ভারতে বাংলাভাষী মুসলমানদের নির্বাসনের পায়তারা

ভারত যখন কোন ষড়যন্ত্র করে তখন তার আগে হোমওয়ার্ক করে নেয় অন্তত দশ বছর। ভারতের সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কোন কথাবার্তা কিংবা আচরণই সন্দেহমুক্ত নয়। এমনকি তাদের তর্ক-বিতর্ক, খুন খারাবী কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কোন কিছুই অপরিকল্পিত নয়। সবকিছুর পেছনে একটা গোছানো পরিকল্পনা থাকে। ভারত যখন কোন দেশের কোন রাজনৈতিক দলকে বুকে টেনে নেয় ধরে নেয়া যেতে পারে যে অন্য কোন না কোন দলের মাথায়ও তারা আর্শীবাদের হাত বুলায়।

সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন নিয়ে বেশ কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। দাঙ্গাবাবু মোদি ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছেন,” I want to warn from here, brothers and sisters write down, that after May 16, will send these Bangladeshis beyond the border with their bags and baggages. they must go back, they are robbing the youths of India of their livelihood.

চরম মুসলিম বিদ্বেষী দাঙ্গাবাবু হিন্দুদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “We have a responsibility toward Hindus who are harassed and suffer in other countries. Where will they go? India is the only place for them. Our government cannot continue to harass them. We will have to accommodate them here,” ভারতকে তার দলের গঠনতন্ত্রেও নির্যাতিত হিন্দুদের Natural Home বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের একটি জনসভায় বলেন, “Modi has no right to say he will oust Bangladeshis from West Bengal. Who is he? He is nobody,” উল্লেখ্য মমতা ২০০৫ সালের দিকে বাংলাভাষী মুসলিমদের ব্যাপারে মোদীর মতো একই মত পোষণ করতেন।

মোদি-মমতা বিতর্ক করে চলেছেন, আমরা নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছি, শেখ হাসিনা উদ্বেগ জানাচ্ছেন। কিন্তু তর্ক-বিতর্ক আর উদ্বেগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলমানদের গায়ে বাংলাদেশী তকমা জুড়ে দেয়া হচ্ছে এবং তাদের বাস্তুচ্ছেদ করে সর্বহারা করার চক্রান্ত চলছে। ‌কংগ্রেস নেতা, শাকিল আহমেদ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় আর নরেন্দ্র মোদি একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে যে কথার ফুলঝুরি ছড়াচ্ছেন তাকে আমরা পাতানো ম্যাচ মনে করছি।’

উভয়ের আলোচনায় এটা স্পষ্ট তারা প্রতিষ্ঠিত করেই ফেলছেন যে বাংলাভাষী মুসলমানরা ভারতীয় নয় বাংলাদেশী। শেখ হাসিনার উদ্বেগেও এটা স্পষ্ট তিনিও স্বীকার করে নিচ্ছেন ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানরা বাংলাদেশী। আর এর প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। তর্কাতর্কি আর নিন্দাবাদের মাধ্যমে উভয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে বাংলাদেশী হিসেবে ব্রান্ডিং করে বাংলাদেশে পুশইন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর বাংলাদেশে তাদের ওয়েলকাম জানানোর জন্য শেখ হাসিনা ফুলের মালা নিয়ে যে গভীর আগ্রহে বরণ করে নেবেন তাতে আর সন্দেহ কি? মদীনা সনদে পরিচালিত হাসিনা সরকার হয়তো মোদির ঢঙ্গে সেদিন বলবেন, “বাংলাদেশ দাঙ্গাপীড়িত মুসলমানদের আশ্রয়স্থল”।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন