দশ টাকা সেরে বিকিয়ে দেব না ইসলাম

আপনাদের কি সে সময়ের কথা মনে আছে যখন আওয়ামী সরকারের নির্দেশে পুলিশের বুটের আঘাতে অপবিত্র হয়েছিল বায়তুল মোকাররম? শত শত মুসল্লিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে ধরে নিয়ে জেলে ভরা হয়েছিল সেদিন। নিস্তার মেলে নি সাধারণ পথচারীদেরও। দিনের পর দিন জেলখানার স্যাত স্যাতে খাতায় মাথা ঠুকে কেঁদেছে সাধারণ মানুষ, তবু আওয়ামী লীগের হাত থেকে নিস্তার মেলে নি তাদের।

না, আমি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী শাসনের কথা বলছি না, সে সময়ে আমার জন্ম হয় নি। আমি বলছি ছিয়ানব্বই পরবর্তী আওয়ামী অপশাসনের কথা। বলছি আওয়ামী লীগের হাতে কিভাবে সাধারণ মুসলমান ও তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল তার কথা। সে সময়ে আওয়ামী লীগের ইসলাম বিদ্বেষী অভিযানের ফলে পায়জামা পাঞ্জাবী কিংবা দাড়ী টুপিওয়ালাদের জন্য পথচলা কঠিন ছিল। এমনকি দাড়ীওয়ালা হিন্দুছাত্র সঞ্জয় তলাপাত্রকে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগ পিটিয়ে হত্যা করেছিল চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় অনেকেই সেদিন দাড়ি ছেটে অমুসলিম সেজে রাস্তায় বের হতেন। আওয়ামী অপশাসনে সেদিন মসজিদ মাদরাসা তথা ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছিল হুমকির মুখে ।

এর জবাবও তারা পেয়েছিল পরবর্তী নির্বাচনে। নিরংকুশভাবে পরাজিত হয়েও তাদের এতটুকু শিক্ষা হয় নি বরং ওরা সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধকে এক হাত দেখে নেয়ার। দশ টাকা সের চাল থাওয়ানোর মিথ্যে স্বপ্নে বিভোর করে, মইনের সাথে আতাত করে ওরা আবার ক্ষমতায় এসেছে ইসলামের হাত পা কেটে ছেটে থলথলে মাংশপিন্ডে পরিণত করতে। ইসলামকে ধ্বংস করতে আওয়ামীল লীগ বারবার ইসলামের লেবাসকে ব্যবহার করেছে। নির্বাচনের আগে কখনো মাথায় পট্টি আর হাতে তসবিহ নিয়ে আবার কখনো ইসলাম বিরোধী আইন না করার নাকে খত দেয়া চুক্তি করে সহজ সরল বাঙ্গালী মুসলমানদের প্রতারিত করে আওয়ামী লীগ বার বার ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই তারা তাদের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে, ঝাপিয়ে পড়ের ইসলামের উপর। তাই তো আওয়ামী লীগ বিভিন্ন অজুহাতে একের পর ইসলামী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো ইসলামী আন্দোলনগুলোকে নিষিদ্ধ করার পায়তারা করে, কখনো কোরআনের নির্ধারিত আইনকে ফেলে দিয়ে পাশ করে নারী উন্নয়ন নীতি । নারীকে পুরুষের তথাকথিত সমান অধিকার দিতে, পৈত্রিক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েকে সমান অংশ দিতে, নারীকে অবাধ যৌনাচারে উস্কে দিতে আওয়ামী লীগ আগের আমলে তৈরী করা নারী উন্নয়ন নীতি ৯৭ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একের পর এক ধর্মদ্রোহী অপতৎপরতায় লিপ্ত আওয়ামী লীগ। আর তাই কোন লুকোচুরি ছাড়াই আওয়ামী জোট সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, মসজিদে গমনকারীদের ব্যপারে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে ওরা। শেখ হাসিনার বক্তৃতার জন্য আজানের সময় ৪০ মিনিট পিছিয়ে দেয়া হয় আজকাল, আজান সম্পর্কে কটুক্তি করতেও পিছপা হন না দলের মন্ত্রীরা। ইসলাম ধর্মকে তামাক ও মদের মতো নেশা বলে ধৃষ্টতা দেখায় ওরা।

সবকিছুই পূর্ব পরিকল্পিত। একদিকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করা, অন্যদিকে বাংলাদেশকে একটি নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করতে সেনাবাহিনীকেও বার বার বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার। নির্বাচনের পূর্বে শেখ হাসিনা তনয় জয়ের লেখা প্রবন্ধে ইসলাম ও দেশের গর্ব সেনাবাহিনীকে দূর্বল করার যাবতীয় প্রেসক্রিপশন তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় এসেই পিলখানা হত্যাযজ্ঞ, পার্বত্যাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নামে পাহাড়ী নিধনের অভিযোগ, ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্মূলে চিরুনী অভিযান সবই একই সূত্রে গাথাঁ।

এখন দেখার বিষয় এ দেশের ইসলাম প্রিয় সাধারণ মানুষের সামনে আওয়ামী লীগ আর কতদিন দশ টাকা সের চালের মুলো ঝুলিয়ে ইসলামকে দমিয়ে রাখতে পারে। বাংলার সচেতন মুসলমান কি দশ টাকা সের চালকে ভুলে একবারও জেগে উঠবে না?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“দশ টাকা সেরে বিকিয়ে দেব না ইসলাম” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. তেতো কথা বলেছেন:

    আপনার এই কথাগুলো অনেকের কাছেই তেতো মনে হতে পারে।
    নির্বাচনের আগে মাথায় পট্টি ঠিকই দেয়। সিলেটের মাজার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। আর ভাব ধরে যেন তারা ইসলামের সেবা(?) করছে।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন