গর্জে ওঠো আত্মভোলা বাঘের বাচ্চারা

গরীব ঘরে জন্মালে যা হয় তা-ই ঘটেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বেলায়। গরীবের মাঝে থাকে হীনমন্যতা, ভয়, সংশয়। যে কোন কাজের শুরুতেই সে ভাবে এটা আমাদের মতো গরীরের পক্ষে সম্ভব নয়। গরীর ঘরের কোন সন্তানকে স্কুলে দিলেও বেশিদূর পড়ালেখা করার সুযোগ পায় না। বাবা-মা বলেন কি হবে পড়ালেখা করে, ছেলে তো আর জজ ব্যারিস্টার হবে না। মেয়ে হলে তো স্কুল পর্যন্তও যাওয়া সকল ক্ষেত্রে হয়তো হয়েও ওঠে না।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অবস্থাও সেরকম। কিছুতেই তাদের নিজেদের শক্তির উপরে আস্থা রাখতে পারে না। যখনই খেলার মাঠে যায়, তখনই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দেখে ভরকে যায়। তাই খেলা শুরুর আগেই মনে মনে হার মেনে নেয় ওরা।
তবে বাংলাদেশের কিক্রেটারদের মনে যে আস্থা একটু দেরিতে হলেও ফিরে আসছে, বিশেষ করে ওয়ান ডে ম্যাচে, তা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারী, ২০০৬, বুধবার) বগুড়ায় সেই ইংগিতই দেখা গেছে।
অতীতের প্রতিটি ম্যাচ জয়ের পরে ঢাকাসহ দেশব্যাপী যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, রঙের ফোয়ারা ছোটে, তা কালকে খুব একটা লক্ষ করা যায় নি। অর্থাৎ দেশবাসীও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে। তাদেরও বোধহয় এ ধারণা হয়েছে যে বাংলাদেশ জিতবে এ তো সাধারণ ব্যাপার, বাংলাদেশের তো জেতারই কথা। যে বাঘের বাচ্চাটা এতদিন নিজেকে বেড়াল ভেবে মিউ মিউ করেছে, খেলার ছলে গরু, ময়ুর, ক্যাঙ্গারুর গায়ে কামর দিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছে। তাই সিংহের সাথে লড়াইয়েও তার আজ ভয় নেই।
সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরা। আমরা ১৪ কোটি বাংলাদেশী আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছি, তোমরা মনোবল হারিও না, গর্জে ওঠো। বিড়ালের মতো মিউ মিউ করে আমাদের আর লজ্জা দিও না।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন