ইসলামী ব্যাংকঃ আমার ব্যাংক

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বারবার দাবী করে আসছেন। প্রথমে তার এ দাবী কিছুটা বিভ্রান্তিকর হলেও পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংক সরকারের আওতায় আনার দাবীর মাধ্যমে ব্যাংকটিকে সরকারী করণের বিষয়টি খোলাসা হয়েছে। তফসিলি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সবসময়েই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-নীতিকে পাশ কাটিয়ে কোন কিছু করার আদৌ কোন সুযোগ ব্যাংকগুলোর নেই, তাই ব্যাংকটিকে নতুন করে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনও পরে না। বিষয়টি মাননীয় মন্ত্রীর বুঝতে একটু সময় লাগলেও নিজেকে সামলে নিয়েছেন, তাই ইসলামী ব্যাংক সরকারের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সরকারের আওতায় আনার দাবী তুলেছেন। সরকারের আওতায় আনার মাধ্যমে মাননীয় আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকটিকে সরকারী করণের যে দাবী তুলেছেন তা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। তবে হঠাৎ করেই ব্যাংকটিকে সরকারী করণের প্রয়োজন পড়ল কেন তা ভেবে দেখার বিষয়।
দেশে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান গুণে যাচ্ছে, সরকারী এমন প্রতিষ্ঠান খুব কমই আছে যা সরকারকে দু’টো পয়সা লাভের মুখ দেখাতে পারছে, তাই বিগত দিনে বন্ধ হয়েছে শত শত সরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো  ঘুষ, দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম ইত্যাদি ইত্যাদি জঞ্জালে জর্জরিত। শুধু মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান আর সরকার লোকসান দিয়ে পুষতে নারাজ, অবশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নতুন করে সরকারী করণ বন্ধ রয়েছে পনের বছর ধরে। অবস্থা এমন যে সরকারী প্রতিষ্ঠান চালু রাখলে যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হয় সরকার, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিলেও তার চেয়ে কম লোকসান গুণতে হয়। তাই সরকার শখ করে হাতি পোষার চেয়ে কলাগাছের চাষে স্বাবলম্বী হতে গড়ে তুলেছে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড, সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নামমাত্র মূল্যে আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিক্রি করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সরকারগুলো। বর্তমানে অন্তত ৮৮টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। তাহলে প্রাইভেটাইজেশনের যুগে সরকারীকরণের চিন্তা কেন?

বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর মাঝে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডই সর্বাধিক কর্পোরেট ট্যাক্স দিচ্ছে, যার পরিমান ৩২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, গত বছরে তারা পরিশোধ করেছে ৩২৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার কর্পোরেট ট্যাক্স। তাহলে এত কিছুর পরও সরকার ব্যাংকটিকে কেন সরকারী করণের দাবী জানাচ্ছে? যদি সরকার ইসলামী ব্যাংকের সাফল্যে অভিভূত হয়ে একে সরকারী করণের মাধ্যমে সরকারী অর্থের নিরাপদ উৎস বানানোর চিন্তা করে তবে তাদের সেই লোভী কৃষকের গল্পটি একবার স্মরণ করা উচিত, যে কৃষকের হাস প্রতিদিন সোনার ডিম দিত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সোনার ডিমওয়ালা ইসলামী ব্যাংকটি সরকারী করণের নামে কাটাছেড়া করার মাধ্যমে লোভের করুণ পরিসমাপ্তিই হতে পারে মাত্র।

ইসলামী ব্যাংকের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়, ১৯৬৩ সালে মিশরের মিটগামার শহরে ইসলামী ব্যাংকিংএর পথচলা শুরু। ব্যাংকটি শুরুর পর এতটাই সাফল্য পায় যে , “সফলতাই ব্যর্থতার কারণ” হয়ে দাড়ায়, সরকার এটিকে বন্ধ করে দেয়। এর দু’দশক পরে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর হাত ধরে ইসলামী ব্যাংকিংএর যে শুভযাত্রা শুরু হয়, বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, অপপ্রচার আর মিথ্যে অপবাদের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে আজ ব্যাংকটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকে পরিণত হয়েছে, সাফল্যের মুকুটটি ধরে রেখেছে একযুগেরও বেশী সময় ধরে। তবে মিটগামারের ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ব্যাংক দু’টি যেমন সমসাময়িক নয়, তেমনি দু’টো দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থাও এক নয়। তাই সাফল্যই মিটগামার ব্যাংকের ব্যর্থতার কারণ হলেও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি ঘটবে এমন ভাবার কোন কারন বাংলাদেশে নেই, এটি সবার কাছেই পরিস্কার নিশ্চয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর যাত্রা শুরু, এর শেকর আজ সরাসরি দৃঢভাবে গেথে আছে ষাট (৬০) লাখ মানুষের হৃদয়ে, পরোক্ষভাবে প্রায় শতভাগ বাংলাদেশী মানুষের মাঝে।

এ দেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে গণ মানুষের ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ততা সীমিত ছিল। বিশেষ করে যারা ইসলামী মূল্যবোধকে হৃদয়ে লালন করেন, যারা সুদ খাওয়ার চেয়ে না খেয়ে মরে যাওয়াকেও শ্রেয় মনে করতেন, সেসব ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ব্যাংকিংএর সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে অনিচ্ছুক ছিলেন। যারা নিতান্ত ঠেকায় পরে ব্যাংকে টাকা রাখতেন তারাও গচ্ছিত টাকার বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ ব্যাংক থেকে তুলতেন না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষদের সুদের অভিষাপ থেকে মুক্ত রাখার প্রত্যয়ে, কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার সূচনা করেছিল যেদিন ৭৫ দিলকুশার লোকাল অফিসে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও সেদিন ছুটে এসেছিলেন তাদের গচ্ছিত অর্থ ইসলামী ব্যাংকের হাতে সঁপে দিতে। যারা ব্যাংকের ধারে কাছে ঘেষাও পাপ বলে জ্ঞান করতেন, তারাও ইসলামী ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামীল হওয়াকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করতেন।

ইসলামী ব্যাংকের সাফল্য আজ এতটাই আকাশ ছোঁয়া যে তা হয়তো অনেকের হিংসের কারণ হয়ে থাকবে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে ইসলামী ব্যাংকের চলতি বছরের তিন মাস শেষে আমানতের পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকার উপরে, মার্চ শেষে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যেখানে কিছু ব্যাংক ডিপোজিট ক্রাইসিসে ভুগতে থাকে, কোন কোন ব্যাংক বিনিয়োগের সুযোগ থেকে থাকে বঞ্চিত, সেখানে ইসলামী ব্যাংকের এমন সাফল্য হিংসা জাগানিয়াতো বটেই। এছাড়া ব্যাংকটি বৈদেশিক বাণিজ্যেও প্রথম স্থান অধিকার করে রেখেছে কয়েক বছর ধরে। তবে ব্যাংকের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক সাফল্য চোখে পড়ে ফরেন রেমিটেন্সে।  ব্যাংকটি এককভাবে এর  ২১১ টি শাখা ও ২০ টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার নিয়ে দেশের মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে ২৮% এরও বেশী বৈদেশিক মুদ্রা, যা বিশ্বে বিরল।

ব্যাংকটির যেমন রয়েছে প্রশিক্ষিত সুদক্ষ জনবল তেমনি রয়েছে নিঃস্বার্থ শুভাকাঙ্খী। বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলমান ইসলামী ব্যাংকের সাফল্যে পুলকিত হন, ব্যাংকের যে কোন বিপদে হন তারা পেরেশান। এ কারণে বিগত সময়গুলোতেও যখন ইসলামী ব্যাংকে পরিকল্পিতভাবে বিপর্যয় ঘটাতে সিন্ডিকেটেড সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে, “আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে”, “ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ধ্বঃস” প্রভৃতি সংবাদে তখনও আস্থা হারায় নি সাধারণ মানুষ । তারা ব্যাংকের পাশে থেকেছেন অতন্ত্র প্রহরীর মতো অবিচল। এবারেও জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ততার ধুয়ো তুলে ব্যাংকটিকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। অথচ ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি বহুজাতিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলেই ব্যাংকটি সাফল্যের চূড়ায় উঠতে পেরেছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কেউ যদি কোন নির্দিষ্ট দলের নেতা হন নিছক সে দোষে পুরো ব্যাংকের বিরুদ্ধ খড়গহস্ত হলে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আওয়ামী লীগ নেতা  ডাঃ ইকবাল শুটার ও বর্তমান এমপি বি.এইচ.হারুনের প্রিমিয়ার ব্যাংক, মির্জা আব্বাসের ঢাকা ব্যাংক সেগুলোই বা বাদ যায় কেন? এমন একটি ব্যাংকও কি আছে যার সাথে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই? তাহলে শুধু ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন কথা বলেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী?

শেয়ার বাজারে (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার হোল্ডারের সংখ্যা ৫৬ হাজারের বেশী। বার বার ব্যাংকটি দেশের সেরা ব্যাংক হিসেবে দেশে বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করছে, অর্জন করছে নামীদামী সব পুরস্কার। নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে সে দেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সহায়তা চেয়েছিল সেদেশি উদ্যোক্তাগণ, ব্যাংকের বর্তমান এমডি এম. ফরিদউদ্দিন আহমদ দীর্ঘ এক বছর নাইজেরিয়ায় এ উদ্দেশ্যে কাটিয়েছেন, যদিও সে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উদ্যোগটি সফল হয় নি। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংক খোলার ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানা যায়। ব্যাংকটির প্রতি দেশী বিদেশী সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের এই যে এতো আগ্রহ, এত ভালোবাসা, এত প্রত্যাশা তার মূল্য যে কত তা কি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বুঝতে অক্ষম?

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর রয়েছে পঞ্চাশ লক্ষাধিক আমানতকারী, যারা লাভ-লসের ভিত্তিতে ব্যাংকে টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ব্যাংকটিকে কোনঠাসা করে ক্ষতির মুখোমুখি করলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই অর্ধকোটি গ্রাহক, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই হিন্দুধর্মাবলম্বী। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর এমএসএস(ডিপিএস) গ্রাহকদের অর্ধেকের বেশী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাই যেখানে আওয়ামী লীগ রিজার্ভ ভোট হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আপন ভেবে এসেছে, সে আওয়ামী সরকার নিছক জেদের বশে ইসলামী ব্যাংককে কোন প্রকার ঝুঁকির মাঝে ফেলে রিজার্ভ ভোটের ক্ষতি করবে কি না ভেবে দেখা উচিত। ইসলামী ব্যাংক, জনতার ব্যাংক, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের “আমার ব্যাংক”। ইসলামী ব্যাংকের সাথে রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আত্মার সম্পর্ক, আবেগের সম্পর্ক। যদি নিছক হিংসের বশেই ব্যাংকটিকে সরকারী করণের নামে ধ্বংসের চেষ্টা চলে তবে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের জানা উচিত দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ে হাত দিলে তার পরিণতি সুখকর হবে না।

ইসলামী ব্যাংক বানের জলে ভেসে আসা কোন প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি বহুজাতিক ব্যাংক। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়  দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, যাদের অন্যতম ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), কুয়েত ফাইন্যান্স হাউজ, জর্দান ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট এন্ড এক্সচেঞ্জ করপোরেশন, দোহা, বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং, এস.এ, আল-রাজি কোম্পানী ফর কারেন্সী এক্সচেঞ্জ এন্ড কমার্স, দূবাই ইসলামী ব্যাংক, দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল সিকিউরিটি, সাফাত, মিনিষ্ট্রি ফর আওকাফ এন্ড ইসলামিক এফেয়ার্স, কুয়েত, মিনিষ্ট্রি অব জাস্টিস, ডিপার্টমেন্ট অব মাইনরস এফেয়ার এবং সৌদি আরবের প্রভাবশালী বিশিষ্ট ব্যক্তি শেখ আহমেদ সালাহ জামজুম ও  প্রয়াত ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল খতিব। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ৫৭ শতাংশেরও বেশী রয়েছে বিদেশী এসব সংগঠন ও পূন্যবান ব্যক্তিদের হাতে। এ ছাড়া বাংলাদেশ নামের ব-দ্বীপটি যেসব প্রসাবী ভাইদের ঘামের সাগরে ভেসে আছে, তাদের বড় একটি অংশই মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত, যারা বাংলাদেশে ব্যাংক বলতে শুধু ইসলামী ব্যাংককেই বুঝেন। প্রবাসী ভাইদের আবেগের সাথে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে যে কোন যড়যন্ত্র দেশের জন্য কতটা কল্যাণকর হবে সবারই উচিত তা আগে একবারের জন্যে হলেও ভেবে দেখা।

আইন প্রতিমন্ত্রীর উচিত তার মন্ত্রণালয়ের দিকেই বেশী মনোযোগী হওয়া, মন্ত্রণালয়ের কাজ না বুঝলে সচিব-আমলাদের কাছ থেকে বুঝে নেয়া উচিত। আর যাই হোক শেখার কোন বয়স নেই, শেখায় কোন লজ্জাও থাকা উচিত নয়। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ ভালো না লাগলেই মুখরোচক অন্য বিষয়ে গলাবাজি করতে হবে এমনটা কাম্য নয়। আশাকরি সরকারে যারা রয়েছেন তাদের সবাই আইন প্রতিমন্ত্রীর মতো নন, নিশ্চয় রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়াদি তাদের নজরে আছে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি থামান, আর মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কেও সামলান। শুধু শুধু হাসির পাত্র হয়ে পত্রিকার কাভারেজ নেয়ার কি দরকার, আপনারাই বলুন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইসলামী ব্যাংকঃ আমার ব্যাংক” লেখাটিতে 7 টি মন্তব্য

  1. Nezam বলেছেন:

    খালি কলসি বাজে বেশি, আমাদের মন্ত্রীমহোদয়কে দেখে এই কথার মানে নতুন ভাবে বুঝলাম। এত্ত কথা না কইলে কি হয়?

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    সহমত।
    ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

    [উত্তর দিন]

  2. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    আপনারা আসলে বোকা। উনি বলতে চেয়েছেন যে ইসলামী ব্যাংক টা আমলীগের নেতাগো হাতে ছাইড়া দিতে।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    যারে কয় মামু বাড়ীর আবদার? তয় মামীর ঠাঙ্গানী খাওনের জন্যও প্রস্তুতি থাকা চাই।

    [উত্তর দিন]

  3. নজরুল বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই শাহিরয়ার।
    অপপ্রচারে অনেক সময় উপকার হয়। আমি আগে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতাম ন্যাশনাল ব্যাংক তারপর প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যেম; কিন্তু এখন আর না, ইসলামী ব্যাংকে এখন থেকে আমার টাকা যাবে, ইনশাআল্লাহ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    শুণে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

  4. সাকিব বলেছেন:

    সুন্দর লেখার জন্য জাজাকাল্লাহ
    ভাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইসলামিস্টদের অবদান সংক্রান্ত আপনার কাছে যেকোন ও তথ্য লিঙ্ক থাকলে যদি একটু কষ্ট করে [email protected] আ পাঠাতেন তাহলে যারপরনাই খুশি হইতাম।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন