তবুও তো প্রাণে বেঁচে আছেন মাহমুদুর রহমান

হ্যা, এ যাত্রায় বোধ হয় প্রাণে বেঁচে যাবেন মাহমুদুর রহমান।  উত্তরা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ আদালত মাহমুদুর রহমানকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বিগত দিনগুলোর আইনী হেফাজতে পৈশাচিক নির্যাতনে বিধ্বস্ত মাহমুদুর রহমান সহ্যের শেষ সীমায় পৌছে যাওয়ায় আদালত আপাতত তাকে পরবর্তী নির্যাতনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার অবসর দিয়েছে আজ। আদালত অবশ্য পুলিশকে তাদের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চলতে বলেছেন আদালত। গত ৭ জুন মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া রিমান্ডে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছিলেন

আদালতের ভাষা মনে হয় আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে দিনে দিনে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ শব্দের সত্যিকারের অর্থ কি তা মনে হয় আমরা বুঝতে পেরেছি। আইনী হেফাজত নামের রিমান্ড কাকে বলে, তা জানে না এমন কেউ আছে কি? আর অপরাধ নিয়েই যাদের রুটিরুজি সেই আদালত রিমান্ডের অর্থ জানে না তা শিশুরাও বিশ্বাস করবে না। সব কিছু জেনেও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই হেফাজতের নামে নির্মম অত্যাচারের অনুমোদন দেয় আদালত। মনে হয় “অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদের” অর্থ হলো এতটা সতর্কতার সাথে নির্যাতন চালানো যেন কিছুতেই আসামীর মৃত্যু ঘটে না যায়। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট যে মাহমুদুর রহমানকে সরকার হত্যা করতে চায় না, বরং নির্যাতনের মাধ্যমে পোষ মানাতে চায়, তাই সতর্কতার সাথে নির্যাতনের অনুমোদন দিচ্ছে আদালত। তবে মাহমুদুর রহমানের মতো লৌহ মানবদের কাছ থেকে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পন আশা করা বোকামী ছাড়া কিছুই নয়।

আজ বিমানবন্দর থানায় দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার গত ৮ জুন মঞ্জুরকৃত ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হলে জেলখানায় শারীরিক পরীক্ষার পর সুস্থ প্রমাণিত হলে জেলখানা থেকে রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতে বার বার পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয়ার পরও, আদালতের কাছে প্রাণ বাচানোর আকুতি জানানোর পরও আদালত জেলখানা থেকে রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রাখার অর্থ কি দাড়ায়? “শারীরিক পরীক্ষার পর সুস্থ প্রমাণিত হলে” কথাটির অর্থ কি তবে “নতুন করে নির্যাতনের সহ্য ক্ষমতা অর্জিত হলে” বুঝাতে চায় আদালত? এ কদিনের রিমান্ডে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে আর একটি ফুলের টোকা সহ্য করাও অসম্ভব, তাই আপাতত তার বিরাম প্রয়োজন, প্রয়োজন নতুন করে নির্যাতিত হওয়ার উপযোগী শরীর, এমনটাই সরকারের চাওয়া।

মাঝে মাঝে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কাঠগড়ায় দেখা যায়, অন্যের শরীরে ভর দিয়ে চলা মাহমুদুর রহমানকে।  দেখে এটুকু আনন্দ যে, তিনি এখনো বেঁচে আছেন। আজ আদালতের আদেশে এটুকু অন্তত শান্ত্বনা যে, সরকার মাহমুদুর রহমানকে প্রাণে মারছে না, নির্যাতনে নির্যাতনে মাহমুদুর রহমানকে বোধহীন জড়পদার্থ পরিণত করে বাকশালী প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবে সরকার।তবুও তো তাকে দেখে জীবিত ফিরে পাবার আশা জেগে উঠছে মনে, এইতো অনেক পাওয়া।

××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××


মাহমুদুর রহমানের মুখে আসুন শুনে নেই রিমান্ড নামের আইনী হেফাজতের লোমহর্ষক বর্ণনা:

ক্যান্টনমেন্ট থানায় অমার ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে তাতে আমার বাঁচার কথা নয়। আমার সৌভাগ্য যে আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। দেখা হওয়ার কথা ছিল না। গত ৯ তারিখে আমাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। প্রথম দিন গভীর রাতে ৫/৬ জন লোক এসে চোখ বেঁধে আমাকে বিবস্ত্র করে মেঝেতে ফেলে দেয়। নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক কায়দায় তারা আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে দেখি থানার সেকেন্ড অফিসারের কক্ষে। মাননীয় আদালত আমাকে বাঁচান।

মাহমুদুর রহমান ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলেন, আপনি একজন নারী। তবুও বলতে হচ্ছে আই ওয়াজ আনড্রেসড (আমাকে বিবস্ত্র করা হয়েছে)। আমার চোখ বাঁধা হয়েছে, কনুই দিয়ে পিঠের ওপর আঘাত করে বসিয়ে আমার প্যান্ট খুলে ফেলা হয়েছে। আমাকে বিবস্ত্র অবস্থায় হ্যাচকা টান দিয়ে ও পিটিয়ে মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমার গোপনস্থানে সজোরে চাপ দেয়, আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার আর কিছুই স্মরণে নেই। সম্ভবত এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর যখন জ্ঞান ফেরে তখন আমি দেখি থানার সেকেন্ড অফিসারের কক্ষে আমাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন আমি দেখলাম নড়তে পারছি না। টর্চারড হওয়ার কারণে সম্ভবত আমি নড়তে পারছি না। আমার কোমরের পেছনে ব্যথা হচ্ছে।
তারা আমাকে কোনো প্রশ্নই করেনি। শুধু টর্চার করল। পরের দিন আল্লাহর রহমতে আমি কিছুটা স্বাভাবিক হই। পৌনে একটার দিকে আবার আমার চোখ বাঁধা হলো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আমি একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক। চোখ বাঁধলেন কেন? তারা বলল রিমান্ডের নাকি এটাই নিয়ম। আমি জানি না আপনাদের আইন আদালতে এরকম নিয়ম আছে কিনা? গতকাল আবার জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে।
আমরা মানবাধিকারকে কোনো মূল্য দেই কিনা। আপনার প্রতি সম্মান রেখে বলছি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। কোনো সাক্ষী নেই। তবু মামলা করামাত্রই আপনারা রিমান্ড দেন। কিন্তু রিমান্ডের নামে আমাদের ওপর যে কী টর্চার হয় সেটা দেখার কেউ নেই। রিমান্ডের চারদিন গেছে। আল্লাহ আছেন, তিনি সবই দেখছেন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“তবুও তো প্রাণে বেঁচে আছেন মাহমুদুর রহমান” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    আন্দোলন, অপেক্ষা আর ধৈর্য ধারন করা ছাড়া কিছু দেখছি না। আন্দোলন তো কম হলো না।

    [উত্তর দিন]

  2. mushfiq বলেছেন:

    চমতকার!
    আপনার লেখা পড়লে আজকে নির্যাতনের মুথেও প্রাণ ফিরে পেতের মাহমুদুর রহমান

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন