আনারসের ভারে জাহাজডুবি, বিশাল ব্যবধানে মনজুর আলম বিজয়ী

৯৫ হাজার ৫২৮ ভোটের ব্যবধানে মনজুর নির্বাচিত
মনজুর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৫ ভোট
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৬ ভোট।

অবশেষে মহিউদ্দীন চৌধুরীর দূর্গ পতন হলো। মনজুরের আনারসের ভারে মহিউদ্দনীনের জাহাজের ভরাডুবি হলো। হাজারো জল্পন কল্পনা আর গুজবের অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পিতার আসনটি দখল করলেন মনজুর আলম মনজুর। অবসান হলো মহিউদ্দীন শাসনামলের।

গতকাল ১৭ জুন ২০১০, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৫ ভোটারের চট্টগ্রাম মহানগরীর উৎসব মুখর নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও নির্বাচন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা হয়। অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী এ নেতার মুক্তির দাবীতে পুরো চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়লে নির্বাচন কমিশন তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ফলে সকালে ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম হলেও ধীরে ধীরে ভীতিকে জয় করে ভোটাররা তাদের নগর পিতা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ঝাপিয়ে পরে।

নির্বাচন কমিশন ভোলায় কারচুপির নির্বাচন উঠিয়ে নিলেও বন্দর নগরী চট্টহগ্রামে সবার চোখের সামনে কারচুপি করা অনেকটা কষ্টকর হতে পারে এমন আশংকায় হয়তো সরকার দিনে ভোট গ্রহণকে মোটামোটি গ্রহণযোগ্যভাবে পরিচালনা করেছে, যদিও বিশটি কেন্দ্র থেকে আনারস প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ই-ভোট চালু হলো। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে ব্যালট পেপারের বদলে  ইলেকট্রনিক মেশিনে অংকিত প্রতীকের পাশে বোতাম টিপে ভোট দিয়েছেন। যদিও ইভিএমও ডিজিটাল কারচুপির অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে পারে নি।

নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন প্রতিদন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহিউদ্দিন ও বিএনপি জামায়াত সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী মনজুরের মাঝে মূল প্রতিদন্দ্বিতা হয়। এছাড়া ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৯ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

৬৭৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তান, ৪৭৪৮ জন  সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৯৪৯৬ জন পোলিং কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য, একটি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৬৭৪টিভোট কেন্দ্র, ৪ হাজার ৭৪৮টি ভোট কক্ষ মিলে অনুষ্ঠিত হলো এ নির্বাচন। মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ভোটগ্রহণ হলেও মহিউদ্দীন চৌধুরীকে রাতের আধারে নির্বাচনী ফলাফল ছিনতাইয়ের মাধ্যমে জিতিয়ে নেয়ার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলে। তাই মহিউদ্দীন এগিয়ে থাকা কয়েকটি সেন্টারের ফলাফল ঘোষণা করে বাকী লক্ষ লক্ষ ভোটের ফলাফল প্রকাশ না করে নানাবিধ গরিমশি শুরু করে। তবে আওয়ামী লীগের অত্যাচার, নির্যাতন, নীপিড়ন, নারী ধর্ষণ, খুণ, টেন্ডারবাজিসহ নানাবিধ অপকর্মে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশে বেছে নেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভোটাররা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করলে সরকারের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে চারিদেকে পানি বেষ্টিত দূর্গম চরাঞ্চল ভোলার মতো নয় বীর চট্টলা। তাই রাতের আধাঁরে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র হলেও সাধারণ ভোটাররা তা রুখে দেয়, ছিনিয়ে আনে কাঙ্খিত বিজয়।

এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জনগণ এ মেসেজটি পাঠাতে সক্ষম হলো যে, দেশ চালাতে হলে জনগণকে সাথে নিয়েই চালাতে হবে। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পায়ে দলে, একদলীয় বাকশাল কায়েম করে ভিনদেশী কোন প্রভূদের আশীর্বাদে দেশ চালানোর দিন শেষ হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের কন্ঠরোধে একেরপর এক পত্রিকা বন্ধ করে, টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে, হানাদারদের মতো বুদ্ধীজীবীদের চোখ বেঁধে রিমান্ডে পাশবিক নির্যাতন করে এ দেশেটাকে শাসন করা যাবে না।

সরকারের সামনে সমূহ বিপদ। জনগণকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে রাজপথে নামিয়েছে। সামনে হরতাল, অবরোধ। তাই সঠিকভাবে ও ভালোয় ভালোয় এ মেয়াদ শেষ করতে দেশ ও জনবিরোধী সকল কর্মকান্ড থেকে সরকার বিরত থাকবে এটিই কামন। পাশাপাশি নবনির্বাচিত মেয়রকেও সতর্ক হতে হবে, শুধুমাত্র তার চারিত্রিক মাধুর্য কিংবা ভালোবাসায় প্রলুব্ধ হয়রে জনগণ তাকে নগরপিতা নির্বাচিত করেনি, বরং জনগনের সামনে আর কোন বিকল্প না থাকায়ই তার ভাগ্যে শিঁকে ছিড়েছে। তাই সাধারণ মানুষের আবেগকে মূল্য দিয়ে তাদের নাগরিক যাবতীয় সমস্যা সমাধানে তিনি সচেষ্ট হবেন এ আশা করি।

আসুন এ শুভ মুহুর্তে দেশপ্রেমী বীরসেনা মাহমুদুর রহমানের জন্য দোয়া করি, এবং কারার লৌহকপাট ভেঙ্গে তাকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

********************************************************************************************************

অন্য ক্ষেতের ফসল

***********************************************************************************************

যেসব কারণে হেরে গেলেন মহিউদ্দিন

ঢাকা, ১৮ জুন (শীর্ষ নিউজ ডটকম): চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর। গতকাল ১৭ জুন অনুষ্ঠিত সিসিসি মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দিনের ভরাডুবির মধ্যদিয়ে শাসনকালের পরিসমাপ্তি ঘটল। মেয়র নির্বাচনে সরকারি ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের এম মনজুর আলম মনজু আনারস প্রতীক নিয়ে ৯৫ হাজার ৫শ’ ২৮ ভোটে বিজয়ী হওয়ার খবর ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

পরপর তিনবার মেয়র নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, তুখোর রাজনীতিবিদ মহিউদ্দিন চৌধুরী চতুর্থবার মেয়র নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করেছে। এসবের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন  নিজেই দায়ী।

অবশ্য মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এর আগেও উত্থাপিত হয়েছে। কিন্তু তা আমলে নেয়া হয়নি। এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবারের নির্বাচনে।  মূলত, বিগত নির্বাচনগুলোতে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, সিটি করপোরশনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, দলীয় নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে দল পরিচালনা করা এবং দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, সরকারি স্থাপনা দখল করা, বন্দর সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতা, শ্রমিক অসন্তোষ, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণাসহ অসংখ্য অভিযোগ মহিউদ্দিনকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অভিযোগ রয়েছে, ১৭ বছরে কখনো ২০ দফা, কখনো ৪০ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন তিনবার নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করতে পারেননি মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার স্বঘোষিত ৪০ দফায় চট্টগ্রাম মহানগরের আয়তন ৬০ থেকে ১২০ বর্গ কিলোমিটারে উন্নীত করার কথা ছিল। কিন্তু এবারও ৬০ বর্গ কি.মি. আয়তনের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে।

নগরীর পানি সংকট নিরসন ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র মহিউদ্দিন। কিন্তু নগরীতে পানি সংকট প্রকট রেখেই তিনি প্রিমিয়ার ড্রিংকিং ওয়াটার নামে নিজ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া, নগরীর নালা-নর্দমা ভরাট করে অবৈধভাবে ভূমি দখলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন। এসবই তার মানবিকতাবোধ ও দায়িত্বশীলতা বিবর্জিত ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কল্পনাপ্রসূত প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বিগত ১৭ বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে একওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি তিনি। গৃহ কর না বাড়িয়ে বরং এক শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। চতুর্থবারের মতো মেয়রপ্রার্থী হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। অপরদিকে, কোটি টাকা খরচ করে যে ওষুধ কারখানা করা হয়েছিল তা থেকে কোনো ওষুধই তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ফৌজদারহাট হতে ইপিজেড হয়ে সিআরবি পর্যন্ত সিটি সার্কুলার ট্রেন সার্ভিস চালু, কর্ণফুলীর তীরঘেঁষে পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত দুই স্তরের সড়ক নির্মাণ, সড়ক প্রস্তুকরণ ও বহদ্দারহাট থেকে সিইপিজেড পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ, টাইগারপাস পাহাড়ে আধুনিক ৫ তারকা হোটেল নির্মাণ, পর্যটন সুবিধা বাড়াতে পতেঙ্গায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, চাক্তাই খালের পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাক্তাই খালের মুখে স্লুুইস গেট স্থাপন করে মালামাল বহনের জন্য খালে সাম্পান চলাচলের ব্যবস্থা করা ছিল তার ৪০ দফার অন্যতম। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরেও এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাতে পারেননি তিনি।

সিটি করপোরেশনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে  সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। সিটি করপোরেশনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার অভিযোগকে আংশিক সত্য বলে স্বীকারও করেন তিনি।

মহিউদ্দিনের ভরাডুবির জন্য দলীয় কোন্দলকেও উপেক্ষা করা যায় না। গত ২৭ মে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মেয়র নির্বাচনে সহযোগিতা করা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের গণভবনে ডাকেন। নেতাদের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামনেই চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতারা মহিউদ্দিনের বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে তুলোধুনো করেন। ওই বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, মাহতাবউদ্দিন, আ জ ম নাসিরউদ্দিন দল পরিচালনায় মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনেন। এ সময় একজন নেতা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন। তাদের জেরার মুখে বস্তুত অসহায় হয়ে পড়েন মহিউদ্দিন। এ অসহায়ত্ব তার কৃতকর্মের চিত্রকেই দৃশ্যমান করে তুলেছিল সেদিন। এক পর্যায়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চান।

ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী অতীতে সবকিছু ভুলে গিয়ে নির্বাচনে জয়ের জন্য সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি অন্যদের ছোট করার মানসিকতা পরিহার করে সবাইকে সম্মান দিয়ে সকলের সাথে কাজ করার জন্য মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশ সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষত সারাতে পারেনি।


নিজ কেন্দ্রেও হেরেছেন মহিউদ্দিন

চট্টগ্রাম, জুন ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিজে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন সেখানেও এম মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হয়েছেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার ভোটের দিনে নগরীর শূলকবহর এলাকার আহম্মদ মিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন মহিউদ্দিন।

ভোট দেওয়ার পর নিজের জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নগরবাসী আগের নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করে চট্টগ্রামকে একটি উন্নয়ন মডেল ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলায় সুযোগ করে দেবে।

ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, এ কেন্দ্রেই তিনি ৩৫ ভোটে বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ কেন্দ্রে মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৫৭১ ভোট। আর মনজুর পেয়েছেন ৬৬৬ ভোট।

কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার দুই হাজার ৩৫৯ জন।

অন্যদিকে নিজের ভোটদান কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন মনজুর আলম।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ এলাকায় হাজী দাউদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিটি গেইট কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মনজুর বলেন, “আমি আমার জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ভোটের ফলাফল মেনে নেব।”

মনজুর এ কেন্দ্রে এক হাজার ১৭৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

এখানে মোট ভোটার তিন হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে মনজুর ১ হাজার ৬২৮ এবং মহিউদ্দিন ৪৪৯ ভোট পেয়েছেন।


সিসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের নিরঙ্কুশ বিজয়

চট্টগ্রাম, ১৮ মে (শীর্ষ নিউজ ডটকম): চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয় পেয়েছে ২৮টিতে। এছাড়া বাকিগুলোতে ১১টি আওয়ামী লীগ ও ২টি জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর জয় পেয়েছেন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আনারসের ভারে জাহাজডুবি, বিশাল ব্যবধানে মনজুর আলম বিজয়ী” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. চসিক নির্বাচন: ফলাফল পাল্টে দেয়ার আশংকা | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] […]

  2. Rifat Hussain বলেছেন:

    আমি নির্বাচনে সন্তুষ্ট তবে আপনার ”দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভোটাররা ” ব্যাপারটা মানতে নারাজ । কারণ এরা পার্টির টাকা খাওয়া লোক তাই আপনাকে >মাইনাস< ।

    [উত্তর দিন]

  3. Pavel বলেছেন:

    -আনারসের ভারে জাহাজডুবি’-শিরোনামটি একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

    [উত্তর দিন]

  4. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    ভাইজান কি পত্রিকায় কাজ করেন? শিরোনামটা সেরকম দিয়েছেন। পত্রিকার লোকজন এরকম শিরোনাম দেয়।

    [উত্তর দিন]

  5. AD.sattar bhuayan বলেছেন:

    Pavel বলেছেন:
    আনারসের ভারে জাহাজডুবি’-শিরোনামটি একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ । ইনশাআল্লাহ .

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন