ইসলামী গুলবাগে ফুটেছে দূর্গন্ধময় tiffy ফুল

প্রকৃতিগতভাবে মানুষের ভেতর পরস্পর বিপরীত দ’ুটি স্রোত প্রবহমান। একটি স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিতে চায় অন্যায়ের দিকে আবার বিপরীত স্রোতটি তাকে সতর্ক করে, অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা চালায়। সত্যের স্রোতটা যখন অন্যায় সম্পর্কে বিভিন্ন যুক্তি দেখায় তখনই অসত্যের স্রোতটা মানুষকে আস্বস্ত করে যে তার কাজটি মোটেও অন্যায় হবে না। অন্যায় স্রোতের যুক্তি যখন ন্যায় স্রোতকে পরাস্ত করে তখনই মানুষ অন্যায়ে গা ভাসায়।

কিছু লোক ইসলামের নিয়মনীতি মানতে চায় না, বল্গাহীন জীবন যাপন করতে পছন্দ করে। সমাজের প্রতি কোন দায় নেই, সমাজই শুধু তার মনোরঞ্জন করবে এ ধরনের চিন্তা চেতনার মানুষেরা চায় সমাজের, ধর্মের সকল নিয়ম শৃংখল ছিন্ন করে আনন্দ লুটে-পুটে নিতে, হোক তা অন্যের ক্ষতির কারন, কোনই পরোয়া নেই তাতে। যেহেতু এ কাজ করতে তাদের বিবেক নামক সত্যের স্রোতটা বাধা দেয় তাই তারা বিবেককে বুঝাতে খোঁজে উল্টা পাল্টা যুক্তি। ইসলামের নিয়ম-কানুন তাদের কাছে একঘেয়ে মনে হয়, ইসলামী সমাজে থাকলে ইচ্ছেমতো আনন্দে ডুবে থাকা যায় না, যখন তখন যা ইচ্ছে করা যায় না, তাই তারা এ নিয়মকানুনের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে।

ইসলাম সম্পর্কে দূনিয়া জুড়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই, অপপ্রচারেরও কমতি নেই। অধিকাংশ অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে বিভিন্ন ভুল ধারণা পোষণ করেন, আর কিছু সংখ্যক মুসলিম ইসলামের নিয়ম-নীতি মানতে রাজি নয় বিধায় ইসলাম সম্পর্কে জেনে বুঝে বিভ্রান্তি ছড়ান। যারা না জেনে বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামের নাম শুনলে নাক সিটকায় তাদের নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। তাদের সামনে সত্য প্রকাশিত হলে তারা নিজেরাই তাদের ভুল বুঝবে এবং লজ্জিত হবে। কিন্তু যারা জেনে বুঝে মুসলমান নাম নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় তাদের জন্য আমার আপসোস হয়। এ ধরনের লোকদের জন্যই মনে হয় ঈশপ লেজকাটা শেয়ালের গল্পটি লিখেছিলেন।

যাদের ইসলাম ভালো লাগে না, তারা ইসলাম থেকে সরে দাড়ালেই হয়। সারা বিশ্বের কোথাও এখন ইসলামী আইন পরিপূর্ণভাবে কার্যকর নেই, বিশেষ করে মুরতাদের শাস্তির বিধান কোথাও কার্যকরী রূপে প্রতিষ্ঠিত নেই তাই ইসলাম থেকে বেড়িয়ে পড়তে তো তাদের কেউ বাঁধা দিচ্ছে না। কিন্তু সে সৎ সাহসও তাদের নেই। মূলত: তারা চায় ইসলামকে তাদের মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে। তাই ইসলামের যে সকল নিয়ম কানুন তাদের জন্য কষ্টকর, তাদের বাধাবন্দনহীন অনৈতিক কাজকর্মে বাধা হয়ে দাড়ায়, তাই তারা ইসলামের সার্বজনীন নিয়মকানুনকে তাদের মতো করে সাজাতে চায়। এতে একঢিলে দুই পাখিই মারা হয়, ইসলাম থেকেও তাদের বেড়িয়ে যেতে হলো না আবার উশৃংখল জীবন যাপনেও কোন অন্তরায় থাকছে না। অথচ ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে এ ব্যাপারে তা তারা জেনেও চোখ বুজে অস্বীকার করতে চায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন ঃ
“… তাহলে তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশ বিশেষে বিশ্বাস করো ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এমন করে তাদের ইহ জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কি পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর তোমরা যা করছো আল্লাহ সে বিষয়ে অজ্ঞাত নন।
এরাই তারা যারা আখেরাতের বদলে ইহ জীবন খরিদ করেছে। তাই তাদের উপর থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না, আর তাদের সাহায্যও দেয়া হবে না। (সূরা বাকারা ঃ আয়াত ৮৫-৮৬)

আশ্চর্য এই যে অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে ইসলামে প্রবেশ করে ইসলামী বিধানাবলীকে পরিপূর্ণভাবে পালন করছে। ইহুদী ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে এসে মরিয়ম জামিলা দ্ব্যর্থহীনভাবে উচ্চারন করেন, “ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মান্য করুন অথবা ত্যাগ করুন, ইসলামে সমঝোতার অবকাশ নেই”।

শুয়োর ভুল করে কোন সাজানো বাগানে প্রবেশ করলে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে, তার জন্য চাই পুঁতিগন্ধময় পরিবেশ। কিন্তু শুয়োর যদি বাগানকেই তার বাসস্থান বানাতে চায়, বাগানের ফুলেল পরিবেশের সুগন্ধ তাড়িয়ে নোংরা করতে চায়, দূর্গন্ধ ছড়াতে চায় তবে ঐ বাগানের বাসিন্দাদের দায়িত্ব হলো শুয়োরকে তাড়িয়ে দেয়া।

যারা ইসলামকে মানতে চায়না তাদের উচিত ইসলামী পরিবেশ থেকে সরে দাড়ানো। কারন মুসলমানদের অধিকাংশই ইসলামকে ভালোবাসে এবং একে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে মানে। তাই অধিকাংশের ক্ষতি করার এখতিয়ার গুটিকয়েক লোকের থাকতে পারে না। একটা পশু না বুঝে পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কষ্টের কারন হতে পারে কিন্তু যারা ইসলামকে মানতে চায় না তারাতো পশু নয়, মানুষ। পশুর মতো বিচারবুদ্ধিহীনতো তারা নয়, তাই তাদের উচিত মানবিক আচরণ করা। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভালোলাগা, ভালোবাসাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা না করে নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র পরিবেশ নির্ধারণ করা, নিজেদের পরিবেশ যে ভালো তা প্রমাণ করা।

ইসলামে থাকতে হলে ইসলামী নিয়ম-নীতি মেনেই থাকতে হবে, ইসলাম যার তার কথা মতো পরিবতর্তিত হবে না। যাদের ইসলামের ব্যাপারে শুঁচিবাই আছে, তাদের কোন অধিকার নেই ইসলাম নিয়ে কথা বলার। সাধু সেজে, ইসলামের শুভাকাঙ্খী সেজে ইসলামী আইন কানুন পরিবর্তন করে ইসলামকে আধুনিকায়নের নামে বিকৃত করার ধৃষ্টতা করা, ইসলামের পরিবেশ নোংরা করার অধিকার কারো নেই। ইসলাম নিয়ে তাদেরই ভাবতে দেয়া উচিত যারা ইসলামকে ভালোক্ষবাসে, ইসলামকে মানে, মানতে চায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়। যারা ইসলাম ভালোবাসে না, ইসলাম মানে না, পরকালে বিশ্বাস নেই, তাদের কি দায় পড়েছে ইসলামের প্রতি আস্থাশীল জনগোষ্ঠীকে তাদের তথাকথিত সঠিক পথে ফেরানোর। এজন্য কি তারা জান্নাত পাবে যা তারা বিশ্বাসই করে না? নিশ্চয়ই তাদের অসদ উদ্দেশ্য রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে মতাদখল অথবা বল্গাহীন জীবনযাপনে সকল বাধা দূর করা অথবা আদর্শগত দিক থেকে ইসলামকে যারা পরাজিত করতে পারছে না সেই সব ইসলামের শত্রুদের খুশি করে তাদের কাছ থেকে টুপাইস কামানোই কি উদ্দেশ্য?

ইসলাম সম্পর্কে যার এলার্জি আছে সে ইসলাম ছেড়ে যেথায় খুশি সেথায় যাক, কেউ তো বাধা দিচ্ছে না। ইসলামকে ঘৃনা করলে, ইসলামী বিধানাবলীকে অস্পৃশ্য মনে হলে মিছেমিছি কেন তবে ইসলাম নিয়ে অতিভক্তি দেখানো?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন