মিডিয়া দমনে বাংলাদেশের সুনাম (?) বাড়ছে

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক “Committee to Protect Journalists” তাদের বিশেষ রিপোর্ট “Getting Away With Murder” -এ বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক হত্যা ও হত্যাকারীদের অব্যহতির প্রতিবেদন তুলে ধরে। এতে বাংলাদেশের অধ:গতি পরিলক্ষিত হয়। ২০০৯ এর রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে ১২ তম ছিল সেখানে আরেকধাপ এগিয়ে এবার ১১তম স্থান দখল করে নিয়েছে। অসম্ভব নয় সাংবাদিক দমন নিপীড়নে অচিরেই বাংলাদেশ ১ম স্থান অধিকার করবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের এপ্রিলে 10 Worst Countries to be a Blogger শিরোনামে যে রিপোর্ট ছাপে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান না থাকলেও যে সকল সূচক দিয়ে রিপোর্টটি তৈরী করা হয়েছে তার কয়েকটি সূচকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ যথেষ্ট পারদর্শীতা অর্জন করেছে। সূচক গুলি পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরছি:

  • ব্লগারদের কি কারাবাস দেয়া হয়?
  • ব্লগাররা কি হয়রানি, সাইবার-আক্রমন, হুমকি, নির্যাতনের শিকার হয়?
  • ব্লগাররা কি নিজেদের রক্ষার্থে লেখা নিজেরাই সেন্সর করেন?
  • সরকার কি ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে?
  • ব্লগারদের কি সরকার অথবা আইএসপির কাছে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় ও ব্লগিংএর পূর্বে নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হয়?
  • ব্লগারদের নিষিদ্ধ করতে দেশে আইন রয়েছে কি?
  • কারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তা সরকার পর্যবেক্ষণ করে কি?
  • সরকার কি ইন্টারেট ব্লক বা নিয়ন্ত্রণ করতে ফিল্টারিং টেকনোলজি ব্যবহার করে?

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অযুহাতে (যদিও বিডিআর বিদ্রোহের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় বন্ধ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে) ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে অডিও প্রকাশিত হওয়ায় ইউটিউব বন্ধ হয়েছে এবং বেশ কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবকিছু বাংলাদেশের মর্যাদা ভার্চুয়াল বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

মিডিয়া দমন তখনই প্রয়োজন হয় যখন সরকার অনৈতিক কোন কাজে জড়িয়ে পড়ে এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়ে পড়লে ব্যাপক বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখা দেয়। বিশেষ করে সরকার যখন ব্যাপকভাবে বিরোধীদের হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দিতে চায়, তখন পত্রিকার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় পত্রিকা, সাংবাদিকদের হুমকি ভয়ভীতি দেখানো হয়, এবং মিডিয়াগুলো এরপরেও সরব থাকলে হত্যা করে কন্ঠ রোধ করা হয়। এ দ্বারা একটি সরকারের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াপনাই প্রকাশ পায়। এবং বলাই বাহুল্য, আন্তর্জাতিক মহলে দেশটি সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং প্রবাসী ভাইয়েরা স্নায়বিক চাপে পড়েন।।

ইদানিং বাংলাদেশ একই পথে হাটছে। বর্তমান আওয়ামী সরকার ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে চ্যানেল ওয়ান নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, যমুনা টেলিভিশনকে প্রচারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হলো, বন্ধ করে দিয়েছে সবচেয়ে জনপ্রিয় টকশো “পয়েন্ট অব অর্ডার”। গৃহিনীদের কাছে “গুলশান এভিনিয়্যু” এবং রাজনীতি সচেতনদের জন্য “পয়েন্ট অব অর্ডার” এ দু’টিই সব চেয়ে জনপ্রিয়। বলতে গেলে বাংলাভিশন এখন বিকলাঙ্গ টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়েছে। ইতমোধে আরো বেশ কিছু টিভি চ্যানেল তাদের সংবাদ ও অনুষ্ঠানমালায় পরিবর্তন এনেছে, যতটা সম্ভব সরকার বিরোধী আলোচনা এড়িয়ে চলছেন। আরো প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বন্ধের হুমকি দিয়েছেন সরকারের একজন মন্ত্রী। তাই বেকারদের দেশে সৌভাগ্যবান চাকুরীজীবীরা সত্য কথা বলতে গিয়ে চাকুরী হারানোর দু:সাহস দেখানোর হিম্মত হারিয়ে ফেলছে।

সরকার ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে দৈনিক আমার দেশ নামের অত্যন্ত জনপ্রিয় পত্রিকা, গ্রেফতার করা হয়েছে পত্রিকাটির সম্পাদককে। ইতোমধ্যে সরকারের অনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যাপক সমালোচনা করে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নিজেই একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন এবং এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, প্রধান বিরোধী দল যেখানে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য মাঠেই নামতে পারে নি সেখানেই মাহমুদুর রহমান একাই প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছেনএ কারনে বেশ কয়েকবার তার উপর দেশে ও দেশের বাইরে হামলা হয়েছে। অবশেষে তাকে বিভিন্ন হয়রাণীমূলক মিথ্যে মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, চেষ্টা চলছে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত প্রমাণের এবং রিমান্ডের নামে পাশবিক নির্যাতনের সম্মুখীন করতে আদালতের কাছে বার বার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে মাহমুদুর রহমান কারাগারে ডিভিশন প্রাপ্য হলেও রাখা হয়েছে সাধারণ কয়েদি করে, খেতে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, ভাঙ্গা গ্লাসে পানি।

এর আগের আওয়ামী সরকারের আমলেও বেশ কিছু জাতীয় দৈনিক বন্ধ করে সাংবাদিকদের বেকার করা হয়েছিল এবং স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী সরকার ১৯৭৫ সালে মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা বাদে সব দৈনিক নিষিদ্ধ করে বাক স্বাধীনতার করব রচনা করেছিল। দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত, অথচ প্রধান মন্ত্রী বলছেন,”গণমাধ্যম স্বাধীনতা ভোগ করছে”

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য ইতোমধ্যে পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন যার মাঝে সরকারপন্থী পত্রিকার সম্পাদকেরাও রয়েছেন। তারা জানেন, বাঘকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার তেজ আরো বাড়িয়েই দেওয়া যায় মাত্র, রিমান্ডে নিলেই বাঢ় মিউ মিউ রবে পোষ মানে না।

আমরা পাঠকরাও আশা করবো মাহমুদুর রমহানকে সকল প্রকার মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে নি:শর্ত মুক্তি দেয়া হোক এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হোক।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মিডিয়া দমনে বাংলাদেশের সুনাম (?) বাড়ছে” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. mushfiq বলেছেন:

    শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেননি
    কারণ, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য অনুসারে (১৯৭৫) গণমাধ্যম যত টুকু স্বাধীনতা ভোগ করার তা পূর্ণ ভাবেই করছে ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    হ্যা, আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমকে স্বাধীণভাবেই ভোগ করেছে এবং করছে।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন