পুলিশ

আমেরিকান, ব্রিটিশ ও বাংলাদেশী তিন বন্ধু গল্প করছে।
ব্রিটিশ: আমাদের দেশের পুলিশ খুবই তৎপর। কোথাও কোন ক্রাইম হলে ৪৮ ঘন্টার মাঝে তারা অপরাধীকে সনাক্ত করতে সক্ষম।
আমেরিকান: এ আর এমন কি। আমাদের দেশের পুলিশ আরো বেশি তৎপর। কোথাও কোন ক্রাইম হলে ২৪ ঘন্টার মাঝে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারে আমেরিকান পুলিশ।
বাংলাদেশী: আমার দেশের পুলিশের কাছে নিতান্তই শিশু তোমাদের পুলিশ বাহিনী। বাংলাদেশে কোন অপরাধ ঘটার ২৪ ঘন্টা আগেই পুলিশ জানতে পারে একটা ক্রাইম হতে চলেছে।

নির্যাতন ১৯৭১

নির্যাতন ২০১০

পুলিশ। শব্দটির সাথে পরিচিত নয় এমন শিশুও খুঁজে পাওয়া যায় না। যদিও শিশুদের কাছে ঠোলা নামেই বেশী পরিচিত ওরা। আর বড়দের কাছে মুর্তিমান আতঙ্কের নাম পুলিশ। পুলিশ শব্দের সাথে মানবতার তীব্র বিরোধ। বলা যায় কোন মানুষ যখন মানবতাকে বিসর্জন দিয়ে পশুতে পরিণত হয় তখনই বোধ হয় তারা পুলিশ হয়ে যায়। কোন ভদ্রলোক বিপদে পড়ে ভুলেও পুলিশের কাছে নালিশ জানায় না, সবাই জানে, যা হারিয়েছে তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না, পুলিশে নালিশ করে হয়তো যা আছে তাও হারাতে হবে। আজ সবাই  মানে “মাছের রাজা ইলিশ আর পিশাচের রাজা পুলিশ“।

বিগত আওয়ামী শাসনামলে আমি নিজেও একবার থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাটের বিরুদ্ধে থানায় অন্তত জানিয়ে রাখাটা প্রয়োজন বোধ করেছিলাম। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমার অভিযোগ শুনে গর্জে উঠলেন, “মুখে ছাগলের নাহান ঐ বা… গুলা রাখছো ক্যান?” আমার নালিশের সাথে কর্মকর্তার হুংকারের যদিও দূরতম কোন মিলই নেই, তবু হঠাৎ করে এমন অবান্তর প্রশ্নে আমার বুঝতে মোটেই কষ্ট হয় না যে তিনি আমার নালিশ শুনতে মোটেই প্রস্তুত নন এবং এরপরও তাকে বিরক্ত করলে বাড়ী পর্যন্ত হয়তো হেটে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। এরা ক্ষমতাধর অপরাধী রাজনীতিবিদদের পা চাটতেই শুধু জানে, অপরাধীরাই ওদের ভাই-বন্ধু আপনজন। আর কে না জানে সাধারণ মানুষ দেখলে পোষা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসবেই।

কোথাও কোন অন্যায় নির্যাতন কিংবা সংঘর্ষ হলে পুলিশের দায়িত্ব যেন তা নির্বিঘ্নে সমাপ্ত হয়, তা নিশ্চিত করা। এ কারনে যখন কোন সংঘর্ষ হয় তখন দেখা যায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভাবে দর্শকের ভূমিকা পালন করে। যখন সংঘর্ষ শেষ হয়, ঝড়ে যায় তরতাজা প্রাণ তখনই প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের মতো তারা তৎপর হয়ে ওঠে, নিরীহ জনগনকে বেধরক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে, যেন অমন নয়নাভিরাম সংঘাতের দৃশ্যটা এসব সাধারণ মানুষের কারনে শেষ হয়ে গেল, নয়তো আরো কিছুটা সময় তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করা যেত হত্যাকান্ড।

ট্যাক্সি ক্যাব চালকদের গাড়ী রিক্যুইজিশন নিয়ে ক’দিন ধরে বাংলাদেশে যে বর্বরতা দেখছি তা ৭১এর কথাই মনে করিয়ে দেয়। আমরা শুধু পাকিস্তানী হায়েনাদের কথাই বলি, আমাদের পুলিশ বাহিনী যে সে স্থান অনেক আগেই দখল করে নিয়েছে সে খবর চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন পরে না। প্রতিনিয়ত রিক্সাওয়ালা, কুলি, মুটে, সাধারণ মানুষ অত্যাচারিত হচ্ছে পুলিশের হাতে। কখনো বা ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা হোস্টেলে হানা দেয় মধ্যরাতে, কখনো বা রাজপথে বিবস্ত্র করে নারীদের। ওদের অপকর্মে কেউ প্রতিবাদী হলেই নেমে আসে অত্যাচারের স্টীম রোলার, ক্রস ফায়ারের নামে মিথ্যে নাটকে কেড়ে নেয়া হয় তরতাজা প্রাণ।

এ কথা সত্য যে ক্যাব চালকরা যাত্রীদের নিয়মিত হয়রানী করে থাকে। কিন্তু যাত্রী হয়রানীর কোন অভিয়োগ নিয়ে পুলিশের সহায়তা পেয়েছে এমন ভাগ্যবান কেউ আছে কি না আমার জানা নেই, অন্তত আমার পরিচিতদের মাঝে কেউ নেই, আমি নিজেও কোন প্রতিকার পাই নি। লঞ্চ স্টেশনে পুলিশের সামনে জোড় করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের সাহায্য চেয়েও পাই নি, নিরুত্তাপ কন্ঠে পরামর্শ দিয়েছে, “শুধু শুধু ঝামেলা করেন ক্যান, দিয়ে দেন তো”। অথচ যখন নিজেদের আতে ঘা লেগেছে তখন ঠিকই জনসমুখ্যে পিটিয়ে পিটিয়ে দিগম্বর করে দিতেও ওদের বিবেকে বাধে নি, আর বাধবেই বা কি করে, বিবেক তো মানুষের থাকে, পশুদের থাকে পাশবিকতা।

আইনের পোষাক পড়া জানোয়ারদের পাশবিকতার অবসান চাই।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“পুলিশ” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. zia বলেছেন:

    shala police

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন