ভ্রুণহত্যা বন্ধ কর

প্রতিটি মানুষের মনের অন্ধকারে ঘাপটি মেরে থাকে এক একটা ভয়ংকর জানোয়ার। সর্বদা সে সুযোগের সন্ধানে থাকে দন্ত নখর বিছিয়ে, শিকার দেখে মুখের লালা ঝরায়। আর মোক্ষম সুযোগটা হাতে এসে গেলে জানোয়ারটা তার বিভৎস রূপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে শিকারের উপর, ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে চেটেপুটে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। তারপর আবার অন্ধকারে ঘাপটি মারা, নতুন কোন সুযোগের অপেক্ষা।

যে আমি জীবনে একটা মশাও মারিনি, বসের ঝাড়ি খেয়ে সদা থাকি তটস্থ, সেই মহা বীরপুরষ আমি যদি বাঘবন্দী কোন পকেটমার বা হাইজ্যাকার পেয়ে যাই, তবে বিরবিক্রমে ঝাপিয়ে পড়ি শিকারের ওপর। তার পর আবার শুনশান নিরবতা, পশুটা আবার ঘাপটি মারে অন্ধকারে, নতুন কোন শিকারের আশায়।

নতুন বউটা ঘরে এসেছে। আহা মরি! কি সুন্দর, আন্ধার ঘরের বাতির নাহান ঝকমক করে। আহারে! কতদিন যে চাতক পাখির মতো মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে থেকেছি। জরিনা, ছখিনা, হাসিনাদের দেখে ভেতরের পশুটা কতবার যে ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছে কিন্তু সাহসে কুলোয় নি। সখিনারা যখন পাশ দিয়ে হেটে যায়, তাদের গায়ের উৎকট পারফিউমের গন্ধে পাগল হয়ে যাই, দিকভ্রান্তের মতো লাইটপোস্টে ঠক্কর খাই। পারফিউমের গন্ধ নাকের মধ্যে জাপটে ধরে বাসায় ফিরে কত যে হাপিত্যেশ, নির্ঘুম রাত যাপন। সখিনাদের একটু কাছে পাওয়ার জন্য, পারভিউমের গন্ধে বিভোর হওয়ার জন্য অযথা কত যে ঘুরেছি নিউমার্কেট-গাউছিয়া, সখিনাদের পিছু পিছু দাড়িয়েছি ইস্টার্ন প্লাজার স্কেলেটরে। উপচে পড়া যাত্রীবোঝাই বাস দেখলেই অযথা রিতিমত যুদ্ধ করে ঢুকে পড়েছি লোকাল বাসে, যদি সখিনাদের নাগাল পাই। বাস থেকে নামার সময় গেটের পাশে মহিলা লেখা স্পেশাল সিটে লেপটে থাকা নারীর নরম বাহুতে আলতো করে আঙ্গুলটা ছুইয়ে দিয়ে কি যে উত্তেজনায় ঘেমেছি, বাস থেকে নামতে গিয়ে কতবার যে রিক্সার নিচে পড়তে পড়তে বেচেছি। রিক্সাওয়ালাদের গালিও তখন মধুর মনে হয়েছে। যখন সত্যিকারে এক সুন্দরী সখিনাকে বাসর রাতে বাগে পেয়ে গেলাম তখন আর ভয় কিসের, মূহুর্তেই মনের ভেতরে ঘাপটি মারা পশুটা দন্ত নখর নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে খুবলে খেতে, সখিনার অসুস্থতার ওজর-আপত্তি কোন কিছুই পরোয়া করিনা। অমন দূর্বল শিকার হাতের কাছে পেয়েও যদি বীরত্ব না দেখাতে পারি তবে কিসের পুরুষ।

বউটা প্রথমেই একটা মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছে। দেখেই মেজাজটা খিচে গেছে। হারামজাদীরে এতো মহব্বত করলাম, অসুখ বিশুখের ধার ধারি নাই, সবরাতেই সোহাগ করেছি আর কিনা তার এই প্রতিদান। ইচ্ছে হয় মুখে বিষ ঢেলে দেই। পারি না শুধু আইনের ভয়ে। আবার যখন বহু আশা নিয়ে, বংশের বাতি জালাতে একটা ছেলে চাইলাম হারামজাদী কেবল মেয়েই পয়দা করতে চায়।

হারামজাদীর পেটে শয়তানী বুদ্ধি ভরা। বলে, “দুই মাস হোক আর দশমাস হোক ভ্রুনটাতো মানুষের। আপনি কেমন বাপ, নিজের বাচ্চা মারতে চান?” যে বাচ্চা দূনিয়ায়ই আসলো না তারে আমি আমার সন্তান ভেবে আমার ভবিষ্যত নষ্ট করবো কেন? আমার হাতটা ওর পেটে চেপে ধরে বলে, “আপনি কি আপনার সন্তানের নড়নচড়ন টের পান না? আপনি না শিক্ষিত মানুষ, তয় এতো অবুঝ ক্যান আপনি। কান পাইতা শোনেন, মাইয়াডা আপনার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতাছে। সারারাত মাইয়াডার জন্য ঘুমাইতে পারি না, স্বপ্নে খালি আমারে কয়, মা, মাগো, আমারে বাচাও, আমি তোমারে দেখতে চাই, আমি বাপজানরে দেখতে চাই, আমি সুৃন্দর পৃথিবীডা দেখতে চাই।” হারামজাদী আমারে বেকুব পাইছে। আমিতো আর ঘাস খেয়ে বড়ো হইনি, সব বুঝি, হারামী আমাদের পচাইতে চায়।

ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। বড়ই দয়ার শরীর। আল্ট্রাসনোতে যখন ধরা পড়লো যে আরেকটা ছেমরি পয়দা হবে তারে হাতে পায়ে ধরলাম। বেশি টাকা দেয়া লাগেনি, অল্পতেই গর্ভ খালাশ করে আমার ইজ্জত বাচিয়েছে। আহারে কি দয়ার শরীর, সব মানুষ যদি ডাক্তারদের মতো অমন দয়ার শরীর নিয়া জন্মাইতো তবে মাইয়া মানুষের জ্বালায় দূনিয়াটা শেষ হতো না। ইন্ডিয়া কি আচানক একখান দেশ। ওইখানে গর্ভপাত কত্ত সহজ। হাজার খানেক টাকা হলেই হয়। মানুষ গুলোও মন্দ না। পাঞ্জাবের লোকগুলা আরো বেশি ভালো। কইলজায় জোর আছে, রুস্তমের মতো বুকের পাটা। মাইয়া মানসের যন্ত্রনা অর্ধেকে কমাইয়া আনছে। এখন ওখানে পুরুষ মানুষের অর্ধেকেরও কম মহিলা। ওইখানে হাজারবার গর্ভপাত করলেও ডাক্তাররা না বলে না। কিন্তু এই বার দয়ার শরীরের ডাক্তার সাবও গাইগুই করতেছে। ক্যান যে আল্লাহ বাংলাদেশে পাঠাইছে, পাঞ্জাবে যে ক্যান জন্মাইলাম না। আপসোস।

তিন তিনবার বউডার গর্ভপাত করিয়েছি, ডাক্তার সাব আর করতে রাজি না। বলছে ছেলে হোক মেয়ে হোক এবার আর ও কাজ করবেন না। আপনার স্ত্রী তবে আর কোনদিন মা হতে পারবেন না। শালায় কি আমার বউর দিকে নজর দিছে, এত দরদ ক্যান। আমার এক কথা, বংশের বাতি চাই। এইবারও যদি হারামজাদীর শিক্ষা না হয় তবে ওর পেডের মাইয়া শুদ্ধা ওরে দরিয়ার মাঝে ফালামু, আল্লাহ যেন এইটুকু সাহস অন্তত কলিজায় দেয়।

(গর্ভপাতকে না বলুন, গর্ভপাতের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলুন)

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ভ্রুণহত্যা বন্ধ কর” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. Ruma বলেছেন:

    অনুগ্রহ ক

    [উত্তর দিন]

  2. Roksana বলেছেন:

    অনুগ্রহ করে অমার্জিত ভাসা পরিহার করবেন। মুমিন ব্যক্তির অশ্লীল শব্দ হতে বেঁচে থাকা উচিত।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন