়াতে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে৷ একজন পুরুষের জন্য যেসক নারীদেরকে বিয়ে করা ইসলাম হারাম করেছে তার একটি তালিকা রয়েছে এ আয়াতগুলোয়৷ ইসলাম যে সকল মহিলাকে বিয়ে করাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে তার একটি স্তর হলো সধবা নারী৷ অথর্াত্‍ যে নারীর স্বামী রয়েছে তাকে অন্য পুরুষের প েবিয়ে করা বৈধ নয়৷ পাঠকের সুবিধার্থে বিয়ের জন্য নিষিদ্ধ নারীর তালিকাযুক্ত কোরানের আয়াতগুলো তুলো ধরা হলো৷And marry not women whom your fathers married, except what has already passed; indeed it was shameful and most hateful, and an evil way. Forbidden to you (for marriage) are: your mothers, your daughters, your sisters, your father’s sisters, your mother’s sisters, your brother’s daughters, your sister’s daughters, your foster mother who gave you suck, your foster milk suckling sisters, your wives’ mothers, your step daughters under your guardianship, born of your wives to whom you have gone in – but there is no sin on you if you have not gone in them (to marry their daughters), – the wives of your sons who (spring) from your own loins, and two sisters in wedlock at the same time, except for what has already passed; verily, Allâh is OftForgiving, Most MercifulAlso (forbidden are) women already married, except those (captives and slaves) whom your right hands possess. Thus has Allâh ordained for you. All others are lawful, provided you seek (them in marriage) with Mahr (bridal money given by the husband to his wife at the time of marriage) from your property, desiring chastity, not committing illegal sexual intercourse, so with those of whom you have enjoyed sexual relations, give them their Mahr as prescribed; but if after a Mahr is prescribed, you agree mutually (to give more), there is no sin on you. Surely, Allâh is Ever AllKnowing, AllWise. “যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না৷ কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে৷ এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ৷তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্র্যাতৃকন্যা, ভগি্নকন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে৷ যদি তাদের সাথে সহবাস না তরে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের গোনাহ নেই৷ তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ মাশীল, দয়ালু৷এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দণি হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম৷ এদের ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়৷ অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর৷ তোমাদের পরস্পরে সম্মত হও৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ৷“সূরা আন-নিসা আয়াত ২২-২৪এবার বিশ্লেষণ করা যাক ইসলাম নারীকে কেন বহুভতর্ৃকার সুযোগ দেয় নি৷জ্ঞান রাজ্যের সিংহদ্বার হযরত আলীকে ( রাঃ ) ৪০ জন নারীর একটি দল তার দরবারে এসে প্রশ্ন করলো, “ইসলাম পুরুষকে একাধিক স্ত্রী রাখার অধিকার দিয়েছে, নারীকে কেন একাধিক স্বামী গ্রহণের সুযোগ দেয় নি? এটা কি নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও অসম আচরণ নয়?“ হযরত আলী ( রাঃ ) তাদের প্রশ্ন শুনে পানিপূর্ণ কয়েকটি পাত্র আনতে বললেন এবং তা নারীদের হাতে দিলেন৷ সবার মাঝখানে একটা বড়ো পাত্র রেখে সে পাত্রে তাদের ছোট্ট পাত্রের পানি ঢালতে বললেন৷ অতপর তিনি নারীদেরকে প্রত্যেকের পাত্র আবার পানিতে পূর্ণ করতে বললেন, তবে শর্ত দিলেন যে প্রত্যেক নারীকে তার ঢেলে দেয়া পানিই পুনরায় পাত্রস্থ করতে হবে৷ তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন যে এ অসম্ভব৷ পানি যেহেতু মিশে একাকার হয়ে গেছে তাই তা কোনক্রমেই আলাদা করা সম্ভব নয়৷ তখন তিনি বললেন, কোন নারীর যদি একাধিক স্বামী থাকে, স্বাভাবিকভাবেই সে তাদের সাথে যৌন সঙ্গম করবে, এরফলে সে গর্ভবতী হলে কি করে প্রকৃত পিতাকে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে? এ কারনেই নারীদেরকে একাধিক স্বামী গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় নি৷বর্তমান বিজ্ঞানের উত্‍কর্ষের যুগে এ যুক্তি ধোপে টেকানো বড়ই কঠিন৷ বিজ্ঞান ইতোমধ্যে সন্তানের পিতৃপরিচয় বের পরার জন্য ডিএনএ প্রযুক্তি বের করেছে৷ ডিএনএ টেস্ট করেই একজন সন্তানের প্রকৃত পিতাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব৷ কিন্তু ব্যাপারটা কতটুকু বাস্তবস্মত? যেখানে সন্তান জন্মদানের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠী ডাক্তারের কাছেই যেতে পারছে না, সেখানে দূর্লভ ডিএনএ টেস্ট করে সন্তানের পিতৃপরিচয় উদঘাটন করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ আবার ডিএনএ টেস্টই যে সঠিক তথ্য দেবে তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়? আমাদের পাশের দেশ ভারতেই প্রতিবছর হাসপাতাল থেকে সন্তান অদল-বদলের ঘটনা ঘটে, ছেলে সন্তান চুরির ঘটনা অহরহ ঘটে৷ সেখানে এক স্বামীর প েযে ডিএনএ রিপোর্টকে ডাক্তারের কাছ থেকে তার মর্জি মতো করিয়ে নিয়ে অন্য স্বামীকে ঠকানো অসম্ভব নয় তা নিশ্চয়ই সবাই মানবেন৷ আর ডিএনএ টেস্ট যদি হাতের নাগালেই চলে আসে তবে এ ধরণের দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আরো বেশি বেড়ে যাবে, কারন তখন টেস্ট আর ডাক্তারের হাতে থাকবে না, ডাক্তার টেস্টরিপোর্ট দেখে শুধু মন্তব্য করবেন, বর্তমানে ব্লাড টেস্ট রিপোর্ট করেন যেমন ডাক্তাররা৷আমি আগেই বলেছি বিয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সভ্য সমাজের ভিত্তি পরিবার গঠন করা৷ একটি পরিবার একজন কর্তার পরিচালনায়ই সুখের হতে পারে৷ একটি পরিবার একাধিক কর্তার পরিচালনায় কখনোই সুখের হতে পারে না, সুস্থ হতে পারে না, কেননা প্রত্যেক কর্তাই চাইবে অন্যের চেয়ে বেশি কর্তৃত্ব করতে, অন্যের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে৷ মূলত নিজের কর্তৃত্বে অন্য কাউকে অংশীদার করা পুরুষের স্বভাব বিরুদ্ধ৷ পুরুষ কর্তৃত্ব পছন্দ করে, নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে৷ কেউ হয়তো বলতে পারেন যে নারী একাধিক স্বামী গ্রহণ করলে সেই হবে কর্তৃত্বকারী, স্বামীরা শুধু তার কমান্ড মেনে তার মনোরঞ্জন করবে৷ কিন্তু আসলে কি তা বাস্তব সম্মত? নারী ও পুরুষের স্বভাবের মূল একটা পার্থক্য হলো নারী পরিবারের দায়িত্ব একজন আস্থাশীল কারো হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে সংসার করতে ভালোবাসে, আর পুরুষ ভালোবাসে সংসারে নেতৃত্ব দিতে৷কথাটা হয়তো অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হলো৷ কিন্তু বাস্তবতাকেতো ছুড়ে ফেলা যায় না৷ আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি৷ অনার্সে আমার কাসের সবচেয়ে মেধাবী ছিল আমার স্ত্রী, যে সব পরীায় প্রথম স্থান অধিকার করতো৷ আর আমার রেজাল্ট বরাবরই শেষের দিকে থাকতো৷ অথর্াত্‍ নেতৃত্ব দেযার যোগ্যতা আমার চেয়ে তার অনেক বেশী থাকার কথা৷ বিয়ের পূর্বে একা একা অনেক কাজই তিনি করতে পারতেন, কিন্তু বিয়ের পরে একা আর রাস্তায় বেরোতে সাহস পান না, সবসময় আমাকেই পথঘাট চেনাতে হয়, হাত ধরে ধরে এগিয়ে নিতে হয়৷ অথচ তার মেধা ও যোগ্যতার জোড়ে আমাকেই নিয়ন্ত্রন করার কথা৷প্রকৃতিগতভাবে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশী বহুগামী৷ পুরুষের স্বভাবের নিকৃষ্টতম দিক হলো সে একাধিক নারীকে কাছে পেতে চায়৷ কিন্তু নারী মূলত চায় এমন একজনকে ভালোবাসতে যার একটা বড় হৃদয় আছে, যে হৃদয়ের জমিনে নিশ্চিন্তে বিচরণ করা যায়৷ একজন নারী সহজেই অন্য পুরুষকে দেখলেই পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে না৷ অথচ পুরুষের স্বভাব হলো তার কাছে সুন্দরী হোক বা না হোক৷ কোন নারী কাছে থাকলে তার ভেতরের পশুটার চোখ লোভে চকচক করে ওঠে৷ একজন পুরুষকে একাকী পেয়ে কোন নারীর দল কি শ্লীলতাহানির জন্য তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে? কোন নারী কি গাউছিয়া মার্কেটের ভিড়ে কোন পুরুষের লজ্জাস্থানে হাত দেয়? আমার জানা নেই৷ কিন্তু আমি জানি ভিড়বাট্টা যেখানে, সেখানেই একদল পুরুষ নারীর নরম শরীর হাতানোর ধান্দায় কুকুরের মতো ঘুরঘুর করে৷ পুরুষের বিরুদ্ধে বলা আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং পুরুষ যে নারীর চেয়ে স্বভাবে বেশি বহুগামী তা বোঝাতে চেয়েছি৷ তাই বলতে হয় বহুগামিতা যদি বৈধ করতেই হয় তবে তা পুরুষের জন্য করা দরকার, নারীর জন্য নয় কারণ নারীরা সংযমী এবং বেশি আত্মমর্যাদাশীল৷ হুট করে সে যার তার কাছে দেহ সমর্পন করতে চায় না, অনেক পুরুষই অনায়াসে যা করে থাকে৷একজন পুরুষের প েসম্ভব একাধিক নারীকে গর্ভবতী করা৷ একজন পুরুষ বছরের ৩৬৫দিনই সন্তান উত্‍পাদনে সম৷ কিন্তু একজন নারী মাসে একটি নিদিষ্ট সময়ে সন্তান ধারণে সম৷ ঐ নির্দিষ্ট দিন বা সময় ছাড়া অন্য সময়ে হাজারো বার যৌন মিলন করলেও সন্তান ধারন করা সম্ভব নয়৷ এতে স্পষ্ট হওয়া উচিত যে নারী ও পুরুষ শারীরিকভাবে সমান মতা বা যোগ্যতার অধিকারী নয়৷ একজন নারী গর্ভে সন্তান ধারণ করতে পারেন, সন্তানকে নিজের শরীর থেকে খাবার জোগাতে পারেন এমনকি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরও তার শরীর নিসৃত দুধ পান করেই সন্তান বেঁচে থাকে৷ এসব কিছু নারীর নিজস্ব মতা যা পুরুষের নেই৷ আবার পুরুষের কিছু মতা রয়েছে যা কেবল তাদেরই, নারীর নেই৷ অর্থাত্‍ ইসলাম নারী ও পুরুষকে সমানাধিকার দিয়েছে ঠিকই তবে সমান যোগ্যতা ও দায়িত্ব দেয় নি৷ উভয়ের রয়েছে স্বতন্ত্র অবস্থান৷ তাই পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারলে নারীকেও করতে হবে তা যুক্তিসংগত নয়৷ এছাড়া নারীকে মাসে নির্দিষ্ট কটা দিন মাসিকের ঝামেলা সইতে হয়৷ এসময় নারীর মানষিকতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয় তা জানতে কোন দার্শনিকের দারস্থ হতে হয় না, যে কোন নারীই এ সত্য স্বীকার করবেন৷ কিন্তু এ বিশেষ দিনগুলোতেও কোন কোন পুরুষের নারী সঙ্গ অপরিহার্য হয়ে পড়তে পারে, অনেক পুরুষই আছে সেঙ্ ছাড়া একরাতও কাটাতে অম৷ এদের যত্রতত্র নারী শিকার করে বেড়ানোর থেকে ফিরিয়ে মন্দের ভালো একটা পথ বাতলে দেয়া হয়েছে, আর তা হলো আরেকজন নারীকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে আনা৷আবার সমাজে এখনো পুরুষ নারীকে বিয়ে করে৷ একজন নারী যত শক্তিশালীই হোন না কেন, বিশেষ মুহূর্তে পুরুষকে ধরাশায়ী করে ফেলতে পারেন, তারপরও তিনি কিন্তু পুরুষটিকে কিছু দিতে পারছেন না, বরং গ্রহণ করছে৷ গ্রহণ করছেন সন্তান উত্‍পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ৷ তাই একজন নারী যতই নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন হোক না কেন ইসলাম পরিবার গঠনের দায়িত্ব পুরুষকে দিয়েছে, যে সন্তান উত্‍পাদনের জন্য বীজ সরবরাহ করে চলেছে নারীকে৷অনেক কথাই বলা যায় এ সম্পর্কে৷ প েবলা যায়, বলা যায় বিপওে৷ কিন্তু আমি বিশ্বাস করি কুরআন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্ময়কর গ্রন্থ যা মানুষের কল্যাণে অবতীর্ণ হয়েছে, মানুষকে যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য৷ কুরআন কোন বিজ্ঞানের বই নয়, নয় কোন সংবিধান৷ কুরআন এমনই একটি গ্রন্থ যা সত্য ও মিথ্যের প্রভেদ, ন্যায় ও অন্যায়ের সীমা,,বৈধ ও অবৈধের মাত্রা পরিমাপক একটি একক৷ কোরআনের অধিকাংশ বাণীই আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা কিংবা বিজ্ঞানের অপূর্ণাঙ্গতার (বিজ্ঞানীরাও দাবী করেন না যে বিজ্ঞানের আর জানার কিছু নেই, পূর্ণাঙ্গতা পেয়ে গেছে, বরং নিয়মিত নতুন নতুন তথ্য আবিস্কৃত হচ্ছে) কারণে বুঝতে ভুল করি৷ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোরআন পুরুষের জন্য বহুবিবাহকে বৈধ করেছে যুক্তিসংগত কারণে, সব যুক্তি আমার ুদ্র জ্ঞানে অনুসন্ধান করা বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ কোরআনের কোন একটি আয়াতের প েযদি আমি একটি যুক্তিও খুঁজে না পাই তারপরও আমি কুরআনকে বিশ্বাস করে যাবো, কুরআনের বাণী পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধনের যে কোন চেষ্টাকে রুখে দিতে যদি আমার প্রতিটি নিউকিয়াসও দান করতে হয় তবুও আমি হাসিমুখে আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেব৷ আপসোস তো এই যে আল্লাহ আমাকে কত কম জীবকোষ দিয়ে, কত কম নিউকিয়াস দিয়ে সৃষ্টি করেছে৷

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“বহু বিবাহ ও ইসলাম” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. মুসা কাজেম বলেছেন:

    হুমায়ূন আহমেদের ২য় বিবাহকে ব্যবহার করে হুজুর পুর নূর (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লম)এর বিবাহসমূহের ব্যাপারে নাস্তিকদের উত্থাপিত অভিযোগের পরোক্ষ জবাব।
    ১ম পর্ব http://www.somewhereinblog.net/blog/ABDULKADIR1/29672238

    ২য় পর্ব http://www.somewhereinblog.net/blog/ABDULKADIR1/29675055

    যারা প্রথম দুই পর্ব পড়েননি, তারা এই পর্ব পড়ে যে একেবারে বুঝবেন না এমন নয়। তবে সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে চাইলে আমার অনুরোধ আগে প্রথম দুই পর্ব পড়ে নিন।
    কেন আবার এই পুরানো বিষয়ে লিখলাম সেটা যারা সিরিজটি ভালো করে পড়বেন তাদের আর বুঝিয়ে বলতে হবে না। এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই আঙ্গিকে কোন আলোচনা আমার নজরে পড়েনি। এছাড়া চিন্তা করে এই সিরিজ পড়লে নবী সাহবীদের একাধিক বিবাহ, নবী(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বালিকা বিবাহ,ইসলামের দাসপ্রথা ইত্যাদি নিয়ে আমাদের মনে কেন খটকা লাগে এবং এই খটকা লাগাটা যে একেবারে অযৌক্তিক তা বুঝতে পারবেন আশা করি।

    এখানে হুমায়ুনকে আনা হয়েছে শুধুমাত্র উদাহরণ হিসাবে। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি সত্যিই প্রয়োজন হয় তাহলে ২য় বিবাহ করা যে একজন পুরুষের বৈধ অধিকার, সেটা দেখানো এবং এই অধিকার তাদেরকে না দেয়ার কারণে সমাজে কিরকম অশান্তি হচ্ছে সেটা দেখানো। যারা নিছক আবেগ নিয়ে চলেন, সমাজের প্রথাকেই যারা খোদার আসনে বসিয়েছেন তারা জানি শত যুক্তি দিলেও এটা মানবেন না।ভাবার কোন কারণ নেই যে আমি একাধিক বিবাহকে উৎসাহিত করছি। ১৪ নং মন্তব্যটি পড়ুন, তাহলেই বুঝবেন।

    এবার আসেন আমরা ভালো খারাপের মানদণ্ড নিয়ে আমার এই দুই পর্বের লেখায় যা আলোচনা করলাম সেই আলোকে বিচার করে দেখি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় বিবাহকে, এবং ইতিহাসের আরো যারা ২য় বা আরো বেশী বিবাহ করেছে তাদেরকে। ১ম পর্বে যা বলেছিলাম সেটার সারাংশ যা দাঁড়ায় তা এই যে আমরা মোটামুটি তিন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে কোন কাজকে ভালো খারাপ বলি বা ভালো খারাপ হিসাবে নির্ধারণ করি।

    ১- ধর্ম দিয়ে নির্ধারণ
    ২- সামাজিক প্রথা দিয়ে নির্ধারণ
    ৩- নাস্তিকদের নির্ধারণ (হতে পারে সেটা যুক্তি দিয়ে বা অন্য কিছু দিয়ে)

    তো যারা মুসলমান তারা তো তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যাপারে টুঁ শব্দটিও করতে পারেন না। কেননা খোদ আসমান জমীনের স্রষ্টা আল্লাহ্‌ই শর্ত সাপেক্ষে চারটি বিবাহের অনুমতি দিয়ে রেখেছেন পূর্বের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই। ভালো করে বুঝে নিন শর্তসাপেক্ষে শুধু অনুমতি আছে কিন্তু কোন উৎসাহ দেয়া হয়নি। মুসলমানের কাছে সেটাই বৈধ যেটা আল্লাহ্‌ বৈধ করেছেন; সেটাই ভালো যেটা আল্লাহ্‌ ভালো বলেছেন। তার নিজের মন কি বললো, তার সমাজ কি বললো ; আল্লাহ্‌র ফায়সালার পর এসবের পাই পরিমাণ কোন মূল্য নেই।

    আর নাস্তিকদের এ ব্যাপারে কথা বলা তো চরম হাস্যকর ব্যাপার। হুমায়ূন তো কারো কোন ক্ষতি করেন নি।নাস্তিকদের মতে তো যে কেউ যে কোন কাজ করতে পারে, যদি অপরের কোন ক্ষতি না হয়। নাস্তিকদের কাছে তো লিভ টুগেদার, সমকাম সব বৈধ, আর হুমায়ূন তো এগুলো করেননি, উনি তো বিয়ে করে নিয়েছেন।চালুনি বলে সুঁই তর পিছে কেন ছিদ্র। আসলে তাদের ভাব দেখে যা মনে হয় সেটা হলো, তারা বিয়ে করার বিরুদ্ধে লেগেছে। কেউ একাধিক বিয়ে করে বৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মিটাতে গেলে তাকে তারা নারীলোভী, কামুক বলে গালি দেয়, পক্ষান্তরে লিভ টুগেদার করলে , সমকাম করলে এটাকে লম্পটরা ব্যাক্তি স্বাধীনতা, আধুনিকতা ইত্যাদি বলে প্রচার করে। ঐ যেমন নাকি মুসলমানরা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করলে আমেরিকা বলে যে এরা বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী; আর খ্রিষ্টানরা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করলে আমেরিকা বলে যে এরা স্বাধীনতাকামী, এদের স্বাধীনতা দেয়া হোক। তারা সমকামকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে বলে, আর ২য় বিবাহের মত একটি চিরবৈধ ও শালীন কাজকে কামুকতা বলে প্রচার করে। অথচ কোন পুরুষের যদি প্রয়োজন থাকে তাহলে ২য় বিবাহ করা তার অধিকার। এখানে কোন লম্পটের নাক গলানোর কোন অবকাশ নেই।

    উপরের দুই ভিত্তিতে পাস করার পর রইলো সামাজিক প্রথার ভিত্তি। কিছুদিন আগেও তো এই উপমহাদেশে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা একাধিক বিবাহের প্রথা ছিলো।। এখনো তো একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায় নি।আর সামাজিক প্রথা রক্ষা করতে হবে এটা কে বললো? তাহলে তো যারা আগের হাজার বছরের প্রথাকে ভেঙ্গে এই নতুন প্রথা চালু করেছেন তারাই চরম অন্যায় করেছেন । তাই বলতে পারি হয়তো হুমায়ূন এই অন্যায় প্রথাকে দূর করে আগের ভালো প্রথাকে ফিরিয়ে আনার জন্য এই কাজ করেছেন। কত মানুষ কত লাইনে সামাজিক প্রথা ভাঙছে তার কোন খবর নাই, সবাই লাগছে এই বিবাহের পিছনে। অথচ এটাকে ১ম স্ত্রী ও সমাজ স্বাভাবিকভাবে, উদারচিত্ততার সাথে মেনে নিলে কত পারিবারিক অশান্তি শেষ হয়ে যেত, সেটা কেউ চিন্তা করে না। তার উপর কথা হলো বর্তমানের এই মূর্খ, অর্বাচীন, লম্পট, ধর্ষক, খুনী, সন্ত্রাসী সমাজের কোন প্রথারতো কানা কড়ি মূল্যও নাই, মানারতো কোন প্রশ্নই আসেনা। এই সমাজের প্রথাইতো আমাদের মা বোনদেরকে শেষ করে দিচ্ছে, ধর্ষিতা বানাচ্ছে, বেশ্যা বানাচ্ছে, রাস্তার মজদুর বানাচ্ছে। শত ধিক আর থুতু মারি এই সমাজকে আর তার প্রথাকে। (হুমায়ূনতো সমাজের মাপকাঠিতে পাস করেননি, যদিও তাতে কিছু যায় আসেনা; কিন্তু নবীরা ও সাহাবীরা কিন্তু এই তিন মাপকাঠিতেই ১০০ ভাগ পাস।কারণ তাদের সমাজে বহু বিবাহ মোটেই কোন খারাপ কিছু ছিলোনা।এখান থেকেই বুঝে নিন হযরত সোলায়মান (আঃ) এর ১০০ জন স্ত্রী ছিলো শুনলে যে আপনার মনটা কেমন কেমন করে, মুখের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে; এটা নিছক মূর্খতা আর সমাজের পূজা করার কারণে হয়।নবীরা কামুক নয়, যারা তাদের সমালোচনা করে তারাই সব বিশ্ব লম্পট ও কামুক; এবং তারা পুরা সমাজকে লম্পট বানাতে চায় এজন্য তারা কোমর বেঁধে এই চির বৈধ ও শালীন বিয়ে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেগেছে। ) এখানে ক্লিক করে দেখুন।

    মোটকথা ভালো খারাপ নির্ধারণের কোন মাপকাঠিতেই আপনি তার এই ২য় বিবাহকে খারাপ বলতে পারেন না, নিন্দা করা তো অনেক দূরের কথা।(ঠিক তেমনি ইতিহাসের আরো যারা বহু বিবাহ করেছেন ) কিন্তু অর্বাচীন, মূর্খ , অসভ্য আর বদ্ধ মানসিকতার লোকেরা কোন কিছু না বুঝেই, কেউ ২য় বিবাহ করলে তার নিন্দা শুরু করে দেয়। ঐ চিলে কান নেয়ার মত ছোট বেলা থেকে শুনে আসতেছে মূর্খ সমাজের মূর্খ লোকের প্রচারণা যে, একাধিক বিবাহ খারাপ; ব্যস, খারাপ। কেন খারাপ? কে বললো খারাপ? কিসের ভিত্তিতে বললো খারাপ? ইত্যাদি কোন কিছু চিন্তা না করে তারা সেটাকে মেনে নিলো। বাড়তি যৌন চাহিদা পূরণের জন্য ২য় বিবাহের মত একটা চির শালীন ও বৈধ পন্থার কথা কেউ অবলম্বন করেছে শুনলে এদের মাথায় যেন একটা অন্ধ ও বয়ড়া ভূত চেপে বসে, আর সভ্যতা ও ভব্যতার সীমা ছাড়িয়ে আর একজন মানুষের নির্দোষ ব্যাক্তি জীবন নিয়ে নোংরা সমালোচনা করতে থাকে। অথচ সমাজে যৌন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কত মানুষ যে কত লাম্পট্য করছে সেখানে সব ভেজা বেড়াল। একদিকে ২য় বিবাহের নিন্দা করে মানুষকে তা থেকে আটকে রাখা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে অশ্লীল সিনেমা , নাটক দেখিয়ে; অশ্লীল বই, পত্রিকার বিস্তার ঘটিয়ে এবং প্রগতির নামে , নারী অধিকারের নামে সুন্দরী নারীদেরকে ঘরের বাহিরে এনে মানুষের যৌনতাকে উস্কিয়ে দেয়া হচ্ছে। তখন অটোমেটিক মানুষ তার যৌন চাহিদা মিটানোর জন্য চুপি চুপি লাম্পট্যময় কাজের দিক এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে যুবক যুবতীদের যৌনতাকে উস্কে দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার সব করছে। ফলে তারা এখন প্রায় প্রকাশ্যেই লাম্পট্য শুরু করেছে। প্রাইমারীর ছেলে মেয়েরা পর্যন্ত অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িয়ে যাচ্ছে। তখন এরা মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকে, বা বলে যে, আরে এই যুগের ছেলে মেয়েরা এগুলো একটু করবেই। এই নাস্তিকরা হলো শয়তানের দোসর। এরা চায় সমাজ থেকে লজ্জা শালীনতা উঠিয়ে দিয়ে সমাজে অশ্লিলতা, ব্যাভিচার আর লাম্পট্য ছড়িয়ে দিতে।বাড়তি যৌন চাহিদা পুরণের বৈধ ও শালীন পন্থাকে সামাজিক চাপ প্রয়োগ করে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, আর সর্ব দিকে থেকে যুবক যুবতীদের যৌনতাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে যাতে সে অবৈধ পন্থায় , লাম্পট্য করে তার যৌন চাহিদা মিটায়। আল্লাহ আমাদের এদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন।

    এবার আসুন দেখি ২য় পর্বে আমরা যা আলোচনা করলাম সেই আলোকে হুমায়ূনের ২য় বিবাহকে বিচার করি।২য় পর্ব না পড়ে থাকলে , আমার অনুরোধ তা একবার পড়ে দেখুন। কথা দিচ্ছি আপনার সময় নষ্ট হবেনা। তো ২য় পর্বে আমরা দেখেছি যে আমরা কারো সমালোচনা করতে গিয়ে মোটামুটি চারটি ভুল করি। আসুন দেখি আমরা হুমায়ূনের সমালোচনা করতে গিয়ে এই চারটি ভুলের কয়টি করলাম।

    ১নং ভুলঃ হুমায়ূন ২য় বিয়ে করেছেন, এটা হলো তার একটা কাজ। এখন কথা হলো এই কাজের পিছনে উদ্দেশ্য কি ছিলো তার? ভালো উদ্দেশ্য যেমন থাকতে পারে, তেমনি খারাপ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।কিন্তু আমার আপনার সেটা নিশ্চিতভাবে বুঝার কোন উপায় আছে কি? নেই; একদম নেই। আমরা শুধু তার সার্বিক অবস্থা দেখে আন্দাজ করতে পারি। কারো মনের কথা নিশ্চিত করে বলা কোনদিন কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সমালোচনাকারীরা সম্পূর্ণ বিনা প্রমাণে এটাই নিশ্চিত ধরে নিচ্ছেন যে, হুমায়ূন তার যৌন লালসা মিটানোর জন্য বিবাহ করেছেন।

    ভালো করে খেয়াল করুন, আমি আপাতত এখানে সমালোচনাকারীদের একথা ঠিক ধরে নিয়ে তাদের ভুল ধরলাম যে, যৌন লালসা মিটানোর জন্য বিবাহ করা খারাপ। একটু পরে আমি দেখাচ্ছি যে , আসলে যৌন লালসা বা চাহিদা মিটানোর জন্য বিবাহ করাকে খারাপ বলাও নিছক মূর্খতা। যৌন লালসা বা চাহিদা মিটানোর জন্য বিবাহ করা খারাপ হলে একটা বিবাহও করতে পারবেন না। সবাই বিবাহ সাদী বাদ দিয়ে জঙ্গলে গিয়ে থাকেন। আরে মিয়া কারো যৌন ক্ষমতা যত বেশীই থাকনা কেন, সে যদি বৈধ পন্থায় তা পূরণ করে, তাহলে কখনো বলা যাবেনা যে সে তার লালসা চরিতার্থ করেছে, বরং বলতে হবে, সে তার অনিবার্য প্রয়োজনকে শালীন ও বৈধ পন্থায় পূরণ করেছে। কেউ যদি তার যৌন চাহিদা অবৈধ পন্থায় পূরণ করে (ব্যাভিচার করে, সমকাম করে ইত্যাদি), তখন সেটা লালসা চরিতার্থকরন বা কামুকতা হবে। কারো যদি যৌনশক্তি অন্য কারো থেকে বেশী থাকে, কিন্তু এটা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সে কোন ব্যাভিচার বা ধর্ষণ না করে, তাহলে এটা তার একটা বিশেষ গুণ বলেই মানব ইতিহাসে বিবেচিত হয়ে আসছে। এটাকে কোন দোষ ভাবা , চরম মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। এটা যদি গুণ না হতো তাহলে সবাই যৌনশক্তি কমানোর জন্য ডাক্তারের কাছে যেতো, বাড়ানোর জন্য যেতোনা। এছাড়া পুরুষত্ব বা যৌনশক্তি বেশী থাকলে তার স্বাস্থ্য, বুদ্ধি, স্মরণশক্তি, বিপদে অবিচলতা, ব্যাক্তিত্ব, নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি অনেক কিছুই তার বেশী থাকবে। না জানলে নেটে সার্চ দিয়ে জেনে নেন।

    ২নং ভুলঃ হতে পারে হুমায়ূন কোন ঠেকায় পড়ে অপারগ হয়ে এই বিয়ে করেছেন, কিন্তু কোন বিশেষ কারণে তার অপারগতাটি কি ছিলো,তা তিনি প্রকাশ করেননি।

    ৩নং ভুলঃ হতে পারে ২য় বিবাহের ব্যাপারে হুমায়ূন আমাদের এই ফালতু সামাজিক প্রথার সাথে একমত ছিলেন না, সোজা কথায় তিনি এটাকে কোন খারাপ কাজ মনে করতেন না। আর কোন ব্যাপারে যে কেউ যে কোন মত রাখতে পারে । এটা প্রত্যেক মানুষের অধিকার। সুতরাং এ ব্যাপারে তাকে নিন্দা করা একেবারে সংকীর্ণ, গোঁরা আর বদ্ধ মানসিকতার পরিচয়। আর আগেই বলেছি মানব ইতিহাসের কোন সভ্য সমাজেই এটা খারাপ ভাবা হতোনা। বর্তমানের এই মূর্খ, অর্বাচীন, লম্পট, ধর্ষক, খুনী , সন্ত্রাসী সমাজের এটাকে খারাপ ভাবার দ্বারা কিছুই যায় আসেনা।

    ৪নং ভুলঃ (এই পয়েন্টটি বুঝতে হলে ২য় পর্ব থেকে এই জায়গাটা পড়ে আসতে হবে)এই ঘটনার অন্তরালে হয়তো এমন ঘটনা রয়ে গেছে, যা জানলে আমরাও বুঝতে পারবো যে, হুমায়ূন আসলে কোন অন্যায় কাজ করেন নি। কিন্তু সেটা এখন আর কি জানা সম্ভব। আচ্ছা হুমায়ূন বেঁচে থাকতে কি তাকে এই ব্যপারে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিলো? আমার জানা নেই।

    আরেকটা কথা হলো, এই যে আপনি কারো কোন কাজ দেখে তার উদ্দেশ্য আন্দাজ করবেন, এটা কিন্তু আপনি আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে করবেন, নিজের জীবনের ঘটনাবলীর আলোকে আন্দাজ করবেন। যদি এমন হয় যে আপনিও এই কাজটি উনি যেই উদ্দেশ্যে করেছেন সেই উদ্দেশ্যেই কোনদিন করেছিলেন, তাহলে হয়তো আপনার আন্দাজ আপনার অজান্তেই ঠিক হতে পারে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, উনি যে উদ্দেশ্যে কাজটি করেছেন সেটা আপনার অভিজ্ঞতা থেকে দূরে তাহলে কিন্তু আপনি কোনদিনও সঠিক আন্দাজ করতে পারবেন না। যে ক্যাল্কুলেটর ১০০০ পর্যন্ত হিসাব করতে পারে আপনি যদি সেটা দিয়ে আরো বড় সংখ্যা হিসাব করতে চান তাহলে তা কখনো সম্ভব নয়।

    এই সংক্ষিপ্ত কথা থেকে বুঝে নিন যারা বলে যে, হুমায়ূন আহমেদ শেষ বয়সে কিশোরী নারীর প্রতি যৌন লালসায় পড়ে শাওনকে বিবাহ করেছেন, তারা কত অন্যায় কথা বলেন। হুমায়ূন বিয়ে করেছেন এই কাজটি প্রকাশমান, কিন্তু বিয়েটা উনি কেন করলেন সেটা উনার মনে রয়েছে। আর কারো মনের ভিতর কি আছে সেটা আমি আপনি কখনোই বলতে পারবো না। যে নিজে লম্পট বা লম্পট সমাজে যে বাস করে সে হয়তো নিজের উপর অনুমান করে চরম অবিবেচকের মত হুমায়ুনকেও লম্পট বলতে পারে, কিন্তু সামান্য বিবেচনা বোধ যার আছে এমন কেউ তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন না শুধু এই হিসাবে যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, তাও একজন কিশোরীকে।এতটুকু পড়েও যদি কেউ নবী(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আয়েশা (রাঃ) এর বিবাহের ব্যাপারে নাস্তিকদের আপত্তির জবাব বের করতে না পারে তাহলে আমার কিছু বলার নেই।

    এবার আসেন আসল কথায়।ধরেন কেউ যৌন চাহিদা বা লালসা মিটানোর জন্যই বিবাহ করলো। তো এতে কি হয়েছে? এজন্য কি আপনি তাকে নারী লোলুপ বলতে পারেন? কখনোই পারেন না। আরে ভাই লোভ কাকে বলে এটা আমাকে বলেন।
    কারো দুই রুটি খেয়ে পেট ভরে না, কারো ভরে যায়। এখন যে দুই রুটি খায় সে কি যে চার রুটি খায় তাকে পেটুক বলতে পারে?খাদ্য লোভী বলতে পারে?না। পারে না।
    ভালো করে খেয়াল করুন,

    ১-যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী খায় সে হলো পেটুক।

    ২-যে পেট ভরে যাবার পরেও শুধু জিহ্বার মজার জন্য খায়,প্রয়োজনের চেয়ে বেশী বেশী খায়, নিজেরটা খেয়ে আবার অপরের খাবারের দিকে চেয়ে থাকে সে হচ্ছে লোভী, ছোঁচা।

    ৩-যে অপরের খাদ্য না কিনে,না বলে খেয়ে ফেলে সে হচ্ছে চোর।

    ৪-আর যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় টাকা ও খাবার থাকা সত্ত্বেও খাবার কিনে না খেয়ে উপোস থাকে সে হচ্ছে নির্বোধ।

    এ কথা যদি বুঝে থাকেন তাহলে শুনুন,

    পেটের ক্ষুধার মত যৌন ক্ষুধাও একটি ক্ষুধা। পেটের ক্ষুধার মত এটাও স্বাভাবিক একটি শারীরিক চাহিদা। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যেমন আল্লাহ পাক খাদ্যের ব্যবস্থা রেখেছেন, তেমনি নারী ও পুরুষের যৌন ক্ষুধা মিটানোর জন্যও আল্লাহ ব্যবস্থা রেখেছেন। সব মানুষের খাবারের চাহিদা এক সমান হয় না। একজন চারফুট লম্বা মানুষের যতটুকু খাবারের চাহিদা , একজন ছয় ফুট লম্বা বিশালদেহী মানুষের চাহিদা নিশ্চয়ই বেশী হবে।ঠিক এরকম মানুষের যৌন চাহিদাও একেক জনের একেক রকম। এটা শারীরিক গঠন, বংশগতি, আবহাওয়া, দেশ ইত্যাদি অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।

    এখন কারো যদি শরীরের যৌন চাহিদা বেশী থাকে,তাহলে আপনি আমাকে বলেন এতে কি তার নিজের কোন হাত আছে?নেই, কোন হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ খোদা প্রদত্ত বা নাস্তিকদের ভাষায় প্রকৃতি প্রদত্ত।আর একটু আগে দেখিয়েছি এটা তার একটা বাড়তি গুণ।

    এবার আগের খাবারের উদাহরণের সাথে নীচের কথাগুলো মিলান

    ১-আপনার শরীরের যৌন চাহিদা কম বলে আপনার হয়তো এক স্ত্রীতেই কাজ চলে যায়, তাই বলে যার যৌন চাহিদা বেশী সে যদি দুই বা তিন বা চারটি বিবাহ করে তাহলে আপনি তাকে নারী লোভী বলতে পারেন না। যেমন নাকি আপনার দুই রুটিতে ক্ষুধা মিটে গেলেও যার চার রুটি খাওয়া প্রয়োজন তাকে খাদ্য লোভী বলতে পারেন না।

    ২-যে, এক স্ত্রী দ্বারাই তার শরীরের যৌন চাহিদা মিটে যাবার পরও আরো বিবাহ করে তাকে হয়তো কোন ক্ষেত্রে আপনি লোভী বলতে পারেন,কিন্তু এটা তো শুধু সেই জানতে পারে আসলে তার প্রয়োজন আছে নাকি নাই? এখানে আপনি আমি হাত দেয়ার কে? এর উপর আগের কথা তো খেয়াল রাখতে হবেই যে, যৌন চাহিদা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যেও সে বিবাহ করতে পারে, যেটা শুধু তাকে জিজ্ঞাসা করেই জানা সম্ভব।

    ৩-আর যে বিবাহ না করে যৌন চাহিদা মিটায় সে হচ্ছে লম্পট, ব্যাভিচারী বা ধর্ষক, যেমন নাকি যে অপরের খাবার খায় না কিনে সে হচ্ছে চোর বা অন্যকিছু। এখন ব্যপার হয়ে গেছে উল্টা। লম্পটরাই এখন যারা বৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মিটাচ্ছে তাদেরকে লম্পট, কামুক বলে নিন্দা করছে।

    ৪-আর যে তার শরীরে যৌন চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এবং বিয়ে করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজন পরিমাণ বিয়ে না করে একজন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তির মত চরম বোকা যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় টাকা থাকা সত্ত্বেও শুধু দুই রুটি খেয়ে বাকী ক্ষুধা পেটে নিয়ে বসে থাকে আর মানুষের খাবারের দিকে চেয়ে থাকে।

    ৫-আর যে সমাজ হুমায়ুনকে নিন্দা করলো তারা হচ্ছে চরম অর্বাচীন, পরোক্ষভাবে নারী নির্যাতনকারী, শিশু হত্যাকারী। এই নিন্দার ফলে কি হবে? অন্য নামকরা লেখকরা, সাধারণ মানুষরা, এমনকি এই নিন্দাকারীরা দ্বিতীয় বিয়ে করার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও লোকনিন্দার ভয়ে বিয়ে করবে না। কেউ হয়তো পেটে ক্ষুধা নিয়ে বসে থাকবে, মরণ পর্যন্ত কষ্ট করবে। কিন্তু অনেকেই যাদের চাহিদা বেশী সে কিন্তু ঠিকই গোপনে তার ক্ষুধা মিটিয়ে নিবে, নিচ্ছে।পুরুষ মানুষের যৌন চাহিদার এই বাস্তব বিষয়টি অযথা গোঁড়ামি করে মেনে না নেয়ার কারণে সমাজে কত অন্যায় হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। হচ্ছে পরকীয়া, হচ্ছে ব্যাভিচার, হচ্ছে ধর্ষণ।বাড়ছে পারিবারিক কোন্দল, ভাঙছে সংসার, হচ্ছে আত্মহত্যা। ছোটবেলা থেকে নিজের আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মাঝে দেখে আসছি এই পারিবারিক কোন্দল। গত এক বছরের পেপার ঘাটলে দেখা যাবে কত অজস্র প্রাণ ঝরে গেছে এই কোন্দলে। অথচ স্ত্রী ও সমাজ যদি স্বামীর ২য় বিবাহকে বা প্রয়োজনে আরো বেশী বিবাহকে মেনে নিত তাহলে এই ঝগড়া বিবাদ, কোন্দল কিছুই তেমন হত না। ২য় বিবাহকে মেনে না নিয়ে আমাদের কি লাভ হয়েছে? সেইতো পরকীয়া করতে গিয়ে ১ম স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য, ঝগড়া বিবাদ হচ্ছেই, সেইতো সংসার ভাঙছেই।সেইতো স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে খুন করছেই,সেইতো মা তার সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যা করছেই। হচ্ছে আরো শত নিদারুণ ঘটনা। এরচেয়ে ভালো কি এই নয় যে আমরা সংকীর্ণতা পরিহার করে পুরুষের যৌন চাহিদা পূরণের জন্য একাধিক বিবাহের এই বৈধ , শালীন ও নিয়ন্ত্রিত বাস্তব চাহিদাকে মেনে নেই? এই শালীন ও বৈধ জিনিস মেনে না নেয়ার কারণে কিন্তু আমাদেরকে মেনে নিতে হচ্ছে লাম্পট্য, বিচ্ছেদ, অশান্তি, আত্মহত্যা ইত্যাদি কত কি। যার ক্ষুধা বেশি লেগেছে তাকে যদি খাবার দেয়া না হয় তাহলে তো সে একসময় অসহ্য হয়ে চুরি ছিনতাই করবেই। একটা বুড়া মানুষ ধর্ষণ করেছে এই খবরে আমরা নিন্দার ঝড় বইয়ে দেই, কিন্তু চিন্তা করি না যে আমরাইতো তাকে এই কাজে বাধ্য করেছি।একদিকে লোকনিন্দার ভয়ে সে বিয়ে করতে পারেনি, যৌন চাহিদাকে দমিত করে রেখেছে অনেক দিন মূর্খ সমাজের নিন্দার ভয়ে, আরেকদিকে এই লম্পট সমাজ সুন্দরী ললনাদেরকে তার চোখের সামনে নাচিয়েছে,হাসিয়েছে; তো কত আর সহ্য করা যায়, অবশেষে ভেঙ্গে যায় ধৈর্যের বাধ কোন এক নির্জনতায়, কোন এক দুর্বল মুহূর্তে।

    আমি মনের ভাবটি হয়তো গুছিয়ে লিখতে পারলাম না। কিন্তু চিন্তাশীল পাঠক আশা করি বুঝে নিবেন।কমপক্ষে ১নং কমেন্ট ও তার জবাব পড়ুন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন