তথ্য সন্ত্রাসের মাঝেও জামায়াত জয়ী

কিছুদিন ধরে জামাত শিবির নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে গেছে মিডিয়া পাড়ায়। প্রতিদিন সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে জামাত শিবির সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলো। কখনো টক শো, কখনো বিশাল বিশাল কলাম, কখনো পাঠক জরিপ। এ ধরণের একটি জরিপ দেখলাম গতকালের আমাদের সময় পত্রিকায়। “একাত্তরে ভিন্ন মত থাকলেও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেনি। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর এই বক্তব্য সমর্থন করেন? ”  আশ্চর্যের বিষয় এই যে জরিপে জামাতের পক্ষে ভোট পরেছে ৯৯০৮টি, বিপক্ষে ৩১৬টি এবং মন্তব্য করেন নি ৬ জন।
একই ধরণের আরেকটি জরিপ চলছে আজ দৈনিক সমকাল পত্রিকায়। প্রশ্নটি এমন, “জামায়াতের কোন নেতাকে যুদ্ধাপরাধী প্রমাণের সাধ্য কারো নেই-মতিউর রহমান নিজামীর এ বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য?”। রাত ৮টা ৯ মিনিট পর্যন্ত এ  প্রশ্নে হ্যা ভোট পরে  ৩৪২২টি, না ২০৭টি এবং মন্তব্য নেই ১৫ টি। অর্থাৎ ৯৩.৯১% জামায়াতের পক্ষে ভোট পরে। কিন্তু কি আশ্চর্য এরপরই মিডিয়া ক্যু ঘটে যায়, অনৈতিকভাবে ভোটে কারচুপি করে দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ। হ্যা ভোট কমিয়ে মাত্র ১০০তে নামিয়ে আনা হয়। এ দ্বারা পত্রিকাটি যে হীণ উদ্দেশ্য নিয়ে জনমত জরিপ চালাচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও এতে সাধারণ মানুষও ক্ষেপে ওঠে। যারা ভোট দেন নি, বা যারা ভোট দেয়ার ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী নন তারাও ঝাপিয়ে পড়েন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফলে হ্যা ভোট আবারো বাড়তে থাকে হু হু করে। রাত ১০:৪৪ পর্যন্ত হ্যা ভোটের পরিমাণ ২৭০০, না ভোট ১৬৯৮ অর্থাৎ হ্যা পেয়েছে ৬১.২৪% ভোট, না পেয়েছে ৩৮.৫১% ভোট। যদিও রাত আটটার হ্যা ভোটের কাছাকাছি এখনো পৌছুতে পারে নি কোন পক্ষই। কিন্তু এভাবে নির্লজ্জ তথ্য সন্ত্রাস করে কি জামাত শিবিরকে দমন করা সম্ভব?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নামে ঘৃণার সাথে দিনে যতগুলো শব্দ ব্যবহৃত হয়, ততবার যদি ভক্তি ভরে আল্লাহর গুণগান করা হতো, অনেকেই হয়তো কামেল দরবেশ হয়ে যেত। জামাত-শিবিরকে প্রতিরোধ করার জন্য অশ্রাব্য ভাষায় এত যে গালাগালি, সেই জামাত-শিবির ঠিকই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের বিনম্র ব্যবহারে। জামায়াত শিবির প্রতিরোধে সিপাহসালারের দায়িত্বে আছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। মিডিয়ার এটি একটি রুটিন বাধা কাজ হয়ে দাড়িয়েছে যে জামাত-শিবির বিষয়ে ছোটখাট বিষয়গুলোকেও ইস্যু বানিয়ে ফুলিয়ে ফাপিয়ে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা, যেহেতু জামাত-শিবির সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। আগ্রহ এ কারণে যে, লোকমুখে জামাত শিবিরের যে ভয়ংকর গল্প তারা শোনেন, বাস্তবে তার সাথে মিল খুব কমই খুঁজে পান তারা। বরং যারা জামাত ও শিবিরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে পথে ঘাটে, জনসমুদ্রে, তাদের আচার আচরণ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট সবকিছুই সাধারণ মানুষের কাছে উদ্ভট মনে হয়।

অশ্রাব্য ভাষায় প্রতিনিয়ত গালাগাল করে যখন অন্যকে খারাপ প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে ওরা, ঠিক তখন এসব মুখরা বিপ্লবীদেরকে কিছুতেই সাধারণ মানুষ ভালো লোক বলে ভুল করতে পারে না। ফলে এরা যাদেরকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে, যাদের নির্মূলের জন্য লম্ফঝম্ফ করে, তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আগ্রহ জন্মে। ঠিক তাই যখন এসব মানুষ প্রথম বারের মতো জামাত কিংবা শিবিরের কোন নেতা-কর্মীর সাক্ষাৎ পেয়ে যায়, তখন তারা পূর্বের খারাপ ধারণাগুলোর সাথে মিল খুজতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন। স্বাভাবিকভাবেই এসব নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষের উপর ভালো প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।

মিডিয়া কেন জামাত শিবির বিষয়ে এত লেখালেখি করে? এর প্রধান একটি কারনই হলো জামাত শিবির বিষয়ে লেখালেখি করলে পত্র-পত্রিকার কাটতি বাড়ে।  সাধারণ মানুষ আগ্রহ ভরে উপভোগ করে জামাত শিবির নিয়ে আলোচিত টক শো গুলো। তাই যে কোন বিষয়ের সাথে জামাত শিবিরকে গুলিয়ে ফেললে ব্যবসায়িক সাফল্য বাড়ে। আগেই বলেছি এসব অপপ্রচার জামায়াত শিবিরকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত করছে, যে কাজ করতে জামাত শিবিরের কোটি কোটি টাকা ও সময়ের প্রয়োজন হতো তা এরা বিনে পয়সায় পেয়ে যাচ্ছে মিডিয়ার কল্যাণে। একেই বলে শাপে বর।

জামাত শিবির সম্পর্কে মানুষের যে আগ্রহ বাড়ছে তার বড় একটি প্রমাণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে জামায়াত প্রতিনিয়ত পূর্ববর্তী নির্বাচনের চেয়ে বেশী ভোট পাচ্ছে। ঠিক তেমনি আরো একটি প্রমাণ হলো পত্রিকার জরিপ। এমন একটা সময় ছিল যে পত্রিকায় জামাত বিরোধী কোন জনমত জরিপ হলে জামায়াত কোনঠাসা হয়ে পরতো সে সব জরিপে। কিন্তু ইদানিং মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, সচেতনতাও বাড়ছে। প্রতিনিয়ত জামায়াত মার খাচ্ছে, আর তার প্রতি জনসমর্থন তীব্রভাবে ঝুকছে। এটাকে রেসলিংয়ের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। রেসলিংএ প্রায়শই দেখা যায় সেই রেসলারই জিতছে, যে প্রথমে মার খেয়ে খেয়ে দর্শকের সমানূভূতি আদায় করতে পেরেছে, যদিওএগুলো পাতানো খেলা। তেমনি আজ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জামাত শিবির নেতা কর্মীদের অত্যাচারিত, নির্যাতিত হতে দেখে দেখে, ফলে  তাদের প্রতি সহানুভূতি ক্রমশ বাড়তে থাকে, একসময় যখন তারা জামাত শিবিরের কারো কাছ থেকে দলে যোগ দেয়ার দাওয়াত পায়, অনেকেই নিঃসংকোচে সাড়া দেয় সে ডাকে।

সর্বকালে এমনটিই ঘটেছে। যারা সত্যের পথে লড়ে, তাদের প্রতি পদে পদে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপমান আর অত্যাচার-নির্যাতনের বাধা। তবুও সত্য এগিয়ে চলে, আলোয় আলোয় ভরে ওঠে অন্ধকার ভূবন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“তথ্য সন্ত্রাসের মাঝেও জামায়াত জয়ী” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. AD.sattar bhuayan বলেছেন:

    রাখে আল্লাহয় মারে কে,
    ভাই আওমিলিক জত হৈ চৈ করবে জামাত ততঐ সফল হবে
    থাংকু,,,, শাহরিয়ার

    [উত্তর দিন]

  2. mushfiq বলেছেন:

    অল্প বৃষ্টিতে কাদা
    বেশি হলে সাদা ।
    নাইন এলিভেন এরপর ইউ এস এ তে ইসলামের ব্যাপারে যেমন অাগ্রহ বাড়ছে
    ঠিক তেমনি ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে যে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে এরপর সাধারণ মানুষের চোথ অার বন্ধ রাখা যাবেনা ।

    [উত্তর দিন]

  3. ronyraj বলেছেন:

    সত্য মিথ্যার সামনে আসলে মিথ্যা আপনাআপনিই বিলুপ্ত হয়।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন