ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াসের অপহরণ প্রমাণ করে গুম খুনে সরকার জড়িত

eliasইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) সহকারী কর্মকর্তা ইলিয়াস উদ্দিনকে (৩৮) ২১ এপ্রিল সোমবাব রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গোলপুকুরপাড় এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাকে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দেখুনঃ www.jugantor.com/last-page/2014/04/23/91274

গত ৩০ এপ্রিল মানবজমিন “১০ দিনেও খোঁজ মেলেনি ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াসের” শিরোনামে সংবাদ পরিবেশিত হয়। দেখুনঃ http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjEzMDA=&s=Ng==
এ ঘটনাকে পুঁজি করে প্রতারক চক্র বেশ কিছু টাকাও হাতিয়ে নেয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন উচু মহলে জোর তদবির চালানো হলেও তার হদিস দিতে তারা ব্যর্থ হন।

কিন্তু আমরা আর্শ্চয হয়ে লক্ষ্য করি এর পরেরদিন তথা ১ মে বিভিন্ন পত্রিকায় “ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে জেএমবি’র দুর্ধর্ষ তিন জঙ্গিকে ছিনতাই” ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার হিসেবে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় দশটি দিন ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা অপহৃত হয়ে নিখোঁজ ছিলেন, যাকে খুঁজতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনের উচু মহলে দেন দরবার করা হলো, যার কোন খোঁজই সরকার দিতে পারে নি তাকে হঠাৎ করেই জঙ্গী ছিনতাই মামলার আসামী হিসেবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হলো। আরো আশ্চর্যের বিষয় গ্রেফতারকৃত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনই বিভিন্ন সময় অপহৃত হয়ে নিখোঁজ ছিলেন। ছয়জনেরই নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গত ২৮শে এপ্রিল ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকার পাঁচগাঁও এলাকা থেকে কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষক কামাল হোসেন সবুজ ও আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে স্বপনকে সাদা পোশাকের লোকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯শে এপ্রিল পুলিশ পরিচয়ে ইউসুফ আলী ওরফে সোহাগকে অপহরণ করা হয়। একই দিন রাতে পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা, বাছির ও মোর্শেদ ঢাকা থেকে ভালুকায় ফেরার পথে অপহৃত হন। ২১শে এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের গোলপুকুর এলাকা থেকে ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াস আলীকে সাত-আটজন লোক জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আরো দেখুনঃ http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjEzMDA=&s=Ng==

সবকিছু বিবেচনা করলে এটা স্পষ্ট যে দেশে যে গুম খুন অপহরণ বাণিজ্য চলছে তা সরাসরি পরিচালিত হচ্ছে সরকারের উচু মহলের নির্দেশে, উচু মহলের পরিকল্পনায়, কখনো নিছক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মুক্তিপণ লাভের আশায়, কখনো কিডনীসহ বিভিন্ন অঙ্গ চোরাচালানীর জন্য কখনো বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসে। ঠিক যেন হিন্দী ফিল্মের সুটিং চলছে বাংলাদেশে। ভারতের ক্রীতদাস সরকারের কাছ থেকে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট সিমেনা দেশবাসী আদৌ আশা করে কি?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন