ইভ টিজিং, পরকীয়া : ধর্মনিরপেক্ষ বিষবৃক্ষের ফল

নারীর কোন অঙ্গ সবচেয়ে আকর্ষণীয়? শিরোনামে কিছুদিন আগে ইভ-টিজিং প্রতিরোধে একটি  ব্লগ লিখেছিলাম। সম্ভবত আমি এটি বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, মুক্ত-স্বাধীন ষাড়ের জন্য শুধু খোয়াড়ে আটকানোর বিধান করলেই হবে না বরং ষাড়গুলো যে লালরঙা রুমাল দেখে ক্ষেপে যায় তা প্রদর্শনও বন্ধ করতে হবে। “লাল রঙ্গের রুমাল গলায় বাঁধা আমার অধিকার” এ গোঁ ধরে আমরা যদি ষাড় গরুর গুতো খাই তাতে হয়তো ষাড় গরুটাকে খোয়াড়ে আটকানো যেতে পারে, পেটানো যেতে পারে, কষাইয়ের চাপাতির তলে টুকরো টুকরো করা যেতে পারে, তবে ষাড়ের গুতোয় যে ভবলীলা সাঙ্গ হলো তা কিন্তু আর পুনরুদ্ধার হওয়ার নয়। তাই ষাড় গরুর গুতো থেকে বাঁচতে শুধু ষাড় দমন আইন করলেই হবে না বরং ষাড় ক্ষেপে যায় এমন সব আচরণ থেকেও আমাদের বিরত থাকা প্রয়োজন। এ কথাগুলোই খোলামেলা আলোচনা করেছিলাম, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। এছাড়া বিষয়টিকে বখাটেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি যাতে সবাই বখাটেদের থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে পারে।

আমার সুইডেন প্রবাসী বন্ধু প্রায় ঘন্টাখানেক ফোনে বিভিন্ন দু:খকষ্টের কথা জানালেন। পাশাপাশি দেশের রাজনীতি, সামাজিক অবক্ষয় প্রভৃতি বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। আলোচনার এক পর্যায়ে তার প্রশ্ন, “আওয়ামী লীগ, সরকার গঠন করলেই দেশে ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, গণধর্ষণ এগুলো বেড়ে যায়, এর কারণ কি?”  হ্যা, এ কথা সত্য যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের সামাজিক অবক্ষয় মহামারী আকার ধারণ করে, বিশেষ করে নারী নির্যাতন সকল মাত্রা অতিক্রম করে। কিন্তু সহজ ভাবে চিন্তা করলে তেমন কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেকেই বলে, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ, তাহলে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর শাসনামলে এর প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও আওয়ামী লীগের আমলে হঠাৎ করেই বা কেন বৃদ্ধি পায় তা চিন্তার বিষয়। আসলে দুটো দল মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ মনে করা হলেও কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়, দু’দলের মাঝেই সুক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, আর বিএনপি যদিও অনেকটা ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতেই চলে তবে ইসলামী দলগুলোর সাথে সম্পর্ক থাকায় ইসলামী অনুশাসনকে তারা কিছুটা মূল্যায়ণ করে। তাইতো চারদলীয় জোটকে বলা হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জোট, অপর দিকে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী জোট।

অক্সফোর্ড ডিকশনারীর সংজ্ঞা মতে secular শব্দের অর্থ 1) not religious, sacred, or spiritual. 2) (of clergy) not subject to or bound by religious rule. বিশেষ্য হিসেবে এ শব্দটি Secularism রূপ ধারন করে। ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বোঝানো হয় কিছু নির্দিষ্ট প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করা, যদিও বাস্তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মহীনতাকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে উপমহাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ মূলত ইসলাম ধর্মের দোষত্রুটি খুঁজে খুঁজে বের করে মানুষকে ইসলাম বিমুখ করার প্রচেষ্টাকেই বুঝায়। এ মতবাদ অনুযায়ী, “সরকার কোনরূপ ধর্মীয় হস্তক্ষেপ করবে না, কোন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী হবে না এবং কোন ধর্মে কোন প্রকার অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে না” বলা হলেও সব সময়ই দেখা গেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ মতবাদকে প্রচলন করার পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে মানুষকে ইসলামী অনুশাসন পালনে অনুৎসাহিত করা হয়, কখনো কখনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, ইসলামী অনুশাসন যারা মানতে চায় তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে কোনঠাসা করে রাখা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও চাকুরী ক্ষেত্রে আইনী বাধার সৃষ্টি করা হয় এবং বিশেষ একটি ধর্মের অনুসারীদের আচার অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রীভাবে ও সামাজিকভাবে পূনর্বাসন করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো হয়। এরই অংশ হিসেবে আমরা দেখতে পাই পৌত্তলিক ধর্মের আচার অনুষ্ঠানকে সার্বজনীন উৎসবের নামে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচলন করা হয়। মূলত ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অর্থ যাই থাক না কেন বাস্তবতা এই যে ধর্মহীনতা, নাস্তিকতা এবং সর্বোপরি ইসলাম বিরোধীতাই মূলত ধর্মনিরপেক্ষতার মূলমন্ত্র। তাই চিনির লেবেলযুক্ত প্যাকেট থেকে চিনি মুখে দিয়ে যদি লবনের স্বাদ পাই তবুও চটকদার লেবেলে বিভ্রান্ত হয়ে নুন দিয়ে পিঠে-পায়েশ বানানোর চেষ্টা চালালে তা চূড়ান্ত পাগলামীরই বহি:প্রকাশ হবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বামপন্থীদের প্রভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মহীনতার বীজ বপন করা হয়েছে। সময়ে সময়ে নানান শ্রুতিমধুর শব্দে নৈতিকতাবিরোধী মতবাদগুলোর ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আগে আরো একটি বিষয় বলে নেয়া ভালো যে, ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী বামপন্থীরা কিন্তু অনেক আগেই তাদের আদর্শ থেকে সরে এসেছে, বিশেষ করে সোভিয়েত রাশিয়ার পতন এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের ছত্রছায়ায় পুঁজিবাদের জয়জয়কারে বামপন্থীরাও তাদের আদর্শকে বলি দিয়ে কোন না কোন পুঁজিবাদী দলের সাথে মিশে গেছেন। যারা এ দূনিয়ার জীবনটাকেই একমাত্র জীবন মনে করেন এবং মুসলমানদের মতো পাপ-পূণ্যের পরকালীন জবাবদিহিতার চিন্তা থেকে যারা মুক্ত তারা পৃথিবীতেই সর্বসুখ লুটেপুটে যদি নাই খায় তবে মিছেমিছি নাস্তিক্যবাদের পিছে ঘুরে কিই বা লাভ, এটুকু বোধোদয় হতে তাদের দেরী হয় নি, তাই ধীরে ধীরে বুর্জোয়ার সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে, সর্বহারাদের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে। যখনই কোন বামপন্থী নেতা লাখপতি হয়েছেন, তখন সর্বহারার সীমা লাখে গিয়ে ঠেকেছে, কোটি পতি হলে কোটি টাকার চেয়ে বেশী সম্পদশালীদের গায়ে বুর্জোয়া তকমা জুড়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে নেতাদের আয়ের সাথে সাথে সর্বহারা সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হয়েছে। হয়তো দেখবো কোন সর্বহারা নেতা বিলগেটসের মতো ধণকুবের হয়েও সর্বহারা থেকে যাবেন। অপর দিকে বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে যেমন খৃষ্টীয়বাদের পতন ঘটেছে ঠিক তার উল্টো ফল দেখা দিয়েছে ইসলামের ক্ষেত্রে। বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিস্কার ইসলামকেই বরং সত্য বলে প্রমাণ করছে বিধায় নাস্তিক্যবাদের যে ব্যাপক চর্চা বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল তা মুখ থুবড়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই নাস্তিক্যবাদ প্রসারে ব্যর্থ হয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে ধর্মহীনতাকেই ব্যাপকভাবে সমাজে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ শুরুতেই তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে, ফলে ব্রাহ্মণ্যবাদের তীর্থস্থান ভারতের আশীর্বাদ এবং এ দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বী ও নাস্তিকদের ব্যাপক সমর্থন লাভে সক্ষম হয় দলটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলও একেবারে নাস্তিব্যবাদীদের প্ররোচনা থেকে মুক্ত নয়, সুচতুর বামপন্থী চিন্তাচেতনার নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা ঠিকই স্থান করে নিয়েছে দলটিতে।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মূলত পুঁজিবাদেরই বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান। ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এর পাশাপাশি নারীমুক্তি আন্দোলন, নারী-স্বাধীনতা প্রভৃতি প্রগতিশীল শব্দ মূলত পুঁজিবাদের প্রসারেরই বিজ্ঞাপনমাত্র। তাই ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ প্রসাবের শুধু নাস্তিব্যবাদী ও ব্রাহ্মণ্যবাদীরাই সক্রিয় তা নয় বরং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পালে জোরালো হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে পাশ্চাত্যের পূঁজিপতি ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলো। অনেকেই হয়তো ইসলামী বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ করতে পারেন, তবে একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে ইসলামী অনুষ্ঠানের নামে মূলত ইসলামের বিকৃত চেহারাকেই তুলে ধরা হয়। মূলত এসব অনুষ্ঠানাদি ধর্মব্যবসায়ী কিছু অসাধু মুসলমানকেই প্রশ্রয় দেয় যারা মূলত ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদেরই ভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হয়। কিছুদিন আগে বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেননের প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়ানবাগীর আশেকে রাসূল (সা:) অনুষ্ঠানে উপস্থিতি তারই স্বাক্ষ্য বহণ করে।

ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের ব্যাপক প্রসারের ফলে সমাজে সবচেয়ে যে বিকৃতিগুলো মহামারী আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে ইভ টিজিং, নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ এবং পরকীয়া অন্যতম। ইভটিজিং যে কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২৫ মে ২০১০ ঢাকা প্রেসক্লাবে Bangladesh National Women Lawyers Association আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষক নাজমুন নাহার Eve-teasing: The Social Menace- Let not the offenders go unpunished শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।  গবেষণায় উল্লেখ করা হয় যে নারীদের ৯১% ইভটিজিং এর শিকার। আরো আশংকার কথা এই যে ১০-১৮ বছর বয়েসী মেয়েদের মাঝে ৮৭% ই ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। অপরদিকে একশন এইডের গবেষণায় দেখা যায় ছাত্রীদের ৪১ ভাগ স্কুলকে নিরাপদ স্থান বিবেচনা করে না, এমনকি ১৬.৭% ছাত্রী শিক্ষক দ্বারা উত্যক্ত হওয়ার অভিযোগ করেন।

ধর্মনিরপেক্ষ বিষবৃক্ষের আরেকটি বিষফল হলো পরকীয়া। এইতো মাত্র দুটো দিন আগে মায়ের পরকীয়ার বলি হল ৬ বছরের শিশু শামিউল। ১৯ ও ২০ জুন আরিফের সঙ্গে আয়েশা হুমায়রার অনৈতিক কাজ সামিউল দেখে ফেলে তার বাবাকে এসব কথা বলে দেবে বলে জানালে অবুঝ শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার নিজেরই মা ও মায়ের অনৈতিক কাজের সঙ্গী আরিফ।  পরকীয়ার ভয়াবহরূপ নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৬ সংখ্যায় আইসিডিডিআরবি পরিচালিত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য ও জনমিতি সংক্রান্ত সার্ভিলেন্সের ডাটাবেজে সংরক্ষিত ১১ হাজার বিবাহিত মহিলার মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১ হাজার ১শ’ ৭৫ জন বিবাহিত মহিলা এবং ৭০৩ জন বিবাহিত পুরুষের ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়। দেশের খুলনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আনুপাতিক হারে প্রতিটি গ্রুপের নমুনা সংগ্রহ করে তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। এতে উত্তরদাতাদের হার ৬০-৯০ শতাংশ। সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাইরে অবস্থানকারী পুরুষের প্রায় অর্ধেক যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌন মিলন করেছেন। বিদেশ ফেরত পুরুষের দুই তৃতীয়াংশ বিয়ের পর অন্য কারো সঙ্গে যৌন মিলনের কথা জানিয়েছেন। এ হার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসকারী পুরুষের চেয়ে বেশি। যেসব মহিলার স্বামী বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে বিয়ে বহির্ভূত যৌন মিলন স্বামীর সঙ্গে অবস্থানকারীর চেয়ে ৪ গুণ বেশি। মাল্টিপল লজিস্টিক রিগ্রেশন এনালাইসিস থেকে জানা যায়, ৬ মাস দেশে এবং ৪ বছর বিদেশে স্ত্রী থেকে আলাদা বসবাসকারী পুরুষের বিয়ে বহির্ভূত যৌনমিলন একত্রে বসবাসকারী পুরুষের চেয়ে ৮ গুণ বেশি। মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬ মাস দেশের কোথাও স্বামীর অবস্থানের সময় এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ৩-৫ মাস আলাদা অবস্থানকালীন এ হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ৪৮ মাসের বেশি স্বামীর দেশের বাইরে অবস্থানকালীন ৬ দশমিক ১ শতাংশ মহিলা বিয়ে বহির্ভূত যৌন কাজ করেছেন। ২৫- ৪৮ মাসের সময়কালে এ হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। বিয়ে বহির্ভূত যৌন মিলনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলাদা বসবাসের সঙ্গে এ বিয়ে বহির্ভূত যৌন মিলনের একটি সম্পর্ক রয়েছে। সময় দীর্ঘ হলে এর হারও বেড়ে গেছে। স্ত্রীর সঙ্গে অবস্থানকারী ২ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ বিয়ের পরে অন্য পুরুষের পায়ুপথে যৌন কাজ করেছেন। আলাদা অবস্থানকারীদের এ হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এসব ক্ষেত্রে নৈতিক মূল্যবোধকে আমলেই নেয়া হয় নি বরং শারীরিক চাহিদাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, পরকীয়া এসব সামাজিক ব্যাধি প্রচলিত পাশ্চাত্য ঔষধে নিরাময়যোগ্য নয়, বরং এ ব্যধি রোধে বিষবৃক্ষের মূলোচ্ছেদ করা জরুরী। আর ইসলামী অনুশাসন এক্ষেত্রে সর্বোত্তম বিবেচিত। ইসলামী অনুশাসন সমাজে এখনো প্রচলিত আছে বলেই আমরা শুকরের মাংশ মুখে তুলি না, খাবারের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম বেছে চলি, তবে যারা ইসলামী অনুশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদের অনেকেই হারাম বস্তুকে হালাল করে নিয়েছেন, তাদের কাছে খাদ্য খাদ্যই, শুকর আর ছাগল উভয়েই মাংশের যোগান দেয়, তাই এদের মাঝে ভেদাভেদ করার যৌক্তিকতা নেই, তবে যদি এলার্জির বিষয় থাকে তো আলাদা। ঠিক তেমনি আমরা সমাজে বিয়ে তথা যৌনাচারের ক্ষেত্রে কিছু অনুশাসন মেনে চলি। ইসলাম মা, খালা, বোনসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে কোন সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই, বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অধিকাংশ যদি ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ নারীদের বিয়ে করা  বৈধ বলে ভোট দেয় তো তাও চালু হয়ে যাবে। ইসলাম যেখানে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, ধর্মীয় অনুশাসন, হালাল-হারাম কে যদি তোয়াক্কাই না করি তবে কারো সাথে যৌনাচারই অবৈধ হওয়ার কথা নয়, যেহেতু বিষয়টি শুধুই শারীরবৃত্তীয়, তাই কার সাথে তা সম্পাদিত হচ্ছে, তা মূখ্য নয়, ধর্মহীন মতবাদে উভয়ের সম্মতিই চুড়ান্ত বিবেচ্য বিষয়। A profile of Canada’s shelters for abused women শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে ১৮ বছরের নীচের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার সন্তানদের প্রতি ১০ জনের ৩ জন নিজ পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতিত হয় যাদের আবার ১০ জনের ৬ জনই বাবার হাতে নিগৃহীত। এ হলো আধুনিক সমাজের প্রতিচ্ছবি। এক্ষেত্রে মিশরীয় সভ্যতাও একটি উদাহরণ হতে পারে। মিশরীয় রাজকুমারীরা তাদের ভাইদেরকেই বিয়ে করতো। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী বলে খ্যাত ক্লিওপেট্রা তার ভাইদের বিয়ে করেন পরে ভাইকে হত্যা করে অন্য প্রেমিককে বিয়ে করেন। যেহেতু রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব রাজকন্যাদের পাপ্য নয় তাই ভাইকে বিয়ে করে ক্ষমতার ভাগীদার হন তিনি, পরে ভাইকে হত্যা করে নিরংকুশ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সমাজে নৈতিকতা মূখ্য কোন বিষয় ছিল না বরং ক্ষমতা ও অবাধ যৌনাচারই ছিল মূখ্য বিষয়। আমরা যদি ধর্মীয় অনুশাসনকে ছুড়ে ফেলে দেই তবে মিশরীয় সভ্যতায় ফিরে যাওয়া অসম্ভব নয়, কারণ ওটাকে আমরা সভ্যতা বলেই স্বীকৃতি দিচ্ছি, আর মুসলিম শাসনকে বলছি মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নামের বিষবক্ষটিকে এখনই সমূলে উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নামে ধর্মহীনতা ও নৈতিকতা বিরোধী মতবাদ চাপিয়ে দিতে চায় সাধারণ মানুষের ঘাড়ে তাদের শেকড় কেটে দেয়ার সময় এসেছে। ইসলাম বিরোধী শক্তি এতটাই বেপরোয়া যে আবার ৭২এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে ইসলাম বিরোধী ধর্মনিরেপক্ষ মতবাদকে সমাজের বুকে চাপিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে, সবাইকে অনৈতিকতা আর অপসংস্কৃতির অন্ধকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইভ টিজিং, পরকীয়া : ধর্মনিরপেক্ষ বিষবৃক্ষের ফল” লেখাটিতে 22 টি মন্তব্য

  1. Shahanur Rahman বলেছেন:

    প্রসংশা করার ভাষা নাই। আপনার লেখা পড়তে পড়তে খাবারের সময় হয়ে যায় বুজতে পারিনা। আমার প্রিয় ওয়েব সাইটের মধ্যে আপনার সাইটটা অন্যতম।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ ভাই। দোয়া করবেন যেন আপনাদের ভালোবাসার মূল্য দিতে সব সময় সত্যের পথে লিখে যেতে পারি।

    [উত্তর দিন]

  2. AD.sattar bhuayan বলেছেন:

    Shahanur Rahman সাথে সহমত, আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেনো আপনাকে সহি সালামতে রাখেন . আমীন .

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ সাত্তার ভাই। আল্লাহ আপনাদেরও তার রহমতের ছায়ায় রাখুন। আমীন।

    [উত্তর দিন]

  3. মোস্তাফিজ চার্চিল বলেছেন:

    গতকাল টিভি মিস্টি শো তে (টক) এক উর্ধ্বতন কর্তা বললেন আইন দিয়ে সবকিছু পারা যাবে না । সুতরাং বুঝতেই পারছেন ছারখারের (সরকারের) কাছে তারা কত অসহায়!!! তাইতো দেশের এ অবস্থ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আইন দিয়ে সবকিছু পারা যাবে না এটা বোঝে অথচ যে ইসলামী অনুশাসন দিয়ে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তাও মানতে চায় না। আসলে সরকার ইভটিজিং-এর মতো ক্যান্সারে সমাজটাকে ধ্বংস করে দিতেই চায়।

    [উত্তর দিন]

  4. লালসালু বলেছেন:

    আপনার বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    [উত্তর দিন]

  5. বাংলার নবাব বলেছেন:

    লেখাটি ভালো লাগলো।

    [উত্তর দিন]

  6. বাংলার নবাব বলেছেন:

    সম্পূর্ণ একমত।

    [উত্তর দিন]

  7. কাঙ্গাল বলেছেন:

    ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের পরিচয়
    ইংরেজী সেক্যুলার এবং সেক্যুলারিজম এর বাংলা করা হয়েছে যথাক্রমে ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। Random House Dictionary of the English Language (College Edition, N. y. 1968)-এ সেক্যুলার শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে হুবহু এভাবে: ১. 1. Of or pertaining to worldly things, not regarded as religious, spiritual sacred or temporal.
    2. Not pertaining to or connected with religion (opposed to sacred).
    3. Concerned with non-religious subjects.
    4. Not belonging to a religious order.
    আর Secularism শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে ঠিক এভাবে:
    1. Secular spirit or tendency, especially a system of political or social philosophy that rejects all forms of religious faith.
    2. The view that public education and other matters of civil policy should be conducted without the introduction of a religious element.
    Encyclopedia Britannica I Oxford Dictionary-র সংজ্ঞাও অনুরূপ।

    আরবীতে ঝবপঁষধৎরংস এর প্রতি শব্দ হচ্ছে العلمانية । এর বুৎপত্তি عالم শব্দথে যার অর্থ হচ্ছে বিশ্বজগৎ। অতএব Secularism এর প্রকৃত অর্থ হবে ইহজাগতিকতা। অর্থাৎ যে মতবাদ শুধুমাত্র ঐ সব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়যা ইহ জগতের সাথে সম্পৃক্ত বা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত। ইন্দ্রিয় গ্রায্য নয় এমন কোন বিষয়ের কোন গুরুত্ব নেই Secularism এ। উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে এটা সুস্পষ্ট হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি হচ্ছেন, সেই ব্যক্তি যিনি কোন ধর্মেরই অন্তর্গত নন এবং যিনি ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা ও পবিত্রতার বিরোধী। আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হচ্ছে সেই রাজনৈতিক বা সামাজিক দর্শন, যা সকল ধর্মবিশ্বাসকেই প্রত্যাখ্যান করে। দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি যেমন কোন দলের অন্তর্ভুক্ত নন, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিও তেমনি কোন ধর্মে অন্তর্ভুক্ত নন। ইংরেজী সেক্যুলারিজমকে বাংলা ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষমতবাদ বলে আখ্যা দেয়া হয়। মূলত সেক্যুলার শব্দ থেকে সেক্যুলারিজম শব্দটি উদ্ভূত; যার দ্বারা ধর্মহীনতা বুঝায়। প্রশ্ন হতে পারে যে, আমাদের দেশে এই মতের দাবীদার অনেককে ধর্মীয় কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা যায় তার ব্যাখ্যা কি? এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, এরা ব্যক্তিগতভাবে ধর্মভীরু কিন্তু রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ। অনেকটা সেই ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তিগতভাবে সৎ কিন্তু রাজনীতিক্ষেত্রে ভয়ানক অসৎ। যেমন অনেকে দান করে, কিন্তু সে মাল চুরিকৃত। কেউ আছেন খুব দানশীল, কিন্তু অফিসে তার ঘুষের বদনাম আছে। আবার কেউ আছে নামাযে ফাঁকি দেয় না, কিন্তু অফিসে ফাঁকি দেয়। এসবই দুঃখজনক স্ববিরোধিতা নয় কি? ধর্মনিরপেক্ষমতবাদ আধুনিক বিশ্বে খুবই আলোচিত ও বিভ্রান্তিকর একটি শব্দ। এটি একটি প্রতারণাকারী শব্দও বটে। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এর চাতুর্যপূর্ণ প্রয়োগ অর্থ ও ভাবের এমন স্ব-বিরোধী রূপ প্রকাশ করে যে, এর ফলে পাঠক ও শ্রোতার চিন্তার জগতে গোলক ধাঁধার সৃষ্টি হয়। সভ্যতার সৌধ নির্মাণে এই শব্দ কোন ইতিবাচক অবদান রাখতে না পারলেও জগত সংসারে বিপর্যয় সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত বিধ্বংসী ও বিভীষিকাময় ভূমিকা পালন করে চলছে। মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদগণও একে ধর্মহীন মতবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সৌদী আরবের বিখ্যাত পণ্ডিত ড. সফর আল-হাওয়ালী তাঁর ‘আল-আলমানিয়াহ’ গ্রন্থে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনায় স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন যে, এটি ইসলামের কালিমার সাথে সাংঘর্ষিক একটি জাহিলী ও তাগূতী মতবাদ।
    উৎপত্তিগত অর্থ, পাশ্চাত্য এবং মুসলিম পণ্ডিতগণের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ধর্মনিরপেক্ষমতবাদ হলো নিছক একটি ধর্মহীন মতবাদ। ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) মানব রচিত একটি জীবন দর্শন বা বিধান। এ জীবন দর্শনে বিশ্ব স্রষ্টার বিধান ও আদেশ-নিষেধ প্রত্যাখান করে মানব রচিত জীবনাচার পালন করাই এর উদ্দেশ্য। তবে ব্যক্তি জীবনে কেউ যদি আস্তিক বা আল্লাহতে বিশ্বাসী হয় তাহলে সে তার ব্যক্তি জীবনে ধর্মের কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে। কিন্তু সমাজ, রাষ্ট্র তৎসম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে স্রষ্টার আইন বা ধর্মের কোন সম্পর্ক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সমাজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি যাবতীয় ব্যবস্থাপনা আল্লাহ ও ধর্মের কর্তৃত্ব মুক্ত বা স্বাধীন রাখার নামই ধর্মনিরপেক্ষতা। অর্থাৎ ব্যক্তিজীবনে কেউ ধর্মে বিশ্বাস করল কিনা তা এখানে মোটেই প্রাসঙ্গিক নয়। মূলনীতি মানলে মানতেও পারে কিংবা না মানলেও রাষ্ট্রের কিছু করার নেই। তাদের মতে আল্লাহ এ বিশ্বটা শুধু সৃষ্টি করেছেন, বড়জোর তিনি এ জগতের নিয়ম-কানুন রচয়িতা, কিন্তু মানব জীবনে উন্নতি, শান্তি ও প্রগতির জন্য আল্লাহ বা রাসূলের কোন প্রয়োজন নেই। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা গোটা সমাজ জীবনকেই আল্লাহ এবং ধর্মের অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখাকে আদর্শ বলে মনে করে। তাদের মতে ‘ধর্ম’ নিতান্তই একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার। দু‘ বা ততোধিক মানুষের সকল প্রকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণে ধর্মকে অনধিকার প্রবেশ করতে দেয়া চলে না। কেননা সমাজ জীবনে ধর্মের প্রভাব সম্পূর্ণ প্রগতি বিরোধী এবং প্রতিক্রিয়াশীলতার পরিচায়ক। আর রাষ্ট্রের মূলনীতির ক্ষেত্রে স্রষ্টার নির্দেশ থাকলেও অবস্থা ও পরিবেশ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তা মানা সম্ভব নয়। ধর্মনিরপেক্ষমতবাদের এ ধারণার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এখানে প্রশ্ন হলো, কোন দলিলের ভিত্তিতে তারা আল্লাহর ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত এলাকায় সীমাবদ্ধ করেন ? আল্লাহ কি কোথাও এ বিষয় কোন ইঙ্গিত দিয়েছেন? কোন নবীর কাছে এ বিষয় কোন ওহী নাযিল হয়েছে কি ? বরং আল্লাহ ঘোষণা করেছেন;

    “তবে কি তারা আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছুর সন্ধান করে? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু স্বেচ্ছায় বিংবা অনন্যোপায় হয়ে তাঁর হুকুমের আনুগত্য করেছে এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন অবধারিত। । (ইমরান-৮৩)।
    অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব-জাহান ও বিশ্ব-জাহানের মধ্যে যা কিছু আছে সবার দ্বীন ও জীবন বিধানই হচ্ছে ইসলাম। এখন এ বিশ্ব-জাহানের মধ্যে অবস্থান করে তোমরা ইসলাম ছাড়া আর কোন্ জীবন বিধানের অনুসন্ধান করছো? এর পরেও যদি কেউ অন্য কিছু গ্রহণ করে তাহলে সে পথ ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহ পাক বলছেনঃ
    “অতএব সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কি রইলো? অতএব (সত্যকে ছেড়ে) কোথায় তোমদেরকে ধাবিত করা হচ্ছে? (ইউনুছ-৩২)।

    এ আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, এমন কিছু বিভ্রান্তসৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা দল আছে যারা লোকদেরকে সঠিক ইসলামের পথ থেকে টেনে নিয়ে ভুল পথের দিকে ফিরিয়ে দেয়। আল্লাহ যদি নিজে তাঁর আনুগত্যের দাবীকে মানুষের ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ করে না থাকেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নির্দেশেই যদি আল্লাহর হুকুমকে মানুষের পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে উচ্ছেদ করা হয় তাহলে এটা কি কুফরী নয়? কোন মুসলমানের পক্ষে এ ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করা কি বৈধ হতে পারে? কুরআনের ঘোষণা ঃ
    “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিষয় নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে (ভিন্ন) কোন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।” (আহযাব-৩৬)।
    “আর যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অমান্য করে এবং তাঁর নির্দিষ্ট সীমাসমূহ অতিক্রম করে, তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন, তন্মধ্যে সে সদা অবস্থ্ান করবে এবং তার জন্যে লাঞ্ছণাপ্রদ শাস্তি রয়েছে।” (আন-নিসা-১৪)।
    এ থেকে সহজেই বুঝা যায় যে, ধর্মনিরপেক্ষমতবাদ মুসলমানদের জন্যে ঈমান-আকীদাহ্ ধ্বংসকারী এক আত্মঘাতী ভ্রান্ত মতবাদ ছাড়া আর কিছু নয়।

    ধর্মনিরপেক্ষতার ইতিহাস
    ধর্মনিরপেক্ষতা মূলত আধুনিকবিশ্বে মানুষের চিন্তাপ্রসুত একটি মতবাদ। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপে এ মতবারে জন্ম হয়। আর অষ্ঠাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইউরোপীয়রা যখন জ্ঞান চর্চায় বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছিল ঠিক তখন তারা ধর্মীয় চেতনা থেকে ক্রমেই দূরে সরে গিয়ে জন্ম দেয় ধর্মবিবর্জিত প্রগতিশীল চিন্তাধারার। ইউরোপে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান বেশ বিকশিত হয় তখন খ্রিষ্টান পাদ্রীদের মনগড়া মতামত জ্ঞান গবেষকদের নিকট ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের রহস্য যতই উদঘাটিত হতে থাকে, পাদ্রীদের সাথে বিজ্ঞানীদের মত-বৈষম্য ততই প্রকট আকার ধারণ করে। বিজ্ঞানীদের প্রত্যেক নতুন নতুন তথ্য ও আবিষ্কার সমকালীন পাদ্রীদের ভ্রান্তি প্রমাণ করলে পাদ্রীরা ধর্মের দোহাই দিতে আরম্ভ করে এবং শাসন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষকদের শাস্তি দিতে উদ্যত হয়। এমন কি এক পর্যায়ে তারা বিজ্ঞানীদেরকে বেত্রাঘাত থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত কার্যকর করে। এ নির্যাতনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাদ্রীদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতা ও চিন্তাশীলদের মাঝে চরম বিদ্রোহ দানা বেধে উঠলো। এক পর্যায়ে বিদ্রোহীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বেপরোয়াভাবে পাদ্রীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সংগ্রাম ঘোষণা করে। পাদ্রীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং ধর্মান্ধ নেতার সহায়তায় রাজশক্তির সাহায্য এ বিদ্রোহ প্রতিরোধ করতে বদ্ধপরিকর হয়। অপরদিকে বিদ্রোহীরা জীবনের সকল বিভাগ থেকে পাদ্রীদেরকে উৎখাত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বক্রীয় আন্দোলন গড়ে তুললো। সুদীর্ঘ দু‘শ বছর ধরে এ ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলতে থাকে। এটি ইতিহাসে গীর্জা বনাম রাষ্ট্রের লড়াই নামে পরিচিত। দীর্ঘ দু‘শ বছর অবিরাম সংগ্রামের ফলে উভয় পক্ষই বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হয়। অবশেষে সংস্কারপন্থীদের নেতৃত্বে দু‘পক্ষের মধ্যে আপোষের প্রস্তাব জোরদার হয়ে ওঠে। মার্টিন লুথারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ আন্দোলন আপোষ আন্দোলন নামে খ্যাতি লাভ করে। এ আন্দোলনর প্রস্তাব ছিলো ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং মানুষের ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চার্চের উপর অর্পিত থাকবে। কিন্তু পার্থিব জীবনের সকল দিকের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব রাষ্ট্রের উপর ন্যস্ত থাকবে এবং পার্থিব কোন বিষয়েই চার্চের কোন প্রাধান্য থাকবে না। অবশ্য রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দকে চার্চের নিকটই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করার সময় শপথ গ্রহণ করতে হবে। সকল অবস্থা বিবেচনা করে উভয় পক্ষ এ প্রস্তাব মেনে নেয়ার ফলে বিদ্রোহের দাবানল নির্বাপিত হয়। এভাবে ধর্মীয় ভাবধারাকে সমাজ ও রাষ্ট্র জীবন থেকে নির্বাাসিত করে ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার বিজয় ঘটে। এ মতবাদের সূচনার পর থেকে এটি ধীরে ধীরে আমেরিকায় বিস্তার লাভ করে। এবং আমেরিকার সংবিধানের একটি অবিচ্ছেদ্য ধারা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯০৫ সালে ফ্রান্সকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর রাশিয়া ও চীনে এ মতবাদ দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করে। যদিও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কোন আধুনিক মতবাদ নয়, তবুও একটি আদর্শ হিসেবে বর্তমানকালে এর প্রচার চলছে। একটি মতাদর্শ হিসেবে আধুনিক ও প্রগতিশীল বলেই এক শ্রেণীর নিকট এর সুনাম রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের এ আধুনিক সংস্করণ প্রায় আড়াই শত বছর সংগ্রামের পর আঠার শতাব্দীর প্রথমার্ধে তা বিজয়ী মতাদর্শ হিসেবে কায়েম হলেও এ মতাদর্শের ইতিহাস পাঠ করে কারো এ ধারণা করা উচিত নয় যে, পনের শতাব্দীর পূর্বে কোন কালেই এ মতবাদ দুনিয়ায় প্রচলিত ছিল না। প্রকৃতপক্ষে পূর্ণাঙ্গ ধর্মের সাথে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের লড়াই চিরন্তন। যখনই আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান মানব সমাজে কায়েম করার উদ্দেশ্যে নবী ও রাসূলগণ চেষ্টা করেছেন তখনই শয়তান ও তার বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা অজুহাতে প্রবল বিরোধিতা করা হয়েছে এবং কিয়ামতের আগপর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আল্লাহর বাণী,
    “স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বললামঃ আদমকে সিজদা করো, তখন সবাই সিজদা করলো কিন্তু ইবলীস করলো না। সে বললো, আমি কি তাকে সিজদা করবো, যাকে আপনি বানিয়েছেন মাটি দিয়ে? তারপর সে বললো, দেখেনতো ভাল করে আপনি যে একে আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, এ কি এর যোগ্য ছিলো? যদি আপনি আমাকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলবো। আল্লাহ বললেন, ঠিক আছে, তুমি যাও, এদের মধ্য থেকে যারাই তোমার অনুসরণ করবে তুমিসহ তাদের সবার জন্য জাহান্নামই হবে পূর্ণ প্রতিদান। তুমি যাকে যাকে পারো তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে পদস্খলিত করো,তাদের ওপর অশ্বরোহী ও পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ চালাও, ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে তাদের সাথে তুমিও অংশীদার হও এবং তাদেরকে প্রতিশ্র“তি দাও; আসলে শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্র“তি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয় নিশ্চিতভাবেই আমার বান্দাদের ওপর তোর কোন কর্তৃত্ব অর্জিত হবে না। এবং ভরসা করার জন্য তোমার রবই যথেষ্ট।” (বানী ইসরাঈল,৬১-৬৫)।

    শয়তানের বাহিনী বলতে এমনসব জিন ও মানুষকে বুঝানো হয়েছে, যারা বিভিন্ন আকৃতিতে ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইবলীসের মানব বিধ্বংসী অভিযানে সহযোগিতা করছে। মানুষের মধ্য থেকে যারা ইবলীসের বাহিনী হিসেবে কাজ করে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আল্লাহদ্রোহী রাষ্ট্রশক্তি, রাজনৈতিক মতাদর্শ, অর্থনৈতিক ময়দানে শোষক গোষ্ঠী, এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহ ইত্যাদি। সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই ইবলীস আদম সন্তানদের পেছনে লেগেছে। সে তাদেরকে আশার ছলনা দিয়ে ও মিথ্যা প্রতিশ্র“তির জালে জড়িয়ে সঠিক পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে এ কথা প্রমাণ করতে চায় যে, আল্লাহ তাদেরকে যে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তারা তার যোগ্য নয়। ইবলিসী শক্তি বহুরূপী। এক এক যুগে এক এক রকমের বেশভূষা পরিবর্তন করে, পোষাক পরিবর্তন করে তার আবির্ভাব ঘটে। এর আধুনিক রূপ হচ্ছে, পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি। এ মতবাদসমূহ মানব জাতিকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে ইবলিসী শক্তির ক্রীড়ণকে পরিণত করে চলেছে। এ বিপদ থেকে যদি কোন জিনিস মানুষকে বাঁচাতে পারে তাহলে তা হচ্ছে কেবল এই যে, মানুষকে তার রবের ইবাদতের ওপর অবিচল থেকে তাঁরই পথনির্দেশনা ও সাহায্য লাভের জন্য একমাত্র তাঁরই দিকে রুজু করতে হবে এবং একমাত্র তাঁরই প্রতি নির্ভরশীল হতে হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় যে কোন পথই মানুষ অবলম্বন করবে তার সাহায্যে সে শয়তানের জাল থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে না।

    ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের প্রকার ভেদ
    ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরকে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা চলে। এক শ্রেণীর পরিচয় খুব স্পষ্ট। তারা ধর্মকে ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে প্রচার করে বটে, কিন্তু তাদের অনেকেরই ব্যক্তি জীবনে ধর্মের কোন গন্ধও পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে তারা ধর্মকে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় জিনিস বলে মনে করে, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক সুবিধা ও অন্যান্য পার্থিব প্রয়োজনের তাকিদে ধর্মকে মৌখিক স্বীকৃতি দান করে মাত্র। দ্বিতীয় প্রকার তারা নামায, রোযা, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, যিকির ইত্যাদি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আদায় করে, কিন্তু সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইসলামী বিধানকে মেনে চলার কোন তাকিদই অনুভব করে না। কুরায়শ কাফিররা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রস্তাব দিয়ে ছিল “তুমি এক বছর আমাদের ইলাহের ইবাদত কর আমরাও এক বছর তোমার ইলাহের ইবাদত করব।” তদ্রƒপ বর্তমান যুগের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা বলে আমরা মসজিদে আল্লাহর ইবাদত করবো বাইরে তথা রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অন্যের আনুগত্য করবো। অথচ আল্লাহ বলছেনঃ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।’ আল্লাহর কিতাবকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ না করে যারা শুধু ইসলামের কতিপয় অনুষ্ঠান নিয়েই সন্তুষ্ট, তাদের প্রতি কুরআন যে কঠোর সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছে, তা যে কোন সত্যিকার মুসলমানের অন্তরকেই কাঁপিয়ে তুলবার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ পাক বলছেনঃ
    “তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর ও কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান ব্যতীত কিছুই নেই। আর পরকালে তাদেরকে ভয়ঙ্কর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত করা হবে এবং তোমরা যা করছো আল্লাহ সে বিষয়ে অমনোযোগী নন।” (বাকারাহ্-৮৫)।

    “আর যারা বলে আমরা কিছু বিশ্বাস করি আর কিছু প্রত্যাখ্যান করি এবং তারা এ মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করতে ইচ্ছা করে, প্রকৃতপক্ষে ওরাই অবিশ্বাসী, এবং আমি এ ধরনের অবিশ্বাসীদের জন্যে অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (নিসা-১৫০-১৫১)।
    ফলাফল যদি এই হয় তাহলে, কোন মুসলমানের পক্ষে কি ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ গ্রহণ করা উচিত?

    ইসলামের পরিচয়:
    ইসলাম আরবী শব্দ ছিল্মুন থেকে নির্গত, অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা। আর ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা। পরিভাষায় – আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা ও তাঁর বিধানের প্রতি পরিপূর্ণভাবে আনুগত্য হওয়া। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত – ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ। উক্ত পাঁচটি স্তম্ভ ঠিক রেখেই ইসলামের প্রাসাদ নির্মাণ করতে হবে। খুটি দুর্বল হলে প্রাসাদও দুর্বল হয়ে যাবে। ইসলাম শুধু একটি ধর্মই নয়, এটা হচ্ছে সর্বকালের সকল মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আর এ ব্যাপারেই দয়াময় আল্লাহর প্রবল ঘোষণা ঃ

    “আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম। তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের চূড়ান্ত জীবন বিধান রূপে মনোনীত করলাম।” (মায়িদাহ্ -৩)।

    কুরআনে কি শুধু ধর্মীয় বিধানই আছে? রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনত-আদালত, ফৌজদারী, শাসন, বিচার, লেনদেন, যুদ্ধ-সন্ধি ইত্যাদি বিষয় কি উল্লেখ নেই ? এক কথায় কুরআনুল কারীমেই রয়েছে জীবনের সকল বিষয়েরই সঠিক সমাধান। এখানে কোন কিছুই বাদ দেওয়া হয় নি।
    আমি আল কিতাব (কুরআনে) কোন গুরুত্ব বিষয়কেই তুচ্ছ জ্ঞান করিনি, অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।” (আল-আন‘আম-৩৮ ।)
    পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের বিশদ বর্ণনা রয়েছে কুরআনুল কারীমে। আল্লাহ তায়ালা বলছেন:
    “আমি মানুষের জন্যে এ কুরআনে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সত্য প্রত্যাখ্যান ব্যতীত ক্ষান্ত হলো না।”(বণী ইসরাইল -৮৯)।
    ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এর বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। আল্লাহর বাণী,

    “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর কর্তৃত্ব একমাত্র মনোনীত ধর্ম এবং বিগত দিনে যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করা হয়েছিল তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর তারা পর¯পর বিদ্বেষ বশতঃ বিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। এবং যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে, নিশ্চয়ই অল্লাহ সত্বর হিসাব গ্রহণকারী।” (আল্-ইমরান – ১৯)
    অর্থাৎ আল্লাহর নিকট মানুষের জন্য একটি মাত্র জীবন ব্যবস্থা, (জীবন বিধান) সঠিক ও নির্ভুল বলে গৃহীত। সেটি হচ্ছে, মানুষ আল্লাহকে নিজের মালিক ও মা‘বুদ বলে স্বীকার করে নিবে এবং তাঁরই দাসত্বের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে সোপর্দ করে দিবে। আর তাঁর দাসত্ব করার পদ্ধতি নিজে আবিষ্কার করবে না। বরং তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে যে হেদায়াত ও বিধান পাঠিয়েছেন কোন প্রকার কম-বেশি না করে তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষেত্রেই মুসলিম জাতির আদর্শ নেতা। নামাযে ইমামতির সময় তিনি যেমন রাসূল ছিলেন, মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ও তিনি তেমনি রাসূল ছিলেন। এ চিন্তা ও কর্মপদ্ধতির নাম “ইসলাম”। আল্লাহ বলছেন:
    “হে মু’মিনগণ! তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে পবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের জন্যে প্রকাশ্য শত্র“।” (বাকারাহ্-২০৮) হেদায়াত ও পথনির্দেশ লাভ করার জন্য এখন আর কোন অবস্থায়ই এর বাইরে যাবার প্রয়োজন নেই। আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেমন মুসলিম হতে হবে, কর্মজীবনেও ঠিক তেমনি মুসলিম হয়ে থাকতে হবে। এর বাইরে অন্য কিছুই গ্রহণ করা যাবে না। যদি অন্য কিছু গ্রহণ করা হয় তাহলে পরিণামে তা ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনবে।
    “আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবন বিথানের অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গৃহীত হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”(আল্ ইমরান-৮৫)।

    সুতরাং সর্বাবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ইসলামের অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে। আর তা হতে হবে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী। যে ব্যক্তি কুরআন-সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করে না তার ঈমান, ইসলাম, ইবাদত, আমল ও আখলাক আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এরপরেও আজ সহজ-সরল মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মতো, ‘আহমদীয়া মুসলিম জামায়াত’ নামের পথভ্রষ্ট কাদিয়ানী ও তথা কথিত তরিকত পন্থী ভন্ডদের দিয়ে ইসলামের অপব্যাখ্যা জাতির সামনে উপস্থাপন করে মুসলমানদেরকে বোকা বানানোর অভিনব কৌশলে আগানো হচ্ছে। যত কৌশলই করা হোক কিংবা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে ধর্মহীন নীতি প্রণয়ন করে জাতির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হোক না কেন ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন এ মুসলিম জনগোষ্ঠিকে বোকার রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার আশা বুমেরাং হবার সম্ভাবনাই শতভাগ। মনে রাখতে হবে যে, ইংরেজরা আমাদের রাজ্য নিয়েছিল কিন্তু ইসলাম নিতে পারে নি। এরপরও যদি কেউ এই ফাঁদে নিজেদেরকে শামিল করে তাহলে তারা বাতিলদের সহযোগী হিসেবে তাদের ইহ-পরকালীন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথ সুগম করবে। যা কুরআনে কারীমের ভাষ্যানুযায়ী প্রতিয়মান হয়।

    ইসলামের নির্ভুল মানদন্ড
    ইসলামের নির্ভুল মানদন্ড সংরক্ষিত রয়েছে কুরআন-সুন্নাহর মধ্যে। কুরআন- সুন্নাহর অনুসরণই ইসলাম। এর বাইরে যা কিছু আছে তা সবই মানব রচিত। ইসলাম মানব রচিত নয় আল্লাহ প্রদত্ত। অতএব, আল্লাহ প্রদত্ত বিধান জীবনের সকল স্তরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
    আল্লাহ তা’আলার ঘোষণা হচ্ছেঃ
    “(হে মুহাম্মাদ !) তুমি বলে দাও; আমার নামায, আমার যাবতীয় ইবাদত (কুরবানী ও হজ্জ) এবং আমার জীবন ও মৃত্যু সব কিছু বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যে।”(আন’আম-১৬২)। এ আয়াতের স্বপক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী,
    مَن اَحَبََ لِلََهِ وَ اَبغَضَ لِلََهِ وَ اَعٌطى لَلََهِ وَ مَنَعَ لِلََهِ فَقَدِ اسٌتَكمَلَ الٌاِيٌمَانَ
    ‘আল্লাহর জন্য যে ভালবাসলো, আল্লাহরই জন্য যে দুশমনী করলো, আল্লাহর জন্য যে দান করলো এবং আল্লাহর জন্য দেয়া বন্ধ করলো, সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো।’ (বুখারী)
    অর্থাৎ জীবনের সকল স্তরে আল্লাহর হুকুম ছাড়া মানুষ অন্য কারো হুকুম মানতে পারে না। এটাই হচ্ছে মুসলিম ব্যক্তির কাজ। কেবলমাত্র আল্লাহর হুকুম পালন করে চলা এবং আল্লাহর দেয়া পবিত্র কুরআনের বিপরীত যে নিয়ম, যে আইন এবং যে আদেশই হোক না কেন তা অমান্য করাকেই বলা হয় ইসলাম। জীবনের কোন স্তরে আল্লাহর হুকুমের লংঘন যাতে না হয় সে জন্য আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছেঃ
    “হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর সেইসব লোকের যারা তোমাদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী। এরপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যাপারে বিরোধ দেখা দেয় তাহলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও। যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনে থাকো। এটিই একটি সঠিক কর্মপদ্ধতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটিই উৎকৃষ্ট।”(আন্ নিসা-৫৯)।
    এ আয়াতটি ইসলামের সমগ্র ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের বুনিয়াদ। এ আয়াতে নিম্নলিখিত মূলনীতিগুলো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়া হয়েছে।
    এক ঃ একজন মুসলমানের জীবনে সকল স্তরে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। এর বিপরীত কিছু করা যাবে না।
    দুইঃ আল্লাহর আনুগত্যের একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে রাসূলের আনুগত্য করা। রাসূলের সনদ ও প্রমাণপত্র ছাড়া আল্লাহর কোন আনুগত্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
    তিনঃ মুসলমানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি যে কোন পর্যায়েই মুসলমানদের নেতৃত্বদানকারী হবেন তার আনুগত্য করা। তবে শর্ত হচ্ছে তাকে মুসলিম হতে হবে এবং তাকেও আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্যকারী হতে হবে এবং এর বিপরীত কোন হুকুম করবে না।
    এ ব্যাপারে রাসূলের বাণী হচ্ছে,
    عَلَى المَرءِ المُسلمِ السمعُ و الطاعةُ فيما احبََ و كره الََا ان يُؤمَرَ بِمعصيةٍ فَاِذا اُمِرَ بِمَعصِيةٍ فلا سمعَ و لا طاعةَ
    ‘নিজের নেতৃবৃন্দের কথা শোনা ও মেনে চলা মুসলমানের জন্য অপরিহার্য, তা তার পছন্দ হোক বা না হোক, যে পর্যন্ত না তাকে স্রষ্টার নাফরমানির হুকুম দেয়া হয়। আর যখন তাকে স্রষ্টার নাফরমানির হুকুম দেয়া হয় তখন তার কিছু শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।’ বুখারী ও মুসলিম।”
    আল্লাহ্ ও রাসূলের নাফরমানির ক্ষেত্রে কোন আনুগত্য নেই, আনুগত্য করতে হবে শুধুমাত্র ‘মারূফ’ বা বৈধ ও সৎকাজে।” বুখারী ও মুসলিম।

    চারঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় মুসলিম সরকার ও প্রজাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর চূড়ান্ত ফয়সালা অবনত মস্তকে মেনে নিতে হবে। তাহলেই কেবল অধপতনের জীবন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। অন্যথায় যখন কোন জনগোষ্ঠী কুরআন ও সুন্নাহর হেদায়েত অমান্য করে এমন সব নেতা ও নেতৃত্বের আনুগত্য করতে থাকে, যারা কুরআন ও সুন্নাহর হুকুম মেনে চলেনা এবং বৈধ ও অবৈধের তোয়াক্কাও করে না। ফলে তারা বিপদগামী হতে থাকে যার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ্ পাক বলছেনঃ
    “হে নবী তুমি কি তাদেরকে দেখো নি, যারা এই মর্মে দাবী করে চলছে যে, তারা ঈমান এনেছে সেই কিতাবের প্রতি যা তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছিল: কিন্তু তারা নিজেদের বিষয়সমূহের ফয়সালা করার জন্য ‘তাগুতে’র দিকে ফিরতে চায়, অথচ তাদেরকে তাগুতকে অস্বীকার করার হুকুম দেয়া হয়েছিল? -শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে সরল-সোজা পথ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।”(নিসা-৬০)।

    ‘তাগুত’ বলতে এখানে এমন শাসককে বুঝানো হয়েছে যে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে এবং এমন বিচার ব্যবস্থাকে বুঝানো হয়েছে যা আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার আনুগত্য করে না এবং আল্লাহর কিতাবকে চূড়ান্ত সনদ হিসেবে স্বীকৃতিও দেয় না। আর তাই মহান আল্লাহর ঘোষণাঃ
    “অতএব (হে মুহাম্মাদ!) তোমার রবের কসম, এরা কখনো মু‘মিন হতে পারে না যতক্ষণ এদের পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে এরা তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেবে, তৎপর তুমি যে বিচার করবে তা দ্বিধাহীন অন্তরে গ্রহণ না করে এবং সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।”(নিসা-৬৫) রাসূলের ফয়সালা হচ্ছে আল্লাহর ফয়সালা এবং তাঁর হুকুম আল্লাহরই হুকুমের নামান্তর। কাজেই আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য ছাড়া ঈমানের দাবী অর্থহীন এবং মুসলিম ব্যক্তি ও জাতি হিসেবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেয়া আইনের অনুগত হতে হবে। সে যদি এ কর্মনীতি অবলম্বন না করে, তাহলে তার ঈমানের দাবী গ্রহণ যোগ্য নয়। আর এ ব্যপারে আল্লাহ বলছেনঃ
    “তারা বলে আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি এবং আমরা আনুগত্য স্বীকার করেছি কিন্তু এরপর তাদের মধ্য থেকে একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ ধরনের লোকেরা কখনোই মু’মিন নয়। যখন তাদেরকে ডাকা হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে, যাতে রাসূল তাদের পরস্পরের মোকাদ্দমার ফায়সালা করে দেন তখন তাদের মধ্যকার একটি দল পাশ কাটিয়ে যায়। আর যদি তাদের প্রাপ্য থাকে (ফয়সালা তাদের অনুকূলে হবে মনে করলে) তাহলে তারা বিনীতভাবে রাসূলের নিকট ছুটে আসে। তাদের মনে কি (মুনাফিকির) রোগ আছে? না তারা সন্দেহ পোষণ করে? না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি যুলুম করবেন? আসলে তারা নিজেরাই যালেম।” (নূর-৪৭-৫০)
    প্রত্যেক মুসলমানেরই তীক্ষè দৃষ্টিতে যাচাই করে দেখা বাঞ্ছনীয় যে, তাদের মন ও মস্তিষ্কের সমগ্র যোগ্যতা-ক্ষমতা, দেহ ও প্রাণের শক্তি, সময় ও শ্রম, জীবন ও মরণ একমাত্র আল্লাহর মর্জী পূরণের জন্য এবং মুসলিম মিল্লাতের দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত কি-না? শুধু দুনিয়ার আদমশুমারীর খাতায় মুসলিম রূপে গণ্য হয়েছি দেখেই নিশ্চিত হয়ে বসে থাকা উচিত নয়। আল্লাহর দপ্তরে মুসলিম হতে পারছি কি-না তা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে। সমগ্র পৃথিবী আমাকে ঈমান ও ইসলামের সার্টিফিকেট দিলেও প্রকৃতপক্ষে আমার কোন লাভ নেই। মূল বিচার যে আল্লাহর হাতে, তাঁরই কাছে মুনাফিকের পরিবর্তে মু‘মিন, অবাধ্যের পরিবর্তে অনুগত বান্দাহ রূপে গণ্য হওয়াই জীবনের প্রকৃত সাফল্য।
    মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
    প্রায় এক শতাব্দীরও অধিক সময় ধরে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে লড়াই করে আসছে। অবশেষে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে উসমানী খিলাফতের অবসানের পর-এ চিন্তাধারা মুসলিম বিশ্বে বি¯তৃতি লাভে সক্ষম হয়। ১৯২১ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে এবং ১৯২৪ সালে ইসলামী খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে তুরস্ককে এবটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। এক সময় ইসলামী বিশ্ব শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ছিল। কাল পরিক্রমায় মুসলমানদের নৈতিক অবক্ষয়, লোভ-লালসা, অলসতা ও বিলাস বহুলতার কারণে তাহযীব-তামাদ্দুন ও চিন্তাধারায় শূন্যতা দেখা দিতে থাকে। তারা ঝুঁকে পড়ে পাশ্চাত্য জীবন যাত্রা ও কৃষ্টি কালচারের প্রতি। মিশ্রিত হতে থাকে তাদের চিন্তাধারার সাথে বিজাতীয় আদর্শ। এ অবিমিশ্রণের ফলে মুসলমানরা তাদের স্বকীয়তা যেমন হারিয়ে ফেলে তেমনি তারা তাদের দ্বীনের মূল চিন্তা-চেতনা ও জীবনী-শক্তি থেকে দূরে অবস্থান করতে শুরু করে। এ সুযোগেই নব্য জাহিলিয়াত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মুসলিম দুনিয়ায় তার আগ্রাসী জাল বিস্তার করে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এক শ্রেণীর মুসলমান ইসলামকে পাদ্রীদের ধর্মের ন্যায় উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায় মনে করে। ইউরোপীয় চিন্তাধারায় যেমন ধর্ম ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়, তদ্রপ নীতি মুসলমানদের মধ্যেও বিস্তৃত হয়। মুসলিম শাসকগণ পরিবেশ-পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী কেবলমাত্র পরামর্শদাতা ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে আলিম ও দ্বীনদার লোকদের সাহায্য নিয়েছেন এবং যতটুকু তারা চেয়েছেন কবুল করেছেন। এভাবে রাষ্ট্রনীতি ধর্মের খবরদারী ও তত্ত্বাবধান থেকে মুক্ত হয়ে শেকলবিহীন হাতীর ন্যায় লাগামহীন হয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তী পর্যায়ে আলিম ও দ্বীনদার শ্রেণীর লোকেরা রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিরোধী হয়ে ওঠে। আবার তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্র ও রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন এবং তাৎক্ষণিক বিপর্যয় সম্পর্কে হতাশ হয়ে ব্যক্তি সংশোধন ও প্রশিক্ষণের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এভাবে রাষ্ট্রনীতি থেকে ধর্ম বিচ্ছিন্ন হয়। এবং দিন দিন শক্তিহীন, প্রভাবশূন্য ও নি®প্রভ হতে থাকে। অপরদিকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি এমন শক্তিশালী হতে থাকে যে, পরবর্তীতে আলিম দ্বীনদার লোক এবং দুনিয়া ও জাগতিক বিষয় বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা পরিষ্কার দুটো পৃথক সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। ফলে মুসলিম বিশ্বে ধর্ম বিমুখতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদের অনুপ্রবেশের পথ সুগম হয়। তাছাড়া মুসলিম বিশ্বে যারা জ্ঞান চর্চা করেছেন তাদের অনেকেই ইসলাম স¤পর্কে অনেক অমুসলিম চিন্তানায়কের চেয়েও কম জানেন। তারা অনেক মোটা মোটা বই মুখস্থ করেছেন কুরআন ও হাদীস অধ্যয়ন করার সুযোগ পান নি-হয়তো বা প্রয়োজনও বোধ করেননি। অপরদিকে মুসলমানদের মধ্যে যারা কুরআন ও হাদীসের গবেষণা করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান অধ্যয়ন না করার ফলে এবং পার্থিব জীবনকে সর্বদিক দিয়ে ইসলামী দৃষ্টিভংগীতে বিচ

    [উত্তর দিন]

  8. KAMAL বলেছেন:

    apni valo thaken are sob somay onnayer birudde thakben…aamader dua apnar sathe rohilo…..

    [উত্তর দিন]

    কাঙ্গাল উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ শুভ কামনার জন্য। দোয়া করবেন যেন, সবর্দা সত্যের পথে থাকতে পারি।

    [উত্তর দিন]

    AD.sattar bhuayan উত্তর দিয়েছেন:

    جزك الله خيرا واسن جزاء আল্লাহ আপনাকে সবর্দা সত্যের পথে রাখুন .امين

    [উত্তর দিন]

    কাঙ্গাল উত্তর দিয়েছেন:

    আপনার আরবী ইবারতে কয়েকটি ভুল হয়েছে। সহীহ এভাবে
    جـــزاك الله خــيرا و أحـــسن الجــزاء
    আমিও দোয়া আল্লাহ আপনাকেও সত্যের পথে অটল রাখুন। আমীন।

  9. shamsul haque বলেছেন:

    Well done. May Allah give long life and best health and more knowledge to keep alive this site. Maassalam

    [উত্তর দিন]

  10. Arif বলেছেন:

    Wonderful analysis! Keep writing. Whatever the case is, Islam is the truth.

    [উত্তর দিন]

  11. jahirul islam বলেছেন:

    মুক্ত-স্বাধীন ষাড়ের জন্য শুধু খোয়াড়ে আটকানোর বিধান করলেই হবে না বরং ষাড়গুলো যে লালরঙা রুমাল দেখে ক্ষেপে যায় তা প্রদর্শনও বন্ধ করতে হবে।
    সহমত

    [উত্তর দিন]

  12. kamrul বলেছেন:

    allhamdulillah…………u have done a great job.your post is very much informative.we want u to post more and more writting in future aginst evil.

    [উত্তর দিন]

  13. saifullah mansur বলেছেন:

    w0w0w0w on
    ek valo lekhesen vai… thank,s apnake]
    \\

    [উত্তর দিন]

  14. Az. L বলেছেন:

    Thanks for bringing the truth in the light….

    [উত্তর দিন]

  15. dr. abu sa-ada বলেছেন:

    লেখা ভালো লেগেছে। আমি একটি লেখা পাঠালাম। প্লিজ, না পড়ার আগে কেউ রেগে যাবেন না।
    ব্যভিচার ও ধর্ষণ এবং জাহান্নামের শূণ্যস্থান পূরণে আওয়ামীলীগের করণীয়

    ড. আবু সাআদা

    আল্লাহ বলেছেন, “কেয়ামতের দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো, তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছো ? সে বলবে, আরো কেউ আছে? On Day of qeamah We will say to Hell: Are you filled? It will say: Are there any more (to come)?” আল-কুরআন, সূরা ক্বাফ ঃ ৩০
    আমি মনে করি, জাহান্নামের পেটের এ শূণ্যতা পূরণে নাস্তিক, মুরতাদ, মূর্তিপূজারী ও ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’রও কিছু করণীয় রয়েছে। ১৯৫৭ সালে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে জাহন্নামের হিট লিস্টে নিজেদের নাম লেখানোর পর থেকে এ পর্যন্ত জাহান্নামের সাথে অনেক সখ্যতার প্রমাণ রেখেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ১৯৭৫ সালের আগষ্টে মুসলমানদের হাতে তাদের আহত হবার পর ১৯৯৬ সালে তারা তাদের ক্ষত সম্পূর্ণ রুপে সেরে উঠে। ওই বছর তারা ক্ষমতায় আসার পর তাদের লালিত সন্তান হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দাবী করে, মুসলমানদের নামের শুরু থেকে ‘আলহাজ্ব’ ও ‘মুহাম্মদ’ বাদ দিতে হবে। এরপর ১৯৯৮ সালে তাদের নিজ সন্তান ছাত্রলীগের ‘মানিক’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ ছাত্রী ধর্ষণ ও ভোগ শেষে মিষ্টি বিতরণ পূর্বক এ নিয়ে ‘সেঞ্চুরী’ উদযাপন করে। পরের বছর ১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার পতিতালয় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তাদের কতিপয় নেতা অবস্থান নেয়। ২০০০ সালে তাদের সগোত্রীয় বিচারক গোলাম শয়তানী ও নাজমুন আরা শয়তানা সর্বপ্রকার ফতওয়া নিষিদ্ধ করে একটি মামলার রায় ঘোষণা করে।
    ২০০৯ সালের শুরুতে তারা ক্ষমতায় আরোহণের পর আওয়ামী বুদ্ধিজীবিরা কুখ্যাত নষ্টা বেশ্যা তসলিমাকে ইউরোপের অন্যতম বেশ্যা দেশ ‘সুইডেন’ থেকে ফিরিয়ে আনার দাবী তোলে। একই সাথে ফাঁস হয় ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রীদের উপর আওয়ামীলীগ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের কুনজর পড়ার কাহিনী। এরপর আওয়ামীলীগ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের আশীর্বাদে বিএনপি জামায়াতের ঘাঁটি চট্রগ্রাম ব্যতীত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ইভটিজিং মহামারি। একই সময় আওয়ামীলীগের সাথে এফএআর (ফ্রেন্ডশীপ এন্ড রিলেশন) কারী কুখ্যাত নষ্টা বেশ্যা তসলিমার সাবেক যৌনসঙ্গী নাঈমুল কুফর খান তার নিন্ত্রণাধীন সংবাদপত্রগুলোতে জেনা-সমকামের পক্ষে একের পর এক কুবন্ধ প্রকাশ করতে থাকে এবং একই সময় কুখ্যাত আওয়ামী আত্মসাত ফার্ম ‘ডেস্টিনি’র কর্ণধার রফিকুল কাবিন ও তার সগোত্রীয়রা পরপর দুইবার ভারতীয় নর্তক-নর্তকী হায়ার করে এনে বাংলাদেশের মানুষের শরীর থেকে লজ্জা-মর্যাদাবোধের পোশাক ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে। এই দুই আওয়ামী নির্লজ্জ বিভিন্ন মামল-মকদ্দমার শিকার হয়ে বর্তমানে খুবই দুঃসময় পার করছে। এ ছাড়া জাহন্নামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আওয়ামীলীগ সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর নামটাও মুছে দিয়েছে।
    আমার মতে জাহান্নামের শূণ্যস্থান পূরণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আরো অনেক কিছু করার আছে। যেমন তারা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী দুর্নীতি লীগ’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাঁদাবাজ লীগ’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী গুম লীগ’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী ধর্ষক লীগ’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী ব্যভিচার লীগ’সহ বিভিন্ন ধরণের কিছু গোপন সংগঠন গড়ে তুলতে পারে। এতে তাদের নেতাকর্মীদের লুটভোগের কামনা-বাসনা ও অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক চাঙ্গা হবে এবং ভারতের ‘র’ বস্তা বস্তা টাকা দিতে দেরি করলেও আগামী নির্বাচনে গরিব মানুষের ভোট কিনতে তাদের কোনো অসুবিধা পোহাতে হবে না।
    গত ০৯-০১-২০১০ রাতে বাংলাদেশের এফএম রেডিও ষ্টেশন ‘এবিসি’তে বরিশাল্যা মাইয়া ‘বর্ষা’র জীবনের বাস্তব প্রচারিত হয়। অপদার্থ পিতা-মাতার দায়িত্বহীনতার শিকার হয়ে সে কিভাবে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে তার কাহিনী বর্ণনা করে। এতে সে দাবি করে, তার কাছে ভেজাল মধু পান করতে সমাজের অনেক উচ্চপর্যায়ের লোকজন তার কাছে আসা-যাওয়া করেছে, যাদের মধ্যে এ সরকারের মন্ত্রীও ছিল। যুবতী বর্ষা তার সামনে ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখতে পাওয়ায় এখন সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু তার আশঙ্কা, হাজারো কুপুরষের বিছানার সঙ্গী হওয়া তার অতীতকে কোনো সুপুরুষ ক্ষমা করবে না। অবশ্য কেউ তার অতীতকে ক্ষমা করলে সে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়েও বসবাস করতে রাজি বলে জানিয়েছে। তারও নাকি মন চায় স্বামী ও সন্তানের সুখ পেতে।
    জাহান্নামের অকৃত্রিম বন্ধু আওয়ামীগ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীরা পরিস্থিতির শিকার এসব অসহায় মহিলাদের প্রতি কুনজরে তাকাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জান্নাতের লোভী বিএনপি, জামায়াত ও মুসলিম সংস্থা-সংগঠনগুলোর অপদার্থ পিতা-মাতার অন্যায়-অবহলোর শিকার অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ইচ্ছুক আল্লাহর এসব অসহায় বান্দীদের কল্যাণে কিছু করার নেই ? তারা কি এসব মহিলাদের ইসলাম সম্মত পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নিতে পারে না ? আমাদের দেশের মুসলিম ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা কি এতই কৃপন যে এ পুণ্যময় উদ্যোগে তারা আর্থিক সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করবে ? অতীতে না করলেও ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে বিএনপি-জামায়াত সরকার সমাজ কল্যাণ মন্ত্রলায়ে এসব অসহায় মহিলাদের পুনর্বাসনে কোনো অধিদপ্তর চালু করবে এটাই তাদের কাছে আশা করছি এবং এর জন্য দাবিও জানাচ্ছি খুবই জোর গলায়।
    আরেকটি কথা না বললেই নয়। চিন্তাবিদ হিসেবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের মাঝে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনটা খুবই দুর্বল। এ কারণে খুন, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে এ অঞ্চলের মানুষেরা বেশি জড়িত হয়ে পড়ছে। শুধু ঢাকায় নয়, আমাদের চট্রগ্রাম শহরে এমনকি গ্রামাঞ্চলে গিয়ে পর্যন্ত তারা এসব অপরাধ করে বেড়ায়।
    ইসলামের প্রতি দরদ ফেরি করে বেড়ানো চরমোনাইর পীর, শর্ষীণার পীর, মাওলানা সাঈদী পরিবার, মাওলানা কামালুদ্দিন জাফরী ও পীর আবদুল মতিন (ঢালকানগর) সাহেবরা তাদের বরিশাল অঞ্চলের মানুষের মাঝে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং ধর্মীয় দায়বোধ জাগ্রত করতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারে না ? তাদেরতো প্রচুর ভক্ত-মুরিদ আছেন, যারা তাদের আহবানে শ্রম ও অর্থ দানে কুণ্ঠাবোধ করে না। দুনিয়াটা পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার খেলার মাঠ। এখানে অলস ও আশাহত হয়ে বসে থাকলে চলবে না। যার যার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতেই হবে। ধন্যবাদ সবাইকে।
    লোহাগাড়া, চট্রগ্রাম থেকে

    [উত্তর দিন]

  16. সাইদ বলেছেন:

    স্বামী নাকি স্ত্রীর অমত্যে দোহিক মিলন করলে সেটা ধষণের হিসাবে ধরা হবে।তাহলে আমি সুফিয়া কামালকে বলি বিয়ে আমি কেন করেছি।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন