সে যে বেঁচে আছে এই গুমের নগরে, এইটুকু হোক সান্তনা

না, আর কিছুতেই ভরসা পাচ্ছি না। প্রতিনিয়ত এতো এতো গুম-খুন-অপহরণের খবর আসে, এখন আর বন্ধুদেরও ঠিক বিশ্বাস হয় না। অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ঘিরে ধরেছে পুরো বাংলাদেশটাকেই।

শৈশবে ছেলে ধরার গল্প শুনে ঘুমুতে যায় নি এমন শিশু কমই আছে। মাঝে মাঝে খবর আসতো, যমুনা সেতু হবে, মা যমুনা মুন্ডু চেয়েছে, তাই ছেলে ধরার দল শিশুদের ধরে নিয়ে জবাই করে যমুনা নদীতে মুন্ডু ফেলছে।

ছেলে ধরারা আর যা-ই হোক মেয়েদের ধরে নিয়ে যেত না, মেয়েধরা বলে কোন শব্দের সাথেও আমাদের পরিচয় ছিল না। তবে ইদানিং ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের প্রতিই ঝোক বেশী সবার। তাই এখানে সেখানে যত্রতন্ত্র পাওয়া যায় মেয়েদের ছিন্নভিন্ন লাশ। শকুনের দল খুঁটে খুঁটে খেয়ে ছুড়ে ফেলেছে ডোবা নালা পাটক্ষেত কিংবা সেফটি ট্যাংকের গভীরে।

শৈশবে যে ছেলেধরা ছিল ঘুমপাড়ানি মিছে গল্পকথা, এখন তা র্সূযালোকের চেয়েও ধ্রুব সত্য বাস্তবতা। এখন ছেলে হারিয়ে যায়, মুক্তিপণের টাকায় ফিরে আসে বস্তাবন্দী সন্তানের ক্ষতবিক্ষত লাশ। চোখ নেই, কিংবা কিডনী নেই, বিভৎস্য সে বেদনার কোন শেষ নেই, সীমা নেই।

আশ্চর্য এ বাংলাদেশ। দিনে দুপুরে হাজারো মানুষের চোখের সামনে গুম হয় ৭ জন বিশিষ্ট জন, শীতলক্ষায় ভেসে ওঠে নয়টি পেটকাটা লাশ। অথচ তার কোন বিচার নেই, বিচার চাওয়ার মানুষ নেই, বিচার পাওয়ার আদালত নেই, আইন নেই, প্রশাসন নেই, সরকার নেই, গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই, সবকিছু কেবলই কুৎসিত কালো মুজিব কোটে ঢাকা।

অবশেষে মেয়েটার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। আপাতত ঘরে বসে যতটুকু পারে লেখাপড়া করুক। বিদূষী বউ বাচ্চা মেয়েটাকে পড়া লেখায় তালিম দিতে পারবে না তাতো নয়। তাই আপাতত ঘরই আমার সন্তানের আদর্শ পাঠশালা। লেখাপড়া নাই বা হলো, জজ ব্যারিস্টার নাই বা হলো, নাই বা হলো সে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার। শুধু নয়নতারা হয়ে বেঁচে যে আছে সে এই গুমের নগরে, এই টুকুই না হয় হোল আমার একমাত্র সান্তনা।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

এ ধরনের আরো লেখা

মন্তব্য করুন