অন্ধকারের হাতছানি

মানুষ সামাজিক জীব। সে যেমন পারেনা একা জীবন যাপন করতে ঠিক তেমনি এমন কিছু সে করার অধিকারও রাখেনা যা সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সমাজে গড়ে ওঠেছে বিভিন রসম রেওয়াজ, কৃষ্টি, সরকার ব্যবস্থা, ধর্ম ইত্যাদি। বেধে দেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি যা পালন করতে মানুষ বাধ্য এবং যা পালন না করলে মানুষকে সমাজের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।
আলাহ তায়ালা প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালামকে তার প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করলেন। কিন্তু জ্ঞানের শ্রষ্টা আল্লাহ তার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের জন্য একজন মানব নয় বরং মানব জাতির প্রয়োজন অনুভব করেন, আর তাই তিনি আদম (আঃ) এর পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করেন হযরত হাওয়া (আ:) কে প্রথম মানবী রূপে। তাদেরকে শুধু একটি নিদিষ্ট গাছের কাছে যেতে নিষেধ করে বেহেস্তে অবাধে চলাফেরা ও আমোদের সুযোগ দেয়া হলো, ফলে বেহেস্তের স্নিগ্ধ পরিবেশে তারা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হন। কিন্তু শয়তান সিদ্ধান্ত নেয় তাদেরকে এ আরাম আয়েম থেকে বঞ্চিত করার।
শয়তান ভাল করেই জানত মানুষের দূর্বলতা কথা। মানুষের জীবনের সবচেয়ে প্রধান দূর্বলতা হচ্ছে জ্ঞান পিপাসা এবং দ্বিতীয়তঃ যৌনস্পৃহা । শয়তান তাই আদম ও হাওয়া (আঃ) কে জ্ঞানের অবারিত দ্বার খুলে দেয়ার কথা বলে নিষিদ্ধ ফল খেতে উৎসাহিত করে এবং এর ফল স্বরূপ তাদের চোখ খুলে যায়, পরস্পরের সামনে উন্মোচিত হয় উভয়ের লজ্জাস্থান। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারলেন এবং গাছের পাতা দিয়ে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা চালালেন। শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে বেহেস্ত থেকে বিতারিত করলেন। আজো শয়তান মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এই মোক্ষম অস্ত্রই ব্যবহার করছে।
যৌন জীবন মানুষের জীবনে একটি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলাম যৌনস্পৃহাকে মন্দ চোখে দেখেনা এবং একে দমিয়ে রাখার পক্ষপাতিও নয় বরং ইসলাম একে নির্দিষ্ট নিয়মনীতির আলোকে সীমিত পরিসরে ব্যবহারকে ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানব জাতির যে ধারা অব্যাহত রয়েছে তা কেবল এই পরিশীলিত যৌন জীবনেরই ফল। মানুষের পারস্পরিক ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের কারণেই মানুষ হাজারো বাধাকে পায়ে দলে আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। শুধু বংশবৃদ্ধিই যদি আল্লাহর ইচ্ছে হতো তবে একটি এমিবা কিংবা হাইড্রা যেমন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে নতুন জীবনের সৃষ্টি করে কিংবা বংশ বৃদ্ধি করে, মানুষকেও আল্লাহ বংশবৃদ্ধির ঐ একই পদ্ধতি দিতে পারতেন কিংবা শুধু যৌনবাসনা পূরণের জন্যই যদি মানুষের জন্ম হতো তবে আল্লাহ পারতেন কেঁচোর মতো উভলিংগ প্রাণীতে পরিনত করতে। কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আল্লাহ মানুষকে শুধু বংশ বৃদ্ধির জন্য কিংবা শুধু ক্ষুধা ও যৌন প্রয়োজন মেটানোর জন্যই সৃষ্টি করেননি। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সার্বজনীন ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য।হাইড্রা কিংবা এমিবার মতো যদি মানুষ বংশ বৃদ্ধি করতে পারতো তবে মানুষের মধ্যে এ ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের পরিবর্তে হিংসা বিদ্বেষ ও অরাজকতাই বেশি দেখা যেতো এবং এক সময় হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেত। যৌন আবেদনের জন্যই মানুষ একে অপরকে ভালবাসে, সান্নিধ্য কামনা করে। কিন্তু মিষ্টি খেতে মজার হলেও যেমন দুধের শিশু ও ডায়াবেটিক রোগীর জন্য তা ক্ষতিকর ঠিক তেমনি অবাধ যৌন অধিকারও মানব জাতির জন্য অকল্যাণকর। তাই আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করে যুগে যুগে তার দূতদেরকে প্রেরণ করেছেন সামগ্রিক মানব জাতির জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর তার সীমা পরিসীমা নিয়ম নীতি বেধে দিতে।
কোন ধর্মই অবাধ যৌনাচার সমর্থন করেনা। কিন্তু শয়তান জানে মানুষকে পদস্খলিত করতে হলে তাদের সামনে তাদের যৌন জীবনকে তুলে ধরতে হবে। আর এ পথ ধরেই মানুষ এগিয়ে যাবে অবাধ যৌনতার দিকে এবং মুখ ফিরিয়ে নিবে আল্লাহর আদেশ থেকে, মুখ ফিরিয়ে নিবে সমাজের সকল নিয়ম কানুন থেকে।
ইহুদি, খৃষ্টান সম্প্রদায় তাদের আদর্শ থেকে সরে এসে যখন অবাধ যৌনতা এবং ভোগবিলাসে লিপ্ত হলো তখনই তাদের পরাজয় নেমে এলো। রাসূল (সাঃ) এর আগমনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একদল মুজাহিদ আল্লাহর দেয়া জীবন বিধানকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে মেনে নিয়ে এবং অবাধ লোভ লালসা ও যৌনতা থেকে পবিত্র থেকে তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ শক্তি পারস্য, রোম ও মিশরীয় সভ্যতার পতন ঘটায় এবং আল্লাহর হুকুমত কায়েম করে। ইহুদি পন্ডিতরা ব্যাপক গবেষণা করে মুসলমানদেরকে মোকাবিলা করতে তাদের মতো উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠনের বিপরীতে মুসলমানদের নৈতিক চরিত্রে ধ্বঃস নামানোর ষড়যন্ত্র করে এবং এক সময় সফলও হয়। ফলে ইহুদি ও খৃষ্টান জোট একে একে তাদের হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পায় এবং মুসলমানদেরকে চীরতরে উচ্ছেদ করতে চেষ্টা চালায়।
বর্তমান সময়েও তাদের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। আজ তাদের টার্গেটে রয়েছে মুসলিম অধ্যুষিত পবিত্র শহরগুলো। আর এ কাজ করতে তারা তৈরী করেছে মুসলমানদের মধ্যেই একদল গাদ্দার, যারা নৈতিকতাকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে পশ্চিমা ইহুদী খৃষ্টানদের চোখ দিয়ে দেখায়, কান দিয়ে শোনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে যখন সারা বিশ্বে আবার ইসলামের নব জোয়ার শুরু হয়েছে ঠিক তখনই পশ্চিমা শক্তি তৈরী করেছে মানব জাতির নৈতিক চরিত্র নষ্ট করার এক মোক্ষম হাতিয়ার। তারা জানে তাদের চরিত্র বলতে কিছুই নেই অতএব তাদের হারানোরও কিছু নেই, তাই মুসলমানদেরকে তাদের ঈমানী তেজকে নষ্ট করে চারিত্রিক স্খলন ঘটিয়ে তাদেরকেও তাদের কাতারে নামিয়ে আনতে পারলে মুসলমানদের আজীবন গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে। তাই তারা অবাধ তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মুসলমানদের পবিত্র যৌনজীবনকে কলুষিত করতে ইন্টারনেটের মতো শক্তিশালী মিডিয়াকে বেছে নিয়েছে।
যদি প্রশ্ন করা হয় সর্বাধিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কোনগুলি? নির্দ্বিধায় সকলেই স্বীকার করবেন যে যৌন উদ্দীপক সাইটগুলোই সর্বাধিক জনপ্রিয়। ইরাকে ইঙ্গ মার্কিন হামলার সময় ওয়েব সাইটে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয় ছিল ইরাক যুদ্ধ। আর বাকী সময় কখনোই অন্য কোন বিষয় সে আসন দখল করতে পারেনি। এতে স্পষ্টই বুঝা যায় বিশ্বে অবাধ যৌন চাহিদা মেটানোর যে অস্ত্র আমাদের হাতে এসেছে তা মুহুর্তেই আমাদেরকে জাহান্নামের অতল গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম।
বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক থেকে দু লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই ইন্টারনেটের এ আগ্রাসী ছোবল এখনো মহামারী আকার ধারণ করেনি এই বাংলাদেশে। অনেকে হয়তো বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ছোট্ট এই সংখ্যা দেখে কিছুটা আত্মতৃপ্তি পেতে পারেন। কিন্তু আপনাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে আর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টারনেট সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং তখন হয়তো এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা একলাখ থেকে এককোটিতে উন্নীত হতে দেরী হবেনা, কারন কে না জানে যে নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দূর্ণিবার। আর বাংলাদেশী নষ্ট ওয়েব সাইট একটিও না থাকলেও কিছু যায় আসেনা কারন আপনি বাংলাদেশের কোন পল্লী গ্রামে বসেই আমেরিকান, এ্যারাবিয়ান নগ্ন ছেলেমেয়েদের প্রনয়লীলা দেখতে পাবেন অনায়াসেই ।
আসলেই কি ইন্টারনেটে খারাপ কিছু আছে? এ প্রশ্ন মনে আসতেই পারে। কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলছি।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পত্রিকার ইন্টারনেট এডিশন পড়ছিলাম। কম্পিউটারের দিকে স্বাভাবিক আগ্রহ থাকায় পত্রিকার কম্পিউটার সংক্রান্ত একটি লিংকে ক্লিক করলাম এবং সাথে সাথেই আমার আক্কেল গুড়ুম। কমপক্ষে বিশটি নোংরা ওয়েবসাইট যা নগ্ন অশ্লীল ছবিতে পরিপূর্ণ তা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সংগে সংগেই পুরো গ্রুপ কোজ করে রেহাই পাই। মূলতঃ উক্ত লিংকটি হ্যাকারদের দখছে চলে যায় বলে মনে হয়।
আর একটি অভিজ্ঞতা হলো ইন্টারনেটে অত্যন্তজনপ্রিয় একটি সাইট হচ্ছে ডাইনলোড ডট কম যেখানে বিনামূল্যে প্রচুর সফটওয়ার পাওয়া যায়। সাইটটি ভিজিট করার সময় ভুলে ডাউনলোড এর পরিবর্তে ডাউমলোড লিখে ফেলি অর্থাৎ এন এর পরিবর্তে এম লিখি। ফলাফল এই যে আবার আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় (এখন হয়তো সমস্যা নেই সাউটটিতে)। সবচেয়ে বেশী বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় পাশে যদি অন্য কেই থাকে।
আর একটি অভিজ্ঞতা হলো আমি আমার আমেরিকান এক সাইবার বন্ধুর সাথে ইন্টারনেটে চ্যাট (গল্প) করছিলাম। বন্ধুটি আমাকে এক পর্যায়ে প্রশ্ন করলো Are you gay? আমি gay শব্দটির অর্থ জানতাম আনন্দ। কিন্তু noun হিসেবে এ যে সমকামী রূপ ধারণ করে আমার সে জ্ঞান ছিল না। ফলে আমি হ্যা সূচক জবাব দিতে সে জানায় যে সে খুব Horny(এ শব্দটির অর্থও জানতাম না) এবং তার একটি সম্পূর্ণ উলংগ ছবি পাঠায় যা দেখে আমি প্রচন্ড লজ্জা পাই,  কারন পাশেই আমার এক বড় ভাইও ছিলেন।
ইন্টারনেটে সমকামিতা এবং গ্রুপ সেক্স (একসাথে অনেক ছেলে -মেয়ে/ একই মেয়ে একাধিক ছেলে সাথে একসাথে সেক্স করা) এর উপর প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে এবং এতে পুরুষদের সাথে পুরুষদের এবং মেয়েদের সাথে মেয়েদের এমনকি পশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের স্থির চিত্র, গল্প, মুভি এমনকি লাইভ ও দেখানো হয়। যে কেউ চাইলে সরাসরি টাকার বিনিময়ে কোন মেয়েকে উলঙ্গ হতে বলতে পারেন এবং মন ভরে সরাসরি কোন মেয়ে বা কোন ছেলের গোপন অংগ দেখে উত্তেজিত হতে পারেন। এ ছাড়াও বিকৃত পন্থায় যৌনতৃপ্তি পেতে ক্রয় করতে পারেন হাজারো রকম যন্ত্রপাতি বিভিন্ন সাইট থেকে।
ইন্টারনেট ইউজারদের কাছে স্প্যাম মেইল এক আতংকের নাম। প্রত্যেকেই চায় তার প্রচার এবং তার উৎপাদিত পণ্য অন্যকে গছিয়ে দিতে ইমেইলের মাধ্যমে। এরকম কিছু মেইল আমার কাছে আসে। একটি ইমেইলের বিষয় ফাদার এন্ড ডটার, আরেকটি ইমেইলের বিষয় মাদার এন্ড সন আরেকটি ব্রাদার এন্ড সিস্টার (এরকইম, সঠিক ভাবে মনে নেই) আমাকে কৌতুহলী করে তোলে। ইমেইল খুলে আমি হতবাক হয়ে যাই। কারন ইমেইল গুলোতে রসিয়ে রসিয়ে মা ও তার ছেলের, বাবা ও তার মেয়ের এবং ভাই ও বোনের মাঝে অবৈধ যৌনাচারের কথা লেখা হয়েছে। উঠতি বয়েসী ছেলে মেয়েদেরা যারা সামাজিক নিয়ম কানুন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত নয় তাদের কাছে এ সাইট গুলো ধ্বংসের কারণ হতে পারে। এ বয়েসী ছেলে ও মেয়েরা সহজেই যৌন ফাঁদে পা দেয় এবং ছোট ভাই বোনদের সাথে কিংবা বন্ধু বান্ধবদের সাথে সহজেই যৌনাচারে লিপ্ত হতে পারে । এ বয়েসী ছেলে মেয়েদের কাছে নিষিদ্ধ পত্র পত্রিকা অত্যন্ত জনপ্রিয়। এবং আমার জানা মতে অনেকেই আছে বিকৃত পন্থায় যৌন চাহিদা মেটাতে আগ্রহী। এর আলোকে পত্রিকার পাতা থেকে বাংলাদেশের সামাজিক অবক্ষয়ের কিছু চিত্র
২৮.০৪.২০০২
জঘন্য পিতা
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে : বাগমারায় এক পাষন্ড পিতা নিজ সন্তানকে ধর্ষণ করেছে। নিজ বাড়িতে রেখে ৪ দিন ধর্ষণ করার পর ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য পিতা কন্যাকে হুমকি দেয়। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদ (৩৫) তার ১২ বছরের কন্যাকে বাড়িতে নিয়ে এসে ৪ দিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শুক্রবার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ ধর্ষক আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ধর্ষক আবুল কালাম আজাদের ৯ স্ত্রী। ধর্ষিত শিশু তার চতুর্থ স্ত্রী’র সন্তান।
(এরকম আরো কিছু সংবাদ ইদানিং পত্রিকায় দেখা যায়। কিছুদিন পূর্বে মালিবাগে এবং বেশ কিছু পূর্বে দিনাজপুরে একই ঘটনা পত্রিকার মাধ্যমে আমার দৃষ্টিগোচর হয়)
ইত্তেফাক সম্পাদকীয় ০৫.০৮.২০০২ সোমবার, ২১মে শ্রাবন, ১৪০৯
এই নরপিশাচদের রুখিতে হইবে
নরপিশাচ-ই বটে। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশুকন্যাকে যে পাশবিক নির্যাতন করিতে পারে তাহাকে দেখিয়া বোধকরি পিশাচও ঘৃনায় মুখ ফিরাইবে। শনিবার সহযোগী জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুসারে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় গত ২৮ জুলাই পাশবিক নির্যাতন করা হয় নিষ্পাপ একটি শিশুকে। নির্যাতন সহ্য করিতে না পারিয়া শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলিয়া পড়ে। …..
আজকের কাগজ ২৩.০৮.০২ এর একটি হেড লাইন
গত ৭ মাসে ৪ শতাধিক শিশু হত্যা ধর্ষণপূর্বক হত্যা ৫৯

জনকষ্ঠের ২৩.০৮.০৩ এর একটি হেডলাইন
৭ মাসে ৪১৮ টি শিশু খুন, ধর্ষণের শিকার ৪ শতাধিক
২০০৩ সনের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ফরিদপুরের দুই মেয়ে তানি আর দীপিকার খবর দেশের আপামর নারী পুরুষকেই চমকে দেয়। পাশ্চাত্য মিডিয়ার হাত ধরে পাশ্চাত্য নারীবাদীদের বিকৃত মতবাদে দিক্ষিত হয়ে সমকামী এই দুই ষোড়ষী কন্যা জাতির ঘিক্কার কুড়িয়েছে। ফায়ারের মতো ভারতীয় ও পাশ্চাত্য অনৈতিক চলচ্চিত্র এসকল মেয়েদেরকে এ পথে আসতে বাধ্য করেছে। সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এর ২২ অক্টোবর ২০০২ নারী শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফিচার থেকে জানা যায় ঢাকার রমনা থানা এলাকার
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমকামী পুরুষদেরকে এইডসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছে, যাদের কাছে সমকামী হিসেবে রেজিষ্ট্রিকৃত পুরুষ ও হিজরার সংখ্যা পচিশ হাজারেরও বেশী। এসব কিছুই আমাদের কাছে স্পষ্ট করে তুলে ধরছে ঘুণে ধরা এ সমাজের ভয়ংকর চেহারা।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সমকামীদেরকে সাধারণ নারী পুরুষের মতো বিয়ের অধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী এর স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
০১/০৭/০৩ তারিখ এমএসএন নিউজ উইক-এর জরিপে দেখা যায় সমকামীদের সাধারণদের মতো বিয়েসহ সকল অধিকার প্রদানের প্রতি ৫৫% লোকের সমর্থণ রয়েছে, ১৪% বিয়ে বাদে অন্যান্য অধিকারের সমর্থক এবং ৩০% বিরোধী।
আমরা লুত (আঃ) এর কওমের কথা জানি যারা সমকামী ছিল, জানি তাদের পরিনতির কথাও। কিন্তু লুত (আঃ) এর কওমের লোকজন কিংবা আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগেও কোন পিতা তার মেয়েকে কিংবা কোন ছেলে তার মাকে ধর্ষণ করেছে এমন নজীর নেই, যে নজীর ইতোমধ্যেই বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কোরানের কথা বলি, যুব সমাজকে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে ফিরে আসার কথা বলি কিন্তু তাদের সামনে যে অন্ধকার পথ রয়েছে সে পথ গুলো বন্ধ করার কোন প্রয়াসই চালাই না৷ আল্লাহ না করুন সেদিন হয়তো বেশী দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের যুব সমাজ তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা হারিয়ে ফকির হয়ে যাবে কিংবা বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে দেখা যাবে অবাধে কোন ছেলে তার ছেলে বন্ধুকে চুম্বন করছে কিংবা বাবা ও মেয়ে একসাথে ইন্টারনেটে নোংরা ছবি দেখছে৷ আর এর অনিবার্য ফল স্বরূপ দেখাদেবে চরম সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, হয়তো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে এইডস, লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে, বাবা মায়ের অপকর্মের ফল ভোগ করবে সন্তানরা যারা কোন পাপ না করেও পিতা মাতার কারনে এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে৷

তাই সময় এসেছে৷ যদি আমরা সত্যিকারে একটি সুশীল সমাজ নির্মান করতে চাই তাহলে আজ এখনই বন্ধ করতে হবে ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার৷ আমি বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির চরম উত্‍কর্ষের এ যুগে দাড়িয়ে নিশ্চয়ই বলব না যে ইন্টারনেট বন্ধ করতে হবে বরং আমার দাবী হচ্ছে সারা বিশ্বে না হোক অন্তত বাংলাদেশে ইন্টারনেটে এই সকল অনৈতিক সাইটগুলো পুরোপুরি লক (বন্ধ) করে দেয়া হোক যাতে আমরা বাঁচাতে পারি আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে, বাঁচাতে পারি দোজখের কঠিন আজাব থেকে৷ আল্লাহ আমাদের সকলের ঈমান ও চরিত্রকে পবিত্র রাখুন৷ আমীন৷

Be Sociable, Share!

9 Replies to “অন্ধকারের হাতছানি”

  1. onak valo laglo apnar kota gulo apne amon vaba manus ka valo pota neia asban allah apnar valo kurek . allah hafage

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্য আমাকে ভালো কাজে আরো বেশী অনুপ্রাণিত করলো।

    [উত্তর দিন]

  2. allah manus ka sereste korsa tar potenede korar jono and kesu neum kanun mana cholar jono jamon amra jode dealy 5 oekt namag pore toba amear dara kharap kaj kora somvab na .allah solak ka valo pota cholar toufeq then .amin

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আমীন।

    [উত্তর দিন]

  3. আলহামদুলিল্লাহ!ভাল লেগেছে, আল্লাহ আপনার পরিশ্রম কে কবুল করুন। প্রথম দুইটা প্যারা বাদ দিলে আমার মনে হয় ভাল হবে।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ আপনার সুন্দর পরামর্শের জন্য। সমস্যা হলো, লেখাটি একটি সাপ্তাহিকে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই প্যারাদুটো বাদ দিতে কষ্ট হবে।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।