চেয়ারম্যান চাচার জন্য ভালোবাসা

চেয়ারম্যান চাচা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। সারাক্ষণ জড় পদার্থের মতো চেয়ারে বসে থাকেন উদাস হয়ে, কি যেন সারক্ষণ ভাবেন। আর যখনই বাস্তবতায় ফিরে আসেন তখনই হু হু করে কেঁদে উঠেন।
অনেক দিন পর এবার ঈদের ছুটিতে তার বাসায় বেড়াতে গেলাম। পাশাপাশি বাসা আমাদের। মাঝ খানে ছোট খালটি আমাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে নি। ছোট সময় থেকেই তার বাসায় আমার অবাধ যাতায়াত।
এক সময় কী দোর্দান্ত প্রতাপশালী ছিলেন তিনি। পাড়ার লোক, গায়ের লোক তাকে দেখলে বেশ সমীহ করে চলতো। নিয়মিত নামাজও পড়তেন মসজিদে যেয়ে। অথচ এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া একান্ত ব্যক্তিগত কাজগুলোও করতে পারেন না।
তার এতোটা খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। ঈদের আগের দিন তার বাসায় যখন যাই আমাকে দেখে তিনি অঝোঁরে কেঁদে উঠলেন। চেয়ারম্যান চাচা কাঁদলেন, কিন্তু একটি কথাও আমার সাথে বলতে পারলেন না। কষ্টে আমার বুকটা ভেঙ্গে গেল, কিন্তু আমি তাকে ভালো করে সান্তনাও দিতে পারলাম না, একটু কাঁদতেও পারলাম না। কাঁদায়ও যে সুখ আছে তা যারা কাঁদতে পারে না তারাই হয়তো বুঝতে পারে।আজ সকালে মাকে ফোন করলাম। ছোট ভাইটা কয়েকদিন হলো বাড়িতে বেড়াতে গেছে। ছোটভাইর খোঁজ নিতেই মা বললেন ও তোর চেয়ারম্যান চাচার বাসায় গেছে, চেয়ারম্যান চাচাকে নিয়ে মর্নিং ওয়াক করতে। বাড়ীতে পৌঁছে ও চেয়ারম্যান চাচার খোঁজ নিতে তার বাসায় গিয়েছিল। চেয়ারম্যান চাচা নতুন কেনা হুইল চেয়ারে বসে অনেক কাঁদলেন। ছোট ভাইটি সেদিন চাচাকে কথা দিয়েছে যতদিন বাড়িতে থাকবে, চাচাকে সকাল বিকেল হুইল চেয়ারে ঘুরতে নিয়ে যাবে। সেদিন ও তাকে অরুণের দোকানে নিয়ে মিষ্টিও খাইয়েছে। শুনে এতো ভালো লাগলো যে ওর ছোট খাটো যত অন্যায় আমার মনে এতোদিন কষ্ট দিচ্ছিল তা নিমিষেই মাফ করে দিলাম। একজন মেধাবী ছাত্র হয়েও ও লেখাপড়া করতে চায় না কিন্তু ওযে ইতোমধ্যেই মানুষ হয়েছে এটা আমাকে পুলকিত করে।
মা বললেন, অনেকেই ওর প্রশংসা করছে, আবার অনেকে চাচার মেয়েদের ইংগিত করে বাজে মন্তব্য করতেও ছাড়ছে না। বিকৃতমনারা কিভাবে বুঝবে, সব মানুষ নারী চায় না, সুখ চায়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন