যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল দলীয় প্রতিহিংসার হাতিয়ার : নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয়

বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্কে টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে নিরপেক্ষ বিচারের পরিবর্তে এই আদালত দলীয় প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার ‘আনসলভড অ্যাট্রসিটিস ইন বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের অসমাপ্ত নৃশংসতা) শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়টিতে এই মন্তব্য করা হয়।

সম্পাদকীয়টিতে যা বলা হয়েছে:

‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের স্ষ্পুষ্ট ঘাটতি রয়েছে। মনে হচ্ছে, এই ট্রাইব্যুনালের এসব সমালোচনার জবাব দেয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (ট্রাইব্যুনালের) বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করায় গত বছর এই আদালত সংস্থাটির বিরদ্ধে অবমাননার অভিযোগ আনে। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গত মাসে আদালত বাংলাদেশে কর্মরত বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে। বার্গম্যান বাংলাদেশের খ্যাতনামা মানবাধিকার আইনজীবী সারা হোসেনের স্বামী।

এ ধরণের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনাল শুধু তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতারই ক্ষতি করছে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে, নিরপেক্ষ বিচারের পরিবর্তে এই আদালত দলীয় প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

ট্রাইব্যুনালের কোনো সমালোচনা করলে তা আওয়ামী লীগ সরকারের এবং আরো হাস্যকরভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের সমালোচনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

ওই যুদ্ধের সময় কত লোক নিহত হয়েছে তা নিয়েও আদালত বিশেষভাবে সংবেদনশীল। বাংলাদেশের সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ। তবে গবেষকরা বলছেন, ১৯৭১ সালে নিহতের সংখ্যা যেমন এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে তেমনি অন্য একদল বলছেন, নিহতের সংখ্যা ছিল অনেক কম।

বার্গম্যান এ বিতর্ক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে অহেতুক আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে আদালত।

আদালত আসামির অনুপস্থিতিতেও বিচার করেছে। নির্ভরযোগ্য সাক্ষী ছাড়াই এক্ষেত্রে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বৃটিশ বাসিন্দা মইনউদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদ- দেয়ায় অনুতাপ প্রকাশ করায়ও বার্গম্যানের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ মূলত বার্গম্যানের ১৯৯৫ সালের তথ্যচিত্র ‘ওয়ার ক্রাইমস ফাইল’ -এর তথ্যের ভিত্তিতে মইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বার্গমানের প্রতিবেদনে বিব্রত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আদেশ দিয়েছে।

গণমাধ্যমে কণ্ঠরোধ করা হলে আদালতের আরো সুনামহানি ঘটবে। মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিচার করতে না পারলেও এই আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার ক্ষেত্রে কোনো সীমানা মানছে না।’

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন