মৃত্যু উপত্যকার নাম বাংলাদেশ

লাশের মিছিল বেড়েই চলেছে। বেগুনবাড়ী, নীমতলী, কল্যাণপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন নাম। শোকের মিছিলের যেন শেষ নেই, যেন পুরো দেশটাই বিভীষিকাময় মৃত্যু উপত্যকা।

আজ ভোররাতে আবার পাহাড়  ধ্বসে ঝরে গেল ৬ সেনাসহ ৫১টি তরতাজা প্রাণ। পুরো জুন মাসটাই যেন মাতমের মাস। ১২১ জন পুড়ে পুড়ে অঙ্গার করে পুরো দেশ কাঁদিয়েছে নিমতলী, বড় লোকের পাপের পাহাড়ে পিষ্ট করে ২৫টি অসহায় খেটেখাওয়া মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল বেগুনবাড়ী। অথচ এর প্রতিটি দূর্ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবী আমরাই দায়ী। আমরাই প্রতিনিয়ত খুঁড়ে চলেছি নিজের হাতে নিজেদেরই গোর।

পাহাড় ধ্বস বাংলাদেশের জন্য নতুন কোন ঘটনা নয়। পাহাড়ের নীচে চাপা পড়ে প্রতিনিয়ত মানুষ চলে যাবে মৃত্যুর ওপারের ভুবনে, এ যেন খুবই স্বাভাবিক বিষয়। দেশের ইতিহাসে ভয়ংকরতম পাহাড় ধ্বসে এইতো মাত্র দুটো বছর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে প্রাণ হারিয়েছিল ১২৮ জনেরও বেশী। এ থেকে পরিত্রানের কোন পধ নেই, মূলত: দেশটাকে দেখভাল করার সত্যিকারের কোন অভিভাবক নেই। হ্যা, সরকার নামের একটা আজব সংগঠন আছে বটে, তবে তা গুটি কয়েক মানুষের আখের গোছানোর যন্ত্রবিশেষ। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ক্ষমতার পাষাণ প্রাচীর ছিন্ন করে কিছুতেই সরকারের নাগাল পায় না, পাষাণ প্রাচীরে মাথা কুটে কুটে মরে মানবতা।

তবে কি প্রকৃতি নেমে পড়েছে চরমতম প্রতিশোধে? প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয় পরিবেশের ভারসাম্য। বনের পর বন উজাড় হয় ইট পাথরের শহরের তরে। সংবাদ আসে পত্র-পত্রিকায়, সচিত্র প্রতিবেদন দেখা যায় বিভিন্ন টেলিভিশনে। হয় আন্দোলন, সংগ্রাম, পরিবেশ বাঁচাতে নানান কর্মসূচী। আশ্চর্য এই যে অধিকাংশ ঘটনার সাথে সরাসরি কোন না কোন ভাবে প্রশাসন যুক্ত। কখনো কখনো লোক দেখানো সরকারী মিটিং হয় বটে, তবে তারা যে কতটা অসহায় তার একটা নাটক মঞ্চায়ন হয় মাত্র সেসব অনুষ্ঠানে।

আমরা এভাবে আর হারাতে চাই না সোনার বাংলাদেশ, প্রিয়জন হারিয়ে আমরা আর চাইনা বিলাপে বিলাপে ভারী করতে নির্মল বাতাস। আছে কি এমন কেউ যে দাড়াবে মানুষের পাশে, দাড়াবে মানবতার পাশে, দাড়াবে প্রকৃতির পাশে, সত্যিকারের অভিভাবক হয় আমাদের সুখে হাসবে, দুঃখে কাঁদবে, ভালোবেসে দুদন্ড বসবে পাশে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মৃত্যু উপত্যকার নাম বাংলাদেশ” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. zia বলেছেন:

    The government who oppose the law Almighty Allah must bring the curse of Allah

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আল্লাহ আমাদেরকে তার কঠিন পাকড়াও থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন