খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে

নিম্ন আয়ের সংসার রহিমউদ্দিনের । সদস্য সংখ্যা তের। পরিবারের সদস্যের তুলনায় তাদের ছোট্ট কুড়ে ঘরটি নিতান্তই অকিঞ্চিতকর। ওদের আর্থিক অবস্থাও তথৈবচ। নুন আনতে পানতা ফুরোয় অবস্থা। সারাদিন পারিবারিক অশান্তি লেগেই আছে ওখানে। বউয়ের “ভাত দিবার পারোস না তয় ভাতার হইছো ক্যান” জাতীয় কথায় গৃহকর্তার ত্রাহি মধুসুদন অবস্থা। সময়ে অসময়ে ঝগড়া-ঝাটি হলে বাড়ির বউ ইনিয়ে বিনিয়ে নাকের জল, চোখের জল একাকার করে নালিশ করে আসে পাশের বাড়ীর দাদা ঠাকুরের কাছে। শোনা যায় দাদাঠাকুরের সাথে তার কেমন যেন একটু ঠাট্টার সম্পর্কও রয়েছে। অল্প কিছু উর্বরা জমি রয়েছে রহিমউদ্দিনের। ধরা যাক রবি ঠাকুরের কথামতো “শুধু বিঘে দুই”। গরীব হলেও এদের রয়েছে বেশ কিছু খনিজ সম্পদ, যদিও তা উত্তোলনের মতো কলাকৌশল বা অর্থ তাদের নেই। কিন্তু এই দুই বিঘে জমির সে বাড়ীর একপাশে প্রমত্তা নদী। অন্যপাশগুলোতে রয়েছে সাতাশ পরিবারের ১০০ সদস্যের বিশাল বাড়ি। ধরাযাক উচ্চ বংশীয় ঠাকুর বাড়ী। অনেকদিন থেকেই ঠাকুর বাড়ীর দাদা ঠাকুরের নজর পড়েছে ঐ দুই বিঘে  জমির উপর। তার বিশাল বাড়ির এপাশ থেকে ওপাশে যেতে সর্টকার্ট রাস্তাটা বের করা খুবই দরকার। তাই ও জমি তার চাই-ই। তাছাড়া জমিটা যে রকম উর্বরা তাতে ও জমিটা হাতে এলে আয়েশ করেই দিন গুজরান করা যায়। যে খনিজ সম্পদগুলো অযত্নে অবহেলায় পরে আছে তা দিয়ে রাতারাতি সম্পদের কুমির হওয়াও যাবে। এছাড়া ও বাড়ির মেয়েগুলোও হৃদয় কাঁপানো সুন্দরী। তাই দাদাঠাকুরের এখন ও দু বিঘে জমি না হলেই নয়। ইতোমধ্যেই ও বাড়ীর দু’একজনকে তিনি হাত করে নিয়েছেন বিভিন্ন পুঁজো পার্বনে এটা-ওটা উপহার দিয়ে। তাছাড়া বাড়ীর বউতো তাকে পেলে জান-কোরবান হয়ে যান। এরকম মুহুর্তে দাদাঠাকুর যদি জমিটুকু গ্রাস করার জন্য নিয়মিত হুমকি ধামকি দিতে থাকে বেচারা রহিমউদ্দিন কে, তো তখন তার কিইবা করার থাকে। সে পারেনা এলাকার মাতুব্বরের কাছে নালিশ দিতে কারন মাতুব্বরতো দাদাঠাকুরেরই উচ্ছিষ্টভোজী।

বাংলাদেশ, সবুজে-শ্যামলে, সম্পদে-প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ একটি ছোট্ট দেশ। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে দেশটি এখনো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। রহিমউদ্দিনের সংসারের মতো এ ছোট্ট দেশটিরও রয়েছে হাজারো সমস্যা। দেশটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে আধিপত্যবাদী দাদাঠাকুেররা। তাদের লোলুপ দৃষ্টি পরেছে রূপসী বাংলাদেশের শরীরে। বাংলাদেশের অফুরন- প্রাকৃতিক গ্যাস না হলে যেন তাদের সকালের নাস-াই হজম হয়না। এছাড়া একটি বৃহৎ দেশের পেটের মাঝে অবসি’ত আরেকটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশকে তাদের বিষফোড়ার মতো মনে হয়। সময়ে অসময়ে হাত নিশপিষ করতে তাকে গলা টিপে হত্যা করার জন্য। অপরদিকে ভারতের আভ্যন-রীণ অবস’াও মোটেও সনে-াষজনক নয়। দেশটির এ প্রান- থেকে সে প্রান- পর্যন- স্বাধীনতা আন্দোলন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি অঙ্গরাজ্য “সাত বোন” তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দিনে দিনে করে তুলতে আরো শাণিত, মাতৃজঠর দীর্ণ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে তৎপর তারা। ফলে এসকল রাজ্যগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ ও সামরিক সাহায্য প্রেরণ অতি জরুরী। কিন’ বিপদ সংকুল দুর্গম পাহাড়ী দীর্ঘ সিমলা করিডোর পাড়ি দিয়ে সাতটি রাজ্যে তাদের নিয়ন্ত্রন বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এছাড়া এসকল পাহাড়ী পথে ওৎ পেতে থাকা স্বাধীনতাকামীদের আক্রমন বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের ভীতর হয়ে আসামে পৌঁছতে পারলে তাদের এ দুর্গম পথ আর মাড়াতে হয়না, জীবনের ঝুকি অনেক কমে যায়, সর্বোপরি তাদের সময় ও অর্থের কয়েকগুণ সাশ্রয় হয়। এসকল বিষয় বিবেচনা করে ভারত একের পর এক চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের উপর। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারকে হাতে রেখে তখন তারা অনেক কিছুই বাগিয়ে নিতে পেরেছিল। কিন’ পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সরকার তাদের নিশ্চিত আয়ের পথ অনেকটা রুদ্ধ করে দেয়। ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে নির্মমভাবে খুন হতে হয়। অনেকেই সে খুনের সাথে ভারতের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন।

একুশ বছর পর ভারতের প্রতি অনুগত একটি দল পুনরায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে ভারত ভেবেছিল তাদের কাঙ্খিত অনেক কিছুই তাদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তাদের সে চেষ্টায় কিছুটা সাফল্য এলেও প্রধান দু’টি আব্দার অপূর্ণই থেকে যায়। তাদের আব্দারের একটি হচ্ছে বাংলাদেশের অফুরন- গ্যাস সম্পদ এবং অন্যটি হচ্ছে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ট্রান্‌জিট। কিন’ গনতান্ত্রিক একটি দেশের কোন রাজনৈতিক দলই এধরণের ঝুকিপূর্ণ সিদ্ধান- নিতে সাহস করে না, সময়ে অসময়ে বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ নিয়ে ভারতের কাছে নাকি কান্না করে যে দলটি তারাও এ ধরনের সিদ্ধান- নিতে সাহস পায়নি। ফলে ভারতের এ মনোবাঞ্ছা অপূনণীয়ই থেকে যায়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবার ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী সরকার। স্বভাবতই ভারতে গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। তাই যখন তারা বুঝতে পেরেছে, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না ঠিক তখনি তারা বিকল্প পথ হিসেবে আঙ্গুল বাকা করতে শুরু করেছে। অবস’া দেখে মনে হয় তাদের এখন প্রধান টার্গেট হচ্ছে “ডাইরেক্ট এ্যাকশন”। ইতোমধ্যে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস’া ‘র’ বাংলাদেশে নাশকতামূলক কাজ পরিচালনার জন্য প্রতি বছর ৭০ কোটি রুপি খরচ করছে । এছাড়া এদেশীয় কিছু বিকৃত  চিন-াচেতনার তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদেরকে তারা ইতোমধ্যে তাদের মিশনের জন্য নিয়োগ করেছে। এসকল উচ্ছিষ্টভোজী বুদ্ধিজীবীরা অত্যন- নিষ্ঠার সাথে প্রতিনিয়ত ভারতীয় ভাঙ্গা রেকর্ড একের পর এক বাজিয়ে চলছে।

ভারতের এহেন কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে ভারতীয় পত্র-পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করছে বাংলাদেশ সম্পর্কে উদ্ভট কল্পকাহিনী। এক দিকে তারা বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন সহিংস সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, দিচ্ছে সামরিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশী বিভিন্ন স-রের সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ। ভারতীয় প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও তত্বাবধানে এসকল সন্ত্রাসীরা একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ভারতের মাটিতে। বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে সুস্পষ্ট তালিকা ও ঠিকানাসহ এসকল সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করে ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করছে। বাংলাদেশ রাইফেল্‌স-এর নির্ভূল তথ্যমতে ভারতে বাংলাদেশ বিরোধী স্বাধীন বঙ্গভূমি আন্দোলন, বঙ্গসেনা, বাংলাদেশ লিবারেশন অর্গানাইজেশন (বিএলও), বাংলাদেশ ফ্রিডম অর্গানাইজেশন (বিএফও), লিবারেশন টাইগার্স অব বাংলাদেশ (এলটিবি), শানি- বাহিনী প্রীতি গ্রুপ, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), নিখিল বঙ্গ নাগরিক সংঘ, বাংলা লিবারেশন অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ উদ্বাস’ উন্নয়ন সংসদ, সংযুক্ত উদ্বাস’ সংগ্রাম পরিষদ, হিন্দু প্রজাতন্ত্রী বীরবঙ্গ সরকার, বাংলাদেশ উদ্বাস’ মঞ্চ প্রভৃতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের কমপক্ষে ৯০ টি ঘাঁটি রয়েছে ভারতে যার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভারতীয় সরকারের চত্রছায়ায় পরিচালিত হয় বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতে। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৫৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্তমানে ভারতে জামাই আদরে বসবাস করছে। কিন’ ভারত বরাবরই উল্টো বাংলাদেশকে শাসাচ্ছে তথাকথিত ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে অবসি’ত কল্পিত ঘাটিগুলো বন্ধ করার জন্য। ভারতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এমনকি প্রাচীন একটি পত্রিকা ‘স্টেটসম্যান’ পর্যন- বাংলাদেশ বিরোধী একাধিক ফিচার, সম্পাদকীয় রচনা করছে এবং ভারতীয় সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নেয়ার জন্য। অথচ বাংলাদেশ ভারতের সাথে সবসময়েই সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য একের পর এক অন্যায় আব্দার মেনে যাচ্ছে, ছাড় দিচ্ছে, কিন’ তাদের মন গলছেনা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীতো সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ তাদেরকে হেলিকপ্টারের ব্যবস’া করে দেবে, তারা আসুক এবং তাদের কল্পিত ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে যাক। কিন’ তাদের আজও সে সৎ সাহস হয়নি। বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী স্বাধীনতাকামী উলফা নেতা অনুপচেটিয়াকে গ্রেফতার করেছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন মেয়াদে সে সাজাও ভোগ করছে কিন’ ভারত বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করেও পরে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দিচ্ছে। মূলত ভারত বাংলাদেশকে একের পর এক চাপের মুখে রেখে বাংলাদেশে আইন শৃংখলার ব্যাপক অবনতি ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

সারা বিশ্ব আজ সাম্রাজ্যবাদীদের রনহুংকারে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে। কিন’ মধ্যযুগীয় পদ্ধতিতে এখন আর সাম্রাজ্য বিস-ার করা সম্ভব নয়। তাই এসকল সাম্রাজ্যবাদীরা গ্রহন করেছে নয়া নয় কলাকৌশল। স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের নাম গণতন্ত্র, অথচ গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম নিয়ে সম্পূর্ণ অগনতান্ত্রিক পন’ায় একের পর এক দেশ আক্রান- হচ্ছে এদের হাতে। ব্যাপক বিধ্বংসী মারনাস্ত্র থাকার ধুয়া তুলে এবং ইরাকে অগনতান্ত্রিক একনায়ক সাদ্দাম সরকারকে উৎখাত করার কথা কলে আমেরিকা বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়ে ইরাকে তার সাম্রাজ্য বিস-ার করেছে। কিন’ সারা বিশ্বে তুমুল বিক্ষোভ হওয়ার পরও কোন দেশের পক্ষ থেকে বড় ধরণের কোন চ্যালেঞ্জ না আসায় আমেরিকা এ যাত্রায় তার মনোবাঞ্ছা পূরণ করে ফেলেছে। এই আগ্রাসী তৎপরতা বিশ্বের অন্যান্য বড় দেশগুলোও একই পন’ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ এক এমপি সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন যে বাংলাদেশের গনতন্ত্রের ভবিষ্যত খুবই খারাপ, বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র। ফলে সাম্রজ্যবাদীদের মতে এ রাষ্ট্রের ভালোমন্দো দেখভালের দায়িত্ব আপনা আপনি এখন পার্শবর্তী গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের উপর বর্তায়। বাংলাদেশে তো আর ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্র নেই তাই ও কথা বলে এখানে আক্রমন চলেনা, তাই বাংলাদেশে গনতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে, বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের স্বাধীনতাকামী শসস্ত্র যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, মৌলবাধীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে দেশটি ইত্যাদি ইত্যাদি নানা অযুহাত সৃষ্টি করছে। এখন শুধু আমেরিকার গ্রীণ সিগনাল পেলেই বাংলাদেশে ইরাকী বা আফগান স্টাইলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়।

পরিতাপের বিষয় এই যে, চারিদিকে যখন এহেন ষড়যন্ত্র চলছে তখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পরস্পরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যস- রয়েছেন। আধিপত্যবাদী দেশগুলোর আমলাতন্ত্র এতটাই শক্তিশালী ও দেশপ্রেমী যে সরকার বদল হলেও তাদের রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতিতে কোন পরিবর্তন আসে না। প্রেসিডেন্ট বুশ ইরাকে আক্রমন করলে নতুন সরকার প্রধান বিল ক্লিনটন হাত গুটিয়ে নেয় না বরং বুশের উপর ব্যর্থ আক্রমনের ধুয়া তুলে আক্রমন করে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে বংশ পরম্পরায়। তেমনি ভারতের দিকে তাকালেও আমরা একই চিত্র দেখি। সেখানেও সরকার পরিবর্তন হয় কিন’ নীতির কোন পরিবর্তন হয় না। দূর্ভাগ্য আমাদের, দুর্ভাগ্য এ দেশের। এদেশে সরকার পরিবর্তন হয়, নতুন সরকার নতুন করে কাজ শুরু করে, এমনকি অফিস পর্যন- নতুন ফার্নিচার দিয়ে সুশোভিত করে, গোলাপজল দিয়ে ধুয়ে পুতপবিত্র করার চেষ্টা চালায়, শুধু পবিত্র হয়না তাদের চরিত্র। আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈকিত আদর্শ যা ই হোক না কেন, দেশের নীতিতে, পররাষ্ট্রনীতিতে তারা যদি একই আচরণ করতেন তাহলে প্রতিনিয়ত প্রতিবেশী দেশ ও আধিপত্যবাদীরা কুটনৈতিক নীতি-নৈতিকতা বর্জিত বক্তব্য, মন-ব্য, মিটিং-সিটিং করার ধৃষ্টতা দেখাতো না। জাতির এ দূর্দিনে দেশপ্রেমী সাধারণ জনগনের দাবী একটাই, তা হলো দলমত নির্বিশেষে সর্বশক্তি দিয়ে আধিপত্যবাদীদের রুখে দাড়ানো। আমরা তাকিয়ে আছি আমাদের নেতৃবৃন্দদের দিকে, তাদের সুমতি হোক এটাই আজ প্রত্যাশা।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন