জামাত, ইসলাম, অর্থনীতি; কোনটা টার্গেট?

ড. আবুল বারাকাতের একটি অলিক গবেষণার সূত্র ধরে মাঝে মাঝেই বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী শক্তি হৈ চৈ শুরু করে। আজও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বারাকাতের তত্ত্বের উদ্ধৃতি টেনে দেশ থেকে জামায়াতের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে সকল প্রতিষ্ঠান দূর্ণীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে গণমানুষের  প্রাণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তার সবগুলো প্রতিষ্ঠানকেই জামায়াতের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবুল বাকারাত চিহ্নিত করেছেন। তার হিসেব মতে বাংলাদেশের বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানী), ৪৫০ টি এনজিও, ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, ডায়গনষ্টিক সেন্টার, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান (খুচরা ও পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর), শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার), যোগাযোগ ব্যবস্থা (বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টীমার, জাহাজ, গাড়ী, সিএনজি রিক্সা ইত্যাদি), রিয়েল স্টেট ব্যবসা (ল্যান্ড, বিল্ডিং), নিউজ মিডিয়া, আইটি, বই, প্রকাশনী, ইত্যাদি ইত্যাদি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং জামাতের অর্থের যোগানদাতা। অর্থাৎ আবুল বারাকাত বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তির একটিও বাদ দিতে ভুলে যান নি। এ সকগুলোই জামাত নিয়ন্ত্রিত এবং এখান থেকে লাভের বিশাল একটি অংশ অর্থাৎ বারাকাতের হিসেব মতে দেশীয় উন্নয়ন বাজেটের ১২% এর সমান অর্থ জামাতের তহবিলে জমা হয়।

বারাকাতের তথ্য যদি মেনে নেয়া হয় তাহলে জামাতের হাতেই দেশ চালানোর ক্ষমতা কেন দেয়া হচ্ছে না? যারা ক্ষমতায় না থেকেও উন্নয়ন বাজেটের দেশীয় অর্থের ১২% পাচ্ছে দলীয় কাজ করার জন্য, ক্ষমতায় গেলে তারাতো শুধু তাদের নিজস্ব সোর্স থেকেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। অথচ এ সবই ফালতু সমীকরণ। আবুল বারাকাত কল্পিত, বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানই জামাত নিয়ন্ত্রণ করে না কিংবা জামাতকে তারা কর দিতেও বাধ্য নয়। একজন অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েও যদি তিনি তথ্য বিভ্রান্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির সকল স্তরের চাকাগুলোকে জামাত জুজুর ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দিতে চান, তাহলে এটা কি অনুমান করা কঠিন হবে যে তিনি জামাত ইস্যুতে পানি ঘোলা করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সর্বনাশ ডেকে এনে ভিনদেশী কোন প্রভূদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?

মস্কো ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইকনমি থেকে পিএইচডি করা জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাতের ইসলাম বিদ্বেষ কোন নতুন কথা নয়। এমন একটা সময় ছিল বামপন্থীদের রাশিয়ায় লেখাপড়া করার হিড়িক পড়েছিল। আল্লাহ কিংবা ইশ্বরে অবিশ্বাসী কমিউনিস্ট ছাত্ররা বাম রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তাদের তীর্থভূমি রাশিয়ায় লেখাপড়া করতেন। কমিউনিস্ট রাশিয়ার নাস্তিক্যবাদ হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মাঝে ইশ্বরে অবিশ্বাসে যতটুকু গলদ থাকত তা পুরোপুরি মেরামত করে দেশে ফিরতেন। ড. আবুল বারাকাতও মস্কো প্রোডাক্ট, ইসলামের ব্যাপারে তার এলার্জি অতি স্বাভাবিক বিষয়। তাই একঢিলে দুই পাখি মারায় তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মজার ব্যাপার হলো যুদ্ধাপরাধের বিচারের নাম করে জামাতকে কাবু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার  জামাতকে কাবু করতে গিয়ে জামাতের অর্থের জোগানদাতা সাজিয়ে দেশের বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরেই বাছাই করা সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জামাতের অর্থের জোগানদাতা লেবেল দিয়ে তা ধ্বংস করার পায়তারা চলছে। বলা হচ্ছে জামাতের অর্থের জোগান বন্ধ না করতে পারলে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্ভব হবে না।

তাহলে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে দেশের অর্থনীতির উপরই খড়গহস্ত হতে যাচ্ছে সরকার। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের নাম নিয়ে দেশের ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া যাবে, অন্যদিকে আবুল বারাকাত উল্লেখিত অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে সহজেই বাংলাদেশকে প্রতিবেশী একটি দেশের বাজারে পরিণত করা সম্ভব হবে। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু একটু রাষ্ট্র প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সকল হুকুম বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে বাধ্য হবে।

তবে আশার কথা এই যে, এ দেশের ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষকে যতটা বোকা মনে করা হয় আদৌ তারা বোকা নন। তারা শান্তিপ্রিয়, তাই অনেক অনাচার, অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে। তবে অন্যায় যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, সাধারণ মানুষের প্রাণের স্পন্দন ইসলামকে নিয়ে যখন ষড়যন্ত্র হয় তখন তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা অসম্ভব। আজ তাই ইসলামের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র সাধারণ ইসলামপ্রিয় মুসলমানদের ঘুম ভাঙ্গারই ইংগিত বহন করে।

রাত যথেষ্ট গভীর হয়েছে, ঘোর আধারে ঢেকে গেছে দেশ। এবার সময় হলো সুবেহ সাদেকের। এখন অপেক্ষা শুধু মুয়াজ্জিনের আজানের। আল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“জামাত, ইসলাম, অর্থনীতি; কোনটা টার্গেট?” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. পাশা বলেছেন:

    সব ভাল প্রতিষ্ঠান যদি জামাতের হয়, তাহলে আওয়ামীলীগের কিভাবে দেশ চালাচ্ছে?????

    নাকি জামায়াতী প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামীলীগকে সহায়তা করছে?

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ভালো বলেই তো চালাতে পারছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে। উল্লেখ করা যেতে পারে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসলামী ব্যাংক প্রচুর পরিমানে পন্য আমদানী করেছিল বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে, যদিও তাদের এ জন্য প্রচুর আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে।

    [উত্তর দিন]

  2. খান মো: নাছির উদ্দীন সুমন বলেছেন:

    http://www.dhormockery.com ব্লগটি দেখে মর্মাহত হলাম । প্লিজ কি করা যাই ? ইসলামকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে । ধর্ম না কি joke এর উৎস (নাউজুবিল্লাহ্)

    [উত্তর দিন]

    sumon উত্তর দিয়েছেন:

    islam

    [উত্তর দিন]

  3. rubaiyaat বলেছেন:

    মাত্র দুই তিনটা সাইটের ঠেলায় যদি ঈমান নড়ে তাইলে ক্যামনে?
    @খান মো: নাছির উদ্দীন সুমন

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন