মাটি কামড়ে পড়ে থাকা মুসলমানেরা জাগো!

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কী হলো , যখনই তোমাদের আল্লাহর পথে বের হতে বলা হলো, অমনি তোমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকলে? তোমরা কি আখেরাতের মোকাবিলায় দুনিয়ার জীবন পছন্দ করে নিয়েছো? যদি তাই হয় তাহলে তোমরা মনে রেখো, দুনিয়ার জীবনের এমন সাজ সরঞ্জাম আখেরাতে খুব সামান্য বলে প্রমাণিত হবে৷তোমরা যদি না বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আর একটি দলকে ওঠাবেন, আর তোমরা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷ তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷”-আল-কোরআন, সূরা আত তাওবাহ, আয়াত ৩৮-৩৯

একদিন জেহাদের ডাক আসবে, হারে রে রে রবে দা বটি, ক্ষুন্তি, কোদাল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে ইসলামের শত্রুদের কুপোকাত করে বাংলার নীল আকাশে পতপত করে উড়িয়ে দেব কালেমার সবুজ পতাকা। এমন সুখস্বপ্ন অনেক মুসলমানই দেখেন। স্বপ্নটাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে কোলবালিশটা আরো শক্ত করে আকড়ে ধরে রাতের পর রাত পার করে দেন অনেক আলেমে দ্বীন। তবু জেহাদের সে ডাক আসে না, আল্লাহর পথে বের হতে হয় না। জমিন কামড়ে কামড়ে বেশ কেটে যায় মর্দে মুজাহিদের দিন।

অথচ সশস্ত্র জেহাদ আল্লাহর পথে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ। এর আগে প্রতিনিয়ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিন মুয়াজ্জিন পাঁচবার আল্লাহর পথে ডাক দিয়ে যায়। কেউ কেউ শোনে, তাদের কেউ কেউ সাড়া দেয়, কেউবা সশস্র জেহাদের ডাকের অপেক্ষায় বেঘোরে ঘুমায়। অথচ জেহাদ ব্যাপক প্রশিক্ষণের বিষয়। এই যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায়ের জন্য আজান দেয়া হয় তা কি জেহাদের প্রস্তুতিপর্ব নয়? একা একা ঘরে বসে নামাজ কায়েম করার প্রয়োজনে আজান দিতে হয় না, ঘড়ি দেখেই নামাজ পড়া যায়। আজান সেতো সমবেতভাবে একতাবদ্ধ হয়ে সালাত আদায়ের বিষয়। আজান সে তো প্রতিদিন পাঁচবার কাতারবন্দী হয়ে জেহাদের কুচকাওয়াজে শামীল হওয়ারই আহ্বান। এসব জেনেও মসজিদে না যাওয়া মাটি কামড়ে পড়ে থাকারই নামান্তর।

এই যে কালেমা তাইয়্যেবা পাঠ করে আমরা মুসলমান হলাম, একবারও কি ভেবে দেখেছি এর মর্মার্থ কি? কালেমা তাইয়্যেবা মুখে উচ্চারণ মানেই আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার শপথ বাক্য পাঠ করা, বাতিল যত মতবাদ রয়েছে, যত খোদাদ্রোহী শক্তি রয়েছে তাদের মূলোচ্ছেদ করার শপথ করা। আর এ কাজে সমবেতভাবে, জামায়াতবদ্ধ হয়ে, আমীরের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত বাতিলের উৎখাতে প্রচেষ্টা চালানো, ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালানো সবকিছুই জেহাদেরই অংশ। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য সকাল বিকাল, কাজের মাঝে, অবসরে, শীতে গ্রীষ্মে যখন যেভাবে যাকে ডাকা হয় তারই বেড়িয়ে পড়া একান্ত কর্তব্য।

সশস্র জেহাদের ডাক আসবে, হাতের কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার স্বপ্নে যারা বিভোর তাদের মনে রাখা উচিত কঠোর প্রশিক্ষণ ছাড়া কোন বড় সাফল্য অর্জিত হয় নি, হবেও না। কিংবা যারা সকাল বিকাল আল্লাহর জেকেরে মশগুল থাকেন, আল্লাহর রাস্তা, অলি-গলি, কাতারবন্দী হয়ে চষে বেড়ান, অথচ শাসনক্ষমতায় জেকে বসা ফেরাউন নমরূদের প্রেতাত্মাদের ছুড়ে ফেলতে সংগ্রামের প্রয়োজন বোধ করে না, যারা নিছক পেটপুরে খেয়ে ব্রাহ্মণ পুরোহিতের মতো মসজিদে পুজো দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়, যারা স্বপ্ন দেখেন ঈমাম মেহেদী সাত আসমানের সিড়ি বেয়ে নেমে এসে অলৌকিক মন্ত্রতন্ত্রে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করবেন, দুচোখের দৃষ্টি দিয়ে জালিম খোদাদ্রোহীদের ভষ্মকরে মানবতাকে মুক্তি দেবেন তাদের জেনে রাখা উচিত মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদ (সাঃ) অলৌকিক কোন মোজেজার শক্তিতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেন নি। কিংবা পাড়ায় মহল্লায় কাতারবন্দী হয়ে ঘুরে ঘুরে, সকাল বিকাল তাসবীহ পড়ে পড়ে দোয়া দরুদের বরকতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেন নি। বরং রাসূল (সাঃ) ও তার সাহাবীরা (রাঃ) প্রতিনিয়ত আল্লাহর পথে জান-মাল কুরবানী দিয়ে, ত্যাগের সর্বোচ্চ নজীর স্থাপন করে সংগ্রাম করে ইসলামকে মনোনীত দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাসূলের পথ ধরে  নিয়মিত যারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর জমিনে তাঁর দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টায় জান-মাল কুরবান করে দেয় না, তাদের পক্ষে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আকাঙ্খা মিথ্যে মরিচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং ডাক এলেই এরা জমিন আকড়ে পড়ে থাকবে নিশ্চয়।

তাই যে যে পরিস্থিতির মাঝে থাকি না কেন আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়াই মুসলমানের ধর্ম। না, ঈমাম মেহেদী এসে ডাক দেবেন না কিংবা আসমান থেকে ফেরেস্তারা আন্দোলনের ডাক দেবেন না, বরং মানুষের মাঝ থেকে যে সকল মুমিনেরা  দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টায় সংঘবদ্ধ হয়েছে, তাদের কাধে কাধ মিলিয়ে, তাদের নেতার নেতৃত্ব মেনে নিয়ে সার্বক্ষণিক আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা সত্যিকারের মুসলমান, আমরা ডাক এলে মুনাফিকদের মতো জমিন কামড়ে পড়ে থাকার চেয়ে শহীদ হওয়াকে গৌরবের মনে করি।

আসুন, আর মাটি কামড়ে পড়ে না থেকে আবারো বেড়িয়ে পড়ি, আল্লাহর রাহে জান-মাল কুরবান করে দ্বীন কায়েমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলামী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মাটি কামড়ে পড়ে থাকা মুসলমানেরা জাগো!” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. ফরিদ আহমাদ বলেছেন:

    সশস্ত্র জেহাদ ছাড়া এখন ঈমান টিকিয়ে রাখা দুষ্কর । একটা সময় ছিল জিহাদ বলতে হক আর বাতিলের লড়াই বোজাত, কিন্তু বর্তমানে বড় জিহাদ হয়ে গেছে নফসের সাথে যুদ্ধ ।
    Tender Business Bangladesh.

    [উত্তর দিন]

    Lokman Hossain উত্তর দিয়েছেন:

    আমি সসসময় প্রস্তুত ইসলামের ডাকে সাড়া দিতে

    [উত্তর দিন]

  2. Lokman Hossain বলেছেন:

    ভাই সালাম আপনাকে

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন