ইটভাটায় নরবলি !!!

ইট পাথরের বসুন্ধরা। ইট ছাড়া কল্পনা করা যায় এমন স্থাপত্য খুব কমই পাওয়া যায়। স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, ব্রিজ-কালভার্ট সবখানেই ইটের ছড়াছড়ি। ইটকে ঘিরে মানুষের যত স্বপ্ন, আমৃত্য মানুষ বিভোর থাকে ইট-পাথরের গড়া নিজের একটা বাড়ি তৈরীর স্বপ্নে। আর সে স্বপ্নকে সহজ করে তুলতে দেশে তৈরী হয়েছে হাজার হাজার ইটের ভাটা। শুধু রাজধানী ঢাকার আশে পাশেই গড়ে উঠেছে ৪ হাজারেরও বেশী ইটের ভাটা, প্রতিনিয়ত যা যোগান দিচ্ছে স্বপ্নপূরণের পোড়ামাটি।

শুধু ঢাকার কথাই বা বলি কেন, দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার ইটের ভাটা। একই গ্রামে ৫০টি ইটভাটা রয়েছে এমন গ্রামের সংখ্যাও কম নয়। তবে যে জিনিষের ঘাটতি রয়েছে তা হলো আইনী নজরদারী। ইটের ভাটায় কিভাবে ইট পোড়ানো হয়, ফসলী জমিকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে কি না কিংবা অনুমোদিত উচ্চতার চেয়ে ছোট চিমনী দিয়ে ইটের ভাটাগুলো পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে কি না সেদিকে নজর দেয়ার আদৌ কোন সুযোগ নেই। আর নজরদারী হবেই বা কি করে, ৪ শতাধিক ইটের ভাটার জন্য যদি পরিদর্শক থাকে ১ জন তবে তিনি নথিপত্র সামলাবেন না ফিল্ড ওয়ার্ক করবেন তা সুপারম্যানের পক্ষেও চিন্তাকরা কঠিন।

দেশের অধিকাংশ ইটের ভাটাই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে সোয়া লাভ একরেরও বেশী জমিতে যার অধিকাংশই উর্বরা ফসলী জমি। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বন উজার করে নিষিদ্ধ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটায়। আগুণের তাপ বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত পলিথিন, টায়ার ইত্যাদি।

ইট ভাটাগুলো নিয়ে মাঝে মাঝেই যে ভয়ংকর সংবাদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় তা রীতিমত গায়ে শিহরণ জাগায়। অপরাধী চক্রের অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে ইটের ভাটাগুলো কুখ্যাতি আছে। বিশেষ করে নুরুজ্জামান নান্টু ওরফে লাল্টু ইটের ভাটায় শতাধিক লাশ পুড়িয়ে পৈশাচিকতার যে নিকৃষ্টতম উদাহরণসষ্টি করেছে তেমন বর্বরতার নজীর নিকট ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ইটের ভাটাগুলো লাশগুম করার জন্য আদর্শ যায়গা হিসেবে বেছে নেয় সন্ত্রাসীরা। নিমিষেই এক একটি মানুষকে অঙ্গারে পরিণত করা যায় অথচ অপরাধ প্রমাণের অনু পরিমাণ চিহ্ণও খুঁজে পাওয়া যায় না বিধায় সন্ত্রাসীরা বরাবরই ইটভাটায় আস্তানা গাড়ে। আবার কখনো কখনো ইটভাটা শ্রমিকের উপর মালিকেরা কোন কারণে ক্ষুদ্ধ হলেও হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলে ইটের ভাটায়।

কিন্তু ইট ভাটার সন্ত্রাস নিয়ে আজ পত্রিকায় যে রিপোর্টটি পড়লাম তার জন্য আদৌ প্রস্তুত ছিলাম না। সন্ত্রাসীরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ইটের ভাটায় পুড়িয়ে লাশ গুম করে এটি পুরনো খবর, কিন্তু শুধুমাত্র ইটের রঙ গাঢ় লাল না হওয়ায় গণকের পরামর্শে ইটভাটা শ্রমিককে নরবলি দেয়া, ছিন্নমুন্ড ভাটার গণগণে আগুনে পুড়িয়ে ব্যবসার সমৃদ্ধি কামনা করা কতটা বিকৃত বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ তা প্রকাশে ভাষা অক্ষম। ভাবতে অবাক লাগে শুধু মাত্র এক হাজার টাকার লোভে সহকর্মীকে কেউ জবাই করতে পারে, ইটভাটা মালিকের নির্দেশে ভাটার আগুণে বন্ধুকে ভষ্ম করতে পারে তা দেখে পিশাচও হয়তো লজ্জায় মুখ লুকোয়।

এসকল ঘৃণ্য জানোয়ারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ইটভাটাগুলোকে আইনী কঠোর নজরদারীতে আনা একান্ত জরুরী।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইটভাটায় নরবলি !!!” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. পাশা বলেছেন:

    অমানুষ আর কারে বলব।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন