অটোসাজেশন

নটা পাঁচটা অফিস। অফিস শেষে বাড়ী ফিরেছে অনেক আগেই সবাই। ঘড়ির কাটা টিক টিক করে এগিয়ে চলে গভীর রাতের পানে। তবু বাড়ি ফেরা হয় না। জরুরী কাজে প্রায়ই গভীর রাতঅব্দি কেটে যায় একাকী বিষন্ন অফিসে।

ঘড়ির কাটা রাত এগারোর ঘর ছুঁয়েছে কিছুক্ষণ আগে, বারোটা বাজতে বুঝি আর দেরী নেই। অফিসের নাইটগার্ড ক্ষণে ক্ষণে ঘুরে যায় নীরস বদনে। বুঝতে কষ্ট হয় না, ঘুমের অনিয়ম একদমই সহ্য হয় না বেচারার। আমারও কি সয়? আমারও ঘুমের জন্য প্রাণ কাঁদে, তবু সব সময় নিয়ম মানা যায় না। দাড়োয়ানকেই বা দুষব কেন, সবচেয়ে কাছের যে বউ সেও টিপ্পনী কাটে, রাতটা অফিসে কাটালেই পারো। হ্যা, পারা যেত, বাথরুম আছে, থাকার জন্য পর্যাপ্ত যায়গাও আছে, শুধু অফিসে রাত্রি যাপনের অনুমোদন নেই কারো।

মনের দুয়ারে চার বছরের মেয়েটি কড়া নাড়ে, নির্ঘুম রাত জেগে জেগে মেয়ে আমার বাবার অপেক্ষায়। আজব মেয়ে বটে, বাবা না ফেরা পর্যন্ত ঠিকই জেগে থাকে। কম্পিউটারের পোঁকা, প্রতিদিনই নতুন কিছু আবিস্কার করে, বাবাকে না দেখানো পর্যন্ত তাই কিছুতেই ঘুমোতে পারে না। মাঝে মাঝে মনে হয় সবকিছু ছেড়েছুড়ে ছুটে যাই, বাবুটাকে কোলে নিয়ে ভুলে যাই যত নিয়ম কানুন, যত দায়িত্বের শৃংখল। তবু পারা যায় না।

না, শুধু টাকার জন্য রাত জেগে অফিস করা যায় না, টাকাই যদি মূখ্য হয় তবে তার জন্য বায়তুল মোকাররমের গেটগুলোই আদর্শ জায়গা। দায়িত্ব যখন কাধে এসে যায়, দায়িত্বের মাঝেই যদি ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সে দায়িত্বকে শুধু টাকায় পরিমাপ করা ঠিক নয়। শুধু টাকার জন্যই নীলআমষ্ট্রংয়েরা চাঁদে নামে না, অনিশ্চিত অভিযানে বেড়িয়ে পড়েনা তেনজিং লং।

সেই ছয় আবহাওয়াবিদ শুধুই কি টাকার জন্য মাসের পর মাস পরে থাকে আটলান্টিক মহাসাগরে? দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পৌঁছে ওরা আগ্নেয় গফ (Gough Island) দ্বীপে? যে দ্বীপে নেই জাহাজ ভেরানোর সুযোগ, সমৃদ্র পৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফুট উচু সে দ্বীপের হাজার মাইলের মাঝেও নেই কোন জনপদ, যেখানে প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর হাতছানি।

দায়িত্বকে অবহেলা করলে, দায়িত্বকে ঘৃণা করলে সে দায়িত্ব ধরে রাখার কি মানে, সে দায়িত্ব থেকে উচিত অবসর নেয়া। রিক্সাওয়ালা সকাল বেলা টায়ারে চুমো খায়, সে তার পেশাকে ভালোবাসে, ভালোবাসে বলেই কাঠফাটা রোদে প্যাডেল ঘোরায়। দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে বিরক্ত হলে দায়িত্ব কমে না, বরং দুঃসময়ের মাঝে শেষ হয় সে কাজ। ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় অনেক সহজ হয় কাজ। তাহলে মিছে মিছে ঘরের কথা ভেবে কি লাভ? হোক না শেষ কাজ।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“অটোসাজেশন” লেখাটিতে 4 টি মন্তব্য

  1. ABU OBAIDE বলেছেন:

    short writing. we want large and refarance. thanks.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ। আপনার পরামর্শ মনে রাখবো, ইনশাআল্লাহ।

    [উত্তর দিন]

  2. পাশা বলেছেন:

    ভাল লাগল।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন