ঝড়ো হাওয়াকে এক গ্লাস শরবত

কলেজে উপল, কামরুল আর সুনীল স্যার অসম্ভব মেধাবী ও জনপ্রিয়। তবে তাদের জনপ্রিয়তার দারুন একটি কৌশল আমার নজরে এসেছে। উপল স্যার ক্লাসে কামরুল আর সুনীল স্যারের সুনাম করেন, ওদের মতো শিক্ষক পৃথিবীতে দ্বিতীয়ওটি নেই, এমন। আবার কামরুল স্যারের ক্লাসে চলে উপল আর সুনীল স্যারের প্রশংসা, সুনীল স্যারের ক্লাসে কামরুল আর উপল স্যারের।

সামহো্যার ইন ব্লাগে এমনই এক বন্ধু ঝড়ো হাওয়া। বন্ধুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে সবসময়। কিন্তু আমি তো আর উপল, সুনীল, কামরুল স্যারের মতো ভালো বন্ধু না, তাই ঝড়ো হাওয়ার সপ্তাহের সেরা ব্লগার হওয়ায় শুধু প্রশংসা করবো না, কিছু সমালোচনা করার জন্য আজকের এ লেখা।

প্রথমেই চিরতার শরবত দিয়ে আপ্যায়ন শুরু করছি। ঝড়ো হাওয়া ভালো লেখে সন্দেহ নেই। তবে লেখার প্রতি তার তেমন মনোযোগ নেই। অন্যের প্রশংসা, আর আড্ডবাজিই মনে হয় তার জীবনের একমাত্র ব্রত। ৪৮ লেখার ভেতর গোটা ছয় লেখা তিনি লিখেছেন অন্যের প্রশংসা করে, যার মাঝে একজন ব্লাগারের জন্যই তিনি রচনা করেছেন দুইটি মানপত্র।

তার আড্ডাবাজির প্রমাণ মেলে বেশ কয়েকটি পোস্টে। যেমন মতামত দিন নামে তিনি চারটি পোস্ট করেছেন যার বিষয়বস্তু সুন্দর হলেও আমি মনে করি এগুলো তিনি শ্রেফ সময় কাটানোর জন্য করেছেন। অবশ্য তার অনেক দিনের দাবী এ সাইটে চ্যাটিংয়ের সুবিধা দেয়ার, তাই এভাবেই তিনি দুধের সাধ কনডেনস মিল্কে মিটিয়েছেন।

তার আরেকটি দোষ হলো তিনি যেমন বড় লেখা পড়তে পছন্দ করেন না, ঠিক তেমনি নিজেও বড়ো করে লিখতে চান না। তার লেখা দারুন মানসম্পন্ন, তবে অধিকাংশ লেখাই শাহানার মতো ছোট। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি ঝড়ো হাওয়ার লেখায় শাহানার প্রভাব আছে। ঝড়ো হাওয়ার প্রথম লেখার একমাত্র মন্তব্যকারী ছিলেন শাহানা, তাই তিনি এই সুবিধাটা না চাইতেই পেয়েছেন। শাহানাকে নিয়ে এজন্য তিনি তার প্রথম মানপত্রটি রচনা করেন।

না, আর বোধহয় খেঁচানো ঠিক হবে না, বেচারা আবার মনের দুঃখে বনবাসী না হয়। এবার তার জন্য মানপত্র রচনা শুরু করছি।

ঝড়ো হাওয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য তিনি এ ব্লগ সাইটের মডারেশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। শুরু থেকেই তিনি চেয়েছেন এ সাইটটি যেন প্রতিনিয়ত শুদ্ধ হয়, বাঙ্লাপ্রেমীদের এ মিলনমেলা যেন পাখির কলকুজনে ভরে ওঠে। তাই তিনি এ ব্যাপারে রচনা করেছেন এগারোটিরও বেশি রচনা। তার এ রচনাগুলোতে তিনি বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন এ সাইটটি মডারেট করার জন্য। কর্তৃপও তার কথা অনেকাংশে মেনে নিয়েছেন, কোথাও কোথাও কতর্ৃপক্ষ তাকে ধন্যবাদও দিয়েছেন।

এ সাইটে কাদাছোড়াছুড়ি খালেদা-হাসিনাকেও হার মানিয়েছে। তিনি সর্বদা এ যুদ্ধ থেকে নিজেকে বাচিয়ে চলার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং কখনো কখনো এর বাইরে পাঠককে টেনে আনার চেষ্টা চালিয়েছেন। তার লেখা, ব্লগ লী ব্লগ দল !! ব্লগ শিবির !!! নিপাত যাক … …” এবং “আসেন ভাই শান্তি প্রতিষ্ঠা করি !!! এর উৎকৃষ্ট উদাহরন। লেখা বর্জন ও বর্জনকারীদের বর্জন এই দুই দলের মাঝামাঝি তিনি উন্নয়নের দল নামে আলাদা একটা গ্রুপ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

তিনি ভালো লেখেন, তবে নিজেকে সবার সামনে মেলে ধরতে তার খুব সংকোচ। অন্যের প্রশংসা করে এবং অন্যের লেখায় সুন্দর ও উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য করে অনেককেই তিনি আলোচনায় এনেছেন, সপ্তাহের সেরা ব্লগারের তালিকায় এনেছেন। আমার কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয় সপ্তাহের সেরা ব্লগার হওয়ার পেছনে তার খুব বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রথমে আমি লিখতে শুরু করেছিলাম খেলার ছলে। কিন্তু তার প্রশংসায় আমি মুহুর্তেই নিজেকে পাল্টে ফেলি। এরপর সতর্ক পদক্ষেপ। প্রতিটি লেখা শুরুর আগে ভেবে নিতে হয়েছে ঝড়ো হাওয়ার ভালো লাগবে কিনা লেখাটা। তাই বলা যায় লেখকের লেখাকে তিনি অবচেতন মনেই কিছুটা নিয়ন্ত্রন করেছেন।

তার আরেকটি বড়ো যোগ্যতা হলো তিনি স্বদেশ নিয়ে ভাবেন, স্বদেশের জন্য ইতিবাচক লেখেন। এখানে অনেকেই স্বদেশকে ভালোবেসে হাতখুলে লিখে যাচ্ছেন। তবে তাদের লেখা স্বদেশের পক্ষে কতটুকু আসছে আমি সে মন্তব্য করবো না, তবে তর্ক-বিতর্ক বেশ জমেছে। তার লেখা এদিক থেকে আলাদা, সংক্ষেপে তিনি ইতিবাচক মনোভাবকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন।

আশা করছি তিনি তার নামের প্রতি সুবিচার করবেন। এসসপ্তাহের সরো ব্লগার হয়েছেন, এটাই শেষ নয়, সামনে তার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। ঝড়ো হাওয়া নাম দিয়ে মৃদুমন্দ সমিরণের মতো আচরণ করলে তো হবে না, হাত খুলে লিখতে হবে। আমরা তার কাছ থেকে দু’এক লাইনের কৌতুক চাই না, লেখা চাই।

প্রশংসা করতে করতে মুখ ব্যাথা স্যরি আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেছে। আশায় আছি এ লেখা আমার জন্য হয়তো এক গ্লাস বেলের সরবত কিংবা চিরতার সরবত (সরবত হলেই হলো) বয়ে এনে এ প্রচন্ড গরমের দিনে আত্মাটা ঠান্ডা করবে। সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি ঝড়ো হাওয়ার মাথায় সরবত (চিরতার/বেলের) ঢালতে থাকুন।
ঝড়ো হাওয়া ও লুনা রূশদীর জন্য প্রাণ ঢালা অভিনন্দন।

Be Sociable, Share!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।