বাকশালের বাংলাদেশ

১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বলে দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল নামক একক রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছিল, এ কথা কমবেশী সবাই জানে। সেদিন দেশের ৪টি দৈনিক পত্রিকা বাদে সকল দৈনিক বন্ধ করে দিয়ে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছিল, এও কারো অজানা নয়। তবে যে জাতি স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করতে জানে ৩০ লক্ষ প্রাণ, মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য রাজপথে ঢেলে দিতে জানে বুকের তাজা রক্ত, সে জাতিকে নতুন করে আবার দাসত্বের শৃংখলে বন্ধী করার মতো হিম্মত যে আর কারো থাকতে পারে না ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান কিছুতেই তা বুঝে উঠতে পারেন নি। এমন স্বৈরশাসনের পরিণতি বিশ্বের কোথাও শুভ হয় নি, শেখ মুজিরের জন্যও তা মোটেই সুখকর ছিল না।

কিন্তু যে বাকশাল থেকে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ একবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা আবার জোড় করে চাপিয়ে দেয়া যায় না, ভালো করেই জানে আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগ নানান মুখোশের আড়ালে বাকশালী হিংস্রতা লুকিয়ে বার বার ফিরে আসে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। স্বাধীনতা পরবর্তী বাকশালী রক্ষীবাহিনীর যে বর্বরতা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, যে পৈশাচিকতার জন্য শ্রদ্ধার মন্দির থেকে নর্দমায় পতিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ, সেখান থেকে কি করে আবার বার বার ক্ষমতার মসনদে পৌঁছে যায় ওরা, তা গভীর বিশ্লেষণের দাবী রাখে।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতাগ্রহণের পেছনে যে অদৃশ্য শক্তিগুলো কাজ করে দিনে দিনে তা খোলাসা হয়ে যাচ্ছে। এবার নিরংকুশ বিজয় লাভের পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে, একে একে বেরিয়ে আসছে ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রহস্যের জট নিজেই খুলতে শুরু করেন। বিডিআর বিদ্রোহে ৩০ জন আওয়ামী লীগের সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তার বক্তব্য থেকেই জানা যায় যে এসকল অফিসারকে এসএসএফ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। তার একথাই প্রমাণ করে সেনাবাহিনীকে সুকৌশলে কতটা নির্লজ্জভাবে আওয়ামী করণ করা হয়েছে, এবং এভাবেই বিগত নির্বাচনে মইন উ আহমেদের সাথে আঁতাত  করে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে

আওয়ামী লীগ অতীত থেকে এটুকু শিক্ষা নিয়েছে যে একদলীয় বাকশাল আর এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না, যে উচ্ছিষ্ট বাংলাদেশের মানুষ ফেলে দেয় তা আর মুখে কখনোই তুলে নেয় না। তাই সুকৌশলে আওয়ামী লীগ আইন-আদালত, সেনাবাহিনী, শিক্ষাবিভাগ, পুলিশবাহিনীসহ প্রশানরের সকল সেক্টরে দলীয়করণের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। উদ্দেশ্য একটাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়তে যদি বাধ্যও হয় তবু যেন আওয়ামী করণের কারণে ফিরে আসা মোটেই অসম্ভব না হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের এ ফর্মূলা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে, বিশেষ করে প্রশাসনের এমন একটি দফতরও পাওয়া যাবে না যেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বসে নেই। বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী অকপটেই তা স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যাতে কোন প্রতিরোধ গড়ে উঠতে না পারে, তাদের অপকর্মের যেন কোনরূপ সমালোচনা না হয়, কোন বাধা-বিপত্তি যেন না আসে তাদের পৈশাচিক উৎসবে, তা নিশ্চিত করণে তারা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল, “চ্যানেল ওয়ান”। আরো বেশ কিছু চ্যানেল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী, জানিয়েছেন কি করে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের লোকদেরই চাকুরীর সুযোগ দেয়া হবে, বঞ্চিত করা হবে ভিন্নমতের চাকুরী প্রার্থীদের। উদ্দেশ্য একটাই, হয় আওয়ামী লীগের গুণগান কর, নয়তো না খেয়ে মরো।

ইতোমধ্যেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের চুড়ান্ত নীলনক্সা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। যেসকল স্কুল কলেজের সাথে বিরোধী কোন নেতার সম্পর্ক রয়েছে তাকে কোনঠাসা করে রাখা হচ্ছে, আর আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের প্রতিষ্ঠানকেও দেয়া হচ্ছে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা, করা হচ্ছে এমপিওভুক্তি । কিছুদিন আগে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা হলো তার মাঝে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান  বাদ দিলে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়াই মুস্কিল হয়ে দাড়ায়। ভুলে বিএনপি নেতা দুলুর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ এমপিওভুক্ত করায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনাও উষ্মা প্রকাশ করেন এবং এমপিওভুক্তি বাতিল হয়ে যায়।

কিছুদিন আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। এ সকল পরীক্ষায় আওয়ামী লীগের কোন সদস্য ছাড়া অন্য কেউ যে চাকুরী পাবে না তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে দলীয় লোক বাছাই না হওয়ায় ভাইবার তারিখ পেছানো হয়েছে । তবে নিছক আওয়ামী লীগ করি এমনটা বললেই যে চাকুরী জুটে যায় তাও নয়, এজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের জন্য উপযুক্ত সম্মানীও গুণতে হচ্ছে। তাই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ছুটছেন নেতা-মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে, ছুটছেন টাকা ও রোল নম্বর নিয়ে, চলছে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি ও লবিং

এভাবেই শিক্ষাব্যবস্থাকে আওয়ামী করণের মাধ্যমে জাতিকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে। শিশু ভূমিষ্ট হয়েই যেন মিডিয়ার বদৌলতে আওয়ামী লীগের গুনগান শেখে, কোমলপ্রাণ শিশুরা যাতে বিদ্যালয়ে ঢুকেই আওয়ামী শিক্ষকদের দলীয় প্রশিক্ষণ পায়, এবং বড় হয়ে যেন তারা চাপাতী লীগের গর্বিত সদস্য হয় তার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী শিবির থেকে যেন কোন প্রতিবাদ না আসে সেজন্য তাদেরকে পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে, বাধা দেয়া হচ্ছে সভাসমাবেশে, মিছিলে-মিটিংয়ে, বাধা দেয়া হচ্ছে বিরোধী যে কোন মতামত প্রকাশে। বাংলাদেশকে হাকিয়ে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গভীর থেকে আরো গভীর অন্ধকারে।

দ্রুত ছুটে চলছে দেশ, ছুটে চলছে পশ্চাতপানে, দ্রুততর হচ্ছে আওয়ামী করণ। তবু আওয়ামী লীগ জানে, তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে জাতি আবার জেগে উঠবে, রাজপথে নামবে জনমানুষের ঢল, বিদায় নিতে হবে আবার জনতার বিপ্লবে। তবু আশা একটাই, বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে আওয়ামী লীগের বিষবৃক্ষের যে বীজ তারা রোপন করে গেল, বিপদে আপদে তা ছায়া দেবে বটবৃক্ষের মতো, ঠিক যেমনটি দিয়েছিল বিএনপি আমলে আমলাদের অসহযোগ আন্দোলনে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“বাকশালের বাংলাদেশ” লেখাটিতে 7 টি মন্তব্য

  1. mushfiq বলেছেন:

    ভাই বাল নিয়ে এত বাজে লেখা অার পড়িনি ।
    বালের লোকেরা যেথানে সকল জনগণকে, সকল প্রতিষ্ঠানকে তাদের অাপন করে নিতে চাচ্ছে; সবাইকে সরকারী দলের গবির্ত অংশিদার করে নিতে চাচ্ছে সেটাকে অাপনি কেন এতথানি বাকা চোখে দেখছেন
    বুঝলামনা । মেডিসিন তিত্ক তাই মুরব্বীরা অনেক সময় জোর করে ……..এ প্রক্রিয়াকে অপছন্দ করলে সেচ্ছায় তা খেয়ে নিলেই হয়; অযথা অা.লীগকে দোষারোপ কেন ।
    .
    যুগটা বোকাদের নয় ।
    একটু মানিয়ে চলতে শিখুন । দেথছেননা মিডিয়ার রথী-মহারথীরা কী রকম সরকারী দলের গবির্ত অংশিদার হয়ে কাজ করছেন । কারণ তারা ভালো করেই বুঝতে পারছেন এটা ১৯৭৫ নয়, এটা ২০১০ । সরকারের সাথে চলতে ব্যর্থ হলে ৪টা কেন ১ টা পত্রিকা থাকবেনা । কারণ এ সরকার স্বাধীনতার
    পরের কোন দুর্বল সরকার নয় যে কোন ব্যর্থতা সহ্য করবে ।
    .
    “বোকা(“চ্যানেল)ওয়ান” টার সময় জ্ঞান নেই ।
    এ পরিণতার জন্য উপযুক্তই বটে ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    লা জওয়াব।
    এবার আমার দেশও বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে।
    http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=127874&cid=2

    [উত্তর দিন]

    একা চৌধুরী উত্তর দিয়েছেন:

    আপনার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক আপনার কথা ফলে গেছে।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    তাই তো দেখছি ভাই, কথাটি মিথ্যে হলেই খুশী হতাম।

  2. পিলখানা হত্যাযজ্ঞের রিপোর্ট প্রকাশের জন্য নিষিদ্ধ হলো দৈনিক আমার দেশ | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যুগে বাকশালী স্টাইলে মুখ বন্ধ রাখা যায় না তা হয়তো […]

  3. hak mawla বলেছেন:

    RAW – RESEARCH AND ANALYSIS WING – under Information Ministry of India – controls everything in Government’s agencies.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    দেশদ্রোহী সকল আমলাদের চিহ্নিত করে হাকিয়ে হাকিয়ে বর্ডারের ওপারে পাঠিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন